Published on Jun 04, 2025 Updated 0 Hours ago

প্রণোদনা, বাধা ও জলবায়ু অ্যাজেন্ডার ভারসাম্য বজায় রেখে জনহিতৈষণা বিনিয়োগ কীভাবে সরকারগুলিকে জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের লক্ষ্যগুলি প্রশস্ত করতে ক্ষমতায়িত করছে?

জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করতে জনহিতৈষণা কর্মকাণ্ডকে কাজে লাগানো

গ্লোবাল সাউথ-এ জলবায়ু অভিযোজনের গুরুত্বের ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতি সত্ত্বেও জলবায়ু কর্মকাণ্ডের অর্থায়নের ‌মধ্যে অভিযোজন অর্থায়ন এখনও অসম আচরণ পায়, বিশেষ করে প্রশমন অর্থায়নের তুলনায়। তাই, বিভিন্ন ফোরামে অভিযোজনের গুরুত্ব ক্রমাগত পুনর্ব্যক্ত করা প্রয়োজন। যদিও নেট-শূন্য লক্ষ্য বছরগুলি এখনও অনেক দূরে এবং জলবায়ু সংকটের তীব্রতার থেকে অনেক পিছিয়ে, তবুও জলবায়ু সংকটের চাপ সবচেয়ে বেশি বহনকারী গ্লোবাল সাউথের জন্য অভিযোজন বা স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

২০২৪ সালের অভিযোজন ব্যবধান প্রতিবেদন জানিয়েছে যে, অভিযোজনের জন্য বিশ্বব্যাপী বার্ষিক আর্থিক ব্যবধান বার্ষিক ২১৫-৩৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে, আর ২০২২ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ হল ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই স্থায়ী ব্যবধানটির কারণ অভিযোজনকে মূলত "জনহিতৈষণা" হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে বিনিয়োগে কম অর্থনৈতিক রিটার্ন দেবে। এই ধারণাটি অভিযোজন প্রকল্পগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত সুদূরপ্রসারী সামাজিক রেট অফ রিটার্নের কথা বিবেচনা করে না, যার মধ্যে রয়েছে জনসম্প্রদায়গুলিকে রক্ষা করা, দুর্যোগের পর পুনরুদ্ধারের খরচ হ্রাস করা, এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করা। উচ্চতর অভিযোজন ক্ষমতা জনসম্প্রদায়ের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে, এবং ফলস্বরূপ হানি ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করে, যা বাজার কাঠামো দ্বারা খুব কমই স্বীকৃত। এই বিষয়টি বাজারের গুরুতর ব্যর্থতার দিকে পরিচালিত করে।


উচ্চতর অভিযোজন ক্ষমতা সম্প্রদায়ের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে এবং ফলস্বরূপ হানি ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করে, যা বাজার কাঠামো দ্বারা খুব কমই স্বীকৃত, যা গুরুতর বাজার ব্যর্থতার দিকে পরিচালিত করে।



এই ব্যবধান পূরণ করা শুধু একটি নৈতিক এবং আদর্শগত বাধ্যবাধকতা নয়, বরং একটি কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা। এর আলোকে, অভিযোজন অর্থায়নের ব্যবধান পূরণে সহায়তা করার জন্য জনহিতৈষণা একটি প্রতিশ্রুতিশীল উপায় উপস্থাপন করে, যা উচ্চ-প্রভাবশালী অভিযোজন প্রকল্পগুলিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় তহবিল পরিচালনা করার একটি অনন্য সুযোগ এনে দেয়।

