Author : Soma Sarkar

Published on Aug 19, 2025 Updated 0 Hours ago

প্রান্তিক অনানুষ্ঠানিক ওয়েস্ট ওয়ার্কার বা র্জ্যক্ষেত্রের শ্রমিকদের শ্রম – যাঁদের বর্ণ, শ্রেণি লিঙ্গ পরিচয় তাঁদের সামাজিক বর্জনকে আকার দিয়েছে - ভারতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ভিত্তি তৈরি করে। অতএব, সামাজিক রূপান্তর ছাড়া যে কোনও রকমের আনুষ্ঠানিকীকরণ অন্যায্য পরিবর্তনের দিকে চালিত হবে

চক্রাকার অর্থনীতিতে অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য সংক্রান্ত শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য রূপান্তর

ভারতে প্রতিদিন প্রায় ,৬০,০৩৯ টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয় (টন পার ডে বা টিপিডি), যার অর্ধেক প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বর্জ্যের কোনও নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নেই অথবা তা অনানুষ্ঠানিক ভাবে পরিচালিত হয়। ল্যান্ডফিল (যেখানে গোটা শহর বা গ্রামের জঞ্জাল জড়ো করা হয়), রাস্তার ধারের আবর্জনা স্থান ডাস্টবিন থেকে উপকরণ পুনরুদ্ধার, পৃথগীকরণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্য বিক্রির মাধ্যমে ওয়েস্ট ওয়ার্কার বা বর্জ্যক্ষেত্রের কর্মীরা শহুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবধান পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁরা ল্যান্ডফিলের বোঝা কমাতে পৌর ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করেন, যা এমনিতেই অতিরিক্ত বোঝায় জর্জরিত এবং যে ক্ষেত্রে তেমন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তহবিল মঞ্জুর করা হয় না। অনেক ভারতীয় শহরের পৌর বর্জ্যের ২০ শতাংশ পর্যন্ত তাঁরাই সংগ্রহ প্রক্রিয়াজাত করেন এবং প্রায়শই রাজ্যের কোনও খরচ ছাড়াই এই কাজ হয়ে থাকে

এমন একটি নীতি কাঠামো কি বর্জ্য সংক্রান্ত জীবিকাকে সুরক্ষিত এবং মর্যাদাপূর্ণ করতে সফল হতে পারে, যা জাতিভিত্তিক কাঠামোগত নিপীড়নের অপরিহার্য ভাবে বিরোধিতা করে না?

ভারত যখন ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে - যার লক্ষ্য হ একটি চক্রাকার বা বৃত্তাকার অর্থনীতিতে ন্যায্য রূপান্তর - তখন আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য কর্মীদের সমন্বিত করার লক্ষ্যে নীতিগত আলোচনা পাইলট উদ্যোগের পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, স্বচ্ছ ভারত মিশনের অধীনে পৌর কঠিন বর্জ্য নির্দেশিকার পাশাপাশি সংশোধিত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়মে (২০১৬) র্জ্যক্ষেত্রের কর্মীদের স্ব-সহায়ক গোষ্ঠী (এসএইচজি) বা সমবায়ে সংগঠিত করা এবং তাঁদের সম্মিলিত ভাবে বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যকর পুনর্ব্যবহারযোগ্য সুবিধা পরিচালনা করার ক্ষমতা প্রদানের পক্ষে কথা বলা হয়েছে

