Expert Speak Raisina Debates
Published on Apr 21, 2026 Updated 0 Hours ago

নেপালের নতুন সরকার চিনের সঙ্গে সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস করতে পারে। কিন্তু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে মৌলিক পরিবর্তনের পরিবর্তে সতর্কতামূলক ধারাবাহিকতারই ইঙ্গিত দেয়।

 

নেপালের রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং নেপাল-চিন সম্পর্ক পরিবর্তনের সীমাবদ্ধতা

নেপালে গত মাসের ঘটনাপ্রবাহের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ২০২৬ সালের  মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিষ্ঠিত পুরনো দলগুলির প্রায় পূর্ণ পরাজয়ের মাধ্যমে। নির্বাচনের পর ২৭ মার্চ রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) বলেন্দ্র শাহ সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। কাঠমান্ডু তার রাজনৈতিক যাত্রার এই নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেনতুন সরকার কী ভাবে তার পররাষ্ট্রনীতি গঠন করবেতা নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। চিনের জন্যএকটি নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ইচ্ছাকৃত সংযম প্রদর্শনে প্ররোচিত করেছেযেখানে বেজিং পরিস্থিতি কী ভাবে উন্মোচিত হয় তা মূল্যায়ন করতে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে তার নীতি পুনর্বিন্যাস করতে ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ (অপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ানীতি গ্রহণ করেছে।

রাজনৈতিক পরিবর্তন, কৌশলগত ধারাবাহিকতা

আরএসপি- নেতৃত্বে উত্থানের নেপথ্যে এক দিকে যেমন স্থিতাবস্থা ভাঙার প্রতি তাদের অঙ্গীকার কাজ করেছেতেমনই অন্য দিকে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক অভিজাতদের প্রতি জনগণের হতাশাও একটি চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। ফলাফল-ভিত্তিকনিয়ন্ত্রণ-ভিত্তিক এবং জবাবদিহিতা-কেন্দ্রিক শাসনের উপর তাদের জোর দেওয়াটা পরিবর্তনের এই চাহিদাকেই প্রতিফলিত করে। উল্লেখযোগ্য অভ্যন্তরীণ সংস্কার এখনও আবশ্যক তবে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে কাঠমান্ডুর সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের রীতি নীতির উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছেযা একটি ভারসাম্যপূর্ণজোটনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি এবং যা নিরাপত্তা বা সামরিক জটিলতা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি নিজের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ভারত  চিন… উভয়ের প্রবৃদ্ধিকেই কাজে লাগায়।

আরএসপি- নির্বাচনী প্রচারণায় ভারত  চিনের মধ্যে নেপালকে একটি সেতু হিসেবে নতুন করে তুলে ধরার উপরও জোর দেওয়া হয়েছেএবং একই সঙ্গে এই ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে যেদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনও বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ইচ্ছা তাদের নেই কর্মকর্তাদের মতেঅর্থনৈতিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপরই মনোযোগ দেওয়া হবে এবং উন্নয়ন কূটনীতিই হবে যোগাযোগের প্রধান হাতিয়ার। গত কয়েক দশকে চিনের জন্য নেপালের গুরুত্ব বেড়েছেযা দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ে চিনের বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভারতের সঙ্গে তার ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার সঙ্গে বিকশিত হয়েছে। তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নেপালের ভৌগোলিক অবস্থানও নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে দেশটিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

শাহের শপথ গ্রহণের পর চিনের মিনিস্ট্রি অফ ফরেন অ্যাফেয়ার্সের মুখপাত্র তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং উভয় দেশের একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। পূর্ববর্তী অলি-নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে চিন-নেপাল সম্পর্ক একটি আশাব্যঞ্জক গতিপথে ছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে অলি তাঁর চিন সফরকালে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) বিষয়ে আর একটি কাঠামো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ২০১৭ সাল থেকে বিআরআই বেজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে পরিণত হয়েছে।

গত কয়েক দশকে চিনের জন্য নেপালের গুরুত্ব বেড়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ে চিনের বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভারতের সঙ্গে তার ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার সঙ্গে বিকশিত হয়েছে। তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নেপালের ভৌগোলিক অবস্থানও নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে দেশটিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

