Author : Manoj Joshi

Expert Speak Raisina Debates
Published on Mar 30, 2026 Updated 0 Hours ago

জাপানের প্রতিরক্ষা রূপান্তর যুদ্ধোত্তর সংযম থেকে একটি সিদ্ধান্তমূলক বিরতিকেই প্রতিফলিত করে, যা চিনের উত্থান, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এবং জোটের প্রত্যাশা দ্বারা পরিচালিত হয়।

জাপানের পুনঃঅস্ত্রায়ণ: প্রযুক্তি, প্রতিরোধ এবং জোট নির্ভরতা

২০২২ সালে, জাপান প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নীতির একটি নতুন কৌশলের ভিত্তি স্থাপন করে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী স্ব-আরোপিত সামরিক বাহিনীকে সীমাবদ্ধ করে।

২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রাইম মিনিস্টার ফুমিও কিশিদার সরকার কয়েক মাস ধরে বিতর্কের পর জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল-সহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নথি সংশোধন করে এবং এই অঞ্চলের জন্য একটি কঠোর পদ্ধতির উন্মোচন করে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা, চিনের বর্ধিত পেশীশক্তি এবং সেই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের ফলে উদ্ভূত দুর্বলতার অনুভূতির দ্বারা এই পরিবর্তনটি রূপ পেয়েছে। কিশিদা জুন মাসে বলেছিলেন, ‘আজকের ইউক্রেনের মতো অবস্থা আগামিকাল পূর্ব এশিয়ারও হতে পারে।’ এ ছাড়াও, প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের দাবিগুলিও দুর্বলতার অনুভূতি তৈরি করেছিল। কারণ ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিদ্যমান মার্কিন-জাপান নিরাপত্তা চুক্তিকে একতরফা বলে সমালোচনা করেছিলেন এবং জাপানকে তার প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের খরচের ক্ষেত্রে আর্থিক অবদান বাড়ানোর দাবি করেছিলেন।

২০২২ সালের প্রতিরক্ষা প্যাকেজ - যার মধ্যে রয়েছে এনএসএস, জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল এবং মধ্যমেয়াদি প্রতিরক্ষা কর্মসূচি - আসলে জাপানি সামরিক বাহিনীর ভূমিকার পুনর্গঠনকে স্পষ্ট করে: আসন্ন আক্রমণগুলিকে প্রতিহত করা থেকে শুরু করে পরিকল্পিত প্রতিকূল আক্রমণের বিরুদ্ধে পূর্ব-প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে আগ্রাসন প্রতিরোধ করা।

সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী মতবাদগত পরিবর্তন হল পাল্টা আক্রমণ বা ‘স্ট্রাইক-ব্যাক’-এর ক্ষমতা গ্রহণ করা – অর্থাৎ শত্রু ঘাঁটি বা ব্যবস্থাপনার উপর আক্রমণ করার ক্ষমতা, যারা জাপানের উপর আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বা ইতিমধ্যেই আক্রমণ করেছে। ২০২২ সালের প্রতিরক্ষা প্যাকেজ - যার মধ্যে রয়েছে এনএসএস, জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল এবং মধ্যমেয়াদি প্রতিরক্ষা কর্মসূচি - আসলে জাপানি সামরিক বাহিনীর ভূমিকার পুনর্গঠনকে স্পষ্ট করে: আসন্ন আক্রমণগুলিকে প্রতিহত করা থেকে শুরু করে পরিকল্পিত প্রতিকূল আক্রমণের বিরুদ্ধে পূর্ব-প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে আগ্রাসন প্রতিরোধ করা।

ক্ষমতা, প্রযুক্তি এবং সামরিক আধুনিকীকরণ

নীতিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সক্ষমতা উন্নয়নও ঘটেছে। টোকিয়ো ৪০০-৫০০ টোমাহক দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র অর্জন এবং সংশোধিত টাইপ-১২ জাহাজ-বিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মতো দেশীয় দূরপাল্লার স্ট্যান্ডঅফ সিস্টেম তৈরির দিকে এগিয়েছে। জাপান তার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এজিস জাহাজ, স্থল-ভিত্তিক ইন্টারসেপ্টর, রাডার এবং মহাকাশ-ভিত্তিক, স্থায়ী আইএসআর (গোয়েন্দা, নজরদারি এবং রিকনাইস্যান্স), যা স্যাচুরেটিং ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ শনাক্ত এবং পরাস্ত করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে পূর্ব-সতর্কীকরণ উপগ্রহে বিনিয়োগও।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ ও প্রচেষ্টার মধ্যে কিছু মনুষ্যবিহীন সামুদ্রিক ও আকাশ-ব্যবস্থা ছাড়াও আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সাইবার ক্ষমতার দিকেও পরিচালিত হচ্ছে। বর্ধিত সাইবার যুদ্ধের ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে আত্মরক্ষা বাহিনীতে (এসডিএফ) আরও হাজার হাজার সাইবার বিশেষজ্ঞ যুক্ত করা, যার ফলে মোট সংখ্যা প্রায় ২০,০০০-এ উন্নীত হবে।