উন্নত অর্থনৈতিক ও আইনি বিধান, সুরক্ষা জাল প্রদান এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতা হ্রাস করার জন্য এই নীতিগুলি নিঃসন্দেহে স্বাগত পদক্ষেপ। যাই হোক, যেহেতু এই ব্যবস্থাগুলিতে বর্ণ-ভিত্তিক বৈষম্য বর্জ্য সংক্রান্ত কাজের উপর ক্রমাগত প্রভাব বিস্তারকারী সামাজিক কলঙ্ককে পর্যাপ্ত ভাবে বিবেচনা করা হয় না, তাই প্রশ্ন তোলা অপরিহার্য এমন একটি নীতি কাঠামো কি বর্জ্য সংক্রান্ত জীবিকাকে সুরক্ষিত এবং মর্যাদাপূর্ণ করতে সফল হতে পারে, যা জাতিভিত্তিক কাঠামোগত নিপীড়নের অপরিহার্য ভাবে বিরোধিতা করে না? স্তরভিত্তিক অসমতা পদ্ধতিগত নিপীড়নের সমাধান না করে, দলিতদের অসামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে বর্জ্য খাতে নিযুক্ত করে, আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি বিদ্যমান বৈষম্যকেই বাড়িয়ে তোলার ঝুঁকি তৈরি করে। তাই অন্তর্ভুক্তির জন্য সবচেয়ে সদিচ্ছামূলক নীতির অধীনেও কি বর্জ্য সংক্রান্ত জীবিকা মর্যাদা পাবে?

চক্রের নেপথ্যের শ্রমিকদল: বৃত্তাকার শহরের রক্ষক

শহরগুলি হল গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ক্ষেত্র, যেখানে নব্য উদারনীতিবাদের শক্তি একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। বিশ্ব মানের শহরতৈরির বহুমাত্রিক সাধনার কেন্দ্রে অবস্থিত নগর পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি ভারতের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে রূপান্তর এনেছে। অদৃশ্য হলেও এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে অনানুষ্ঠানিক বর্জ্যক্ষেত্রের কর্মীদের অপরিহার্য শ্রম, যা বৃত্তাকার অর্থনীতির ভিত্তি তৈরির উপাদান প্রবাহকে টিকিয়ে রাখে। ডেভিড হার্ভের ‘অ্যাকিউমুলেশন বাই ডিসপোজেশন’ বা ‘নিষ্পত্তি দ্বারা সঞ্চয়-এর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, র্জ্যক্ষেত্রের কর্মীদের অনিশ্চয়তা তিনটি অক্ষ বরাবর উন্মোচিত হয় - কার্যকলাপের অনানুষ্ঠানিকতা, বর্জ্য জমার স্থানগুলিতে প্রবেশাধিকারের অস্বীকৃতি এবং বর্জ্য সংগ্রহ থেকে মূল্য আহরণ আসলে মহিলা-কেন্দ্রিক কার্যকলাপ। আর এই সব কিছুই বর্জ্য শৃঙ্খলে কাঠামোগত পরিবর্তনকে আরও মন্থর করে দেয়।

নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে আনুমানিক শতাংশ নগরবাসী অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য খাতে নিযুক্ত, শহরগুলিতে পৌর কঠিন বর্জ্যের ২০ শতাংশ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার করে, যা ল্যান্ডফিল ব্যবহার গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন উভয়ই হ্রাস করতে অবদান রাখে।

গ্লোবাল সাউথের শহরগুলিতে বর্জ্য সংগ্রহকারীরা হলেন সেই অনানুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহারকারী, যাঁরা পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সংগ্রহ করেন, সেগুলি পৃথক করেন এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য স্থানীয় স্ক্র্যাপ ডিলারদের কাছে বিক্রি করে। নগর অর্থনীতির প্রান্তে কর্মরত এই মানুষগুলিই অপ্রতুল পুনর্ব্যবহারযোগ্য অবকাঠামো-সহ এলাকায় পৌর পরিষেবা সরবরাহের ব্যবধান পূরণ করে। কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী তাঁদের বিপজ্জনক বর্জ্য পদার্থের সম্মুখীন হতে হয়, সামাজিক কলঙ্ক সহ্য করা সত্ত্বেও নিতান্তই স্বল্প অস্থিতিশীল অর্থ উপার্জন করতে হয়, যা আসলে অর্থনৈতিক সামাজিক উভয় স্তরেই তাঁদের প্রান্তিক অবস্থানকে দর্শায়। নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে আনুমানিক শতাংশ নগরবাসী অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য খাতে নিযুক্ত, শহরগুলিতে পৌর কঠিন বর্জ্যের ২০ শতাংশ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার করে, যা ল্যান্ডফিল ব্যবহার গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন উভয়ই হ্রাস করতে অবদান রাখে। কলম্বিয়ার বোগোতায় একটি উল্লেখযোগ্য সাংবিধানিক বিজয় অর্জিত হয়েছিল, যখন বর্জ্য সংগ্রহকারীদের শহরের পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থায় আনুষ্ঠানিক পরিষেবা প্রদানকারী হিসাবে আইনত স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। তুলনামূলক ভাবে ২০১২ সাল থেকে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস শহর ১২টি বর্জ্য সংগ্রহকারী সমবায় নিয়োগ করেছে এবং পুনর্ব্যবহার, পরিবেশগত সমস্যা সম্পর্কে জনসাধারণকে শিক্ষিত করার পাশাপাশি প্রতিদিন ৪০০ টন পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য পুনরুদ্ধারের জন্য ৬,৫০০ জনেরও বেশি লোক নিয়োগ করেছে।

