Author : Shairee Malhotra

Published on Dec 10, 2025 Updated 0 Hours ago

ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি নতুন ইইউ-ভারত কৌশলগত অ্যাজেন্ডা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নতুন গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্রাসেলস এবং দিল্লির মধ্যে ২১ শতকের জন্য একটি সংজ্ঞায়িত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার অভিপ্রায়কেই দর্শায়।

নতুন কৌশলগত ইইউ-ভারত কর্মসূচি: ব্রাসেলস এবং দিল্লির সম্পর্ক গভীরতর হয়েছে

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-ভারত পরিসরে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গিয়েছে

ইইউ এবং ভারত যখন অস্থির বিশ্বে নিজেদের জায়গা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন ১৭ সেপ্টেম্বর এই ব্লক তাদের নতুন কৌশলগত ইইউ-ভারত অ্যাজেন্ডা’ উন্মোচন করেছে। এই বছরের শুরুতে ইইউ কলেজ অফ কমিশনার্সের ভারত সফরের সময় এর ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল।

নতুন কৌশলগত অ্যাজেন্ডা পাঁচটি স্তম্ভের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, যার মধ্যে রয়েছে ) সমৃদ্ধি এবং স্থায়িত্ব, যা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীলতাকে অন্তর্ভুক্ত করে; ) প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন, যার মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান প্রযুক্তি, ডিজিটাল অবকাঠামো গবেষণা সহযোগিতা; ) নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা, যার মধ্যে রয়েছে নতুন চুক্তি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং চিরাচরিত মিশ্র ধরনের হুমকি মোকাবিলা; ) সংযোগ এবং বৈশ্বিক সমস্যা, যেমন তৃতীয় দেশগুলিতে সহযোগিতা বৈশ্বিক শাসন; এবং পরিশেষে, ) স্তম্ভগুলির উপর সক্রিয়কারী, যার মধ্যে রয়েছে দক্ষতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং গবেষণা প্রচার, ব্যবসায়িক সম্প্রদায়গুলিকে সম্পৃক্ত করা এবং ইইউ-ভারত সম্পর্কের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে শক্ত করা।

রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে (ওয়াশিংটন প্রথমে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর, যা ভারতের ৭৪.৭ বিলিয়ন ইউরোর বার্ষিক রপ্তানির অর্ধেককে প্রভাবিত করেছিল) ট্রাম্পের ইইউ-এর উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা সংক্রান্ত চাপের প্রেক্ষাপটে, ব্রাসেলস নয়াদিল্লির সঙ্গে তার অংশীদারিত্ব দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বর্ধিত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

১২ সেপ্টেম্বর ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে ইইউ কমিশনার মারোস শেফচোভিচ নয়াদিল্লি পৌঁছ, যা বিশ্বব্যাপী এই ধরনের বৃহত্তম চুক্তি হিসেবে পরিচিত।

ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা - বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধ - আরও বেশি প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে এবং আলোচনাকে ত্বরান্বিত করেছে, যা প্রায় এক দশকের বিরতির পর ২০২২ সালে পুনরায় শুরু হয়েছিল। শুল্ক এবং অ-শুল্ক বাধা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাসের মাধ্যমে এফটিএ প্রধান বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রবাহকে উন্মুক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে ইইউ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের মূল্য ছিল ১৮০ বিলিয়ন ইউরো, যদিও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ইইউ-র মোট বাণিজ্যের মাত্র ২.৪ শতাংশ ছিল।

রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে (ওয়াশিংটন প্রথমে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ  করার পর, যা ভারতের ৭৪.৭ বিলিয়ন ইউরোর বার্ষিক রপ্তানির অর্ধেককে প্রভাবিত করেছিল) ট্রাম্পের ইইউ-এর উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা সংক্রান্ত চাপের প্রেক্ষাপটে, ব্রাসেলস নয়াদিল্লির সঙ্গে তার অংশীদারিত্ব দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবুও মূল বিরোধগুলি অব্যাহত রয়েছে। কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্য এবং এই খাতগুলিকে প্রভাবিত করে এমন অ-শুল্ক সংক্রান্ত সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য শেফচোভিচের সঙ্গে ছিলেন ইইউ-এর এগ্রিকালচার কমিশনার ক্রিস্তফ হ্যানসেন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, এই ক্ষেত্রগুলিতে অগ্রগতি অপ্রতুল ছিল। তা ছাড়া, ইইউ-এর কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিবিএএম) এবং অটোমোবাইল অ্যালকোহলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে বৃহত্তর বাজারে প্রবেশাধিকার প্রতিবন্ধকতাময়।

অক্টোবর মাসে ব্রাসেলসে ১৪তম দফার আলোচনার সঙ্গে ইইউ-ভারত এফটিএ সম্পন্ন করার জন্য বৃহত্তর ভূ-অর্থনৈতিক চিত্রের স্বার্থে ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন। যুক্তরাজ্য-ভারত এফটিএ-তে ভারতের নমনীয়তা - যেখানে চূড়ান্ত চুক্তিটি অভিবাসনের বিষয়ে ভারতীয় দাবিগুলিকে প্রায় নস্যাৎ করে দিয়েছে - একটি টেমপ্লেট প্রদান করে।

সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে এফটিএ সম্পন্ন করা জরুরি হলেও নতুন অ্যাজেন্ডাটি একটি ইইউ-ভারত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে তুলে ধরে, যা সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মিশ্র ধরনের হুমকি এবং সন্ত্রাসবাদ দমন-সহ অভিন্ন সাধারণ অগ্রাধিকারগুলিতে নিবিড় সহযোগিতাকে সক্ষম করবে।

