অপারেশন সিঁদুরের এক বছর পর পাকিস্তানের পরিকল্পিত বৈদেশিক সম্পর্ক স্থাপন এবং সতর্ক ভাবে সাজানো বিজয়গাথা দেশের অভ্যন্তরে গভীরতর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বিভেদকে আড়াল করছে, যা দেশটির পরিকল্পিত পুনরুত্থানের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
২০২৫ সালের ৬-৭ মে ভারত পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) সন্ত্রাসী অবকাঠামোর উপর সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালায়, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি ‘নতুন স্বাভাবিকতা’র (বা নিউ নর্মাল) সূচনা করে এবং এই দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে ভবিষ্যতের যে কোনও সংঘাতের উত্তেজনা বৃদ্ধির গতিপ্রকৃতিকে নতুন ভাবে সংজ্ঞায়িত করে। এই সংঘাতটি আখ্যানের জগতেও প্রভাব ফেলেছিল, যেখানে উভয় দেশই বিশ্বব্যাপী নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে বিশ্বের প্রধান রাজধানীগুলিতে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিল। গত বছরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ইসলামাবাদের স্মৃতিচারণ বিজয়ের আখ্যান তৈরি করে চলেছে, যার লক্ষ্য ছিল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের ভাবমূর্তি শক্তিশালী করা।
পাকিস্তান যাকে ‘মার্কা-ই-হক’ (সত্যের যুদ্ধ) বলে অভিহিত করে, তার সমাপ্তির এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ-এর (ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস বা আইএসপিআর)-এর ডিরেক্টর জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এই সংঘাতে পাকিস্তানের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি এই সংঘাতের দশটি ‘কৌশলগত পরিণতি’ তালিকাভুক্ত করেছেন, যা তাঁর দাবি অনুযায়ী ইসলামাবাদের কূটনৈতিক মর্যাদা বাড়িয়েছে এবং যা ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেশটির ভূমিকা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক উষ্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।
বিজয় আখ্যানের পুনরাবৃত্তি
গত এক বছর ধরে পাকিস্তানের আত্মপ্রচারের একটি কেন্দ্রীয় বৈশিষ্ট্য হল বিজয় আখ্যান: ভারতের অভিযোগগুলিকে কথিত ভাবে খণ্ডন করা এবং ভারতের তুলনায় নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনীর — বিশেষ করে আকাশ ও নৌপথে — শ্রেষ্ঠত্বের দাবি উপস্থাপন করা। এই প্রচারণায় জোর দেওয়া হয়েছে যে, ভারতের উপর আরও বড় ধরনের আঘাত হানার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান সংযম প্রদর্শন করেছে; এবং এটিকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পরিপক্বতা ও তাদের ‘কৌশলগত সংস্কৃতি’র প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বও বিশ্বে পাকিস্তানের ভাবমূর্তিতে একটি লক্ষণীয় পরিবর্তনের কথা বলেন এবং পহেলগাম হামলার বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বানের মাধ্যমে তাঁরা এই ঘটনায় জড়িত না থাকার দাবিকে আরও জোরালো করেছেন বলে মনে করেন। তাঁরা ইসলামাবাদকে সন্ত্রাসবাদের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জঙ্গি হামলা থেকে আড়াল করেছে। দেশের তথ্যমন্ত্রীর মতে, বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বের সমন্বিত বার্তা এবং তথ্যক্ষেত্রে তরুণ জেন জি প্রজন্মের সমর্থন এই বয়ানকে বৈশ্বিক পর্যায়ে স্থায়ী করতে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
ইসলামাবাদ দাবি করে যে, এই সংঘাত প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে এবং নিজেদেরকে এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা স্থিতিশীলকারী হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তবে নিরাপত্তা স্থিতিশীলকারী হিসেবে নিজেদের এই ভাবমূর্তিটি আসলে এই অঞ্চলে ভারতের প্রতিষ্ঠিত অবস্থানের সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে যুক্ত একটি ভূমিকা আত্মসাৎ করার প্রচেষ্টা।