ভারতে বর্ণ, শ্রেণি এবং লিঙ্গ পরিচয়ের আন্তঃসমন্বয় - যা বর্জ্যের বস্তুগত প্রকৃতির পাশাপাশি অস্পৃশ্যতা, বিশুদ্ধতা, দূষণের প্রতীকী এবং ধর্মীয় ধারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত – আসলে বর্জ্য সংগ্রহকারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রান্তিকীকরণকে আরও শক্ত করে।

তবে ভারতে এই শ্রম বর্ণভিত্তিক পেশাগত শ্রেণিবিন্যাসের সঙ্গে জড়িত, যেখানে বর্জ্য সংক্রান্ত কাজ কেবল অর্থনৈতিক ভাবে অবমূল্যায়িতই নয়, বরং প্রতীকী ভাবে কলঙ্কিতও। সুতরাং, চক্রাকার কাঠামোকে স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার জন্য নীতিগুলিকে এই শ্রমকে স্বীকৃতি দিতে হবে, সঠিক পারিশ্রমিক দিতে হবে, শ্রমিকদের ক্ষমতায়ন করতে হবে এবং সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে এ কথা সুনিশ্চিত করতে হবে যে, একটি বৃত্তাকার অর্থনীতিতে রূপান্তর কেবল পরিবেশগত ভাবে কল্যাণমূলকই নয়, বরং সামাজিক ভাবে ন্যায়সঙ্গতও বটে। এই ধরনের একটি আদর্শ রূপান্তর তাই একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উত্থাপন করে: এই দু প্রগতিশীল উদ্দেশ্য কি একে অপরের চেয়ে খুব আলাদা?

মূলে রয়েছে জাতপাত: পেশাগত বিচ্ছিন্নতার স্থিতিশীল অবস্থা

যদি বর্জ্য কাজের আনুষ্ঠানিকীকরণের ফলে মজুরি উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পায়, তা হলে কি উচ্চ বর্ণ-সহ সামাজিক গোষ্ঠীর বেকার ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির আশা করা যেতে পারে?

ভারত এমন একটি বর্ণবাদী সমাজ, যেখানে পবিত্রতা দূষণের ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বর্ণবাদী ব্যবস্থা মানুষ, স্থান, পেশা জ্ঞানের একটি শ্রেণিবিন্যাস তৈরি হয়েছে। এই সামাজিক পরিবেশগত স্তরবিন্যাসের ফলে শরীর আচরণের পদ্ধতিগত বিভাজন ঘটেছে, যার ফলে উচ্চ বর্ণগুলি প্রাকৃতিক সম্পদের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। দলিতদের জন্য, প্রকৃতির সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক কেবল দায়িত্ব পালনের জন্য নয়, বরং দূষণ জঞ্জাল পরিষ্কার সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা বলপূর্বক নৈকট্য দ্বারাও আকার পেয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি বর্জ্য কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পূর্ববর্তী উদ্যোগগুলি দুর্ভাগ্যবশত বর্ণভিত্তিক শ্রম পৃথগীকরণকে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, সুলভ ইন্টারন্যাশনালের স্যানিটেশন এবং হাতে করে ময়লা পরিষ্কারের কাজ স্বাস্থ্যবিধি উন্নত করার প্রচেষ্টার জন্য প্রশংসিত হলেও বর্ণভিত্তিক শ্রমকে নীতিগত ভাবে পুনর্গঠিত করার জন্য সমালোচিত হয় এবং তার মূল ভিত্তিতে প্রোথিত বর্ণগত যুক্তিকে নস্যাৎ করে দেওয়া যায় না। স্বচ্ছ ভারত মিশনও এই একই কারণে সমালোচিত হয়েছে

