নির্বাচনী প্রতিপক্ষ ও কল্যাণমূলক কাজকর্মের নেপথ্যে আসলে জামাত একটি সভ্যতাগত কর্মসূচির লক্ষ্যেই এগোয়, যা দক্ষিণ এশিয়ার গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করে।
সাম্প্রতিক একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, রাজনৈতিক ভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি পদক্ষেপ অনুযায়ী বাংলাদেশে দ্রুতই নির্বাচনী রাজনীতিতে জামাত-এ-ইসলামী-র (জেইআই) পুনঃপ্রবেশ হতে পারে। ১৯৭১ সালের গণহত্যায় দলটির নেতাদের ভূমিকা এবং ধর্মীয় ভিত্তির কারণে ২০১৩ সাল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও জেইআই এখন নতুন প্রক্সি তৈরি করে পুনরায় বৈধতা অর্জনের চেষ্টা করছে। ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উপর ক্রমবর্ধমান চাপের মাঝেই এই উন্নয়ন ঘটেছে, যা এক সময় বিকৃত বলে বিবেচিত আদর্শগত শক্তিগুলিকে পুনরায় সক্রিয় করার জন্য একটি উর্বর জমি তৈরি করছে। তবে এটিকে কেবল নির্বাচনী সুবিধাবাদের ঘটনা হিসাবে দেখার অর্থ হবে মেকি বাস্তবতা থেকে নজর সরিয়ে রাখা। কারণ জেইআই কেবল একটি রাজনৈতিক দলই নয়। বরং এটি এমন একটি সভ্য প্রকল্প ও এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী আদর্শগত দৃষ্টান্ত, যা সামাজিক-রাজনৈতিক অবকাঠামোকে একটি ধর্মকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে কাজ করে।
দলটির আদর্শগত দৃঢ়তা, প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিস্থাপকতা এবং সমূলে নিহিত প্রভাব আসলে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের এমন একটি জটিল জাল তৈরি করে, যা আঞ্চলিক শক্তিগুলি - বিশেষ করে ভারত - অবমূল্যায়ন করতে পারে না।
দশকের পর দশক ধরে রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন, আইনগত নিষেধাজ্ঞা ও তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও জামাত-এ-ইসলামী পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে কৌশলগত পুনর্গঠন ও মতবাদের অধ্যবসায়ের জন্য অসাধারণ ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। দলটির আদর্শগত দৃঢ়তা, প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিস্থাপকতা এবং সমূলে নিহিত প্রভাব আসলে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের এমন একটি জটিল জাল তৈরি করে, যা আঞ্চলিক শক্তিগুলি - বিশেষ করে ভারত - অবমূল্যায়ন করতে পারে না। এই নিবন্ধে জামাত-এ-ইসলামীর ধর্মতান্ত্রিক অবকাঠামো, গোপন কার্যক্রম এবং সভ্যতাগত কর্মসূচির অন্বেষণ করার পাশাপাশি যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, এটি একটি প্রান্তিক উগ্রপন্থী সংগঠনই নয়, বরং একটি কাঠামোগত আদর্শগত বিদ্রোহেরও প্রতিনিধি।
ধর্মীয় নীলনকশা: মওদুদীর মতবাদ এবং জেইআই-এর সভ্যতাগত লক্ষ্য
১৯৪১ সালে মওলানা আবুল আ'লা মওদুদী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত জামাত-এ-ইসলামী কেবল নির্বাচনী অংশগ্রহণে একেবারেই সন্তুষ্ট ছিল না। দলটির উচ্চাকাঙ্ক্ষা সর্বদা আরও বিস্তৃত ছিল: ঐশ্বরিক ভাবনা অনুযায়ী সমাজকে পুনর্বিন্যাস করা এবং আইন, শিক্ষা, অর্থনীতি ও শাসনকে একটি ধর্মকেন্দ্রিক ব্যবস্থার অধীনস্থ করা। জেইআই-এর দৃষ্টিভঙ্গি প্রচলিত জিহাদি সংগঠনগুলির থেকে আলাদা, যারা মূলত জঙ্গিবাদের উপর নির্ভর করে। বরং পরিবর্তে জামাত আদর্শগত ধ্বংসের একটি সূক্ষ্ম ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল অনুসরণ করে, যে বিষয়টিকে মওদুদী ‘তৃণমূল স্তর থেকেই সাংস্কৃতিক বিপ্লব’ হিসাবে মনে করেছিলেন। স্কুল, মসজিদ, কল্যাণমূলক কাজ এবং ছাত্র সংগঠনের মতো সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে এই মতবাদকেই অন্তর্ভুক্ত করে জেইআই একটি স্থায়ী জ্ঞানগর্ভ অবকাঠামো তৈরি করেছে।
