Author : Hamza Ahmad

Expert Speak Young Voices
Published on Jan 14, 2026 Updated 0 Hours ago

ভারতের উন্নয়নের ধারা দুর্বল পুষ্টির কারণে ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদনশীলতা হ্রাসের কারণে বহু বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে। খাদ্যাভ্যাসে বিনিয়োগ করাই হল উন্নয়নে বিনিয়োগ।

আর্থিক নীতি হিসেবে পুষ্টি: খাদ্যাভ্যাসে বিনিয়োগ মানেই উন্নয়নে বিনিয়োগ

ভূমিকা - সমস্যার ব্যাপকতা

ভারতের উন্নয়ন কাহিনীর ভিত্তিমূলে একটি গুপ্ত দুর্বলতা/সীমাবদ্ধতা রয়েছে: অপুষ্টি। বিভিন্ন বছরের গবেষণা ও পরিমাপের উপর নির্ভর করে অনুমান করা হয় যে, অপুষ্টির কারণে ভারত প্রতি বছর তার মোট আভ্যন্তর উৎপাদনের (জিডিপি) ০.৮ থেকে ৪ শতাংশ হারায়। এর ফলে প্রতি বছর উৎপাদনশীলতা হ্রাস, স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় এবং অকালমৃত্যুর কারণে কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। সহজ কথায়, অপুষ্টির কারণে বছরে আনুমানিক যে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়, তা প্রায় ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের বার্ষিক বাজেটের সমান। ২০২৪-২৫ সালে জিডিপি বৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ হওয়া সত্ত্বেও, ভারত এখনও শিশুদের মধ্যে ক্রমাগত উচ্চ মাত্রার অপুষ্টির সম্মুখীন হচ্ছে, যা দ্রুত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ এবং দুর্বল পুষ্টি ফলাফলের মধ্যেকার বৈপরীত্যকে তুলে ধরে। এ থেকে বোঝা যায় যে, অপুষ্টির আর্থিক বোঝা এখনও যথেষ্ট এবং এর জন্য একটি হালনাগাদ বিশ্লেষণের প্রয়োজন।

পুষ্টি এবং উৎপাদনশীলতা

উন্নয়ন ও আর্থিক নীতির একটি মূল উপাদান হিসেবে পুষ্টিকে প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়। এটিকে একটি অর্থনৈতিক সমস্যা না ভেবে বরং স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে বাস্তবে, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয়। উপরন্তু, এটিও প্রমাণিত হয়েছে যে পুষ্টিহীনতায় ভোগা ব্যক্তিরা কর্মক্ষেত্রে কম উৎপাদনশীল হন।

এই ক্ষতির মূলে রয়েছে উৎপাদনশীলতা। অপুষ্টিতে ভোগা শ্রমিকেরা কম উৎপাদনশীল হন, কর্মক্ষেত্রে বেশি অনুপস্থিত থাকেন, এবং অসুস্থতার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হন। গবেষণা ধারাবাহিকভাবে দেখায় যে পুষ্টির ঘাটতি কম মজুরি এবং আজীবন উপার্জনের হ্রাসের কারণ হয়। এটি ইঙ্গিত দেয় যে ভারতের বিশাল জনসংখ্যাগত সুবিধা বাস্তবে একটি উৎপাদনশীলতার ফাঁদ। উৎপাদনশীলতার ফাঁদ বলতে একটি দুষ্টচক্রকে বোঝায় যেখানে অপুষ্টি শেখার এবং কাজের ক্ষমতা হ্রাস করে, যার ফলে উৎপাদনশীলতা কমে যায় এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ধীর হয়। এটি ফলস্বরূপ পুষ্টির উন্নতির জন্য সম্পদকে সীমিত করে, যা ব্যক্তি এবং অর্থনীতি উভয়কেই স্থবিরতার মধ্যে আটকে ফেলে।


পুষ্টিকে কেবল একটি কল্যাণমূলক ব্যয় হিসেবে নয়, বরং মানব সম্পদে একটি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ হিসেবেও দেখা উচিত।




দৃষ্টিভঙ্গিটি গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিকে কেবল একটি কল্যাণমূলক ব্যয় হিসেবে নয়, বরং মানব সম্পদে একটি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ হিসেবেও দেখা উচিত। পুষ্টির জন্য ব্যয় করা প্রতিটি টাকা একটি পরিমাপযোগ্য প্রতিদান নিয়ে আসে, ঠিক যেমন ভৌত পরিকাঠামোতে করা বিনিয়োগের মতো। যদি মহাসড়কগুলি বাণিজ্যকে চালিত করে, তবে ভাল পুষ্টি সেই কর্মশক্তিকে চালিত করে যা উক্ত বাণিজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

পুষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতার মধ্যে সম্পর্কটি তাত্ত্বিক নয়; এটি কর্মশক্তি, শ্রেণিকক্ষ এবং হাসপাতালের মাধ্যমে কাজ করে এবং সেগুলিকে প্রভাবিত করে। ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধি—১৫-৫৯ বছর বয়সী গোষ্ঠীর সাপেক্ষে—১৯৯৬ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত কর্মক্ষম জনসংখ্যার বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। তবে, এই জনসংখ্যাগত লভ্যাংশের সুবিধা দুর্বল পুষ্টির কারণে ক্রমাগত ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

উদাহরণস্বরূপ, সাম্প্রতিকতম ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে (এনএফএইচএস-৫) অনুযায়ী ভারতে ৫৭ শতাংশ নারী এবং ৬৭ শতাংশ শিশুকে রক্তাল্পতায় আক্রান্ত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এটি কেবল একটি স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান নয়; এর ফলে দৈনন্দিন কাজের শক্তি কমে যায়, মাতৃস্বাস্থ্য প্রভাবিত হয় এবং লক্ষ লক্ষ পরিবারের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা সীমিত হয়ে পড়ে। রক্তাল্পতা শারীরিক কাজের ক্ষমতা এবং জ্ঞানীয় কর্মক্ষমতাও হ্রাস করে, যা কেবল বর্তমানে নয়, ভবিষ্যতেও উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। ভারতে অপুষ্টিই রোগের বোঝা বৃদ্ধির প্রধান ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গিয়েছে, বিশেষ করে শিশু ও তরুণীদের মধ্যে।

চিত্র ১: শিশু অপুষ্টি সূচকে আঞ্চলিক তারতম্য (এনএফএইচএস-৫ ডেটা)
Figure 1‌

Nutrition As Economic Policy Investing In Diets Is Investing In Development
সূত্র: ন্যাশনাল ফ্যামিলি অ্যান্ড হেলথ সার্ভে (এনএফএইচএস) ৫ -এর তথ্য

নীতিগত ঘাটতি

দুধ, ডালের বৃহত্তম উৎপাদক এবং চাল ও গমের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক হওয়া সত্ত্বেও, পুষ্টি-সম্পর্কিত সূচকগুলিতে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল। কৃষি উৎপাদনের প্রাচুর্য এবং পুষ্টিগত সুস্থতার মধ্যে এই ব্যবধান নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কাঠামোগত ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়। খাদ্যনীতিতে পুষ্টি ঘনত্বের চেয়ে ক্যালোরি পর্যাপ্ততাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যার ফলে খাদ্যে প্রায়শই আয়রন, প্রোটিন এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের অভাব দেখা যায়।

একই সঙ্গে,  ভারত অপুষ্টির 'দ্বৈত বোঝা'-র সঙ্গে লড়াই করছে, যেখানে এই ব্যাপক অপুষ্টির পাশাপাশি স্থূলতা এবং অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান প্রকোপ বিদ্যমান, যা জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জকে আরও জটিল করে তুলেছে


কৃষি উৎপাদনের প্রাচুর্য এবং পুষ্টিগত সুস্থতার মধ্যে এই ব্যবধান নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কাঠামোগত ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়।



কর্মশক্তির পুষ্টি আরেকটি উপেক্ষিত ক্ষেত্র। কর্পোরেট সুস্থতা কর্মসূচিগুলি সাধারণত শারীরিক সুস্থতা বা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মনোযোগ দেয়, কিন্তু পুষ্টির উপর খুব কমই গুরুত্ব দেয়। শিল্প এবং গিগ-ইকনমির কর্মীদের (উভয় ক্ষেত্রই দ্রুত বর্ধনশীল) খাদ্যাভ্যাস প্রায়শই সংগঠিত, পুষ্টি-ভিত্তিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত থাকে, যা উৎপাদনশীলতাকে ব্যাহত করে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) সতর্ক করেছে যে কর্মশক্তির পুষ্টিকে অবহেলা করলে উন্নয়নশীল অর্থনীতি জুড়ে দক্ষতা এবং আয় হ্রাস পেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী পোষণ (মধ্যাহ্নভোজ) কর্মসূচি লক্ষ লক্ষ মানুষকে খাবার সরবরাহ করে, তবুও এগুলিকে জ্ঞানীয় ফলাফলকে সর্বোত্তম করার জন্য বা পুষ্টিকে ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে খুব কমই সাজানো হয়। একইভাবে, নগর পরিকল্পনা উদ্যোগ হিসেবে স্মার্ট সিটিগুলি তাদের নকশার অংশ হিসেবে খাদ্য নিরাপত্তাকে খুব কমই বিবেচনা করে, যদিও শহুরে অপুষ্টির সমস্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

