Author : Ramanath Jha

Published on Nov 14, 2025 Updated 0 Hours ago

ভারতের নগর নীতিকে অবশ্যই কাঠামোর ঊর্ধ্বে উঠতে হবে এবং শক্তিশালী আর্থিক সাধনী, রাজ্যগুলির উপর সংস্কারের চাপ ক্ষমতায়িত নগর প্রশাসন জরুরি প্রয়োজন।

জাতীয় নগর নীতি এবং ভারত সরকারের ভূমিকা

২০২৪ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের নগর সংস্থা ইউএন-হ্যাবিট্যাট এবং ওইসিডি (অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা) বিশ্বব্যাপী দেশগুলির জাতীয় নগর নীতি (ন্যাশনাল আরবান পলিসি বা এনইউপি) সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৭৮টি দেশের উপর করা সমীক্ষার উপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল। এই গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, নগর সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রতিটি দেশের এনইউপি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এটি সমীক্ষা করা অনেক দেশে দ্রুত নগরায়ণের প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই ধরনের নগরায়ণের ফলে শহরগুলি জাতীয় জনসংখ্যার বৃহত্তর শতাংশের সঙ্গে মোকাবিলা করছিল ফলস্বরূপ রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছিল। বিশ্ব জুড়ে শহরগুলি ক্রমবর্ধমান ভাবে তাদের  জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠছিল। তবে এই প্রক্রিয়ায় তারা বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জও উত্থাপন করেছিল - ব্যবস্থাপনা, যানজটের আকারে সমষ্টিগত ব্যয়, বায়ু দূষণ বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান আবাসন খরচ। জলবায়ু, জনসংখ্যা ডিজিটালকরণের ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ ছিল।

সমীক্ষায় বেশ কয়েকটি মূল অনুসন্ধান প্রদান করা হয়েছেপ্রথমত, ফ্রান্স, লিথুয়ানিয়া সৌদি আরবের মতো অনেক এনইউপি ছিল বহুক্ষেত্রীয়এটি স্বাভাবিক, কারণ শহরগুলি নীতিগত ক্ষেত্র বিষয়গুলির একটি সম্পূর্ণ পরিসরকে প্রভাবিত করবে। তাই এনইউপিগুলিকে অন্যান্য ক্ষেত্রে পূরণ করার উদ্দেশ্যে লক্ষ্যগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা প্রয়োজন ছিল। তা সত্ত্বেও, কিছু দেশের নীতি - যেমন কানাডা, কোস্টারিকা এবং সুইডেন – একক্ষেত্রীয়ছিল, সাধারণ নীতির উপর জোর দিয়েছিল এবং সীমিত সংখ্যক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। দ্বিতীয়ত, বিপুল সংখ্যক এনইউপি-তে সরকারের নানাবিধ স্তর জুড়ে এবং তাদের মধ্যে নীতিগত সমন্বয়ের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াঅন্তর্ভুক্ত ছিল। বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ আঞ্চলিক উন্নয়ন উপযুক্ত গ্রামীণ-নগর সংযোগের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য নগর স্থানীয় সংস্থা (আরবান লোকাল বডিজ বা ইউএলবি) এবং গ্রামীণ এলাকার মধ্যে অনুভূমিক সমন্বয়কেও সমর্থন করেছেন।

বেশির ভাগ নগর প্রকল্প উপ-জাতীয় স্তরে অপ্রতুল নিজস্ব উৎস রাজস্ব ব্যক্তিগত বিনিয়োগকে সহজতর করার জন্য অপ্রতুল আর্থিক  উপকরণ-সহ জাতীয় প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ দ্বারা অর্থায়িত হয়েছিল