জামাতের ভিত্তিতে রয়েছে ধর্মনিরপেক্ষ আধুনিকতার প্রত্যাখ্যান। জেইআই-এর বিশ্বতত্ত্বে যদি গণতন্ত্র ঐশ্বরিক আইনশাস্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা হলে তা অবশ্যই ধর্মবিরোধী। তবুও বিরোধিতাপূর্ণ ভাবে জেইআই প্রায়শই গণতান্ত্রিক পরিসরগুলিতে আন্তরিক ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য নয়, বরং ভিতর থেকে সেগুলিকে নির্মূল করার জন্যই প্রবেশ করে। এটি গণতন্ত্রের সমালোচনা শুরু করার জন্য গণতান্ত্রিক বৈধতাকে কাজে লাগায় এবং এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, যা শেষ পর্যন্ত একটি ঐশ্বরিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে।
পাকিস্তান: সামরিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরজীবী অংশীদারিত্ব
জামাত এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যে সহাবস্থান পাকিস্তানে যতটা সুপ্রতিষ্ঠিত, তেমনটা আর কোথাও নেই। যদিও জামাত কখনওই উল্লেখযোগ্য নির্বাচনী প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি, তবুও দলটি দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের সামরিক অভিজাতদের একটি আদর্শগত শাখা। জেনারেল জিয়া-উল-হকের ইসলামীকরণ অভিযানের সময় জামাত রাষ্ট্রের বৌদ্ধিক ও শিক্ষাগত প্রবাহে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর জন্য তারা পাঠ্যক্রম তৈরি করেছে, গুরুত্বপূর্ণ আমলাতান্ত্রিক পদ দখল করেছে এবং মাদ্রাসার সুবিশাল শৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণ করেছে।
সামরিক ও বেসামরিক শাসনের মধ্যে দোদুল্যমান থাকা সত্ত্বেও ইসলামাবাদে জেইআই-এর আদর্শগত সাধনী রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও ধর্মীয় জনপ্রিয়তার দরুন যথেষ্ট অনুকূল ও প্রায় অভেদ্য হয়ে উঠেছে।
দলটির ছাত্র সংগঠন অর্থাৎ ইসলামী জামিয়াত তালাবা (আইজেটি) বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে একটি শক্তিশালী শক্তি হিসেবেই রয়ে গিয়েছে এবং নৈতিক গোঁড়ামির প্রয়োগকারী ও আদর্শগত কর্মীদের নিয়োগকারী হিসেবে কাজ করে। এই গভীর আদর্শগত পরিপূর্ণতা জেইআই-কে জনসাধারণের আলোচনাকে আকার দিতে, ইসলামী আখ্যানগুলিকে টিকিয়ে রাখতে এবং নির্বাচনী ভাগ্য নির্বিশেষে টিকে থাকা একটি ছায়া রাষ্ট্রকে স্থায়ী করতে সক্ষম করেছে। সামরিক ও বেসামরিক শাসনের মধ্যে দোদুল্যমান থাকা সত্ত্বেও ইসলামাবাদে জেইআই-এর আদর্শগত সাধনী রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও ধর্মীয় জনপ্রিয়তার দরুন যথেষ্ট অনুকূল ও প্রায় অভেদ্য হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ: দমন-পীড়নের পর নতুন পরিসর
বাংলাদেশে জেইআই-এর ইতিহাস অবিস্মরণীয় ভাবে ১৯৭১ সালের গণহত্যায় দলটির ভূমিকা দ্বারা চিহ্নিত, যে সময়ে দলের আধা-সামরিক শাখা অর্থাৎ আল-বদর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করেছিল। স্বাধীনতার পরে জেইআই-কে নিষিদ্ধ করা হলেও পরে রাজনৈতিক আপস এবং ভূ-রাজনৈতিক অগ্রাধিকার পরিবর্তনের মাধ্যমে এটির পুনর্বাসন হয়। ২০০৮ সালের পর আওয়ামী লীগ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল জেইআই-এর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করেছিল, যার ফলে বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
