জাপানের ওশান ধারণাটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সমন্বয়ের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে তার ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবে রূপ দিতে চায়, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে টোকিয়োর ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বকেই প্রতিফলিত করে।
জাপানের মিনিস্টার অফ ডিফেন্স জেনারেল নাকাতানি ২০২৫ সালের মে মাসে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ২২তম শাংরি-লা ডায়লগে ওশান (ওয়ান কো-অপারেটিভ এফোর্ট অ্যামং নেশনস) ধারণাটি পেশ করেন। এই প্রস্তাবটিতে ভারত মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরকে একটি একক কৌশলগত ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরা হয়, যা একটি নিয়ম-ভিত্তিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সমমনস্ক রাষ্ট্রগুলির ব্যাপক নিরাপত্তা সহযোগিতায় সম্পৃক্ত হওয়ার অপরিহার্যতাকেই দর্শায়। নাকাতানির মতে, ওশান নিছক কোনও স্লোগান নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত কাঠামো, যা স্বচ্ছতা, উন্মুক্ততা, জবাবদিহিতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার মতো মূল্যবোধ ভাগ করে নেওয়া দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ওশানের মূল ভিত্তি হল নিরাপত্তার একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রচার করা। এটি প্রচলিত সামরিক সম্পর্কের বাইরেও সরবরাহ ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম, দুর্যোগ ত্রাণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি টোকিয়োর এই উপলব্ধিকেই প্রতিফলিত করে যে, ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলি ক্রমশ জটিল এবং বহুমুখী হয়ে উঠছে, যার মধ্যে রয়েছে অবৈধ সামুদ্রিক কার্যকলাপ এবং সমুদ্রে জবরদস্তিমূলক আচরণ থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট মানবিক সঙ্কট। ওশানের মাধ্যমে জাপান নিজেকে বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতার একজন সংগঠক হিসেবে তুলে ধরে এবং একই সঙ্গে মার্কিন-জাপান জোট, কোয়াড এবং আসিয়ান-নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার মতো বিদ্যমান কাঠামোকে পরিপূরক করে তোলে।
ওশান নিছক কোনও স্লোগান নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত কাঠামো, যা স্বচ্ছতা, উন্মুক্ততা, জবাবদিহিতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার মতো মূল্যবোধ ভাগ করে নেওয়া দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আসিয়ান অংশীদারদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ওশান-এর একটি কেন্দ্রীয় উপাদান। নাকাতানি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই ধারণাটি বিদ্যমান আঞ্চলিক কাঠামোকে প্রতিস্থাপন করার জন্য নয়, বরং সেগুলিকে শক্তিশালী করার জন্য। বিশেষ করে আসিয়ান-নেতৃত্বাধীন প্রক্রিয়া এবং উদ্যোগ যেমন ভিয়েনতিয়েন ভিশন ২.০ এবং জেসমিন-এর (জাপান-আসিয়ান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রী পর্যায়ের উদ্যোগ) মাধ্যমে এমনটা করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। জাপানও বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে ওশানকে সমর্থন করেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ম্যানিলায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময় জাপান এবং ফিলিপিন্স প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সহযোগিতা গভীর করা এবং সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য একটি যৌথ কাঠামো হিসেবে ওশান নিয়ে আলোচনা করে। একই ভাবে সিওলে নাকাতানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপিন্স এবং জাপানের মধ্যে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা প্রচারের জন্য ওশানের গুরুত্বের উপর জোর দেন, যার ফলে এই ধারণাটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংলাপে অন্তর্ভুক্ত হয়।