বাণিজ্য আলোচকদের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কমিটি (পিএসসি) - যার সভাপতি ব্রাসেলসে অবস্থিত ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের ২৭ জন রাষ্ট্রদূত - সম্পর্ক জোরদার করার জন্য তাঁদের প্রথম ভারত সফরে এসেছিলেনএকই সঙ্গে ইইউ- ভারত সন্ত্রাসবাদ দমন সংলাপ ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত হয়। অক্টোবর মাসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটি নয়াদিল্লি সফর করেছে। সেই সময়ে এসেছিলেন ইইউ-এর বিদেশনীতি প্রধান কাজা কালাস। ইইউ-ভারত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার পরিধি এবং মাত্রা সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে ব্রাসেলস নয়াদিল্লির গুরুত্ব প্রদর্শন করে। ইইউ এবং ভারত উভয়ই ট্রাম্পের বাণিজ্য হুমকি ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে এবং অন্যান্য ভূ-রাজনৈতিক চাপের পাশাপাশি তাদের চিরাচরিত মিত্র দ্বারা সৃষ্ট বাধাগুলি মোকাবিলা করার জন্য আরও  গভীর অংশীদারিত্বের সন্ধান করছে।

সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে এফটিএ সম্পন্ন করা জরুরি হলেও নতুন অ্যাজেন্ডাটি একটি ইইউ-ভারত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে তুলে ধরে, যা সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মিশ্র ধরনের হুমকি এবং সন্ত্রাসবাদ দমন-সহ অভিন্ন সাধারণ অগ্রাধিকারগুলিতে নিবিড় সহযোগিতাকে সক্ষম করবে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের পহেলগাম হামলার বিষয়টি অ্যাজেন্ডা নথিতে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যৌথ যোগাযোগে গোপন তথ্য বিনিময়ের সুবিধার্থে তথ্য সুরক্ষা চুক্তির বিষয়ে আলোচনার ঘোষণাও করা হয়েছে, যা ইইউ-র স্থায়ী কাঠামোগত সহযোগিতা (পিইএসসিও) মতো কাঠামোতে ভারতের অংশগ্রহণকেও উন্মুক্ত করবে। ইন্দো-প্যাসিফিক এবং ইউরো-আটলান্টিক পরিসরের মধ্যে সংযোগগুলি তুলে ধরে অ্যাজেন্ডাটি ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগর উদ্যোগ (আইপিওআই) এবং ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন- (আইওআরএ) ইইউ-র অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেছে

প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় পণ্য কিনতে উৎসাহ জোগানো সত্ত্বেও ব্রাসেলসের বৈদেশিক অংশীদারদের প্রয়োজন হবে, বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদে এবং ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা ইউরোপের পুনর্নির্মাণ প্রচেষ্টায় ভূমিকা পালন করতে পারে। ইতিমধ্যে ভারতকে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা রফতানিকারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসাবে দেখা হয় কারণ দেশটি সামরিক সরবরাহের বৈচিত্র্যকরণ এবং তার প্রতিরক্ষা ক্ষমতা আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পার্থক্য দূরীকরণের প্রচেষ্টা

ইইউ এবং ভারত রাশিয়ার বিষয়ে তাদের পার্থক্যগুলি ভাল ভাবে মোকাবিলা  করেছে, যা ইইউ-ভারত নিবিড় অংশীদারিত্বের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করেনি। উভয় পক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে যে, রাশিয়া প্রসঙ্গটি ভবিষ্যতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পথে মোটেই বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। নতুন অ্যাজেন্ডায় যেমনটা আবারও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ইইউ এবং ভারত প্রতিটি বিষয়ে একমত না হলেও এই অংশীদারিত্বের ভিত্তি হল অভিন্ন স্বার্থ, পরিপূরক শক্তি, অভিন্ন সাধারণ রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি এবং উভয় অঞ্চল তার বাইরের মানুষের জন্য বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে। তবুও যেমনটি ক্যালাস ইঙ্গিত করেছেন, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনার পাশাপাশি বেলারুশে রাশিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক জাপাদ সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ ইইউ-র জন্য বিরক্তিকর। অ্যাজেন্ডায় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ, ছায়া নৌবহর এবং নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হলেও ইইউ-র বর্তমান পদ্ধতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা জড়িত, যাতে তাদের রাশিয়া কোণঠাসা না করতে পারে

নির্ভরযোগ্যতা স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে সারিবদ্ধতা স্বায়ত্তশাসনের ভারসাম্য বজায় রেখে, ইইউ-ভারত অংশীদারিত্ব একবিংশ শতাব্দীর সংজ্ঞায়িত অংশীদারিত্বের মধ্যে অন্যতম হতে পারে।

উল্লেখযোগ্য ভাবে, অ্যাজেন্ডাটিতে ভারতের ২৮টি রাজ্য এবং আটটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল-এর সঙ্গে ইইউ-এর সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক কূটনীতির সঙ্গে এটি মানানসই হতে পারে, যা ভারতের প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে রাজ্যগুলি উপর আরও বেশি ভূমিকা ন্যস্ত করে।

নতুন ইইউ-ভারত অ্যাজেন্ডাটি ২৭টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের দ্বারা অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, যার পরে এটি ২০২৬ সালে ইইউ-ভারত শীর্ষ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ভাবে গৃহীত হবে। নির্ভরযোগ্যতা স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে সারিবদ্ধতা স্বায়ত্তশাসনের ভারসাম্য বজায় রেখে, ইইউ-ভারত অংশীদারিত্ব একবিংশ শতাব্দীর সংজ্ঞায়িত অংশীদারিত্বের মধ্যে অন্যতম হতে পারে।

 


শায়েরী মলহোত্র অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর।

 


নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.