Author : Hamza Ahmad

Expert Speak Raisina Debates
Published on Mar 24, 2026 Updated 0 Hours ago

ভারতে জনসংখ্যার উত্থান এমন একটি শ্রমবাজারের সঙ্গে লড়াই করছে যা শুধু যথেষ্ট দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে না তাই নয়, সেই সঙ্গেই লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত তরুণকে উচ্চাকাঙ্ক্ষা সুযোগের মধ্যে স্থবির করে রেখেছে

চাকরি এবং বৃদ্ধি: দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য ভারতের কর্মসংস্থান সমস্যার সমাধান

২০২৫ সালে‌ ভারত এক তীব্র অর্থনৈতিক বৈপরীত্য উপস্থাপন করে। মোট আভ্যন্তর উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে ৭ শতাংশেরও বেশি রেখে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে তার অবস্থান সুদৃঢ় করার পাশাপাশি জাতীয় আলোচনা কিছুটা বিপরীতভাবে আরেকটি অপ্রীতিকর বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে চলছে বলে মনে হচ্ছে: দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্ব সংকট। লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ ভারতীয় যারা বেকার বা স্বল্প-‌কর্মসংস্থানের অধিকারী, তাদের জন্য সামষ্টিক অর্থনীতি উদযাপন একটি ফাঁকা বিষয় হবে। শুধু একটি পরিসংখ্যানগত বিচিত্রতা নয়, বাস্তব স্তরে শিরোনাম হওয়া বৃদ্ধির বিষয়টি এবং প্রকৃত কর্মসংস্থান সৃষ্টির মধ্যে এই বিচ্ছিন্নতা ভারতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, সামাজিক ভারসাম্য এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে একটি। এই সমস্যার বিস্তৃতি বিশাল: প্রতি বছর ১ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি তরুণ ভারতীয় শ্রমশক্তিতে প্রবেশ করে, যার থেকে একটি জনসংখ্যাতাত্ত্বিক তরঙ্গ যার লভ্যাংশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, এটি এখন চরম হতাশার উৎসে পরিণত হচ্ছে। সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমি (সিএমআইই) এবং সরকারের নিজস্ব পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে (পিএলএফএস)-‌এর সাম্প্রতিক তথ্য ধারাবাহিকভাবে ক্রমবর্ধমান উচ্চ বেকারত্বের চিত্র তুলে ধরেছে, বিশেষ করে তরুণ এবং শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি দেখায় যে এটি নিছক চাকরির বিষয় নয়, বরং শ্রমের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে একটি গুরুতর অসঙ্গতি।

চিত্র ১: জিডিপি এবং যুব বেকারত্বের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান
Jobs And Growth Solving India S Employment Paradox For Long Term Development
সূত্র ১: ট্রেডিং ইকনমিক্স; পিআইবি প্রেস রিলিজ; অ্যাঞ্জেলওয়ান

 
মূল কারণ নির্ণয়

কার্যকর সমাধান তৈরি করতে, আমাদের প্রথমে এই কর্মসংস্থান সংকটের বহুমুখী কারণগুলি বিশ্লেষণ করতে হবে। চারটি মূল কাঠামোগত সমস্যা স্পষ্ট:

১. অটোমেশনের দ্বি-ধারী তরোয়াল: চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এখন আর কোনও দূরবর্তী হুমকি নয়। অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)  এমন শিল্পগুলিকে পরিবর্তন করছে যেগুলি একসময় ভালো চাকরি তৈরির ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করত। যদিও ডেটা সায়েন্স এবং মেশিন লার্নিংয়ের মতো ক্ষেত্রগুলিতে কিছু নতুন উচ্চ-দক্ষতার চাকরি তৈরি হয়েছে, কিন্তু তা আইটি পরিষেবা, ব্যাক-অফিস প্রক্রিয়াকরণ এবং এমনকি ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে ক্রমশ স্থবির হতে থাকা সুযোগের তুলনায় এখনও পিছিয়ে রয়েছে। তার উপর, নিম্ন-দক্ষ পেশাগুলিতে চাকরি হারানোর হার সাধারণত চাকরি সৃষ্টি এবং উচ্চ-দক্ষতার পেশার তুলনায় দ্রুততর হচ্ছে, যার ফলে বিপুল সংখ্যক কাজ-‌হারানো কর্মী পিছিয়ে পড়ছে এবং বৈষম্য আরও খারাপ হচ্ছে।