অভিযোজন বাধ্যবাধকতা

অভিযোজন অর্থায়নের ক্ষেত্রগুলি ব্যবহারিক এবং নৈতিক উভয়ই। ব্যবহারিক দিক থেকে, কার্বনের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক খরচ (এসসিসি) হ্রাস করার জন্য অভিযোজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা অতিরিক্ত টন কার্বন নির্গমনের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি পরিমাপ করে। প্রশমন যেমন সরাসরি নির্গমন এবং এইভাবে এসসিসি হ্রাস করে, তেমনই জলবায়ু প্রভাবের বিরুদ্ধে স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে অভিযোজন পরোক্ষভাবে এই খরচগুলি হ্রাস করে। পর্যাপ্ত অভিযোজনের অভাব জনস্বাস্থ্য সংকট, পরিকাঠামোগত ক্ষতি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির ক্রমশ বেড়ে চলা ঝুঁকি এসসিসি-‌কে আরও বাড়িয়ে তোলে, এবং বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের উপর গুরুতর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দেয়।

নীতিগত বা জলবায়ু-ন্যায়বিচারের দৃষ্টিকোণ থেকে, অভিযোজন অর্থায়ন জলবায়ু প্রভাবের বৈষম্যকে মোকাবিলা করে। গ্লোবাল সাউথ, যা বৈশ্বিক নির্গমনে সবচেয়ে কম অবদান রেখেছে, সবচেয়ে কঠোর জলবায়ু প্রভাবের মুখোমুখি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়কর প্রভাব প্রশমিত করার পাশাপাশি এই অঞ্চলগুলি যাতে একটি ন্যায়সঙ্গত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করা অপরিহার্য। অভিযোজন উপেক্ষা করা দুর্বলতাগুলিকে আরও বাড়িয়ে তোলে, বৈষম্যকে প্রসারিত করে এবং উন্নয়নের অর্জনকে ক্ষুণ্ণ  করে।


জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়কর প্রভাব প্রশমিত করার পাশাপাশি এই অঞ্চলগুলি যাতে একটি ন্যায়সঙ্গত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করা অপরিহার্য।



তবে, অভিযোজনের জন্য এখনও অত্যন্ত কম তহবিল রয়েছে। একে গণপরিষেবা হিসাবে ধরা হলে — যার সুবিধা বাদ দেওয়া যায় না এবং যার স্বল্পমেয়াদি লাভ অদৃশ্য — বেসরকারি ক্ষেত্রের বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয়। 'অভিযোজন'-এর একটি মানসম্মত সংজ্ঞার অভাব তহবিল বরাদ্দকে আরও জটিল করে তোলে, কারণ প্রশমন প্রচেষ্টার তুলনায় এর প্রভাবগুলি পরিমাপ করা আরও চ্যালেঞ্জিং। উপরন্তু, অভিযোজনের অন্তর্নিহিত জটিল প্রকৃতি, যার জন্য সমন্বিত সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সমাধান প্রয়োজন, একে দ্রুত, পরিমাপযোগ্য ফলাফলের জন্য ঐতিহ্যবাহী তহবিল ব্যবস্থার কাছে কম আকর্ষণীয় করে তোলে।

এই দৃঢ় চ্যালেঞ্জগুলির পরিপ্রেক্ষিতে, অভিযোজন অর্থায়নের ব্যবধান মোকাবিলার জন্য জনহিতৈষণা একটি প্রতিশ্রুতিময় উপায় উপস্থাপন করে। সুতরাং, সামাজিক কল্যাণের প্রতি অঙ্গীকার দ্বারা চালিত জনহিতৈষণার তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক রিটার্ন আশা না করে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগকে সমর্থন করার জন্য অনন্য জায়গা রয়েছে। এটি অভিযোজনের প্রকৃতির সঙ্গে ভালভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার মধ্যে প্রায়শই পরোক্ষ সামাজিক সুবিধাসহ দীর্ঘমেয়াদি, জটিল প্রকল্প জড়িত থাকে। 

জনহিতৈষণার ভূমিকা

বিশ্বব্যাপী সম্পদের পরিমাণ বিশাল:‌ নেট ব্যক্তিগত সম্পদ ২০২২ সালের শেষ নাগাদ আনুমানিক
৪৫৪.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৭ সালের মধ্যে ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬২৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাসে অভিযোজনের গুরুত্ব বিবেচনা করে জনহিতৈষণার ক্ষেত্রটি, বিশেষ করে কর্পোরেট এবং বেসরকারি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে, যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে এই তহবিলগুলিকে চালিত করার জন্য একটি অব্যবহৃত সম্ভাবনা উপস্থাপন করে।