ভারতে বর্ণ, শ্রেণি এবং লিঙ্গ পরিচয়ের আন্তঃসমন্বয় - যা বর্জ্যের বস্তুগত প্রকৃতির পাশাপাশি অস্পৃশ্যতা, বিশুদ্ধতা, দূষণের প্রতীকী এবং ধর্মীয় ধারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত – আসলে বর্জ্য সংগ্রহকারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রান্তিকীকরণকে আরও শক্ত করে। উদাহরণস্বরূপ, মহারাষ্ট্রে অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য অর্থনীতি তফসিলি জাতি উপজাতির বর্জ্যক্ষেত্রের কর্মীদের দ্বারা টিকিয়ে রাখা হয়, যাঁরা পদ্ধতিগত বৈষম্যের সম্মুখীন হন। এর ফলে বর্জ্য-সম্পর্কিত পেশাগুলির আন্তঃপ্রজন্ম অব্যাহত থাকে।

যদি প্রান্তিক বর্জ্য এবং স্বাস্থ্যবিধি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা – যাঁরা আসলে বৃত্তাকার নগর প্রক্রিয়ার মূল অবদানকারী - নিজেদের মর্যাদা উন্নত করার আইনি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সামাজিক কলঙ্ক অর্থনৈতিক ভাবে স্বল্প বেতনের সম্মুখীন হতে থাকেন, তা হলে অনুমিত সাময়িক সমাধানটি সামাজিক সমাধানে পরিণত হয়। বাস্তবে খরচের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভবিষ্যতের প্রজন্মের কাছে স্থগিত থাকে না, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নির্দিষ্ট সামাজিক স্তরে বহির্গমনের সাক্ষী থাকে

জাতি লিঙ্গের পারস্পরিক সম্পর্কের কারণে নারীরা দ্বিগুণ প্রান্তিকতার সম্মুখীন হন। উদাহরণস্বরূপ, মহারাষ্ট্রের ১০০,০০০ অনানুষ্ঠানিক বর্জ্যক্ষেত্রের কর্মীর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করেন। এঁদের মধ্যে ৩০ শতাংশই নারী। তাঁরা পুরুষদের তুলনায় কম আয় করেন এবং বর্জ্য সংগ্রহ বাছাই করার মতো শারীরিক ভাবে কঠিন ভূমিকাও পালন করেন। অন্য দিকে, পুরুষরা পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র কেনা বিক্রি করার মতো লেনদেনসংক্রান্ত দিকগুলি সঙ্গে সম্পৃক্ত। গুজরাতের আহমেদাবাদে প্রায় ৫০,০০০ অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রহকারী - যাঁদের বেশিরভাগই দলিত মহিলা - নিজেদের কাজের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য সংগ্রাম করেন। যদিও পৌরসভাগুলিকে প্রায়শই কোনও আর্থিক খরচ ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য পরিষেবা প্রদান করা হয়।

একটি বৃহৎ অনানুষ্ঠানিক কর্মীবাহিনীকে আনুষ্ঠানিক পৌর ব্যবস্থায় সমন্বিত করার আর্থিক কার্যকারিতাও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে। উদাহরণস্বরূপ, পৌরসভার বর্তমান তহবিলের অবস্থা বিবেচনা করে অনানুষ্ঠানিক বর্জ্যক্ষেত্রের কর্মীদের স্বীকৃতি মর্যাদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা সত্ত্বেও একটি যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন তোলা উচিত: নীতিনির্ধারকদের জন্য এই ধরনের সমন্বিতকরণের সঙ্গে নগর বাজেটের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য কি উপযুক্ত পরিস্থিতি আদৌ রয়েছে?