পাকিস্তান দাবি করে যে, ভারতের সামরিক পদক্ষেপ এবং তাদের নিজস্ব প্রতিক্রিয়া সন্ত্রাসবাদের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ইসলামাবাদকে দায়ী করার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির ক্ষমতাকে অকার্যকর করে দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি ভারতীয় সামরিক বাহিনীর রাজনীতিকরণ, ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে বাইরের দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা এবং ভারতীয় গণমাধ্যমের দ্বৈততাকেও উন্মোচিত করেছে, যা তাদের ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের বার্তায় এই বিষয়টির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে যে, দেশটি পরবর্তী যুদ্ধের প্রস্তুতিতে এক ধাপ এগিয়ে আছে এবং এর ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক প্রাসঙ্গিকতা একে বিচ্ছিন্ন করার ভারতীয় প্রচেষ্টাকে অর্থহীন করে তুলেছে। এর পাশাপাশি, ইসলামাবাদ দাবি করে যে, এই সংঘাত প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে এবং নিজেদেরকে এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা স্থিতিশীলকারী হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তবে নিরাপত্তা স্থিতিশীলকারী হিসেবে নিজেদের এই ভাবমূর্তিটি আসলে এই অঞ্চলে ভারতের প্রতিষ্ঠিত অবস্থানের সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে যুক্ত একটি ভূমিকা আত্মসাৎ করার প্রচেষ্টা। এই বয়ানটি পাকিস্তানি গণমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যেখানে এটিকে ইসলামাবাদের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রাসঙ্গিকতার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
উভয় সঙ্কটে
২০২৫ সালের ১০ মে, যখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি প্রকাশ্যে আসে, তখন ট্রুথ সোশ্যাল-এ ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পোস্ট অনেক বড় খবর হয়ে ওঠে। সেখানে তিনি দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যকার শত্রুতা অবসানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের দাবি করেন। পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিরোধে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা প্রত্যাখ্যানের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভারত যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনও ভূমিকা প্রত্যাখ্যান করলেও, ইসলামাবাদের এ বিষয়ে কোনও দ্বিধা ছিল না। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন যে, ইসলামাবাদ নতি স্বীকার করার আগে ভারতীয় নেতৃত্ব একাধিক বার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছিল।
পরবর্তী সপ্তাহগুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক — যা প্রেসিডেন্ট বাইডেনের অধীনে এবং প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সময়েও দ্রুত অবনতির পথে ছিল — নতুন জীবন লাভ করে। দেশটির নবনিযুক্ত ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির জুন মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ওয়াশিংটনে যান, যার পরে পাকিস্তান তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই ক্রমবর্ধমান সৌহার্দ্য - যা ২০২৫ সালের অগস্ট মাসে মুনিরের আর একটি সফরের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়েছে - আরও জোরদার হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক গঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এ ইসলামাবাদের অংশগ্রহণের দ্বারা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে দেশটির গভীরতর সম্পর্কের দ্বারা।