বিশ্বব্যাপী শহরগুলিতে জলবায়ু-সম্পর্কিত ঘটনা এনইউপি-র উপর এক অবিস্মরণীয় প্রভাব প্রকাশ করেছে। জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতার প্রতি মনোযোগ উল্লেখযোগ্য রকমের বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে জলবায়ু-সম্পর্কিত নীতিমালা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই ভাবে এনইউপিগুলিতে একটি সাধারণ স্বীকৃতি ছিল এই যে, সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এটি এই সত্যের পটভূমির বিপরীতে ছিল যে, বিশ্বব্যাপী নগর জনসংখ্যার ২৩ শতাংশ এখনও অপ্রতুল আবাসন-সহ দারিদ্র্যের পরিস্থিতিতে বাস করে। আবাসনের প্রেক্ষাপটে, উচ্চ সম্পত্তির দাম, জ্বালানি খরচ আবাসন সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত সমস্যা ছিল, যা অর্থ ও জমির সম্পর্কিত নীতিগুলির সঙ্গে পর্যাপ্ত ভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। অর্থায়নের ক্ষেত্রটি নগর উন্নয়নের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল। বেশির ভাগ নগর প্রকল্প উপ-জাতীয় স্তরে অপ্রতুল নিজস্ব উৎস রাজস্ব ব্যক্তিগত বিনিয়োগকে সহজতর করার জন্য অপ্রতুল আর্থিক উপকরণ-সহ জাতীয় প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ দ্বারা অর্থায়িত হয়েছিল তিন-চতুর্থাংশ  দেশে এনইউপি কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়নের জন্য ব্যবস্থার  উপস্থিতি লক্ষ করা গিয়েছে।

সমীক্ষায় পর্যবেক্ষণের ফলে সুপারিশের একটি খসড়া তৈরি হয়েছিল। প্রথমত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতিমালার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভাগীয় মন্ত্রণালয়গুলির এনইউপি-তে আরও উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ প্রয়োজন এবং নির্দিষ্ট নগর খাতগুলিকে তাদের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জগুলি - বিশেষ করে আবাসন সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা - কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করার জন্য এমনটা করা জরুরি

আর কটি সুপারিশ ছিল এনইউপিগুলির সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নকে সমর্থন করা। এনইউপিগুলিকে নগর-গ্রামীণ সংযোগগুলিকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং মূল্যায়ন করতে হবে যে, সরকারি বিনিয়োগ কর্মসূচিগুলি এমন ভাবে সমন্বিত করা হয়েছে, যাতে এই সংযোগগুলি স্বীকৃতি পায়। এনইউপিগুলিকে নগর উন্নয়ন লক্ষ্যগুলি কার্যকর ভাবে পূরণের জন্য - নিজস্ব উৎস রাজস্ব এবং আন্তঃসরকারি স্থানান্তর উভয়ের মাধ্যমে - শহরগুলির জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক বিধানের প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দিতে হবে। এর পাশাপাশি এনইউপিগুলিকে বেসরকারি বিনিয়োগকেও কাজে লাগাতে হবে এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করতে হবে, যা বর্তমানে শহরগুলি দ্বারা অপ্রতুল ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পরিশেষে, এনইউপিগুলির বাস্তবায়ন নিয়মিত ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং তারা যে প্রভাব অর্জন করছে, তা মূল্যায়ন করার প্রয়োজন ছিল।

উপরের উল্লিখিত সমীক্ষার অংশ হিসেবে ভারতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে গৃহায়ণ ও নগর বিষয়ক মন্ত্রণালয় (এমওএইচইউএ) প্রায় পাঁচ বছর আগে তার জাতীয় নগর নীতি কাঠামো (এনইউপিএফ) প্রকাশ করেছে। উদ্ধৃত  বৈশ্বিক সমীক্ষার প্রেক্ষাপটে এই নথিটি পরীক্ষা করার পর এনইউপিএফ গুরুত্ব মনোনিবেশের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মিল পার্থক্য উভয়ই প্রদর্শন করে। উদাহরণস্বরূপ, এনইউপিএফ ভারতীয় শহরগুলির অন্যান্য দেশের শহরের সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনের করুণ পরিস্থিতি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। একই ভাবে স্থানীয় অর্থায়ন একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা দেয় এবং গ্রামীণ-শহুরে সংযোগ বিশেষ ভাবে স্বীকৃত। যাই হোক, এনইউপিএফ অন্যান্য খাতের লক্ষ্যগুলির সঙ্গে নগর লক্ষ্যগুলিকে সামঞ্জস্য করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করলেও, নগর চ্যালেঞ্জ সম্পর্কিত বহুক্ষেত্রীয় সমস্যাগুলির কোনও সুনির্দিষ্ট সর্বাত্মক সমাধান নেই। বিশ্বব্যাপী শহরগুলি জলবায়ু সম্পর্কিত সমস্যাগুলিকে তাদের শীর্ষ চ্যালেঞ্জ হিসাবে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং এনইউপিএফ-এ এই চ্যালেঞ্জের সমাধান সংক্ষিপ্ত ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতীয় শহরগুলির অবনতিশীল অবস্থার মূল কারণ হল জরুরি নগর সংস্কারের বিষয়ে রাজ্যগুলির প্রায় সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়তা।