তবে সম্ভবত সবচেয়ে বড় উন্নতি হবে সামুদ্রিক ক্ষমতার ক্ষেত্রে। জাপান ইতিমধ্যেই একটি শক্তিশালী নৌবাহিনীর অধিকারী, যদিও আকারের দিক থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী চিনের সঙ্গে জাপানের কোনও তুলনা হয় না (দ্রষ্টব্য নিচের সারণী)।

চিন বনাম জাপান: নৌ তুলনা (আনুমানিক) 

চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি (পিএলএএন)

জাপানের মেরিটাইম সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স (জেএমএসডিএফ)

সারবত্তা

মোট নৌবহরের আকার

৪০৫ - ৭৫৪টি জাহাজ

১০৫ - ১৫৯টি জাহাজ

চিনের বিশাল ব্যবধান রয়েছে।

মোট যুদ্ধজাহাজ

৩৭০ - ৪০৫টির বেশি (প্রধান সারফেস কমব্যাট্যান্ট ও সাবমেরিন)

১০৭ - ১২০টির বেশি

সংখ্যাগত পার্থক্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার

৩টি (২টি সক্রিয়, ১টি সমুদ্র পরীক্ষায় আছে)

০ (ফিক্সড-উইং এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার নেই)

চিনের অবশ্য প্রকৃত এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার রয়েছে, যা জাপানের নেই।

হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার / মাল্টি-রোল ক্রুজার

৩টি (এলএইচডি/ টাইপ ০৭৫) + ৪টি পরিকল্পিত

৪টি (আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘ডেস্ট্রয়ার’ - ইজুমো ও হিউগা ক্লাস, এফ-৩৫বি চালানোর জন্য রূপান্তরিত হচ্ছে)

জাপানের ‘ফ্ল্যাট-টপ’ জাহাজগুলি চিনের ক্যারিয়ারের তুলনায় ছোট।

ডেস্ট্রয়ার (ডিডিজি/ডিডি)

৫০টি (টাইও ০৫২ডি/ টাইপ ০৫৫)

৪২টি (মায়া ও কঙ্গো ক্লাসের মতো উন্নত এজিস সজ্জিত জাহাজ-সহ)

জাপানের ডেস্ট্রয়ার বাহিনী অত্যন্ত উন্নত, তবে চিনও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই।

ফ্রিগেট ও করভেট

১১৯টি (ফ্রিগেট ও করভেটের বিশাল সংখ্যা)

৬টি (নতুন মোগামি-ক্লাস ফ্রিগেট)

চিনের মাল্টি-রোল সারফেস যুদ্ধজাহাজ তাদের নৌবহরের প্রধান শক্তি।

সাবমেরিন  (এসএস/এসএসএন/এসএসবিএন?)

৬১টি (পারমাণবিক ও প্রচলিত সাবমেরিনের মিশ্রণ)

২২ - ২৪টি (সবগুলিই অ-পারমাণবিক, অত্যন্ত উন্নত)

জাপানের সাবমেরিন বহর বিশ্বের অন্যতম শান্ত ও উন্নত।

 গুগল জেমিনির সহায়তায় লেখকের সঙ্কলন

তবে বলাই বাহুল্য, প্রযুক্তির দিক থেকে জাপান এক বিরাট গতিতে এগিয়ে চলেছে। উদাহরণস্বরূপ, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি দিয়ে সজ্জিত তাদের তাইগেই-শ্রেণির সাবমেরিনগুলি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত সাবমেরিনগুলির মধ্যে অন্যতম। জাপান বর্তমানে এই ধরনের ব্যাটারি পরিচালনাকারী একমাত্র দেশ, যা উল্লেখযোগ্য ভাবে জলের অনেক গভীরে সহনশীলতা, দ্রুত রিচার্জিং এবং নীরব অভিযান চালানোর ক্ষমতা প্রদান করে - যা এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন (এআইপি) সিস্টেমকে কার্যকর ভাবে অপ্রয়োজনীয় করে তোলে। ২০২২ সাল থেকে এই শ্রেণির চারটি জাহাজের বরাত দেওয়া হয়েছে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে আরও চারটি জাহাজ তৈরির আশা করা হচ্ছে।