কৌশলগত ভাবে, ওশান ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের নিরাপত্তা ভূমিকার একটি বিবর্তনকে তুলে ধরে, যা সম্মিলিত প্রতিরোধ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিকেই দর্শায়। এটি টোকিয়োর কৌশলগত চিন্তাভাবনায় আন্তর্জাতিক রীতিনীতির অবক্ষয়, ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক আগ্রাসন এবং স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের জন্য জবরদস্তিমূলক প্রচেষ্টা সম্পর্কে বৃহত্তর উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে। নাকাতানি স্পষ্ট ভাবে এই চ্যালেঞ্জগুলির প্রতিক্রিয়া হিসেবে ওশানকে উপস্থাপন করেন এবং এই অঞ্চলের দেশগুলিকে একতরফা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করার আহ্বান জানান, যাতে বিতর্কিত অঞ্চলগুলিতে আন্তর্জাতিক আইন বলবৎ থাকে।
কৌশলগত ভাবে ওশান ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের নিরাপত্তা ভূমিকার একটি বিবর্তনকে তুলে ধরে, যা সম্মিলিত প্রতিরোধ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিকেই দর্শায়।
২০০৭ সালে তৎকালীন জাপানি প্রাইম মিনিস্টার শিনজো আবে তাঁর ‘দুই সাগরের সঙ্গম’ (কনফ্লুয়েন্স অফ দ্য টু সিজ) শীর্ষক ভাষণে প্রথম যে কৌশলগত ধারণাগুলি তুলে ধরেছিলেন, ওশান হল তারই একটি বিবর্তন। এটি অভিন্ন সাধারণ ভৌগোলিক অবস্থান ও মূল্যবোধ সম্পর্কে একটি আকাঙ্ক্ষামূলক ধারণা থেকে ‘সঙ্গম’-কে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি কার্যকর কাঠামোতে রূপান্তরিত করে। আবের এই ধারণাটিই পরবর্তী কালে ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’-এর (ফ্রি অ্যান্ড ওপন ইন্দো প্যাসিফিক বা এফওআইপি) বৌদ্ধিক ভিত্তি স্থাপন করেছিল, যা অভিন্ন সাধারণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সামুদ্রিক সাধারণ সম্পদের দ্বারা গঠিত একটি একক কৌশলগত ধারাবাহিকতা হিসেবে প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরকে সংযুক্ত করার বিষয়ে জাপানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছিল। নাকাতানির ওশান এই সমুদ্রকেন্দ্রিক বিশ্ব-দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে, তবে বহুপাক্ষিক কাঠামোর মধ্যে সামরিক ও প্রতিরক্ষা-শিল্প সহযোগিতাকে স্পষ্ট ভাবে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা মাত্রাটিকে শক্তিশালী করেছে। পূর্ববর্তী নীতিগুলি - বিশেষ করে প্রাইম মিনিস্টার আবের অধীনে ‘শান্তিতে সক্রিয় অবদান’ (প্রোয়্যাক্টিভ কনট্রিবিউশন টু পিস, ২০১৩) ইতিমধ্যেই এই বিষয়ের উপর জোর দিয়েছিল যে, জাপানের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা উচিত এবং প্রধানত সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার মাধ্যমেই এমনটা করা সম্ভব। ওশান এই যুক্তির উপর ভিত্তি করে জাপানকে বহুপাক্ষিক নিরাপত্তার সহায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। এটি নিছক একটি জাতীয় মতবাদ না হয়ে, অভিন্ন সাধারণ মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে সম্মিলিত কাঠামোর জন্য স্পষ্ট আহ্বান জানায়।
পূর্ববর্তী কাঠামো থেকে ওশান যেখানে আলাদা, তা হল একটি সহযোগিতামূলক প্রতিরক্ষা উদ্যোগ হিসেবে এর ধারণাগত অবস্থান। উদাহরণস্বরূপ, এফওআইপি ছিল মূলত একটি বিস্তৃত কূটনৈতিক কৌশল, যার সদস্যপদ উন্মুক্ত ছিল এবং এটি নিরাপত্তার পাশাপাশি মূল্যবোধ ও উন্নয়নের দিকেও সমান ভাবে নিবদ্ধ ছিল। এর বিপরীতে, ওশান হল আরও সুনির্দিষ্ট ভাবে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কাঠামো, যা সরবরাহ ব্যবস্থা, আন্তঃকার্যক্ষমতা, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম হস্তান্তর এবং যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর জোর দেয়। এটি জাপানের প্রতিরক্ষা কূটনীতির একটি আরও জোরালো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণকে নির্দেশ করে, বিশেষ করে আসিয়ান অংশীদারদের সঙ্গে।