তবুও দলটির মূল আদর্শ টিকে ছিল। জামাতের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সক্রিয় রয়েছে এবং জেইআই-নিয়ন্ত্রিত ব্যবসা ও দাতব্য সংস্থা গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় সামাজিক সেবা প্রদান করে। নতুন ব্যানারে প্রার্থী দেওয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ কোনও বিচ্যুতি নয়, বরং জেইআই-এর আদর্শগত ছদ্মবেশের কৌশলের ধারাবাহিকতাই বলা চলে। সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জেইআই নিজের রাজনৈতিক ক্ষেত্র থেকে সত্যিকার অর্থে কখনও বেরিয়ে আসেনি; কেবল তার পোশাক পরিবর্তন করেছে মাত্র। হাসিনার শাসনব্যবস্থা যখন অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যুঝছে, তখন জামাত- এর পুনঃপ্রবেশ কেবল সুবিধাই অর্জন করেনি, বরং এই অঞ্চলে ধর্মতাত্ত্বিক রাজনীতির একটি সম্ভাব্য পুনরুত্থানও ঘটিয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীর: প্রতিরোধ হিসেবে ধর্মতত্ত্ব
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক সংঘাতকে ইসলামী সভ্যতার সংগ্রামে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে জেইআই একটি অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৮৭-পরবর্তী নির্বাচনী হতাশাকে পুঁজি করে তারা একটি ইসলামিক আখ্যান প্রচার করে, যা ধর্মনিরপেক্ষ প্রতিরোধকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং ধর্মীয় মোড়কে বিদ্রোহকে উৎসাহিত করে। জেইআই-এর কৌশলের মধ্যে ছিল একটি সমান্তরাল নাগরিক অবকাঠামো - মসজিদ, স্কুল, কল্যাণমূলক ট্রাস্ট - স্থাপন করা, যা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করবে এবং সামাজিক রীতিনীতিগুলিকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করবে।
এই জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামোর স্থায়িত্ব ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও সমন্বিতকরণের চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, বিশেষ করে যখন নতুন রাজনৈতিক শূন্যতা দেখা দেয়।
একাধিক বার নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও — সবচেয়ে সম্প্রতি নিষিদ্ধ হয় ২০১৯ সালে — জেইআই-এর বৌদ্ধিক ব্যাকরণ এখনও এই অঞ্চলের সামাজিক-রাজনৈতিক মানসিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। মসজিদ শৃঙ্খল, মাদ্রাসা ব্যবস্থা এবং কল্যাণমূলক ব্যবস্থার পদ্ধতিগত বিস্তার একটি সমান্তরাল নাগরিক সমাজ তৈরি করেছে, যা রাষ্ট্রের চেয়ে বেশি আদর্শগত পুনর্শিক্ষক হিসেবে কাজ করছে। এটি কেবল নিষিদ্ধ করার মতো একটি সংগঠনই নয়, বরং এটি এমন একটি আদর্শগত অক্ষ, যা ধর্মতাত্ত্বিক জাতীয়তাবাদকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরি পরিচয় পুনর্নির্মাণ করতে চেয়েছে। এই জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামোর স্থায়িত্ব ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও সমন্বিতকরণের চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, বিশেষ করে যখন নতুন রাজনৈতিক শূন্যতা দেখা দেয়।
ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব: ভারতের কৌশলগত দ্বিধা
বাংলাদেশে জেইআই-এর পুনরায় সক্রিয়তা, পাকিস্তানে এর আদর্শগত অনুপ্রবেশ এবং কাশ্মীরে এর ভূগর্ভস্থ স্থিতিস্থাপকতা ভারতের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য একটি ত্রিপাক্ষিক চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক জিহাদি শৃঙ্খলের বিপরীতে জেইআই বিশ্বব্যাপী আদর্শগত সম্পর্কযুক্ত স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে কাজ করে। শিক্ষামূলক প্রচারণা, সমাজকল্যাণ ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে দলটির কূটনৈতিক শক্তি এটিকে প্রচলিত সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামোর সাহায্যে অচিহ্নিত থাকার সুযোগ করে দেয়।
