Author : Sanjay Pulipaka

Expert Speak Raisina Debates
Published on Mar 30, 2026 Updated 0 Hours ago
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মোকাবিলা: উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারত-মার্কিন সহযোগিতা

বছরের পর বছর ধরে ভারত সরকার উত্তর-পূর্ব ভারতে বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির জন্য অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। ইন্দো- প্যাসিফিক অঞ্চলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পৃক্ততা কাঠামো হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন আঞ্চলিক কল্পনায় উত্তর-পূর্ব ভারতকে অবশ্যই বিশিষ্ট ভাবে স্থান দিতে হবে। যদিও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল মূলত একটি সামুদ্রিক গঠন, তবুও এই অঞ্চলে স্থিতিশীল শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্ব ভারতকে তার বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন অর্থনৈতিক দক্ষতা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাতের একটি বিশাল উৎপাদন ভিত্তি রয়েছে। একই ভাবে, বেঙ্গালুরু এবং হায়দ্রাবাদের মতো শহরগুলির তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) খাতে উল্লেখযোগ্য শক্তি রয়েছে। হায়দ্রাবাদের একটি প্রাণবন্ত ওষুধ খাতও রয়েছে, যা সাম্প্রতিক অতিমারি চলাকালীন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে টিকা ও ওষুধের অবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। একই ভাবে, উত্তর-পূর্ব ভারত ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৮ সালে শাংরি-লা ডায়লগের ভাষণে বলেছিলেন যে, ভারতের অ্যাক্ট ইস্ট এবং ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল ভারতের পূর্ব অংশ, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতকে তার পূর্ব প্রতিবেশীর সঙ্গে সমন্বিত করা।

যদিও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল মূলত একটি সামুদ্রিক গঠন, তবুও এই অঞ্চলে স্থিতিশীল শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্ব ভারতকে তার বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের জন্য অ্যাসোসিয়েশন ফর সাউথ-ইস্ট এশিয়ান নেশনস-এর (আসিয়ান) কেন্দ্রীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে একটি স্থল সেতু প্রদান করে। ভারত বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত এবং নেপাল (বিবিআইএন) কাঠামোর পাশাপাশি বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন-কে (বিমস্টেক) শক্তিশালী করতে আগ্রহী, যেখানে উত্তর-পূর্ব ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভারতের জন্য এই অঞ্চলটি কোনও শেষ বিন্দু নয়, বরং পূর্ব প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগের একটি মঞ্চও বটে। অতএব, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, ভারতের বিভিন্ন সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে এই অঞ্চলের একটি সংযোগ কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার জন্য অবিরাম ভাবে কাজ করছে। সাম্প্রতিক অতীতে উত্তর-পূর্ব ভারতে অবকাঠামোগত সংযোগ প্রকল্পগুলির উল্লেখযোগ্য উন্নীতকরণ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক শৃঙ্খলের ব্যাপক উন্নয়ন, শক্তিশালী ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর সেতু নির্মাণ, উড়ান প্রকল্পের অধীনে নতুন বিমানবন্দর চালু করা এবং রেল শৃঙ্খলের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলকে সংযুক্ত করা। একটি উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হল, মিজোরামে বৈরাবি-সারং রেলপথটি ৮০০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে চালু করা হয়েছে। রেলপথ সম্প্রসারণের মাধ্যমে মিজোরাম এখন জাতীয় রেল শৃঙ্খলের সঙ্গে সংযুক্ত।

ভারতের জন্য এই অঞ্চলটি কোনও শেষ বিন্দু নয়, বরং পূর্ব প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগের একটি মঞ্চও বটে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে, জাপান উত্তর-পূর্ব সড়ক শৃঙ্খল সংযোগ উন্নয়ন প্রকল্পের মতো বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অসমের ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী বন্যা এবং নদীর ভাঙন আরও ভাল ভাবে মোকাবিলা করার জন্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (এডিবি) ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ প্রদান করেছে। সর্বোপরি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্ব মঞ্চ (ইউএসআইএসপিএফ) ভারতের উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে পূর্ব প্রতিবেশীর প্রতিকূল রাজনৈতিক ঘটনাবলির ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ভাবমূর্তি প্রভাবিত হচ্ছে।