অনানুষ্ঠানিক কাজের আনুষ্ঠানিকীকরণ - নীতি কি সামাজিক স্তরক্রমকে রূপান্তরিত করতে পারে?

অনানুষ্ঠানিক কাজ বলতে সাধারণত সামাজিক সুরক্ষা প্রদান এবং আইনি মর্যাদার অভাবযুক্ত নৈমিত্তিক, অস্থায়ী মরসুমি কাজকে বোঝায়।  র্জ্যক্ষেত্রের শ্রমিকদের অনানুষ্ঠানিক থেকে আনুষ্ঠানিকে পরিবর্তন - যা মূলত একটি আইনি রূপান্তর - তাদের দুর্বলতা হ্রাস করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে উপজীব্য হল: পরিষেবার জন্য মজুরি বা লাভ আসলে কী নির্ধারণ করে? মূলধারার অর্থনীতিতে দেখা যায় যে, প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে শ্রম মূলধন তুলনামূলক ভাবে উচ্চতর লাভ প্রদানকারী কার্যকলাপের দিকে ঝুঁকে পড়ে। যদি বর্জ্য কাজের আনুষ্ঠানিকীকরণের ফলে মজুরি উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পায়, তা হলে কি উচ্চ বর্ণ-সহ সামাজিক গোষ্ঠীর বেকার ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির আশা করা যেতে পারে? ভারতে কাজের ধারণা সামাজিক মূল্যায়ন গভীর ভাবে প্রভাবিত হয় কারা এটি সম্পাদন করে, তার উপর। যেমন বি. আর.  অম্বেডকর যুক্তি দিয়েছিলেন এবং পরে অমর্ত্য সেন জঁ দ্রেজের মতো উন্নয়নমূলক অর্থনীতিবিদরাও বলেছিলেন যে, ভারত কেবল শ্রম বিভাজন দ্বারা নয়, বরং শ্রমিকদের বিভাজনদ্বারা চিহ্নিত। অতএব, কাজ কেবল অর্থনৈতিক ভাবে স্তরবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক ভাবে পৃথক করা হয়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রণোদনা সত্ত্বেও তা অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবর্তনকে কঠিন করে তোলে।

স্বচ্ছ ভারত মিশন (এসবিএম) এবং অটল মিশন ফর রেজুভিনেশন অ্যান্ড আর্বান ট্রান্সফর্মেশন-এর (অম্রুত) মতো নগর সংক্রান্ত কর্মসূচির মধ্যে আটকে থাকা বাজেট - যা বর্জ্যক্ষেত্রের কর্মীদের স্ব-সহায়ক গোষ্ঠী (এসএইচজি) বা সমবায়কে সমর্থন করার জন্য নিবেদিত এবং আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন, ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই), স্বাস্থ্য বিমা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো বণ্টনযোগ্য বিষয়গুলির সঙ্গে সম্পৃক্ত - সূচনামূলক পদক্ষেপ হিসাবে কাজ করতে পারে।