২০২৬ সালের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইজরায়েল যুদ্ধ শুরু হলে এই কূটনৈতিক উচ্ছ্বাস কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। এই সংঘাতের পরোক্ষ পরিণতি জ্বালানি সঙ্কট, সরবরাহ বিঘ্ন এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপের আকারে বিশ্বের অনেক অংশে ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানের জন্য এই যুদ্ধ সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ উভয়ই নিয়ে আসে, যা বিদ্যমান কাঠামোগত দুর্বলতাগুলিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। দেশটি আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনার আয়োজন করে।
ইসলামাবাদের জন্য এই মধ্যস্থতা তার বৈশ্বিক প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে — বহুবিধ চ্যালেঞ্জে জর্জরিত একটি দেশের জন্য এটি এক ধরনের ‘মর্যাদা প্রকল্প’ বা প্রেস্টিজ প্রজেক্ট। এই ভূমিকা পাকিস্তানকে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিলেও এখনও পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে একটি নিষ্পত্তিতে পৌঁছতে ব্যর্থতা এবং সংঘাতের দ্রুত পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতির জন্য তাদের মূল্য দিতে হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এবং এর পাশাপাশি প্রধানত শিয়া পাকিস্তানি শ্রমিকদের গণহারে নির্বাসনের খবর পাকিস্তান-ইউএই সম্পর্কের টানাপড়েনকে প্রতিফলিত করে। বলা হয়, এই সংঘাতে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়ে আবুধাবি সন্দিহান এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ইসলামাবাদের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা এই পরিবর্তিত গতিপ্রকৃতিকেই প্রতিফলিত করে।
‘বুনিয়ান-উন-মারসুস’-এর প্রভাব বিশ্লেষণ
পাকিস্তানের ‘ভারতের বিরুদ্ধে বিজয়’ আখ্যানের দ্বৈত উদ্দেশ্য রয়েছে: দেশের অভ্যন্তরে সমালোচকদের দমন করা এবং বিদেশে স্থিতিশীলতার একটি ভাবমূর্তি তুলে ধরা। আইএসপিআর এই সংঘাতের একটি উপজাত হিসেবে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অংশীদারদের মধ্যকার সমন্বয়কে তুলে ধরেছে এবং একে ‘বুনিয়ান-উন-মারসুস প্রভাব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। কিন্তু দেশটি তার ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক গুরুত্বের উপর নির্ভর করায় অভ্যন্তরীণ গতিপ্রকৃতির দিকে অনেক কম মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসের সঙ্কটের অব্যবহিত পরে একটি ‘পতাকাকে কেন্দ্র করে সমাবেশ’ (র্যালি অ্যারাউন্ড দ্য ফ্ল্যাগ) প্রভাব দেখা গিয়েছিল, যেখানে ভারতের সঙ্গে সংঘাতের অবসানের উচ্ছ্বাসের আড়ালে গভীরতর কাঠামোগত সমস্যাগুলি ঢাকা পড়ে গিয়েছিল।
পাকিস্তানের ‘ভারতের বিরুদ্ধে বিজয়’ আখ্যানের দ্বৈত উদ্দেশ্য রয়েছে: দেশের অভ্যন্তরে সমালোচকদের দমন করা এবং বিদেশে স্থিতিশীলতার একটি ভাবমূর্তি তুলে ধরা।
এক বছর পরেও, সামাজিক-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিতই রয়ে গিয়েছে এবং এই অঞ্চলে ও এর বাইরে ঘটে চলা ঘটনাবলি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় দু’বছর পূর্ণ করেছে। এই দু’বছরে গণতন্ত্র এবং সামরিক শাসনের মধ্যেকার সীমারেখা প্রায় বিলীন হয়ে গেছে এবং ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনী জারির মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থার উপর সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। ভঙ্গুর পিএমএল-এন এবং পিপিপি জোট যখন একটি সামরিক-বেসামরিক ‘মিশ্র মডেল’ অনুসরণ করে শাসনকার্য চালাচ্ছে, তখন পিটিআই নেতা ইমরান খান ২০২৩ সালের অগস্ট মাস থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের মে মাসের বিক্ষোভে অংশগ্রহণের জন্য ২০২৬ সালের মার্চে ৪০ জনেরও বেশি পিটিআই নেতাকে দশ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দণ্ডিত দলীয় সদস্যের সংখ্যা শতাধিকে পৌঁছয়। পিটিআই এবং জামাত-এ-ইসলামি উভয়ই সরকারের অদক্ষতার বিরুদ্ধে মিছিলের ডাক দিয়েছে এবং বোর্ড অফ পিসে যোগদানের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার পিটিআই সরকারও সংস্থাটিতে পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চলতি বছরের মার্চ মাসে ফেডারেল বাজেট অনুমোদন-সহ ১১টি অতিরিক্ত শর্ত জুড়ে দিয়ে আর একটি স্টাফ-লেভেল চুক্তি অনুমোদন করেছে। সংস্থাটি দেশটির জন্য তার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও সংশোধন করে কমিয়ে এনেছে এবং এখন পরবর্তী অর্থবর্ষের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৫ শতাংশ ও মুদ্রাস্ফীতি ৮.