জলবায়ু অভিযোজনে দানশীলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য অনন্যভাবে অবস্থান করছে। জনকল্যাণের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা ব্যক্তিগত উদ্যোগ হিসাবে সংজ্ঞায়িত জনহিতৈষণা লাভ-চালিত উদ্দেশ্যের বাইরে কাজ করে, যা আর্থিক লাভের পরিবর্তে সামাজিক লাভকে অগ্রাধিকার দিতে দেয়। এটি জলবায়ু অভিযোজনের কেন্দ্রীয় বিষয়গুলি মোকাবিলায় জনহিতৈষণাকে একটি স্বাভাবিক মিত্র করে তোলে, যার মধ্যে প্রায়শই এমন গণ-‌পরিষেবা জড়িত থাকে যা বাদ দেওয়া যায় না এবং যার প্রতিদ্বন্দ্বীও নেই, যেমন পরিকাঠামো, জল সম্পদ এবং খাদ্য নিরাপত্তা। এই প্রকল্পগুলি তাৎক্ষণিক আর্থিক রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দেয় না, তবে উচ্চ সামাজিক রিটার্ন প্রদান করে যা তাদের প্রাথমিক খরচের চেয়ে অনেক বেশি।
২০১৯ সালের গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছে, যেখানে দেখানো হয়েছে যে কীভাবে ১.৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার গুরুত্বপূর্ণ অভিযোজন ক্ষেত্রগুলিতে বিনিয়োগ করা হলে — যেমন প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা, স্থিতিস্থাপক পরিকাঠামো ও স্থিতিশীল কৃষি — তা এক দশক ধরে ৭.১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের সুবিধা অর্জন করতে পারে।


একটি বিস্তৃত প্রবণতা তুলে ধরে যে ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রশমনের জন্য জনহিতকর অবদান বার্ষিক প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু অভিযোজন অর্থায়ন স্থবির ছিল, যা ছিল প্রয়োজনীয় তহবিলের একটি অংশমাত্র।



কর্পোরেট জনহিতৈষণা, বিশেষ করে কোভিড-১৯ অতিমারির পরে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ক্রমবর্ধমান আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে, জলবায়ুতে জনহিতকর আগ্রহ এখনও প্রশমনের দিকে ঝুঁকে আছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সালে, জলবায়ু প্রশমনের জন্য কর্পোরেট জনহিতকর অনুদানের পরিমাণের মধ্যমাবিন্দু ছিল
৬৩৭,৫০০ মার্কিন ডলার। অভিযোজনের জন্য কোনও সমতুল্য তহবিল বরাদ্দ করা হয়নি। একটি বিস্তৃত প্রবণতা তুলে ধরে যে ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রশমনের জন্য জনহিতকর অবদান বার্ষিক প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু অভিযোজন অর্থায়ন স্থবির ছিল, যা ছিল প্রয়োজনীয়  তহবিলের একটি অংশমাত্র ।

জলবায়ু অভিযোজনে পরিবর্তন আনার জন্য জনহিতৈষণার সম্ভাবনা অপরিসীম। জনহিতকারীরা ঝুঁকি নিতে পারেন, এবং এমন উদ্যোগে অর্থায়ন করতে পারেন যা  তাৎক্ষণিক লাভ নাও দিতে পারে, কিন্তু সুদূরপ্রসারী সামাজিক সুবিধা দেয়। তবে, এই সম্ভাবনা উন্মোচন করার জন্য সরকারগুলিকে এমন একটি সক্ষম পরিবেশ তৈরি করতে হবে যা অভিযোজন প্রকল্পের দিকে জনহিতৈষণা মূলধনের প্রবাহকে সহজতর করবে। প্রণোদনা প্রদান করে, বাধা অপসারণ করে, এবং জাতীয় জলবায়ু অ্যাজেন্ডাগুলিকে অভিযোজনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে, সরকার জনহিতৈষণা সংস্থাগুলিকে অভিযোজন অর্থায়নের ব্যবধান পূরণে মূল খেলোয়াড় হওয়ার জন্য ক্ষমতায়িত করতে পারে।

