Author : Arpan Tulsyan

Published on Aug 27, 2025 Updated 13 Hours ago

মার্কিন ভিসা সংক্রান্ত অস্বীকৃতি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। বহির্মুখী নির্ভরতা থেকে একটি শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ শিক্ষার বিকাশের দিকে ভারতের এগিয়ে যাওয়ার আদর্শ মুহূর্ত এটিই

মার্কিন ভিসা বাধার মাঝেও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষার নতুন পথ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বমানের শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক স্তরে পেশা গড়তে আগ্রহী ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য। ২০২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বকালের সর্বোচ্চ ১১ লক্ষেরও বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন। ভারতীয় শিক্ষার্থীরা এই দলটির বৃহত্তম অংশ ছিল। ভারত থেকে ৩৩১,৬০২ জন ভর্তি হয়েছিলে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩.৩ শতাংশ বেশি। এনএএফএসএ-র (অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস বা আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদ সমিতি) বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে যে, ২০২৩-২০২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ৪৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবদান রেখেছে এবং মার্কিন অর্থনীতিতে ৩৭৮,১৭৫টি চাকরির সুযোগ তৈরি করেছে।

ভারতীয় তরুণদের জন্য ‘মার্কিন স্বপ্নযত বেশি করে অধরা হয়ে উঠছে, ভারতকে ততই তার উচ্চশিক্ষার বাস্তুতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য এই সুযোগটি কাজে লাগাতে হবে। এর মাধ্যমেই ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-দক্ষিণ কূটনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আঞ্চলিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক ছাত্র ভিসার উপর কঠোর ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রকদের উপর কঠোর নজরদারি এবং অভিবাসন-বিরোধী বক্তব্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় অনিশ্চয়তার অনুভূতি তৈরি করেছে। ভারতীয় তরুণদের জন্য ‘মার্কিন স্বপ্নযত বেশি করে অধরা হয়ে উঠছে, ভারতকে ততই তার উচ্চশিক্ষার বাস্তুতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য এই সুযোগটি কাজে লাগাতে হবে। এর মাধ্যমেই ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-দক্ষিণ কূটনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আঞ্চলিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নীতিগত পরিবর্তন

২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে একাধিক বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থা চালু করেছে, যার ফলে প্রত্যাখ্যানের হার বৃদ্ধি পেয়েছে, তদন্ত আরও গভীর হয়েছে (অনলাইন আচরণের উপর নিয়ন্ত্রণ-সহ) এবং লক্ষ্যনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য বাধা তৈরি করার ফলে উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কম বন্ধুত্বপূর্ণ বিকল্প বলে মনে করে দেশটির প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য জারি করা ভিসার পরিমাণ ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা বর্ধিত তদন্ত প্রশাসনিক বাধাকেই দর্শায়।

ছোটখাটো লঙ্ঘনের কারণে ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ছাত্রের ভিসা বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে দ্রুত বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) সার্টিফিকেশন বাতিল করে বিদেশি ছাত্রদের ভর্তি থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে এই প্রবণতা চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। এর ফলে হার্ভার্ডে ১০,১৫৮ জন আন্তর্জাতিক ছাত্রের মর্যাদা হুমকির মুখে পড়েছে এবং হার্ভার্ডে অধ্যয়নরত ৭৮৮ জন ভারতীয় ছাত্রের উপর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। একজন ফেডারেল বিচারক সাময়িক ভাবে এই পদক্ষেপটি স্থগিত রাখলেও এবং ১২,০০০ প্রাক্তন ছাত্র ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ডের সমর্থনে সমাবেশ করলেও ভিসা প্রক্রিয়াকরণের চ্যালেঞ্জ আইনি লড়াই অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি অনিশ্চয়তায় ভরা। এই সব কিছুই আন্তর্জাতিক ছাত্রদের ও তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য চলমান উদ্বেগ তৈরি করছে।

আইন প্রস্তাব নির্বাহী বক্তব্য ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বা অপারেশনাল প্র্যাকটিস ট্রেনিং (ওপিটি) প্রোগ্রামকেও লক্ষ্য করেও করা হয়েছে। ওপিটি আসলে আন্তর্জাতিক ছাত্রদের স্টেম ক্ষেত্রে ডিগ্রি-পরবর্তী তিন বছরের জন্য কাজ করার অনুমতি দেয়। ওপিটি নিয়ে একটি নিয়ন্ত্রক রোলব্যাক ঘোষণা করা হয়েছে কারণ এটি মার্কিন চাকরির উপর প্রভাব ফেলে। পড়াশোনা-পরবর্তী স্পষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সম্ভাবনা ভারতীয় তরুণদের ‘মার্কিন স্বপ্নেরআকাঙ্ক্ষাকে উল্লেখযোগ্য ভাবে বদলে দেয়।