মায়ানমার এবং বাংলাদেশে অস্থিরতা - উত্তর-পূর্ব ভারতের উপর প্রভাব

ভারতের উত্তর-পূর্বে অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও, বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পগুলি নেতিবাচক ভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, প্রতিবেশীর স্থায়ী রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তর-পূর্বের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মায়ানমার বিশ্বের দীর্ঘতম চলমান বিদ্রোহগুলির মধ্যে একটির সম্মুখীন হচ্ছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য রকমের অবনতি হয়েছে এবং দেশটি এখন খণ্ডিত সার্বভৌমত্বের সম্মুখীন হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুসারে, মায়ানমারের সেনাবাহিনী দেশের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ডের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করতে অক্ষম। একাধিক সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী দেশের বেশ কয়েকটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। উদাহরণস্বরূপ, আরাকান সেনাবাহিনী বন্দর শহর সিটওয়ে ছাড়া রাখাইন প্রদেশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করছে। আরাকান সেনাবাহিনী ভারতের মিজোরাম সংলগ্ন মায়ানমারের চিন স্টেটের একটি শহর পালেতোয়ার নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

আশ্চর্যের বিষয় হল, তাদের নিজ নিজ মাতৃভূমির বিশাল অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করা সত্ত্বেও, বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী স্বাধীনতা ঘোষণা করেনি। এর একটি অন্তর্নিহিত কারণ হল জাতিগত মাতৃভূমির সীমানায় একটি উল্লেখযোগ্য অভিন্নতা। এই প্রেক্ষাপটে, এমনকি একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর দ্বারা স্বাধীনতা ঘোষণা বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে আন্তঃসম্পর্কীয় সংঘাতের দিকে পরিচালিত করতে পারে। ফলস্বরূপ, মায়ানমার একটি অনন্য রাজনৈতিক পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী বিশাল ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু স্বাধীনতা ঘোষণা করতে অনিচ্ছুক। অন্যদিকে, মায়ানমারের সেনাবাহিনী দ্রুতই যে অঞ্চলটি হারিয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করার সম্ভাবনা কম। রাজনৈতিক কর্তৃত্বের এই ধরনের বিভক্তি সংঘাতপূর্ণ অর্থনীতির উত্থানের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে অপরাধী সিন্ডিকেটগুলি মাদক উৎপাদন এবং সাইবার অপরাধের মতো কার্যকলাপে জড়িত, যা সামরিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে তাদের সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার জন্য সম্পদ সরবরাহ করে।

রাজনৈতিক কর্তৃত্বের এই ধরনের বিভক্তি সংঘাতপূর্ণ অর্থনীতির উত্থানের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে অপরাধী সিন্ডিকেটগুলি মাদক উৎপাদন এবং সাইবার অপরাধের মতো কার্যকলাপে জড়িত, যা সামরিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে তাদের সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার জন্য সম্পদ সরবরাহ করে।

সর্বোপরি, দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে ভারতের মিজোরাম-সহ প্রতিবেশী দেশগুলিতে মানুষের ব্যাপক অভিবাসন ঘটেছে। শরণার্থীদের চলাচল মিজোরাম রাজ্যের উপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। কারণ অভিবাসীদের অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে হয়েছে। এমন কিছু ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে মায়ানমারের সামরিক কর্মীরা জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে ধরা পড়া এড়াতে প্রতিবেশী ভারতের মিজোরামে পালিয়ে গিয়েছিল। অব্যাহত সশস্ত্র সংঘাতের কারণে, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য এবং অবকাঠামো প্রকল্পগুলি নেতিবাচক ভাবে প্রভাবিত হয়েছিল।

একই ভাবে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তর-পূর্ব ভারতে সংযোগ শৃঙ্খল তৈরির ভারতের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের স্থলবেষ্টিত প্রকৃতির কারণে বাংলাদেশের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ সর্বদাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক অতীতে, ভারত বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে উত্তর-পূর্বে ভারী সরঞ্জাম পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। ভারত রেল শৃঙ্খল সংস্কার করার জন্য বাংলাদেশের সঙ্গেও কাজ করছে। তবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সঙ্কট এই সংযোগ প্রকল্পগুলির কিছুকে স্থগিত করেছে। উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যও হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে মেঘালয়ের মতো কিছু রাজ্যের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। এমনও খবর রয়েছে যে, বাংলাদেশ তিস্তা নদী উন্নয়ন প্রকল্পটি চিনা সংস্থাগুলিকে দিতে পারে। ঢাকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই পদক্ষেপ ভারতে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কারণ প্রকল্পটির অবস্থান সঙ্কীর্ণ শিলিগুড়ি করিডোরের কাছে, যা উত্তর-পূর্বকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সঙ্কট এই সংযোগ প্রকল্পগুলির কিছুকে স্থগিত করেছে। উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যও হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে মেঘালয়ের মতো কিছু রাজ্যের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারত-মার্কিন সহযোগিতা