আর একটি পার্থক্য হল অভিন্ন সাধারণ মূল্যবোধের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তির উপর এর মনোযোগ, কিন্তু বাস্তবে তার প্রকাশভঙ্গি। এফওআইপি নিজেকে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ হিসেবে উপস্থাপন করেছিল, এমনকি যদি তারা আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলে, তা হলে চিনকেও পরিসর দেওয়ার সওয়াল করেছিল। ওশানের ভাষা অন্য। যারা নিয়ম-ভিত্তিক শৃঙ্খলা বজায় রাখে এবং যারা এটিকে ক্ষুণ্ণ করে, ওশান তাদের মধ্যে আরও স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করে। এই অর্থে দেখলে, ওশান কোয়াডেরই দৃষ্টিভঙ্গির অনুরূপ, যদিও এটি টোকিয়োর নেতৃত্বে এবং আসিয়ানের কেন্দ্রীয়তার প্রতি দৃঢ় সমর্থন-সহ গঠিত হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, ওশান জাপানের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ভূমিকায় একটি পরিবর্তনকেও দর্শায়। পূর্ববর্তী মতবাদগুলি (যেমন ‘শান্তির ক্ষেত্রে সক্রিয় অবদান’) প্রায়শই আঞ্চলিক নিরাপত্তার মেরুদণ্ড হিসেবে মার্কিন-জাপান জোটের উপর ব্যাপক ভাবে নির্ভর করত। তবে ওশান হল জাপানের একটি স্বায়ত্তশাসিত নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার প্রচেষ্টা, যা একটি সহযোগিতামূলক কাঠামোর অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আসিয়ান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সম্ভাব্য ভারতকে একত্রিত করতে পারে এবং এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে সর্বদা মূল কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরা হবে না। এটি নিজস্ব শর্তে নিরাপত্তা কাঠামো গঠন করার ক্ষেত্রে টোকিয়োর ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন।
২০০৭ সালে তৎকালীন জাপানি প্রাইম মিনিস্টার শিনজো আবে তাঁর ‘দুই সাগরের সঙ্গম’ (কনফ্লুয়েন্স অফ দ্য টু সিজ) শীর্ষক ভাষণে প্রথম যে কৌশলগত ধারণাগুলি তুলে ধরেছিলেন, ওশান হল তারই একটি বিবর্তন। এটি অভিন্ন সাধারণ ভৌগোলিক অবস্থান ও মূল্যবোধ সম্পর্কে একটি আকাঙ্ক্ষামূলক ধারণা থেকে ‘সঙ্গম’-কে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি কার্যকর কাঠামোতে রূপান্তরিত করে।
তবে ওশান বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জেরও সম্মুখীন। জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে বিদ্যমান সক্ষমতার অসামঞ্জস্য অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যদি না টোকিয়ো প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সম্পদে ধারাবাহিক বিনিয়োগ অব্যাহত রাখে। সর্বোপরি, জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান এবং অস্ত্র রফতানি সংক্রান্ত নিয়মনীতির কারণে উদ্ভূত দেশটির অভ্যন্তরীণ আইনি ও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সহযোগিতার পরিধিকে সীমিত করে। এ ছাড়াও, এমন একটি ঝুঁকি রয়েছে যে, ওশান-কে অউকাস বা কোয়াডের মতো অন্যান্য কাঠামোর নকল বা প্রতিযোগী হিসেবে দেখা হতে পারে, যা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।
বর্তমানে ওশানকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সক্রিয় নিরাপত্তা নীতির একটি আদর্শিক ও বাস্তবসম্মত সম্প্রসারণ হিসেবেই সবচেয়ে ভাল ভাবে বোঝা যায়। এটি বহুপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সহায়ক হিসেবে জাপানের ভূমিকাকে শক্তিশালী করে এবং সামুদ্রিক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। ওশানের সাফল্য নির্ভর করবে এর অন্তর্ভুক্তিমূলক থাকার ক্ষমতা, অংশীদারদের বাস্তব সুবিধা প্রদান এবং এটিকে প্রকাশ্যে বৈরী হিসেবে বিবেচিত হওয়া থেকে বিরত থাকার উপর। তা সত্ত্বেও, একটি কৌশলগত ধারণা হিসেবে ওশান এমন এক সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে রূপ দেওয়ার জন্য টোকিয়োর উদ্দেশ্যকে তুলে ধরে, যখন বৃহৎ শক্তিগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে এবং নিয়ম-ভিত্তিক সামুদ্রিক ব্যবস্থার প্রতি হুমকি বাড়ছে।
প্রত্নশ্রী বসু অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Pratnashree Basu is an Associate Fellow with the Strategic Studies Programme. She covers the Indo-Pacific region, with a focus on Japan’s role in the region. ...
Read More +