২. একটি স্থবির ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্র: ভারত কৃষি থেকে কর্মসংস্থান-নিবিড় উৎপাদনে শ্রম স্থানান্তরের ধ্রুপদী উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়নে হিমসিম খাচ্ছে, যা পূর্ব এশীয় অর্থনীতিগুলি অতীতে সফলভাবে অনুসরণ করেছে। হারানো সুযোগের মাত্রা বুঝতে হলে, এই অঞ্চলের ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৬০-এর দশকে রপ্তানি-ভিত্তিক শিল্পায়ন গ্রহণ করে দ্রুত শিল্পায়ন করে, এবং মূল্য শৃঙ্খলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আগে শ্রমনিবিড় রপ্তানিকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। তাইওয়ান এসএমই-নেতৃত্বাধীন রপ্তানি ক্লাস্টারের একটি অনন্য মডেল ব্যবহার করে সরকার-সমর্থিত শিল্প পার্কগুলির মাধ্যমে দ্রুত ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলিকে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে একীভূত করেছে। একইভাবে, চিন টাউনশিপ এবং ভিলেজ এন্টারপ্রাইজ (টিভিই) -‌এর মাধ্যমে তার বিশাল গ্রামীণ উদ্বৃত্ত শ্রমকে সফলভাবে একত্রিত করেছে, যা শহরের দিকে অভিবাসনে বাধ্য করার পরিবর্তে সরাসরি গ্রামাঞ্চলে ম্যানুফ্যাকচারিং নিয়ে আসে। ১৯৮০-র দশকে, ভিয়েতনাম দোই মোই সংস্কারের মাধ্যমে তার উৎপাদন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছিল, এবং কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা থেকে একটি বাজার-ভিত্তিক, রপ্তানি-নেতৃত্বাধীন মডেলে স্থানান্তরিত হয়েছিল যা বিদেশী বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়। ''মেক ইন ইন্ডিয়া'' এবং ম্যানুফ্যাকচারিং-সংযুক্ত প্রণোদনা (পিএলআই) প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সত্ত্বেও, জিডিপি-‌তে ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রের অংশ এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে, কর্মসংস্থান, অত্যন্ত কম রয়ে গিয়েছে। প্রায়শই ইলেকট্রনিক্স এবং অটোমোটিভ অ্যাসেম্বলির মতো মূলধন-নিবিড় শিল্পের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা মূল্যবান হলেও নতুন কর্মীদের নিযুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি করে না। টেক্সটাইল, চটিজুতো এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের মতো কম দক্ষতা, শ্রমনিবিড় ম্যানুফ্যাকচারিংকে সমর্থন করার জন্য বাস্তুতন্ত্র ভিয়েতনাম বা বাংলাদেশের মতো প্রতিযোগীদের তুলনায় অনুন্নত রয়ে গিয়েছে।

৩. ব্যাপক দক্ষতার অমিল: ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, তার আয়তন সত্ত্বেও, চাকরির জন্য প্রস্তুত স্নাতক তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। মুখস্থ শেখা এবং তাত্ত্বিক জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি পাঠ্যক্রম শিক্ষার্থীদের আধুনিক অর্থনীতির চাহিদা পূরণে অক্ষম করে তোলে। সাম্প্রতিক ন্যাসকম রিপোর্ট দক্ষতা শিল্পের চাহিদা — যেমন গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাভাবনা, ডেটা বিশ্লেষণ ও সবুজ-প্রযুক্তি দক্ষতা — এবং স্নাতক পুলের দক্ষতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান তুলে ধরেছে। এর ফলে একটি হতাশাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে শিল্পগুলি প্রতিভার ঘাটতির অভিযোগ করে, যদিও লক্ষ লক্ষ স্নাতক বেকার থাকে।

চিত্র ২: দক্ষতার সুযোগের সংঘাত
Jobs And Growth Solving India S Employment Paradox For Long Term Development
সূত্র ২: ইন্ডিয়া স্কিলস রিপোর্ট

৪. অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রের অনিশ্চয়তা: ভারতের প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী নিয়োগ করে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি, যা একটি ডিফল্ট শক অ্যাবজর্বার হিসেবে কাজ করে। তবে, এটি এমন একটি স্পঞ্জ যা সমৃদ্ধির পরিবর্তে অনিশ্চয়তা প্রদান করে। এই ক্ষেত্রে চাকরির বৈশিষ্ট্য হল কম মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তার অভাব এবং দুর্বল কর্মপরিবেশ। জীবিকা নির্বাহের জন্য অপরিহার্য হলেও, অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্র একটি আধুনিক, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারতের দাবি অনুযায়ী স্থিতিশীল, ঊর্ধ্বমুখী কর্মসংস্থান প্রদান করতে পারে না। আনুষ্ঠানিকীকরণের প্রচেষ্টা ধীর এবং এখনও এই কর্মীদের মূল দুর্বলতাগুলি সমাধান করতে পারেনি।