এগিয়ে চলার পথ

জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের ব্যবধান মোকাবেলায় জনহিতৈষণার সম্ভাবনা তাৎপর্যপূর্ণ, কিন্তু এই সম্ভাবনা উন্মোচন করার জন্য লক্ষ্যযুক্ত কৌশলগত পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। জলবায়ু অভিযোজন প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে জনহিতৈষণার ভূমিকা সর্বাধিক করার জন্য সরকার, জনহিতকর সংস্থা এবং উন্নয়ন অংশীদারেরা কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে সে সম্পর্কে নিম্নলিখিত মূল সুপারিশগুলি দেওয়া হল:

একটি সক্ষমতা-‌প্রদানকারী পরিবেশ তৈরি করা: জলবায়ু অভিযোজনের দিকে জনহিতকর মূলধনের প্রবাহকে সহজতর করে এমন একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সরকারগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমলাতান্ত্রিক বাধা হ্রাস করে, এবং বিশেষভাবে জলবায়ু অভিযোজনকে সমর্থন করে এমন নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করে সরকার পরোপকার-‌ভিত্তিক এই বিনিয়োগগুলির দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে। উপরন্তু, কর প্রণোদনা, স্বীকৃতি প্রকল্প বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব মডেলের মাধ্যমে জনহিতকর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং পুরস্কৃত করা অভিযোজনের আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

মিশ্র অর্থায়ন মডেলগুলির প্রচার: জনহিতকারিতার পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচন করতে, সরকারি ও বেসরকারি তহবিলের মিশ্রণ অপরিহার্য। নিশ্চয়তা বা প্রথম-ক্ষতির মূলধন প্রদান করে সরকারি তহবিল বিনিয়োগকে ঝুঁকিমুক্ত করতে পারে, যা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অভিযোজন প্রকল্পগুলিতে জনহিতকর বিনিয়োগকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। এই পদ্ধতি ঝুঁকি হ্রাস করে এবং আর্থিক কার্যকারিতা উন্নত করে, এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের সম্পৃক্ততাকে উৎসাহিত করে। মিশ্র অর্থায়ন মডেলগুলি জনহিতৈষণাকে আরও বেশি ঝুঁকি নিতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে সীমিত ঐতিহ্যবাহী তহবিলযুক্ত ক্ষেত্রগুলিতে। সরকারগুলিকে নীতি সংস্কারের  মাধ্যমে এই মডেলগুলিকে উৎসাহিত করা উচিত, এবং এমন নিবেদিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা উচিত যা জনহিতৈষী মূলধনকে উন্নয়ন অর্থ প্রতিষ্ঠান (‌ডিএফআই) ও বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (এমডিবি)-‌এর পাশাপাশি কাজ করতে সক্ষম করে।

ক্ষমতা ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি: তহবিলের পাশাপাশি জনহিতকর সংস্থাগুলি  প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে অনন্য অবস্থানে রয়েছে, যা অভিযোজন প্রকল্পগুলির জন্য একটি গেম চেঞ্জার হতে পারে। জ্ঞানের ব্যবধান পূরণের উপর অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়ে সরকার ও জনহিতকর সংস্থাগুলিকে সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচি ডিজাইন করতে একসঙ্গে কাজ করা উচিত, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে যেখানে জলবায়ু অভিযোজন সম্পর্কে স্থানীয় দক্ষতায় প্রায়শই ঘাটতি থাকে। এই ধরনের কর্মসূচি স্থানীয় জনসম্প্রদায়, সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলিকে অভিযোজন প্রকল্পগুলি ডিজাইন, বাস্তবায়ন এবং টিকিয়ে রাখার ক্ষমতা দিতে পারে।