কাশ্মীরে ভারতের বিদ্রোহ-বিরোধী প্রচেষ্টাও অসম্পূর্ণ থাকবে, যদি না জেইআই কয়েক দশক ধরে যে আদর্শগত বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলেছে, তা মোকাবিলা করা হয়।
সর্বোপরি, জেইআই বৃহত্তর প্যান-ইসলামবাদী স্রোতের জন্য একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, যা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার অন্য আদর্শগত দলগুলির মধ্যেও অনুরণিত হয়। বাংলাদেশে দলটির পুনরুত্থান - বিশেষ করে রাজনৈতিক ভাবে দুর্বল মুহূর্তে - এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে পারে এবং দিল্লি ও ঢাকা উভয়ের কৌশলগত হিসাব পুনর্নির্মাণ করতে পারে। কাশ্মীরে ভারতের বিদ্রোহ-বিরোধী প্রচেষ্টাও অসম্পূর্ণ থাকবে, যদি না জেইআই কয়েক দশক ধরে যে আদর্শগত বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলেছে, তা মোকাবিলা করা হয়।
উপসংহার: একটি অন্তর্নিহিত বিশ্বদৃষ্টি, কেবল একটি নিষিদ্ধ দল নয়
জামাত-এ-ইসলামিকে একটি উগ্রপন্থী দল হিসেবে দেখা মানেই এর মূল কথা ভাবনার ভুল মূল্যায়ন করা। এটি নাগরিক সমাজের মধ্যে এমন একটি আদর্শগত বিদ্রোহ, যা একটি আদর্শগত ডিপ স্টেটের মতো কাজ করে এবং যা ধর্মনিরপেক্ষ সাংবিধানিকতার ভিত্তিকে ধ্বংস করে দেয়। দলটির কর্মীরা কেবল রাজনৈতিক কর্মী নন, বরং সাংস্কৃতিক প্রকৌশলীও, যাঁরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে সমূলে রূপান্তরিত করার জন্য কাজ করছেন। এটি যে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, তা কেবল নির্বাচনী অযোগ্যতা বা সাংগঠনিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মোকাবিলা করা যাবে না।
নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই জেইআই-এর কর্মক্ষম ভেক্টরগুলির সম্পূর্ণ বলয়ের সম্মুখীন - এর ছাত্র ফ্রন্ট, কল্যাণ সংস্থা, প্রকাশনা সংস্থা এবং শিক্ষা শৃঙ্খল। আদর্শগত যুদ্ধকে অবশ্যই শ্রেণীকক্ষ, কমিউনিটি হল, ধর্মীয় মঞ্চ এবং নীতিগত বিতর্কের মাধ্যমেই পরিচালনা করতে হবে। জেইআই-এর সঙ্গে সহাবস্থান, মধ্যপন্থা বা দলটিকে উপেক্ষা করার যে কোনও প্রকারের প্রচেষ্টা শুধু মাত্র অনুকরণমূলক বৈধতা ও দীর্ঘমেয়াদি অনুপ্রবেশের কৌশলগুলিতে প্রভাব ফেলবে। জেইআই প্রকাশ্য সংঘাতে নয়, বরং সূক্ষ্ম বিপর্যয়ের মাধ্যমেই সাফল্য লাভ করে।
পাকিস্তানে সামরিক কর্তৃত্ববাদ, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক কর্তৃত্ববাদ ও ভারতে সাংবিধানিক গণতন্ত্র - এই ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যেও এর সহনশীলতা এই অস্বস্তিকর বাস্তবতাকেই তুলে ধরে: জামাত কোনও রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির স্থিতিস্থাপকতা। জামাতকে উৎখাত করার জন্য কৌশলের চেয়েও বেশি কিছুর প্রয়োজন হবে, এর জন্য আদর্শগত সাহসের দরকার হবে।
সৌম্য অবস্থি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজির ফেলো।
মেহরাজ ভাট শ্রীনগরভিত্তিক ইসলামী অধ্যয়নের বিশেষজ্ঞ। তাঁর পড়াশোনার বিষয় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে জামাত-এ-ইসলামীর ভূমিকা।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr Soumya Awasthi is a Fellow, Centre for Security, Strategy and Technology at the Observer Research Foundation. Her work focuses on the intersection of technology and ...
Read More +
Mehraj Bhat is a Srinagar-based Researcher in International Relations and is studying the "Role of Jamaat-e-Islami (JeI) in South Asia". ...
Read More +