আর একটি ক্ষেত্রও রয়েছে যেখানে জাপানের প্রযুক্তিগত জোর স্পষ্ট এবং তা হল হাইপারসনিক। এই প্রচেষ্টার মূল চাবিকাঠি হল হাইপার ভেলোসিটি গাইডেড প্রজেক্টাইল (এইচভিজিপি), যা ২০১৮ সাল থেকে তৈরি হচ্ছে এবং এ বছর সম্পূর্ণ হবে। ৯০০ কিলোমিটার প্রাথমিক পরিসরের পাশাপাশি এটি দ্বীপ প্রতিরক্ষার জন্য একটি অস্ত্র হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও এটি বিমানবাহী বাহক এবং জাহাজের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এই সিস্টেমটি ট্রাক-মাউন্টেড লঞ্চার থেকে একটি বুস্টার দ্বারা চালু করা হয় এবং তার পর তার লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছয়। ভবিষ্যতের ভেরিয়েন্টগুলির পাল্লা ২০০০-৩,০০০ কিলোমিটার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একটি পরিপূরক প্রকল্প হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি গ্লাইড ফেজ ইন্টারসেপ্টরের (জিপিআই) যৌথ উন্নয়ন, যা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে তাদের উড়ন্ত পর্যায়ে বাধা দেবে। এই ইন্টারসেপ্টরগুলি জাপানের এজিস-সজ্জিত ডেস্ট্রয়ারে লাগানো হবে। পাশাপাশি, এই সিস্টেমগুলি ২০৩০-এর দশকে পরিষেবার আওতাধীন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্ভবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ যে কোনও পশ্চিমা দেশের আগেই এমনটা হবে।

সেপ্টেম্বর মাসে জাপান সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তুতে একটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেলগানের প্রথম সফল পরীক্ষামূলক গুলিবর্ষণ পরিচালনা করে। জাপান সম্ভবত বিশ্বের প্রথম দেশ, যারা এই ধরনের সিস্টেম স্থাপন করবে। জাপান হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারী জাহাজ-বিরোধী অস্ত্র মোকাবিলা করার জন্য এই সিস্টেমটি ব্যবহার করার ইচ্ছা পোষণ করে।

জাপান - যার বিমান বাহিনী বর্তমানে প্রায় ১৫০টি এফ-৩৫-এর উপর নির্ভরশীল - ২০৩৫ সালের মধ্যে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির আশা করছে। জাপান এই বিমান তৈরির জন্য সংযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র এবং ইতালির সঙ্গে গ্লোবাল কমব্যাট এয়ার প্রোগ্রামেও (জিসিএপি) সম্পৃক্ত। আর একটি ক্ষেত্রে যেখানে জাপান বিদেশি প্রযুক্তি খুঁজছে তা হল মনুষ্যবিহীন আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল (ইউইউভি), যা আগামী দশকগুলিতে নৌ যুদ্ধকে উন্নত করার সম্ভাবনা রাখে। এই ক্ষেত্রটি এমন একটি বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যা সমসাময়িক নৌ শক্তিকে উন্নত করতে পারে: স্বতন্ত্র স্বায়ত্তশাসিত ইউইউভি সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজের উপর হামলা চালানোর পাশাপাশি সেগুলির উপর নজরদারিও চালাতে পারে। এফপিভি (ফার্স্ট পারসন ভিজ) ড্রোনের মুখোমুখি হলে স্থলের ট্যাঙ্কের মতোই তাদের পরিণতি হতে পারে।

জাপানের প্রতিরক্ষা দৃষ্টিভঙ্গিতে জোটের কেন্দ্রিকতা

চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) বিশাল আকার এবং হাইপারসনিক্সের মতো ক্ষেত্রে এর প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে জাপানের সমকক্ষ হওয়ার প্রচেষ্টা ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও জাপান একা চিনের মোকাবিলা করার অবস্থানে থাকবে না। এই কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তার মিত্রতা তার প্রতিরক্ষা অবস্থানের একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে রয়ে গিয়েছে। তবুও তার প্রতিরক্ষা নীতিতে পরিবর্তন এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের মাধ্যমে, জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জাপান কেবল ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যঙ্গচিত্রিত অর্থাৎ নিতান্তই নিষ্ক্রিয় এবং মুক্ত ভাবে কাজ করা মিত্র নয়।

চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) বিশাল আকার এবং হাইপারসনিক্সের মতো ক্ষেত্রে এর প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে জাপানের সমকক্ষ হওয়ার প্রচেষ্টা ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও জাপান একা চিনের মোকাবিলা করার অবস্থানে থাকবে না।

এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, সর্বশেষ মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে এ কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে, ‘জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে বোঝা ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জোরের পরিপ্রেক্ষিতে, আমাদের অবশ্যই এই দেশগুলিকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করতে হবে, প্রতিপক্ষকে নিবৃত্ত করতে এবং প্রথম দ্বীপ শৃঙ্খলকে রক্ষা করার জন্য নতুন সক্ষমতা অর্জন-সহ প্রয়োজনীয় সক্ষমতার উপর মনোযোগ দিতে হবে।’ (পৃষ্ঠা ২৪)

কুরিলেস, জাপানি দ্বীপপুঞ্জ, ওকিনাওয়া, তাইওয়ান এবং ফিলিপিন্সের সমন্বয়ে গঠিত প্রথম দ্বীপ শৃঙ্খল জাপানি নিরাপত্তা পরিকল্পনাকারীদের মনে আলোড়ন তুলেছে এবং এই উদ্বেগ বেজিং ও টোকিয়োর মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণ হয়ে উঠেছে।

জাপান ইতিমধ্যেই চলতি অর্থবর্ষে তার প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপি-র প্রায় এক শতাংশ থেকে প্রত্যাশিত দুই শতাংশে উন্নীত করার পদক্ষেপ করেছে এবং ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা এই সীমা ছাড়িয়েও অঙ্কটি বাড়াতে ইচ্ছুক। এই পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে, জাপান আগামী বছরগুলিতে ভারতের চেয়ে তৃতীয় বৃহত্তম প্রতিরক্ষা ব্যয়কারী হিসাবে আবির্ভূত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারত-জাপান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

বর্তমান গতিপথ বিবেচনা করে জাপান ২০৩০-এর দশকে আবারও একটি প্রধান সামরিক শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হতে চলেছে। সে ভাবে দেখলে, এটি ভারতের জন্য একটি কার্যকর অংশীদার হবে। কারণ দু’টি দেশ ইন্দো-প্যাসিফিকের বিপরীত প্রান্তে অবস্থিত এবং চিনকে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বলে মনে করে।

দুই দেশের মধ্যে ‘বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব’, ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একাধিক চুক্তি ও সংলাপ থাকলেও কিছু প্রতিকূলতাও বিদ্যমান। জাপানের অনিচ্ছার মতো ভারতের উদাসীনতার কারণে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রচেষ্টাও অনেকটাই থমকে গিয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে ‘বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব’, ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একাধিক চুক্তি ও সংলাপ থাকলেও কিছু প্রতিকূলতাও বিদ্যমান। জাপানের অনিচ্ছার মতো ভারতের উদাসীনতার কারণে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রচেষ্টাও অনেকটাই থমকে গিয়েছে। শিনমায়ওয়া দূরপাল্লার উভচর বিমান তৈরির প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে গিয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ ভাবে সোরিউ-শ্রেণির সাবমেরিন তৈরিতে ভারতের আগ্রহও খুব একটা কাজে আসেনি।

বর্তমানে, যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিনের জন্য ইউনিকর্ন মাস্টের মতো উন্নত নৌ-চক্র প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ-বিকাশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি রয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে একটি উন্নত জলতলের নজরদারি ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামুদ্রিক প্রযুক্তি যৌথ ভাবে বিকাশের জন্যও একটি চুক্তি রয়েছে। তবে ভারতের উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে জাপানের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের যৌথ উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খুব কমই কাজে লাগানো হয়েছে। বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং শিল্প সমন্বয়ের সঙ্গে অনুসরণ করা হলে এই সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারত-জাপান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ভিত্তিপ্রস্তর হয়ে উঠতে পারে।


মনোজ জোশি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ডিস্টিঙ্গুইশড ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.