কর্মসংস্থান-নেতৃত্বাধীন বৃদ্ধির কৌশলের জন্য অপরিহার্যতা

এই সংকট মোকাবিলায় ভারতের অর্থনৈতিক নীতির একটি মৌলিক পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন। অর্থনীতির বৃদ্ধি থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অর্থনীতির বৃদ্ধিতে লক্ষ্য স্থানান্তরিত হতে হবে। এর জন্য একটি বহুমুখী পদ্ধতির প্রয়োজন:

❅ কর্মসংস্থান ইঞ্জিন হিসেবে ‌এমএসএমই-গুলির ক্ষমতায়ন: মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই) হল ভারতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড এবং এর বৃহত্তম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী। নীতিমালাকে অবশ্যই বাগাড়ম্বরের বাইরে যেতে হবে এবং তাদের ঋণ, প্রযুক্তি ও আনুষ্ঠানিক বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার প্রদান করতে হবে। নিয়ন্ত্রক সম্মতি সহজীকরণ এবং জাতীয় ও বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে তাদের একীভূতকরণ উন্নত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।‌

❅ দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি জাতীয় মিশন ২.০: দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগগুলিকে পুনর্কল্পনা করা প্রয়োজন। সরবরাহ-চালিত হওয়ার পরিবর্তে, সেগুলিকে চাহিদা-চালিত হতে হবে, এবং শিল্পের সঙ্গে গভীর সহযোগিতার মাধ্যমে তৈরি করতে হবে। জার্মান পদ্ধতির আদলে তৈরি একটি দেশব্যাপী শিক্ষানবিশ কর্মসূচি ব্যবহারিক ও কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজন মাফিক প্রশিক্ষণ প্রদান করতে পারে, যা শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানের দিকে সরাসরি একটি পাইপলাইন তৈরি করতে পারে।

❅ শ্রমনিবিড় ক্ষেত্রগুলিকে উৎসাহিত করা: কৌশলগত নীতি সহায়তা উচ্চ কর্মসংস্থান স্থিতিস্থাপকতা সম্পন্ন ক্ষেত্রগুলির দিকে চালিত করতে হবে। এর মধ্যে কেবল টেক্সটাইল এবং পর্যটনের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্ষেত্রগুলিই নয় বরং উদীয়মান সবুজ ক্ষেত্রগুলিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি স্থাপন এবং রক্ষণাবেক্ষণ থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদন পর্যন্ত সবুজ অর্থনীতিতে রূপান্তর - লক্ষ লক্ষ নতুন যুগের কর্মসংস্থান তৈরির জন্য একটি বিশাল সুযোগ উপস্থাপন করে।

❅ শ্রম আইন এবং সামাজিক নিরাপত্তার আধুনিকীকরণ: ভারতের একবিংশ শতাব্দীর জন্য উপযুক্ত একটি শ্রম আইন কাঠামো প্রয়োজন - যা নিরাপত্তার জন্য শ্রমিকদের অধিকারের সঙ্গে নমনীয়তার ভারসাম্য বজায় রাখবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এর মধ্যে রয়েছে একটি পোর্টেবল সামাজিক নিরাপত্তা জাল তৈরি করা যা সকল শ্রমিককে, এমনকি কর্মক্ষেত্রে কর্মরত ও অনানুষ্ঠানিক কর্মীবাহিনীকেও অন্তর্ভুক্ত করবে, এবং তাদের নিয়োগকর্তা নির্বিশেষে স্বাস্থ্য, বিমা এবং পেনশন সুবিধা প্রদান করবে।

চ্যালেঞ্জ বিশাল, তবে সুযোগও তাই। অস্থিতিশীলতার বিপদ নিয়ে আসা জনসংখ্যাতাত্ত্বিক শক্তি কিন্তু আগামী কয়েক দশক ধরে বিশ্ব অর্থনৈতিক নেতা হিসেবে ভারতের উত্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে, এই লভ্যাংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত হবে না। এর জন্য একটি সিদ্ধান্তমূলক নীতি পরিবর্তন প্রয়োজন, যা ভারতের বৃদ্ধির গল্পের একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানব পুঁজি উন্নয়নকে স্থাপন করে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ছাড়া জিডিপি বৃদ্ধি চূড়ান্তভাবে স্থিতিশীল নয়, এবং ভারতের উন্নয়নের আখ্যানের এই মৌলিক সত্য প্রতিফলিত করার সময় এসেছে।



হামজা আহমদ অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ ইন্টার্ন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.