প্রাথমিক ভাবে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ৩৫টি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র টি চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছিল। প্রায় এক দশক পরেওবিশেষ করে অর্থায়নের পদ্ধতি নিয়ে কিছু মতবিরোধ রয়ে গিয়েছে এর কারণ হল অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের বিষয়ে নেপালের অনীহা এবং সব প্রকল্পকে অনুদান সহায়তার আওতায় আনতে চিনের অনিচ্ছা। এর পাশাপাশিস্থানীয় পরিস্থিতি এবং ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন প্রকল্প বাস্তবায়নকে প্রভাবিত করে চলেছে। পার্বত্য ভূখণ্ডভূমি অধিগ্রহণের প্রতিবন্ধকতাক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর বিরোধিতাআর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব এবং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের জন্য বিশেষ সুবিধা পাওয়ার ধারণা… এই সবই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সর্বশেষ চুক্তিতে দশটি প্রকল্পকে বিশেষ ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষ প্রতিটি প্রকল্পের জন্য আলাদা ভাবে অর্থায়নের পদ্ধতি নির্ধারণ করতে সম্মত হয়েছে। নেপালি কর্মকর্তারা এটিকে একটি বিজয় হিসেবে দেখছেন কারণ চিন অবশেষে কাঠমান্ডুর চাওয়া শর্তাবলিতে রাজি হয়েছে। এই দশটি প্রকল্পের মধ্যে কেবল তোরখা-ছারে টানেলের কাজে অগ্রগতি হয়েছে এবং উভয় পক্ষই হিলসা-সিমিকোট সড়কটি সম্পন্ন করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সীমান্ত বাণিজ্য সহযোগিতা বিষয়ে তাদের ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের বৈঠকে এই দুটি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছিল। কেরুং-কাঠমান্ডু রেলপথের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে অন্য দিকে সমস্ত প্রকল্পের অবস্থা সর্বশেষ পর্যালোচনা করা হয়েছিল ২০২৫ সালের মে মাসে ২০২৪ সালে কে.পি. শর্মা অলির বেজিং সফরের আগে আরএসপি- ঊর্ধ্বতন নেতারা কার্যপরিধি এবং চুক্তির কাঠামো সম্পর্কে আরও স্পষ্টতা চেয়েছিলেন। সাম্প্রতিক কালে তাঁরা প্রতিটি প্রকল্পকে পৃথক ভাবে মূল্যায়ন করা এবং এর অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা সম্ভাব্য আয়ের ভিত্তিতে অনুদান না কি ঋণ প্রয়োজন… তা নির্ধারণ করার উপরও জোর দিয়েছেন। এটি সর্বশেষ চুক্তির সঙ্গে এক ধরনের ধারাবাহিকতারই ইঙ্গিত দেয়।

নেপালের নতুন সরকারের সামনে সীমাবদ্ধতা

প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে ঝাপার দামাকে গড়ে উঠতে চলা চিন-নেপাল শিল্প পার্কের বিষয়টি বাদ দেওয়ায়এটিকে রাজনৈতিক চক্রের শুরুতেই সতর্কতা অবলম্বনের একটি প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হয়েছিল। পার্কটি নেপালের দক্ষিণ অঞ্চলে ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় নয়াদিল্লির জন্য এটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যদিও ২০১৯ সালে সমঝোতাপত্রটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ২০২১ সালে অলি এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ স্বীকার করে নেওয়ার দলের এই অভিপ্রায় ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রকল্পগুলির অগ্রগতির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করছে।

২০২৪ সালে যখন দ্বিতীয় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়তখন আলোচনায় সম্পৃক্ত থাকা কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যেএর পর থেকে নেপালে যে কোনও বিনিয়োগ বিআরআই কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এটি আরএসপি- দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে কী ভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণতা এখনও স্পষ্ট নয়। কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে বলেন্দ্র শাহের পূর্ববর্তী অবস্থানগুলিকেও চিন-বিরোধী প্রবণতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বেজিং কর্তৃক নেপালের ভূখণ্ডকে ভারতের অংশ হিসেবে চিত্রিত করার নৈতিক উদ্বেগের কারণে তাঁর ২০২৩ সালের চিন সফর বাতিল করার সিদ্ধান্ত।