ভারতের উপর প্রভাব

ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য এই নীতিগত পরিবর্তনের তাৎক্ষণিক প্রভাব বহুমুখী – তা সে অনিশ্চয়তা চাপ থেকে শুরু করে আর্থিক ঝুঁকি পর্যন্ত। অপ্রত্যাশিত ঘোষণা নীতি বাস্তবায়নের সময়সীমার অনিশ্চয়তা শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি মানসিক যন্ত্রণার সৃষ্টি করেছে। ভারতীয় মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একটি শিশুকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে গেলে বেশ কয়েক বছরের সঞ্চয় প্রয়োজন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার খরচ বার্ষিক ৩৫ লক্ষ টাকা থেকে ৫০ লক্ষ টাকার মতো। ভিসা অনুমোদন বা কাজের অনুমোদন প্রক্রিয়ার জন্য যে কোন অনিশ্চয়তা মার্কিন শিক্ষাকে একটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে পরিণত করে, যা পরিবারের খরচ-সুবিধা বিশ্লেষণকে উল্লেখযোগ্য ভাবে পরিবর্তন করে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া বা সেখানে পড়তে গিয়েও পিছিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছেঅনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী আবেদনপত্র সম্পূর্ণ ভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে বা আপাতত অপেক্ষা করতে পছন্দ করছেন। আবেদন করার আগে আরও স্থিতিশীল নীতিগত পরিবেশের জন্য তাঁরা অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের পছন্দের ক্ষেত্রেও একটি কৌশলগত পরিবর্তন এসেছেভারতীয় শিক্ষার্থীরা ক্রমজার্মানি, রাশিয়া, ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড, উজবেকিস্তান বা বাংলাদেশের মতো বিকল্প গন্তব্যের দিকে ঝুঁকছে (দ্রষ্টব্য সারণি ১)।

সারণি ১: ২০২২-২০২৫ সাল পর্যন্ত ভারতীয় শিক্ষার্থীর শতকরা হারে বৃদ্ধি

দেশ

২০২২

২০২৩

২০২৫

শতাংশে বৃদ্ধি (২০২২-২০২৫)

ফ্রান্স

৬,৪০৬

৭,৪৮৪

৮,৫৩৬

+৩৩.৩%

নিউজিল্যান্ড

১,৬০৫

৬,৪৭১

৭,২৯৭

+৩৫৪.৭%

জার্মানি

২০,৬৮৪

২৩,২৯৬

৩৪,৭০২

+৬৭.৮%

বাংলাদেশ

১৭,০০৬

২০,৩৬৮

২৯,২৩২

+৭১.৯%

রাশিয়া

১৯,৭৮৪

২৩,৫০৩

৩১,৪৪৪

+৫৯.১%

আয়ারল্যান্ড

৬,২১১

৮,০১১

১০,৪৩৮

+৬৮.১%

উজবেকিস্তান

৩,৪৩০

৬,৬০১

৯,৯১৫

+১৮৯.২%

উৎস: লোকসভার আনস্টারড কোয়েশ্চেন নং ১৭৩০, ১০.০৩.২০২৫ তারিখে উত্তর দেওয়া হয়েছে

দীর্ঘমেয়াদে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে, তা হলে এটি মার্কিন সমাজ ব্যবসায় ভারতীয় প্রবাসীদের প্রভাবকে দুর্বল করে দিতে পারে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণা উদ্ভাবনের গতিকে ধীর করে দেবে এবং উভয় দেশের জন্য শিক্ষাগত বিনিময়ের পারস্পরিক সুবিধা হ্রাস করবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিশ্বব্যাপী প্রতিভা প্রবাহের কৌশলগত ভারসাম্যকে পরিবর্তন করতে পারে এবং শিক্ষা, প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ভারত-মার্কিন সহযোগিতার গভীরতাকে হ্রাস করতে পারে।

ভারতের জন্য সুযোগ

মার্কিন পথ সঙ্কুচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতকে তার উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলকতা বৃদ্ধি করতে এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতাকে বৈচিত্র্যময় করার জন্য কাজ করতে হবে। জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) ২০২০ পাঠ্যক্রমের আন্তর্জাতিকীকরণ, বিশ্বব্যাপী গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধি, শিল্প সমন্বয় উন্নত করা, উদ্ভাবন উদ্যোক্তাদের জন্য একটি শক্তিশালী বাস্তুতন্ত্র তৈরি করে এবং ভারতের উচ্চ শিক্ষা কমিশনের (হায়ার এডুকেশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া আ এইচইসিআই) মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্কারের সাহায্যে এই সমস্ত লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি নীলনকশা প্রদান করে।

মার্কিন পথ সঙ্কুচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতকে তার উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলকতা বৃদ্ধি করতে এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতাকে বৈচিত্র্যময় করার জন্য কাজ করতে হবে।