এনইউপিএফ ভারতীয় শহরগুলির সম্মুখীন সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জগুলির একটি দক্ষ বিস্তৃত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে। এটি উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে - যেমন নগর অর্থনীতি, নগর পরিকল্পনা, ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো, আবাসন সাশ্রয়ী মূল্য, পরিবহণ গতিশীলতা, নগর অর্থায়ন, নগর প্রশাসন, নগর তথ্য ব্যবস্থা পরিবেশগত স্থায়িত্ব। সমাধান সম্পর্কিত এর সুপারিশগুলি যুক্তিসঙ্গত ভাবে ব্যাপক সুসঙ্গত।  প্রস্তাবিত কর্মকাণ্ডের সারাংশটি সঠিক ভাবে শহর, রাজ্য কেন্দ্রীয় স্তরের পদক্ষেপগুলিতে বিভক্ত, যার ফলে এটি স্পষ্ট ভাবে স্বীকৃত যে, শহরগুলির কল্যাণে সরকারের প্রতিটি স্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

যাই হোক, আলোচনার শেষে এনইউপিএফ বলে যে, নগর উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারগুলির প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে। এটি স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে যে, সংস্কার পদক্ষেপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি মূলত রাজ্যগুলির আওতার মধ্যে রয়েছে। সাংবিধানিক অবস্থানের ক্ষেত্রে এটি সঠিক, যেহেতু ভারতে নগর উন্নয়ন একটি রাজ্য বিষয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে, সারা দেশের রাজ্য সরকারগুলি ৭৪তম সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তাবিত সংস্কারগুলিকে প্রতিহত করছে এবং দ্বিতীয় প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন জাতীয় নগরায়ণ কমিশনের নির্দেশাবলিকে  অবহেলা করছে।

ভারতীয় শহরগুলির অবনতিশীল অবস্থার মূল কারণ হল জরুরি নগর সংস্কারের বিষয়ে রাজ্যগুলির প্রায় সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়তা। যদি এটিকে ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ শহরগুলির ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও জনসংখ্যাগত গুরুত্বের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়, তা হলে যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি ওঠে: ভারত সরকার (জিওআই) নগর স্থানীয় সংস্থাগুলির ক্ষমতায়ন হ্রাসের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে? এর মধ্যে দুর্বল পরিকল্পনা, সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনের অভাব, পুরনো প্রশাসনিক কাঠামো এবং আর্থিক দুর্বলতার মতো উদ্বেগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ভারত সরকার কর্তৃক এই ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপ চাপের অভাবে বৃহৎ আর্থিক ব্যয়-সহ কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি নগর এলাকা আওতাভুক্ত করে দিলে তা অনুপযুক্ত ফলাফল প্রদান করবে এবং শহরগুলি সমস্যা আরও গুরুতর করে তুলবে।

পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অনেক বেশি সক্রিয়। নগর বিষয়ক তত্ত্বাবধানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দেশের শীর্ষ মন্ত্রণালয় হিসেবে, এর দ্বৈত ভূমিকা রয়েছে। তাদের পরামর্শ বাস্তবায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে - স্থানীয় পণ্য ও পরিষেবা করের (জিএসটি) একটি অংশ সরাসরি শহরগুলিতে স্থানান্তরিত করা দরকার। একই সঙ্গে এটিকে রাজ্যগুলির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে এবং মুলতুবি  সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য তাদের আহ্বান জানাতে হবে। নানা স্তরে এটি ইউএলবি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বৃহত্তর বাজেটের উদ্দেশ্যে ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করতে পারে। ইউএলবি- সঙ্গে যুক্ত রাজ্য শহরগুলিতে সমস্ত তহবিল প্রবাহ সংবিধান ভারত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সংস্কার কর্মসূচি অনুসারে রাজ্য শহরগুলির দ্বারা কর্মক্ষমতার ভিত্তিতে স্থানান্তরিত করতে হবে। ভারত সরকার কর্তৃক এই ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপ চাপের অভাবে বৃহৎ আর্থিক ব্যয়-সহ কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি নগর এলাকা আওতাভুক্ত করে দিলে তা অনুপযুক্ত ফলাফল প্রদান করবে এবং শহরগুলি সমস্যা আরও গুরুতর করে তুলবে।

 


রমানাথ ঝা অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ডিস্টিঙ্গুইশড ফেলো।

 


নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.