৪ শতাংশ হবে বলে অনুমান করছে। চলতি হিসাবের ঘাটতিও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যেখানে ২০২৫ সাল নাগাদ মোট বৈদেশিক ঋণ ১৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে এবং চলতি অর্থবর্ষে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রোলওভারের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে পতন, অনির্ধারিত লোডশেডিংয়ের ধারাবাহিকতা — যা ‘পিক রিলিফ আওয়ার্স স্ট্র্যাটেজি’ নামে নতুন নামকরণ করা হয়েছে — এবং স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য কোনও সমন্বিত প্রচেষ্টার অভাব, বিশেষ করে যেখানে দেশটি কেবল এক ধরনের অর্থায়নের পরিবর্তে অন্য ধরনের অর্থায়ন (সৌদি আরবের ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রোলওভার) ব্যবহার করছে, তা অর্থনীতির জন্য মোটেও ভাল লক্ষণ নয়।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিরও তীব্র অবনতি ঘটেছে। গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স, ২০২৬ অনুসারে, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান হল জঙ্গিবাদ দ্বারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দু’টি প্রদেশ, যেখানে ২০২৫ সালে ৭৪ শতাংশ হামলা এবং ৬৭ শতাংশ মৃত্যু সংঘটিত হয়েছে। পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের কারণে প্রাণহানির সংখ্যা এখন ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালে ১,১৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবানরা ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) উভয়ই তাদের হামলার সংখ্যা ও মাত্রা বাড়িয়েছে এবং এর পাশাপাশি, কাবুলের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কও সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
স্বল্প মেয়াদে পাকিস্তান সম্ভবত পশ্চিম এশিয়া সঙ্কট থেকে সৃষ্ট কূটনৈতিক গতিকে কাজে লাগিয়ে একটি দায়িত্বশীল মধ্যম শক্তি হিসেবে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও জোরদার করতে থাকবে। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আরও গুরুতর হতে পারে। কারণ অভ্যন্তরীণ বিভেদ আরও গভীর হবে এবং বাহ্যিক পরিবেশ আরও বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।
সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা একত্রীকরণ এই ধারণা দিতে পারে যে, এই পরস্পর সম্পর্কযুক্ত চ্যালেঞ্জগুলি এবং অস্থিতিশীল বাহ্যিক পরিবেশ কর্তৃপক্ষ কার্যকর ভাবে সামাল দেবে। স্বল্প মেয়াদে পাকিস্তান সম্ভবত পশ্চিম এশিয়া সঙ্কট থেকে সৃষ্ট কূটনৈতিক গতিকে কাজে লাগিয়ে একটি দায়িত্বশীল মধ্যম শক্তি হিসেবে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও জোরদার করতে থাকবে। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আরও গুরুতর হতে পারে। কারণ অভ্যন্তরীণ বিভেদ আরও গভীর হবে এবং বাহ্যিক পরিবেশ আরও বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। ভারতের জন্য, গত বছরের ঘটনাপ্রবাহ দেশটির প্রতি পরিচালিত সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের পরোক্ষ সমর্থনের বিরুদ্ধে সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় অভিযান অব্যাহত রাখার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
শিবম শেখাওয়াত অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের জুনিয়র ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Shivam Shekhawat is a Junior Fellow with ORF’s Strategic Studies Programme. Her research focuses primarily on India’s neighbourhood- particularly tracking the security, political and economic ...
Read More +