আমরা যখন একটি স্থিতিশীল ও বৃত্তাকার নগর ভবিষ্যতের লক্ষ্যে ন্যায্য উত্তরণের কল্পনা করি, তখন আন্তঃপ্রজন্ম অন্তঃপ্রজন্ম সমতাকে মূল পথনির্দেশক নীতি হিসেবে গ্রহণ করতে হবেবর্তমান প্রজন্ম যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরিবেশগত সামাজিক পুঁজি শেষ না করে দেয়। এবং যখন আমরা এই আন্তঃকালিক বাণিজ্যের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করি, তখন প্রতিটি প্রজন্মের মধ্যে স্থিতিশীলতার খরচ কে বহন করবে? যদি প্রান্তিক বর্জ্য এবং স্বাস্থ্যবিধি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা – যাঁরা আসলে বৃত্তাকার নগর প্রক্রিয়ার মূল অবদানকারী - নিজেদের মর্যাদা উন্নত করার আইনি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সামাজিক কলঙ্ক অর্থনৈতিক ভাবে স্বল্প বেতনের সম্মুখীন হতে থাকেন, তা হলে অনুমিত সাময়িক সমাধানটি সামাজিক সমাধানে পরিণত হয়। বাস্তবে খরচের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভবিষ্যতের প্রজন্মের কাছে স্থগিত থাকে না, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নির্দিষ্ট সামাজিক স্তরে বহির্গমনের সাক্ষী থাকে। সুতরাং, নীতিনির্ধারকদের সর্বোত্তম উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও, এর ফলে শ্রেণি ও বর্ণের অক্ষ বরাবর সুবিধা ব্যয়ের অসামঞ্জস্যপূর্ণ বণ্টনই হতে থাকবে, যা ন্যায়সঙ্গত পরিবর্তনের একেবারে বিপরীত।

একটি ন্যায্য বৃত্তাকার রূপান্তরের লক্ষ্যে

ভারতে বৃত্তাকার অর্থনীতির মধ্যে খরচ সুবিধার বণ্টন কেবল প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা, প্রান্তিক উপযোগিতা একটি সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থার অধীনে অর্থ প্রদানের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে না। এটি অন্তর্নিহিত সামাজিক স্তরবিন্যাস দ্বারা গঠিত, যেখানে কেবল শ্রম নয়, শ্রমিকদের বিভাজন নগর অর্থনীতির মধ্যে প্রবেশাধিকার, মূল্য এবং গতিশীলতা নির্ধারণ করে। বর্জ্য ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত কর্মীরা - যাঁরা চিরাচরিত ভাবে প্রান্তিক সম্প্রদায় - দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প বেতন সামাজিক কলঙ্কের আকারে মূল্য চুকিয়ে বৃত্তাকার বর্জ্য অর্থনীতিতে ভর্তুকি দিয়ে আসছেন – এটি আসলে এমন দুই ধরনের শর্ত, যা একে অপরকে শক্ত করে তোলে। আমরা যখন একটি ন্যায্য রূপান্তরের লক্ষ্যে এগোনোর প্রয়াস রছি ও স্থিতিশীল নগর ভবিষ্যতের পথ নির্মাণ রার চেষ্টা করছি, তখন এই অন্তর্নিহিত সামাজিক যুক্তিকে কোনও মতেই উপেক্ষা করা উচিত নয়।

স্বচ্ছ ভারত মিশন (এসবিএম) এবং অটল মিশন ফর রেজুভিনেশন অ্যান্ড আর্বান ট্রান্সফর্মেশন-এর (অম্রুত) মতো নগর সংক্রান্ত কর্মসূচির মধ্যে আটকে থাকা বাজেট - যা বর্জ্যক্ষেত্রের কর্মীদের স্ব-সহায়ক গোষ্ঠী (এসএইচজি) বা সমবায়কে সমর্থন করার জন্য নিবেদিত এবং আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন, ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই), স্বাস্থ্য বিমা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো বণ্টনযোগ্য বিষয়গুলির সঙ্গে সম্পৃক্ত - সূচনামূলক পদক্ষেপ হিসাবে কাজ করতে পারে। তবে বস্তুগত প্রবাহের উপর ভিত্তি করে যে সামাজিক ব্যবস্থাগুলি গৃহীত হয়, সেগুলিও পুনর্কল্পনা করা দরকার। আমাদের নগর ভবিষ্যৎ অবশ্যই ন্যায়সঙ্গত অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং যাঁরা এটিকে সমুন্নত রাখেন, তাঁদের সকলের জন্য মর্যাদা ও ন্যায্যতার নীতির উপরই ভবিষ্যৎকে নির্মিত হতে হবে।

 


সোমা সরকার অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের আর্বান স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.