জাপানের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ভূমিকা জনসম্মতিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যা এখনও নির্বাচনী এবং ভৌগোলিক ভাবে সীমাবদ্ধ এবং দূরবর্তী সঙ্কটে সামরিক মোতায়েনের প্রতি সমর্থনকে সীমিত করছে।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সঙ্কট - বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর অবরোধ - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে (ইউএস) জাপান-সহ তার মিত্রদের প্রণালীটি সুরক্ষিত করার জন্য নৌ সম্পদ মোতায়েন করতে আহ্বান জানাতে বাধ্য করেছে। এটি একটি দীর্ঘদিনের প্রশ্নের আরও গভীরে আলোকপাত করার জন্য একটি কার্যকর সুযোগ তৈরি করে এবং তা হল, জাপানের ক্রমবিকাশমান নিরাপত্তা নীতি জনমতের অনুরূপ পরিবর্তনে প্রতিফলিত হচ্ছে কি না। প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ একটি জটিল চিত্রকেই তুলে ধরে। জাপানের নীতি তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিধি স্পষ্ট ভাবে প্রসারিত করলেও জনমত আরও ধীরে, বেছে বেছে এবং প্রায়শই শর্তসাপেক্ষে পরিবর্তিত হয়েছে।
মনোভাবের পরিবর্তন, শর্তসাপেক্ষ স্বীকৃতি
এক দিকে, এতে কোনও সন্দেহ নেই যে, গত দশকে প্রতিরক্ষা বিষয়ে জাপানি জনগণের মনোভাব পরিবর্তিত হয়েছে। জাপানের সংবিধানের ৯ নং অনুচ্ছেদে প্রোথিত যুদ্ধোত্তর শান্তিবাদী ঐকমত্য পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি, তবে প্রান্তিক পর্যায়ে তা দুর্বল হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা নীতি নিয়ে এক সময় যে জনরোষ বা গণপ্রতিরোধ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল, তা এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২০১৫ সালের নিরাপত্তা আইনের সময় যে গণবিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল — যখন অধিকাংশ জনগণ সম্মিলিত আত্মরক্ষার পরিধি সম্প্রসারণের বিরোধিতা করেছিল — সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তার পুনরাবৃত্তি ঘটেনি। জাপানের সামরিক সক্ষমতা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা ক্রমশ স্বীকৃত হচ্ছে। জনমত সংক্রান্ত সমীক্ষায় দেখা যায়, পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপগুলোর প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন রয়েছে, যা বিশেষত চিন এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার বিষয়ে হুমকি উপলব্ধির পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।
জাপানের নীতি তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিধি স্পষ্ট ভাবে প্রসারিত করলেও জনমত আরও ধীরে, বেছে বেছে এবং প্রায়শই শর্তসাপেক্ষে পরিবর্তিত হয়েছে।
এই পরিবর্তন রৈখিক বা একপাক্ষিক নয়। একে আদর্শগত রূপান্তরের চেয়ে কার্যকরী স্বীকৃতি হিসেবে বর্ণনা করাই ঠিক। যখন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয় অস্তিত্ব বা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরা হয়, তখন জনসমর্থন বৃদ্ধি পায় বলে মনে হয়। আর যখন শক্তি প্রয়োগকে ঐচ্ছিক বা ভৌগোলিক ভাবে দূরবর্তী বলে মনে করা হয়, তখন তা হ্রাস পায়। হরমুজ সঙ্কটের ক্ষেত্রে জাপানের প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্য এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জনসমর্থনের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা
ভৌগোলিক পরিধির প্রশ্নটিই এখানে কেন্দ্রীয়, যা থেকে বোঝা যায় যে জাপানের জনমত নৈকট্যের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সামরিক পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন আরও জোরালো হয় যখন হুমকিগুলিকে জাপানের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে মনে করা হয় — যেমন তাইওয়ান সঙ্কট বা উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি। এমনকি এ হেন পরিস্থিতিতেও জনমত বিভক্ত। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, তাইওয়ান সঙ্কটের ক্ষেত্রে যৌথ আত্মরক্ষার পক্ষে ও বিপক্ষে সমর্থন প্রায় সমান। এর বিপরীতে, হরমুজ সঙ্কট-সহ পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতগুলিকে পরোক্ষ এবং কম অস্তিত্বমূলক হিসেবে দেখা হয়, যা সামরিক হস্তক্ষেপের অনুভূত বৈধতাকে প্রভাবিত করে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, এমনকি দেশের কাছাকাছি পরিস্থিতিতেও জনসম্মতি শর্তসাপেক্ষ এবং বিতর্কিত থেকে যায়।