এই অস্থির ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে, ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে উন্নত করার চেষ্টা করছে। দুর্ভাগ্যবশত, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও যথেষ্ট টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উত্তর-পূর্ব ভারত দীর্ঘকাল ধরে বিদ্রোহের কেন্দ্রবিন্দু এবং বিভিন্ন বৈদেশিক শক্তি দ্বারা সমর্থিত বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই অঞ্চলের বৃহৎ অংশ এখন বিদ্রোহমুক্ত, তবুও বৈদেশিক শক্তিদের উদ্দেশ্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গিয়েছে। অতএব, এখানে একটি ভারত-মার্কিন জোটকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিদ্যমান চাপের পাশাপাশি সেই সম্পর্কিত উদ্বেগগুলিকেও সাবধানতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। আরও স্পষ্ট ভাবে বললে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর-পূর্ব ভারতে দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে আগ্রহী হয় - যা রাজনৈতিক, জাতিগত এবং পরিবেশগত সংবেদনশীলতা দ্বারা সংজ্ঞায়িত একটি অঞ্চল – তা হলে তাকে এমন পদক্ষেপ করতে হবে, যা ভারতে যথেষ্ট আস্থা এবং সদিচ্ছা তৈরি করবে। 

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অভিবাসীদের আগমন, অপরাধের ঘটনা বৃদ্ধি এবং সীমান্তবর্তী অর্থনৈতিক মিথস্ক্রিয়া হ্রাসের দরুন উত্তর-পূর্ব ভারতকে সর্বদাই ভারী মূল্য চোকাতে হয়েছে। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবিলায় ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একই মনোভাবাপন্ন হতে হবে। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে এই ধরনের সমন্বয় উত্তর-পূর্ব ভারত, বিশেষ করে মিজোরামের জন্য উপকারী হবে।

এই ধরনের ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের পাশাপাশি ভারত ও আমেরিকা উত্তর-পূর্ব ভারতে উন্নয়ন অবকাঠামো জোরদার করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে উইলমিংটনে জারি করা কোয়াড যৌথ বিবৃতিতে স্বাস্থ্য খাত এবং ক্যান্সার মুনশট প্রোগ্রামের সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় আমেরিকা উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারতের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিকে সম্ভাব্য ভাবে সমর্থন করতে পারে। নতুন উদ্যোগ তৈরির পরিবর্তে উত্তর-পূর্ব ভারতে কেন্দ্রীয়/রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলিতে অতিরিক্ত অবকাঠামো সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। কোয়াডের যৌথ বিবৃতিতে মানসম্পন্ন অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। কালাদান মাল্টি-মোডাল প্রকল্পের আওতায় অগ্রগতি একীভূত করতে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ উন্নত করতে আমেরিকা ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা করার কথা বিবেচনা করতে পারে। এই ধরনের পদক্ষেপগুলি সাধারণ ভাবে উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বিশেষ করে মিজোরামকে উপকৃত করবে।

উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারত-মার্কিন সহযোগিতাকে বহুস্তরীয় ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যার মধ্যে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের অসঙ্গতি এবং ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উত্থান-পতন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ভারত ও আমেরিকা উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ কথা প্রায় সর্বজনবিদিত যে, চিন মায়ানমার থেকে প্রচুর পরিমাণে বিরল মৃত্তিকা সম্পদ সংগ্রহ করছে। অনুমান করা হচ্ছে যে, চিনের মোট গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আমদানির ৫০ শতাংশেরও বেশি মায়ানমার থেকে আসে। ভারত এখনও মায়ানমার থেকে এই ধরনের সম্পদ আমদানি করেনি। মায়ানমার থেকে ভারতে বিরল মৃত্তিকা খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খল উত্তর-পূর্ব ভারতকে উপকৃত করবে। এই ধরনের বিরল মৃত্তিকা খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরিতে আমেরিকার ভূমিকা অন্বেষণের যোগ্য।

মূলত, উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারত-মার্কিন সহযোগিতাকে বহুস্তরীয় ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যার মধ্যে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের অসঙ্গতি এবং ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উত্থান-পতন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অতএব, ভারতের উত্তর-পূর্ব এবং এর পূর্ব প্রতিবেশী অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতাকে সাবধানতার সঙ্গে পরিকল্পিত ও উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা উচিত, যা এই অঞ্চলে আস্থা, স্থিতিশীল শান্তি এবং সমৃদ্ধির প্রচার করে।

 


সঞ্জয় পুলিপাকা পোলিতিয়া রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন। তিনি এর আগে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাভেট ফেলো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফুলব্রাইট ফেলো ছিলেন। 

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Sanjay Pulipaka

Sanjay Pulipaka

Sanjay Pulipaka is currently the Chairperson of the Politeia Research Foundation. He was previously associated with the Delhi Policy Group, the Nehru Memorial Museum Library, ...

Read More +