নেপালের যুবসমাজের নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী বিদ্রোহ কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই উল্টে দেয়নি, বরং ভারত ও চিনকে একটি অস্থির হিমালয় প্রতিবেশীর সঙ্গে নিজেদের কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নেপাল তার আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক রাজনৈতিক বিদ্রোহগুলির অন্যতমটি প্রত্যক্ষ করেছে - কোনও দলীয় ব্যানার বা আদর্শগত ইশতেহার ছাড়াই যুব নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন, যা ক্ষমতায় থাকা সরকারকে উৎখাত করে, রাজনৈতিক আলোচনাকে নতুন আকার দেয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ভূ-পরিসরে চমকপ্রদ ঘটনার উন্মোচন করে। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে অনলাইনের নিছক হতাশা প্রদর্শন হিসেবে শুরু হওয়া এই আন্দোলন একটি পূর্ণাঙ্গ বিপ্লবে পরিণত হয়, যার ফলে মাত্র দু’দিনে কমপক্ষে ৭৬ জনের প্রাণহানি হয় এবং নেপালের রাজনৈতিক গতিপথে আমূল পরিবর্তন আসে।
নেপালের প্রধানত তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে কয়েক মাস ধরে অসন্তোষের সূত্রপাতের মধ্য দিয়ে এই বিদ্রোহের উৎপত্তি হয় এবং এই তরুণ জনগোষ্ঠীর গড় বয়স ২৫ বছর। ‘#NepoBaby’ (#নেপোবেবি) হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণা শুরু করা হয়েছিল, যেখানে রাজনীতিবিদদের সন্তান এবং অন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। অথচ নেপালের নাগরিকদের গড় বার্ষিক আয় ১,৪০০ মার্কিন ডলার। যখন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রাম-সহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন, তখন এই আন্দোলনটি তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই সরকারের বিরোধিতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছিল। এটিই ছিল বিদ্রোহের তাৎক্ষণিক অনুঘটক। ৮ সেপ্টেম্বর নেপালের যুব-চালিত বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে, যার ফলে পুলিশ বল প্রয়োগ করে। পুলিশের চালানো গুলিতে কমপক্ষে ১৯ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। পরের দিন পুলিশ স্টেশন এবং সরকারি ভবনগুলিতে হামলা তীব্র হয় এবং ব্যাপক অগ্নিসংযোগের মাঝেই প্রায় ১৪,০০০ বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করেন এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। তাৎক্ষণিক শূন্যতা পূরণ করতে ‘ইউথ এগেন্সট কোরাপশন’ মঞ্চের ১০,০০০-এরও বেশি ব্যবহারকারী সুশীলা কার্কিকে ওলির স্থলাভিষিক্ত করার জন্য নির্বাচিত করেন। প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাউডেল তাঁকে নেপালের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন। ঠিক হয়, ২০২৬ সালের ৫ মার্চ নেপালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নেপালের জেন জি বিদ্রোহের প্রতিক্রিয়া বোঝা, কৌশলগত ভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলে তরুণদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক অস্থিরতার ব্যাখ্যা এবং প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করা জরুরি। এটি অস্থিরতা কী ভাবে কূটনৈতিক অগ্রাধিকার, মানবিক উদ্বেগ এবং নেপালের প্রতি ভূ-রাজনৈতিক গণনাকে পুনর্গঠিত করেছিল, তা বুঝতেও সাহায্য করে।
এই প্রেক্ষিতে নেপালের জেন জি বিদ্রোহের প্রতিক্রিয়া বোঝা, কৌশলগত ভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলে তরুণদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক অস্থিরতার ব্যাখ্যা এবং প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করা জরুরি। এটি অস্থিরতা কী ভাবে কূটনৈতিক অগ্রাধিকার, মানবিক উদ্বেগ এবং নেপালের প্রতি ভূ-রাজনৈতিক গণনাকে পুনর্গঠিত করেছিল, তা বুঝতেও সাহায্য করে।
নেপালের বাণিজ্যিক ভূ-পরিসর
নেপালের বিদ্রোহের প্রতি এশিয়ার দুই প্রধান শক্তি কী ভাবে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছিল, তা মূল্যায়ন করার জন্য ভারত এবং চিনের সঙ্গে নেপালের বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিকে নজর ফেরানো জরুরি। নেপাল একটি অত্যন্ত অসম বাণিজ্যিক ভাবমূর্তি বজায় রেখেছে। শুল্ক বিভাগের বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে নেপাল তার ১৬৪টি বাণিজ্যিক অংশীদারের মধ্যে মাত্র ৩৭টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত উপভোগ করেছে, যা তার আমদানি-নির্ভর ভোগের ধরনকেই প্রতিফলিত করে। দেশটির প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে উচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, যার পরিমাণ গত অর্থবর্ষে ছিল ১,৫২৭.০৯ বিলিয়ন টাকা। প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে নেপালের ভারত এবং চিনের সঙ্গে সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে, যার পরিমাণ যথাক্রমে ১৪৪.৬৭ বিলিয়ন নেপালি রুপি এবং ৫১.৮০ বিলিয়ন নেপালি রুপি।