অন্য দিকে, দূরবর্তী যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণের পক্ষে সমর্থন এখনও অনেক কম। এই গতিশীলতা হরমুজ সঙ্কটে সবচেয়ে ভাল ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। জাপানের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এর গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও, এই প্রণালীটি দেশটির প্রধান নিরাপত্তা বিষয়গুলি থেকে রাজনৈতিক ও বাস্তবিক ভাবে অনেক দূরে অবস্থিত। ফলস্বরূপ, কৌশলগত আকাঙ্ক্ষা এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে একটি সংযোগহীনতা তৈরি হয়েছে। জনসাধারণ হয়তো সমুদ্রপথের নিরাপত্তার গুরুত্ব স্বীকার করে, কিন্তু এটি নিজের থেকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সামরিক মোতায়েনের সমর্থনে রূপান্তরিত হয় না। এটি জনমতে অন্তর্নিহিত ভৌগোলিক সীমারেখার অস্তিত্বের দিকেই ইঙ্গিত করে। পূর্ব এশিয়া উচ্চতর গ্রহণযোগ্যতার একটি অঞ্চল; এর বাইরে বৈধতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ইন্দো-প্যাসিফিক কাঠামো এই সীমানাগুলিকে পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারেনি। হরমুজের মতো সঙ্কটগুলি প্রকাশ করে যে, জনমত একটি বর্ধিত কৌশলগত পরিধির ধারণাটিকে কতটা আত্মস্থ করেছে।
জাপানের কৌশলগত সংস্কৃতি আমূল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে না গিয়ে, বরং চাপের মুখে বিকশিত হচ্ছে। যদিও শান্তিবাদী আদর্শগুলি শক্তিশালী রয়েছে, তবে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির আলোকে সেগুলির নতুন ব্যাখ্যা তৈরি করা হচ্ছে।
অসামরিক ও সামরিক ভূমিকার সমর্থনের মধ্যে আরও একটি পার্থক্য দেখা যায়। জাপানের জনমত ধারাবাহিক ভাবে সামরিক অভিযানের চেয়ে অসামরিক মোতায়েন, শান্তিরক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং জলদস্যু-বিরোধী অভিযানের প্রতি বেশি গ্রহণযোগ্যতা দেখিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এডেন উপসাগরে জলদস্যু-বিরোধী মোতায়েনকে একটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আইন প্রয়োগকারী প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, যা অভ্যন্তরীণ বৈধতা অর্জনে সহায়তা করেছিল। এর বিপরীতে, হরমুজে প্রহরা মিশনকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ হিসেবে ব্যাখ্যা করার ঝুঁকি রয়েছে, বিশেষ করে একটি সংঘাতপূর্ণ এলাকায়। এই পার্থক্যটি নীতি নির্ধারকদের জন্য উপলব্ধ নীতিগত পরিসরকে উল্লেখযোগ্য রকমের সঙ্কুচিত করে।
কৌশলগত সংস্কৃতি এবং বৈধতার সীমাবদ্ধতা
এই প্রবণতাগুলির সম্মিলিত প্রভাব হল একটি পরিমিত গ্রহণযোগ্যতার ধরন। জনসাধারণ সরাসরি আরও সক্রিয় নিরাপত্তা ভূমিকার বিরোধী নয়, কিন্তু তারা স্পষ্ট সীমানা নির্ধারণ করে দেয় যে কী ভাবে, কোথায় এবং কোন পরিস্থিতিতে শক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি নীতির সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সম্মতির মধ্যে একটি বিচ্যুতি তৈরি করে। জাপানের প্রতিরক্ষা নীতি আরও বহির্মুখী হয়েছে, কিন্তু জনমত এই সম্প্রসারণের সঙ্গে পুরোপুরি তাল মেলাতে পারেনি।
এর ফলে একটি বৃহত্তর প্রশ্ন ওঠে যে, জাপানের কৌশলগত সংস্কৃতি বিকশিত হচ্ছে কি না। প্রচলিত ব্যাখ্যাগুলি গভীর ভাবে প্রোথিত শান্তিবাদকেই গুরুত্ব দেয়, যা ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতায় প্রোথিত এবং অনুচ্ছেদ ৯-এর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলি অন্যান্য প্রধান শক্তির সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ সক্ষমতা ও ভূমিকা বিকাশের দিকে একটি ক্রমান্বয় পরিবর্তনকেই দর্শায়।
বাস্তবতা অবশ্য এই দুই পরিস্থিতির মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে। জাপানের কৌশলগত সংস্কৃতি আমূল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে না গিয়ে, বরং চাপের মুখে বিকশিত হচ্ছে। যদিও শান্তিবাদী আদর্শগুলি শক্তিশালী রয়েছে, তবে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির আলোকে সেগুলির নতুন ব্যাখ্যা তৈরি করা হচ্ছে। ফলস্বরূপ, বর্তমান কৌশলগত সংস্কৃতি সামরিক সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও, বিশেষ করে নিকটবর্তী অঞ্চলের বাইরে এর ব্যবহারে সতর্ক থাকে।
হরমুজ পর্বটি এই টানাপড়েনকেই তুলে ধরে। মিত্রদের সম্পৃক্ততার জন্য ট্রাম্পের দাবি জাপানের অভ্যন্তরীণ ঐকমত্যের পাশাপাশি এর আইনি ও কৌশলগত সীমানাকেও পরীক্ষা করেছিল। টোকিয়োর অস্পষ্ট প্রতিক্রিয়া এই উপলব্ধিকেই প্রতিফলিত করে যে, কোনও নীতিই জনমতের থেকে খুব বেশি এগিয়ে যেতে পারে না। একই সঙ্গে, অভ্যন্তরীণ কোনও জোরালো প্রতিক্রিয়ার অনুপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে ধাপে ধাপে পরিবর্তন ঘটছে, যদিও তা অসম এবং শর্তসাপেক্ষ। পরিশেষে মূল শিক্ষাটি হল এই যে, জাপানের নিরাপত্তা বিবর্তন সক্ষমতার চেয়ে বৈধতার দ্বারা বেশি সীমাবদ্ধ। জনমত পরিবর্তনকে বাধা দেয় না, কিন্তু এটি তার গতি ও দিক নির্ধারণ করে। হরমুজের মতো সঙ্কটগুলি এই গতিপ্রকৃতিকে মৌলিক ভাবে পরিবর্তন করে না, বরং এগুলিকে উন্মোচিত করে।
প্রত্নশ্রী বসু অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Pratnashree Basu is an Associate Fellow with the Strategic Studies Programme. She covers the Indo-Pacific region, with a focus on Japan’s role in the region. ...
Read More +