এই ঘাটতিগুলো প্রমাণ করে যে পুষ্টি কীভাবে একটি কল্যাণমূলক বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে এবং এটিকে একটি আন্তঃক্ষেত্রীয় অর্থনৈতিক পরিকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

ভবিষ্যৎ করণীয়

পুষ্টি থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা সর্বোচ্চ করতে হলে নীতিগত সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পুষ্টির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল শুধু ক্লিনিকেই নয়, বরং খামার, স্কুল এবং কর্মস্থলেও অর্জিত হয়। তাই একটি সহযোগিতামূলক কাঠামো অপরিহার্য।

কৃষি-স্বাস্থ্য-অর্থনীতি ত্রিভুজটি একটি সূচনা বিন্দু। ফসলের জন্য ভর্তুকি বর্তমানে ক্যালোরি-নিবিড় প্রধান খাদ্যশস্যের দিকে পক্ষপাতদুষ্ট, কিন্তু কৃষি ভর্তুকি পুষ্টি-নিবিড় ফসলের দিকে পরিবর্তন করা যেতে পারে; এই সংস্কারটি মূলত খামার প্রণোদনাগুলোকে জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা সংক্রান্ত। স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়াম কমালে তা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা কমাতে আয়ের ক্ষেত্রেও প্রণোদনা জোগাতে পারে।

চিত্র ২: অপুষ্টি-দারিদ্র্যের ফাঁদ: কীভাবে দুর্বল পুষ্টি অর্থনৈতিক স্থবিরতাকে দীর্ঘস্থায়ী করে

Nutrition As Economic Policy Investing In Diets Is Investing In Development
Figure 2  সূত্র: বিশ্ব ব্যাঙ্ক (২০০৬), পুষ্টিকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পুনঃস্থাপন; ইউনিসেফ (১৯৯৮), বিশ্বের শিশুদের অবস্থা: অপুষ্টি

একইভাবে, শিক্ষা-পুষ্টি-কর্মসংস্থান সংযোগটিকে শক্তিশালী করতে হবে। স্কুলের খাবার কর্মসূচির মান এমন হতে হবে যাতে তা শুধু ক্যালোরি-সমৃদ্ধ শিশু তৈরি না করে, বরং জ্ঞানীয় বিকাশের ফলাফলকেও সর্বোত্তম করে তোলে, এবং একই সঙ্গে খাদ্য ও পুষ্টি শিক্ষা উদ্যোগের স‌ঙ্গে দক্ষতা উন্নয়নকে একীভূত করা হয়। উন্নত পুষ্টির অধিকারী শিক্ষার্থীরা আরও ভালভাবে প্রশিক্ষিত, অধিক কর্মসংস্থানপ্রাপ্ত এবং উচ্চ উপার্জনকারী কর্মশক্তিতে পরিণত হয়, যা আরও সমৃদ্ধ সম্প্রদায় এবং আরও স্থিতিশীল অর্থনীতির দিকে পরিচালিত করে।

ভারতের কাছে প্রমাণ আছে যে পুষ্টি খাতে বিনিয়োগ পরিমাপযোগ্য ফল দিতে পারে। পিএম পোষণ (মিড ডে মিল) প্রকল্পে পাঁচ বছরে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সম্মিলিত বিনিয়োগের পরিমাণ ৮.৫৭ বিলিয়ন ভারতীয় রুপি, এবং এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্কুল খাদ্য কর্মসূচি। পিএম পোষণের উপর ২০২৪ সালের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) মূল্যায়নসহ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, মধ্যাহ্নভোজ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উন্নত করে, শেখার ফলাফল বাড়ায় এবং আজীবন উপার্জনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে

অনুরূপভাবে, ২০১৮ সালে পোষণ অভিযান চালু করা হয়েছিল, এবং এটি পুষ্টির অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য কীভাবে বহু-মন্ত্রক সমন্বয় সক্ষম করা যায় এবং প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো যায়, সে সম্পর্কে একটি কার্যকারিতার প্রমাণ দিয়েছে। বিশ্ব ব্যাঙ্কের সহায়তায়, পোষণ ট্র্যাকারের মতো প্রোগ্রাম করা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি সুবিধাভোগীদের পর্যবেক্ষণ এবং আরও লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপ উন্নত করে। নীতি আয়োগের  একটি প্রতিবেদনে স্বাধীন মূল্যায়নের প্রমাণ এই বিষয়টিকে সমর্থন করে যে এটি খর্বাকৃতি, অপুষ্টি এবং রক্তাল্পতা কমাতে কিছু অবদান রেখেছে। তবে, এই সাফল্যগুলিকে সমালোচনামূলকভাবে দেখতে হবে, কারণ সর্বশেষ এনএফএইচএস-৫-এর তথ্য রক্তাল্পতার মতো মূল সূচকগুলিতে উদ্বেগজনক প্রবণতা প্রকাশ করে, যা অবশিষ্ট চ্যালেঞ্জের ব্যাপকতাকে তুলে ধরে।


ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায় যে পুষ্টি কোনও দাতব্য কাজ নয়; পুষ্টি হল বৃদ্ধিতে একটি ভাল বিনিয়োগ, যার নির্দিষ্ট বিনিয়োগের উপর প্রতিদান (আরওআই) এবং পরিমাপযোগ্য প্রভাব রয়েছে।



অর্থনীতিটা সহজ; যে কর্মসূচিগুলি অপুষ্টি কমাতে সফল হয়, সেগুলি স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমায়, স্কুলের পারফরম্যান্স উন্নত করে এবং কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। গ্লোবাল নিউট্রিশন রিপোর্ট ২০২৪ অনুসারে, পুষ্টি খাতে বিনিয়োগ করা প্রতি ১ মার্কিন ডলার থেকে ২৩ মার্কিন ডলার অর্থনৈতিক প্রতিদান পাওয়া যায়। বিশ্ব ব্যাঙ্কের অনুমান অনুযায়ী, শুধুমাত্র স্কুল ফিডিং কর্মসূচিগুলিই প্রতি ডলার খরচের বিনিময়ে ৪ থেকে ১১ মার্কিন ডলার পর্যন্ত প্রতিদান দেয়। ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে পুষ্টি কোনও দাতব্য কাজ নয়; পুষ্টি হল বৃদ্ধির জন্য একটি ভাল বিনিয়োগ, যার নির্দিষ্ট বিনিয়োগের উপর প্রতিদান (আরওওয়াই) রয়েছে এবং এর প্রভাবকে বড় পরিসরে বিস্তার করা সম্ভব।

পোষণ অভিযানের শিক্ষাটি স্পষ্ট: সমন্বিত, বহু-মন্ত্রকভিত্তিক পদক্ষেপ অর্থনৈতিক প্রতিদানকে বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে এবং পরিমাপযোগ্য বৃদ্ধির সুফল তৈরি করে।

ভারত যদি ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত অর্থনীতিতে পরিণত হতে চায়, তবে আজ থেকেই আর্থিক নীতি কৌশলে পুষ্টিকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে। প্রমাণগুলি অত্যন্ত জোরালো: অপুষ্টি নীরবে উৎপাদনশীলতা হ্রাস করে, স্বাস্থ্যসেবার খরচ বাড়ায় এবং মানব সম্পদকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। তিনটি কৌশলগত পরিবর্তন অপরিহার্য। প্রথমত, নীতির সমন্বয়: সমস্ত অর্থনৈতিক নীতির জন্য পুষ্টির প্রভাব মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা উচিত এবং খাদ্য, স্বাস্থ্য ও অর্থ মন্ত্রককে সংযুক্ত করে একটি আন্তঃমন্ত্রক টাস্ক ফোর্স গঠন করতে হবে। দ্বিতীয়ত,  পরিমাপকৃত ফলের ভিত্তিতে   বিনিয়োগ বৃদ্ধি— পুষ্টি খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে। তা সত্ত্বেও, পুষ্টি বন্ড এবং পরিবেশগত, সামাজিক ও শাসন (ইএসজি) কাঠামোর সঙ্গে কর্পোরেট সংহতকরণসহ নতুন অর্থায়ন ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। তৃতীয়ত, পরিমাপ পদ্ধতির সংস্কার—পোষণ ট্র্যাকারের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিকে শুধু স্বাস্থ্য নয়, উৎপাদনশীলতা এবং আয়ের বৃদ্ধিকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিকশিত হতে হবে।

পুষ্টি কোনও দাতব্য বিষয় নয়, বরং এটি ভারতের অন্যতম সাশ্রয়ী বৃদ্ধির কৌশল। জনসংখ্যাগত লভ্যাংশকে কাজে লাগাতে হলে, ভারতকে তার কর্মশক্তিকে চালিত করার জ্বালানিতে বিনিয়োগ করতে হবে।


হামজা আহমেদ  অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ ইন্টার্ন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.