রফতানির গন্তব্য এবং আমদানির উৎস উভয় হিসেবেই ভারত নেপালের বহির্বাণিজ্যে বিরাট ব্যবধানে আধিপত্য বিস্তার করে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নথিভুক্ত হওয়া তথ্য অনুসারে, ভারতই নেপালের বৃহত্তম রফতানি গন্তব্যস্থল। নেপালের মোট রফতানির ৭১.৯ শতাংশ ভারতে যায়, যার পরিমাণ ১৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে বাণিজ্য ভারসাম্য নেতিবাচক থেকেছে। ভারত থেকে নেপালের আমদানির পরিমাণ ৫১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চিন নেপালের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং আমদানির ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক ব্যাপক ভাবে তির্যক, বলা চলে অনেকটাই ভারতের মতো। নেপাল চিন থেকে ১৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছিল এবং অন্য দিকে নেপাল মাত্র ৪.০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য চিনে রফতানি করেছিল, যার ফলে ১৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছিল।
ভারতের প্রতিক্রিয়া সংযম দ্বারা চিহ্নিত
অভ্যুত্থানের প্রতি ভারতের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিক উদ্বেগ এবং কৌশলগত হিসেব-নিকেশকেই দর্শায়। নেপালের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং নিকটতম ভৌগোলিক প্রতিবেশী হিসেবে ভারত রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে উদ্ভূত উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক পরিণতির সম্মুখীন হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় একটি সতর্কতামূলক বিবৃতি জারি করে উল্লেখ করেছে যে, তারা নেপালের ঘটনাপ্রবাহ নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিবৃতিতে হতাহতের জন্য শোক প্রকাশ করা হয়েছে, শোকাহতদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং নেপালে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশিকা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনাবলির বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন। পরে ২১ সেপ্টেম্বরের এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় সংবিধান ঘোষণার পর সৃষ্ট সহিংসতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নেপালের অভ্যন্তরে চলাচলে অসুবিধা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে মালবাহী সংস্থা এবং পরিবহণকারীরা অভিযোগ জানিয়েছে।
ভারত-নেপাল বাণিজ্যিক সম্পর্কের উপর অস্থিরতার প্রভাব স্পষ্ট ছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে ভারতের রফতানি ১৬.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম সড়ক পরিবহণ ব্যাহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলির মধ্যে রয়েছে পেট্রোলিয়াম পণ্য, ইস্পাত, ওষুধ এবং যন্ত্রপাতি-সহ নেপালের দৈনন্দিন কাজের জন্য নির্ভরশীল পণ্য।
ভারত-নেপাল বাণিজ্যিক সম্পর্কের উপর অস্থিরতার প্রভাব স্পষ্ট ছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে ভারতের রফতানি ১৬.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম সড়ক পরিবহণ ব্যাহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলির মধ্যে রয়েছে পেট্রোলিয়াম পণ্য, ইস্পাত, ওষুধ এবং যন্ত্রপাতি-সহ নেপালের দৈনন্দিন কাজের জন্য নির্ভরশীল পণ্য। ভারত ও নেপালের সীমান্তবর্তী শহরগুলিতে আটকে থাকা ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা গিয়েছে এবং অন্য দিকে ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার কারণে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।
চিনের হিমালয় সংক্রান্ত সমীকরণ নিয়ে চাপ
অস্থিরতার পরে চিনের সঙ্গে নেপালের আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যে সরবরাহ তীব্র ব্যাহত হয়েছে। কারণ রসুওয়াগাধি এবং তাতোপানি সীমান্ত দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যার ফলে সীমান্ত পয়েন্টগুলিতে কন্টেনার আটকে রয়েছে। নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে চিন থেকে পর্যটনও উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে। প্রায় অর্ধেক চিনা পর্যটক সেপ্টেম্বরের বুকিং বাতিল করেছিলেন। পরবর্তী মাসগুলিতেও একই ধারা লক্ষ করা গিয়েছে।
নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতি বেজিংয়ের প্রতিক্রিয়া উল্লেখযোগ্য রকমের সতর্ক থেকেছে। ১০ সেপ্টেম্বর চিনের মিনিস্ট্রি অফ ফরেন অ্যাফেয়ার্স একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি জারি করে চিন-নেপাল বন্ধুত্বের উপর জোর দেয় এবং তাতে নির্দিষ্ট ঘটনা বা হতাহতের কথা উল্লেখ করা হয়নি। বিশ্লেষকরা এটিকে চিনা কূটনৈতিক সংযমের একটি পরিকল্পিত প্রদর্শন হিসাবে ব্যাখ্যা করেন, যা এই উদ্বেগকেই দর্শায় যে, এই বিদ্রোহ বেজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি হিমালয় সংক্রান্ত কৌশলকে দুর্বল করে দিতে পারে। নেপালে চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ওলি সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, বিশেষ করে বন্দর, রেলপথ, সড়ক, বিমান চলাচল এবং যোগাযোগের মাধ্যমে সংযোগ বৃদ্ধির জন্য সমঝোতাপত্রের (মউ) অধীনে। এই প্রকল্পগুলি নেপালের ২০৩০ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে মধ্যম আয়ের অবস্থান অর্জন এবং স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস বা এসডিজি) অধীনে তার প্রতিশ্রুতিগুলি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। ওলির অপসারণ গ্র্যান্ড ট্রান্স-হিমালয়ান রেলওয়ে-সহ প্রধান বিআরআই উদ্যোগের ভবিষ্যৎকেও ভারসাম্যহীন করে তোলে।