প্রথমত, ভারতের উচিত বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বশাসিত ক্যাম্পাস স্থাপনের সাম্প্রতিক দিকনির্দেশনা অব্যাহত রাখা, গেম ডিজাইনের মতো অনন্য বিষয়, স্টেম ও ব্যবসায়িক কোর্স প্রদানে উৎসাহিত করা, বিশ্বব্যাপী বিনিময়ের সুযোগ-সহ গবেষণা-নিবিড় শিক্ষার উপর জোর দেওয়া।

দ্বিতীয়ত, নীতি আয়োগের সুপারিশ অনুযায়ী - সিঙ্গাপুরের গ্লোবাল স্কুলহাউস বা দুবাই ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাডেমিক সিটির আদলে তৈরি - বৃহৎ পরিসরের এডুসিটিজ তৈরি করা বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা সহ সমন্বিত, বহু-প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাম্পাসের জন্য এটি আদর্শ লঞ্চপ্যাড হতে পারে, যা উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিতে বহু-বিষয়ক শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করে।

তৃতীয়ত, সরকার একটি ডিজিটাল মঞ্চ শুরু করতে পারে, যা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে অনলাইনে ডিগ্রি শুরু করতে এবং ভারত বা বিদেশে ডিগ্রি সম্পন্ন করতে সক্ষম করে। এটি খানিক জার্মানির ‘স্টার্ট ইন জার্মানি, ফিনিশ এনিহোয়্যার’ মডেলের অনুরূপ। এটি নমনীয়তা, খরচ-কার্যকারিতা, ভিসা বা ভ্রমণের বাধাগুলির বিরুদ্ধে স্থিতিস্থাপকতা দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন উদ্বেগ ছাড়াই বিশ্বব্যাপী গতিশীলতাকে সমর্থন জোগাবে

চতুর্থত, ‘ডেস্টিনেশন অস্ট্রেলিয়া’-এর মতো ভারতেরও উচিত উচ্চশিক্ষা কেন্দ্রগুলিকে বিকেন্দ্রীকরণ করা, আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বীকৃতি অনুষদ উন্নয়ন করা এবং আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য একটি বৃত্তি তহবিল গঠন করা। এটি আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে সমর্থন করবে এবং সারা দেশে সমান ভাবে শিক্ষাগত সুবিধা বিতরণ করবে।

পঞ্চমত, ভারতের উচিত ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় - যেমন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) - অন্যান্য দেশে সম্প্রসারণ করাবিশেষ করে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা জোরদার করতে এটি সাহায্য করবে। ভারতীয় এডটেক বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় - যেমন অশোক, প্লাক্ষা বা অ্যামিটি – প্রবেশাধিকার, গুণমান বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করে এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে।

মার্কিন স্বপ্ন এখন আরও জটিল এবং আইনি ও পদ্ধতিগত বাধায় পরিপূর্ণ বলে মনে হলেও অবশ্যই ভারতের লক্ষ্য হওয়া উচিত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত এবং পেশাদার আকাঙ্ক্ষাগুলিকে রক্ষা করা, নীতিতে পরিবর্তন আনা এবং এমন সুযোগ সৃষ্টি করা, যা গন্তব্য পরিবর্তন করলেও সম্ভাবনা অক্ষুণ্ণ রাখে।

সম্মিলিত ভাবে এই উদ্যোগগুলি বিদেশি শিক্ষার উপর নির্ভরতা হ্রাস করবে, আন্তর্জাতিক ক্রমান্বয়ে ভারতের অংশগ্রহণ উন্নত করবে এবং গুণমানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতকে একটি ক্রমবর্ধমান কেন্দ্র হিসেবে জায়গা করে দেবে। আন্তর্জাতিক নীতির পরিবর্তন সত্ত্বেও এই সুযোগ ভারতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলিকে সুযোগে রূপান্তরিত করবে, দেশের যুবসমাজের কাছে বিশ্বমানের শিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখবে এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলকতাকেও সুনিশ্চিত করবে।

উপসংহার

মার্কিন স্বপ্ন এখন আরও জটিল এবং আইনি ও পদ্ধতিগত বাধায় পরিপূর্ণ বলে মনে হলেও অবশ্যই ভারতের লক্ষ্য হওয়া উচিত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত এবং পেশাদার আকাঙ্ক্ষাগুলিকে রক্ষা করা, নীতিতে পরিবর্তন আনা এবং এমন সুযোগ সৃষ্টি করা, যা গন্তব্য পরিবর্তন করলেও সম্ভাবনা অক্ষুণ্ণ রাখে। এ ছাড়াও, ভারতকে একটি সাশ্রয়ী, উচ্চমানের বিশ্বব্যাপী শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিণত করার প্রচেষ্টা জোরদার করা উচিত এবং ভারতের শিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণকে গ্রহণ করা উচিত।

 


অর্পণ তুলসিয়ান অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিও ইকোনমিক ডিপ্লোমেসির সিনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.