জনহিতকর অবদান ট্র্যাক করা এবং পর্যবেক্ষণ: জনহিতকর ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হল তহবিল প্রবাহ ট্র্যাক করা ও পর্যবেক্ষণ করার জন্য স্বচ্ছ ব্যবস্থার অভাব, বিশেষ করে অভিযোজন প্রচেষ্টার জন্য। জলবায়ু অভিযোজনে জনহিতকর অবদান ট্র্যাক করার জন্য একটি কেন্দ্রীভূত, সর্বজনীনভাবে প্রাপ্য ডেটাবেস স্থাপন করা হলে তা জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং সমন্বয় উন্নত করবে। এই ডেটাবেস সরকার, ডিএফআই, এমডিবি ও অন্য অংশীদারদের জনহিতকর তহবিলের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে এবং ভবিষ্যতের বিনিয়োগ কোথায় পরিচালনা করতে হবে সে সম্পর্কে ডেটা-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে। এটি জনহিতকর তহবিলের দৃশ্যমানতাও উন্নত করবে, এবং জাতীয় ও বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অভিযোজন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য করা সহজ করবে।

উত্তর-দক্ষিণ তহবিলের ব্যবধান পূরণে জনহিতকর কার্যক্রমকে কাজে লাগানো: জনহিতকর কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী উত্তর-দক্ষিণ তহবিলের ব্যবধান পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলিতে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র উন্নয়নশীল দ্বীপরাষ্ট্র এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলিতে, অভিযোজন প্রচেষ্টাগুলি উল্লেখযোগ্য আর্থিক বাধার সম্মুখীন হয়। এই অঞ্চলগুলিতে জনহিতকর মূলধন প্রেরণের মাধ্যমে ধনী দেশগুলি এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে যে, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী স্থিতিস্থাপকতা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ পেতে পারে। এর মধ্যে জ্ঞান স্থানান্তর, উদ্ভাবনী সমাধানে বিনিয়োগ, এবং ঐতিহ্যবাহী তহবিল চ্যানেলগুলি প্রায়শই উপেক্ষা করে থাকে এমন জনসম্প্রদায়-নেতৃত্বাধীন অভিযোজন প্রকল্পগুলির জন্য সমর্থন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

জনহিতৈষণা কার্যক্রমগুলির ঝুঁকি গ্রহণ করা, দীর্ঘমেয়াদি তহবিল প্রদান করা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রদানের মাধ্যমে অভিযোজন অর্থায়নের ব্যবধান পূরণ করার অব্যবহৃত সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত করার জন্য, সরকারগুলিকে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যা জনহিতৈষণা বিনিয়োগকে আকর্ষণ করে এবং ত্বরান্বিত করে। এর মাধ্যমে, জনহিতৈষণা কার্যক্রম জলবায়ু অভিযোজন ব্যবধান পূরণ করতে এবং বিশ্বব্যাপী স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে।




নীলাঞ্জন ঘোষ অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ)-এর ডিরেক্টর, যেখানে তিনি সেন্টার ফর নিউ ইকনমিক ডিপ্লোম্যাসি (সিএনইডি) এবং ওআরএফ-‌এর কলকাতা সেন্টারের নেতৃত্ব দেন।

শ্যারন সারা থাওয়ানি ওআরএফ কলকাতা এবং সিএনইডি-‌র পরিচালক নীলাঞ্জন ঘোষের নির্বাহী সহকারী।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Nilanjan Ghosh

Nilanjan Ghosh

Dr Nilanjan Ghosh heads Development Studies at the Observer Research Foundation (ORF) and serves as the operational and executive head of ORF’s Kolkata Centre. He ...

Read More +
Sharon Sarah Thawaney

Sharon Sarah Thawaney

Sharon Sarah Thawaney is the Executive Assistant to the Director - ORF Kolkata and CNED, Dr. Nilanjan Ghosh. She holds a Master of Social Work ...

Read More +