১০ সেপ্টেম্বর চিনের মিনিস্ট্রি অফ ফরেন অ্যাফেয়ার্স একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি জারি করে চিন-নেপাল বন্ধুত্বের উপর জোর দেয় এবং তাতে নির্দিষ্ট ঘটনা বা হতাহতের কথা উল্লেখ করা হয়নি। বিশ্লেষকরা এটিকে চিনা কূটনৈতিক সংযমের একটি পরিকল্পিত প্রদর্শন হিসাবে ব্যাখ্যা করেন, যা এই উদ্বেগকেই দর্শায় যে, এই বিদ্রোহ বেজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি হিমালয় সংক্রান্ত কৌশলকে দুর্বল করে দিতে পারে।
চিনের সতর্ক অবস্থানের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তিব্বত প্রসঙ্গ। নেপালের ‘এক চিন’ (ওয়ান চায়না) নীতির প্রতি আনুগত্য বেজিংয়ের জন্য কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ নেপালে প্রায় ১৫,০০০ তিব্বতি শরণার্থী রয়েছেন এবং তিব্বতের সঙ্গে নেপালের যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। চিনপন্থী ওলি প্রশাসনের পতনের সঙ্গে সঙ্গে বেজিং এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন যে, বহিরাগত শক্তিগুলি - বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র - নেপালে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে এবং রাজনৈতিক ভাবে দৃঢ় মনোভাবাপন্ন নেপালিদের নতুন প্রজন্ম তিব্বতিদের সক্রিয়তা দমন করতে তেমন ইচ্ছুক না-ও হতে পারে, যা আখেরে নেপালের অভ্যন্তরে চিন-বিরোধী মনোভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ভারত-চিন-নেপাল সমীকরণের উপর প্রভাব
নেপালের জেন জি দ্বারা চালিত বিদ্রোহ তার আঞ্চলিক সম্পর্কের ভঙ্গুরতা প্রকাশ করে তার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে নতুন আকার দিয়েছে। এই অস্থিরতা ভারত ও চিন উভয়ের উপর নেপালের গভীর অর্থনৈতিক নির্ভরতা তুলে ধরেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ ও কৌশলগত প্রকল্পগুলি চাপের মুখে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষের তরফেই সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। ভারতের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা এবং সংযোগ উদ্বেগ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল, যেখানে চিনের পরিমিত কূটনীতি কাঠমান্ডুতে স্থগিত বেল্ট অ্যান্ড রোড বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক স্রোতের পরিবর্তন সম্পর্কে উদ্বেগ প্রতিফলিত করেছিল।
বিআরআই উদ্যোগের প্রতি সমর্থনের কারণে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ওলিকে দীর্ঘদিন ধরে চিনপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হত, যদিও ভারতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অস্বস্তিকরই ছিল। এর বিপরীতে, অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কিকে রাজনৈতিক ভাবে নিরপেক্ষ বলেই মনে করা হয়। সুশীলা কার্কি ভারতের জন্য আশ্বস্তকারী ব্যক্তিত্ব এবং চিনের কাছে সতর্কতার সঙ্গে গ্রহণযোগ্য। ‘এক চিন’ নীতির বিষয়ে তাঁর মতামত বেজিংয়ের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করেছে, যদিও প্রধান অবকাঠামোগত অগ্রগতি এখনও স্থবির।
ভারতও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে রেল-ভিত্তিক মালবাহী চলাচল সম্প্রসারণ এবং মাল্টিমোডাল সংযোগ বৃদ্ধির জন্য ট্রানজিট চুক্তি সংশোধন করেছে, তৃতীয় দেশগুলির সঙ্গে নেপালের বাণিজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। চুক্তিটি জ্বালানি সহযোগিতা এবং ডিজিটাল অর্থায়নের উপরও জোর দেয়। নেপাল যখন যুব-নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থার একটি নতুন যুগে প্রবেশ করছে, তখন ভারত ও চিনের সঙ্গে গতিশীলতার ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা তার স্থিতিশীলতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপট উভয়কেই প্রভাবিত করবে।
অনসূয়া বসু রায় চৌধুরী অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নেবারহুড ইনিশিয়েটিভ-এর সিনিয়র ফেলো।
শুভাঙ্গী মুখার্জি ওআরএফ কলকাতার ইন্টার্ন।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Anasua Basu Ray Chaudhury is Senior Fellow with ORF’s Neighbourhood Initiative. She is the Editor, ORF Bangla. She specialises in regional and sub-regional cooperation in ...
Read More +
Subhangi Mukherjee is an Intern at the Observer Research Foundation. ...
Read More +