চিনা ঋণে নির্মিত পোখরা বিমানবন্দরের নির্মাণকাজে দুর্নীতির অভিযোগসমূহ আবার ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু দিন আগে কমিশন ফর দ্য ইনভেস্টিগেশন অফ অ্যাবিউজ অফ অথরিটি (সিআইএএ) তহবিল আত্মসাৎ করার অভিযোগে বিমানবন্দরের ঠিকাদার, চিনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সিএএমসি ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এবং এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তৃতীয় একটি মামলা দায়ের করেছে এই অভিযোগও উঠেছে যেপ্রকল্পটি পাওয়ার জন্য ঠিকাদার ‘দুর্নীতিগ্রস্ত উদ্দেশ্য’ নিয়ে কাজ করেছে এর ফলে চিনা বিনিয়োগের প্রতি আস্থার ঘাটতি দেখা দিতে পারেবিশেষ করে যেহেতু নেপালের প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও চিন ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বিমানবন্দরের উদ্বোধনকে বিআরআই-এর সঙ্গে যুক্ত করতে চেয়েছিল।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে যখন প্রথম মামলাটি দায়ের করা হয়তখন তৎকালীন চিনা রাষ্ট্রদূত মামলাটিকে একটি বহিরাগত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি বলে আখ্যা দিয়ে নেপালকে ঠিকাদারকে জড়িত না করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। নেপালের অবকাঠামো উন্নয়নে চিন একটি প্রভাবশালী শক্তি এবং চিনা ঠিকাদাররাই অধিকাংশ প্রকল্প পেয়েছে। ব্যাপক দুর্নীতি মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হওয়া একটি সরকারের উপর ব্যবস্থা নেওয়ার চাপও থাকবে। এর ফলে অন্যান্য চিনা বিনিয়োগও তদন্তের আওতায় আসতে পারে অথবা চলমান প্রকল্পগুলির সমাপ্তি বিলম্বিত হতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চিনের নিরাপত্তা কৌশলগত উদ্বেগের বিষয়ে নেপালের অবস্থানেও ধীরে ধীরে কঠোর মনোভাব দেখা গিয়েছে। এর প্রতিফলন ঘটেছে কিছু ক্ষেত্রে ‘ওয়ান চায়না পলিসি’ (এক চিন নীতিথেকে ওয়ান চায়না প্রিন্সিপাল’- (এক চিন মূলনীতিপরিবর্তনদ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে জিএসআই জিসিআই-কে অন্তর্ভুক্ত করা (যদিও নেপালি পক্ষ কেবল জিডিআই গ্রহণ করেছে), তিব্বত বিষয়ে আরও দৃঢ় অবস্থান এবং বিআরআই স্বাক্ষরের আগের প্রকল্পগুলিকে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সংযুক্ত করার মতো নানাবিধ ঘটনায়। আরএসপি কী ভাবে পদক্ষেপ নেয় তার উপর নির্ভর করেবেজিং সাম্প্রতিক বছরগুলিতে যে পরিসরটিকে কাজে লাগিয়েছেসেটিও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

নেপালের জন্য, চিনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত উভয় দিকই রয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করাকে কাঠমান্ডুর কৌশলগত অবস্থানের সহায়ক হিসেবেও দেখা হয়, যার মাধ্যমে নয়াদিল্লির উপর নির্ভরতা কমানো এবং ফলস্বরূপ দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

চিনের জন্যনেপালের রাজনৈতিক অংশীদারদেরবিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবেই রয়েছে। নেপালের কমিউনিস্ট দলগুলির সঙ্গে সিপিসি- যে আদর্শগত সখ্য রয়েছেতা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে গভীরতর সম্পৃক্ততা এবং বৃহত্তর প্রবেশাধিকারকে সম্ভব করেছে। রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়ে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসিডিপার্টমেন্ট অফ এক্সটারনাল রিলেশনস থেকে পাঠানো চিঠিতে এর প্রতিফলন দেখা যায়। 

চিন রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যকার বিবাদেও হস্তক্ষেপ করেছে এবং প্রায়শই কমিউনিস্ট ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে নিজেদের পছন্দের পক্ষকে চিহ্নিত করতে দ্বিধা করেনি। আরএসপি এবং সিপিসি- মধ্যে কিছুটা সম্পৃক্ততা দেখা গেলেও ক্ষমতাসীন সরকারে কোনও কমিউনিস্ট পক্ষের অনুপস্থিতি চিনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হবে। নেপালি দলগুলি বিনিময়সফর এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিপিসি- সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে। তবে চিন -কমিউনিস্ট পক্ষগুলির সঙ্গেও সম্পৃক্ত হয়েছেযাদের মধ্যে কেউ কেউ এই ধরনের সম্পৃক্ততাকে ভারতপন্থী ভাবমূর্তি থেকে নিজেদের দূরে রাখার একটি উপায় বলে মনে করে যেহেতু আরএসপি-কে ক্রমবর্ধমান ভাবে কম আপসকামী এবং বেশি দৃঢ়চেতা হিসেবে দেখা হচ্ছেতাই এর নেতৃত্বের উপর সিপিসি- প্রভাব কতটা পড়বেতা এখনও স্পষ্ট নয়।

নেপালের জন্য, চিনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত উভয় দিকই রয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করাকে কাঠমান্ডুর কৌশলগত অবস্থানের সহায়ক হিসেবেও দেখা হয়যার মাধ্যমে নয়াদিল্লির উপর নির্ভরতা কমানো এবং ফলস্বরূপ দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। দুটি বৃহত্তর শক্তির মাঝে অবস্থিত ছোট রাষ্ট্রগুলির জন্যএটিকে প্রায়শই অধিকতর বাস্তবসম্মত পন্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নেপালের নতুন সরকারের জন্যভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখা একটি প্রধান অগ্রাধিকার হবে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের অর্থনৈতিক দিককে অগ্রাধিকার দেওয়া সত্ত্বেওনেপালের কৌশলগত ভূগোল একটি অপরিবর্তনীয় বিষয় হিসেবে থাকবেযা নীতি প্রণয়নকে আরও জটিল করে তুলবে। মেয়র হিসেবে বলেন শাহের কার্যকলাপ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শাসনশৈলীর কিছুটা ইঙ্গিত দিলেও তাঁর অবস্থান দলীয় কাঠামো এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকবে।

 


শিবম শেখাওয়াত অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের জুনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.