ঐতিহাসিকভাবে মধ্য ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দুর্বল ছিল। এখন সেই অবস্থা পরিবর্তনের সময় এসেছে।
এশিয়া ও ইউরোপ উভয়ের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন বৈশ্বিক শৃঙ্খলার উপর প্রভাব ফেলছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-সহ বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে নতুন বাণিজ্য বাধা আরোপ করায় বিচক্ষণ চিন্তাভাবনা অপরিহার্য।
একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব সুস্পষ্ট – ২০২৪-২৫ সালের জন্য মোট আভ্যন্তর উৎপাদনের বৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্ব ব্যাঙ্কের 'ইন্ডিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট' এই গতিপথকে জোরালোভাবে তুলে ধরেছে, এবং পূর্বাভাস দিয়েছে যে ভারত ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে, যা জাপানকে ছাড়িয়ে যাবে এবং দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে তার অবস্থানকে সুসংহত করবে।
অন্যদিকে, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর মাধ্যমে চিনের জবরদস্তিমূলক বাণিজ্য নীতি এবং রাশিয়ার সংশোধনবাদী ভূ-রাজনীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে ব্রাসেলস এশিয়ায় বিশ্বস্ত অংশীদার খুঁজছে। এই পরিস্থিতিতে, ভারতকে ক্রমবর্ধমানভাবে একটি বিশ্বাসযোগ্য, সমমনস্ক বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার প্রমাণ মেলে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েনের পুরো কমিশনার পরিষদকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে ঐতিহাসিক সফরে।
বিশ্ব ব্যাঙ্কের 'ইন্ডিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট' এই গতিপথকে জোরালোভাবে তুলে ধরেছে, এবং পূর্বাভাস দিয়েছে যে ভারত ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে, যা জাপানকে ছাড়িয়ে যাবে এবং দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে তার অবস্থানকে সুসংহত করবে।
ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অংশীদারিত্বে ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকনমিক করিডোরের মতো সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংহতি জোরদার করার চেষ্টা করছে। নয়াদিল্লি সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য জোটের দেশগুলির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্রুত একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য চাপ দিচ্ছে। ভারত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে সরবরাহ শৃঙ্খল সহজ করার জন্য তার অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজ কর্তৃক প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক নীতিপত্রে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, সামগ্রিকভাবে ইউরোপ এবং বিশেষ করে ভিসেগ্রাদ ফোর (ভি৪) দেশগুলি – চেকিয়া, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও স্লোভাকিয়া – এর ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর করা প্রয়োজন।
ঐতিহাসিকভাবে মধ্য ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দুর্বল ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মোদী সরকার এই ভারসাম্যহীনতা দূর করার জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করেছে। তা সত্ত্বেও, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান পশ্চিমী দেশগুলির জন্য একটি বিবাদের কারণ হয়ে আছে।
ভি৪ দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে ভারতের আগ্রহ অর্থনৈতিক এবং ভূ-রাজনৈতিক উভয় উদ্বেগ থেকেই উদ্ভূত। বেজিংয়ের ইউরোপে কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা, বিশেষ করে ২০১২ সালে চালু হওয়া চায়না-সিইই সহযোগিতা কাঠামো এবং ২০১৩ সাল থেকে শুরু হওয়া বিআরআই-এর মাধ্যমে, তাদের বৃহত্তর আঞ্চলিক স্বার্থ সুরক্ষিত করতে সহায়ক হয়েছে। চিনের উপস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য ভারতের পক্ষে ইউরোপ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অর্থপূর্ণ প্রবেশাধিকার ও প্রভাব অর্জনের লক্ষ্যে একটি বৃহত্তর কৌশলসহ একটি নিবেদিত ভি৪ ফোরাম গড়ে তোলা অপরিহার্য।
ভি৪ দেশগুলির অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক্স, ভারী যন্ত্রপাতি এবং উন্নত উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত দক্ষতা থাকায়, ভারত তার নিজস্ব শিল্প আকাঙ্ক্ষা, যেমন ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সঙ্গে এগুলিকে সম্পর্কিত করে উপকৃত হতে পারে। সংরক্ষণবাদের পুনরুত্থান এবং বিশেষ করে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্র হওয়ার হুমকি বিদ্যমান বাণিজ্য ধারার জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, রপ্তানি-নির্ভর বৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য ভারতকে তার উৎপাদন ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার উপর অগ্রাধিকার দিতে হবে। ভি৪ দেশগুলি তাদের শিল্প দক্ষতা এবং ইউরোপীয় মূল্য শৃঙ্খলে একীভূত হওয়ার জন্য পরিচিত, আর তাদের সঙ্গে সহযোগিতা ভারতকে প্রযুক্তির ব্যবধান পূরণ করতে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষমতাকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করতে পারে।
সংরক্ষণবাদের পুনরুত্থান এবং বিশেষ করে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্র হওয়ার হুমকি বিদ্যমান বাণিজ্য ধারার জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।
তবে, এটি বাস্তবায়নের জন্য ভারতকে তার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। শুল্ক ও অশুল্ক বাণিজ্য বাধা কমানো এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সুরক্ষা উন্নত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম সমস্যাটি ইতিমধ্যেই আলোচনাধীন ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার মাধ্যমে অনেকাংশে সমাধান করা যাবে। একটি বিনিয়োগ চুক্তি, যার লক্ষ্য ভারতে ইউরোপীয় বিনিয়োগকে সহজতর করা ও সুরক্ষা দেওয়া এবং এর বিপরীতে একই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, তা হবে একটি আরও কঠিন কাজ।
মধ্য ইউরোপীয়দের কাছে ভারত সম্পর্কে সাধারণ ধারণা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা। জনমত জরিপগুলি ইঙ্গিত দেয় যে, ভি৪ দেশগুলির সাধারণ জনগণের মধ্যে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে, ভারত সম্পর্কে সীমিত সচেতনতা এবং এক ধরনের দ্বিধা রয়েছে, যদিও রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক অভিজাতরা সহযোগিতার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। প্রচারণামূলক কার্যক্রমে আরও বেশি বিনিয়োগ করা, বিশেষ করে যে মূল ক্ষেত্রগুলিতে ভারতকে অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত একটি আধুনিক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরা হবে, তা গভীরতর অংশীদারিত্বের পক্ষে জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
একটি বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের উত্থান – বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ, ক্ষুদ্র উন্নয়নশীল দ্বীপ রাষ্ট্র এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশগুলির মধ্যে – বিশ্বজুড়ে দেশটির খ্যাতি বাড়িয়েছে এবং গ্লোবাল নর্থ থেকে যথেষ্ট মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। সাশ্রয়ী ও উচ্চ-প্রভাবশালী উন্নয়ন সমাধান প্রদানের সক্ষমতা ভি৪ দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতার জন্য কৌশলগত সুযোগ তৈরি করে। যৌথ উন্নয়ন কর্মসূচিগুলি পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মতো ক্ষেত্রগুলিতে লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। এই ধরনের সহযোগিতা ভি৪ রাষ্ট্রগুলিকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি সম্প্রসারিত করার সুযোগ দেবে, যে অঞ্চলটি চিন-মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা দ্বারা ক্রমবর্ধমানভাবে প্রভাবিত হচ্ছে; অন্যদিকে ভারত তার ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য ইউরোপীয় সমর্থন থেকে উপকৃত হতে পারবে।
এই ভাষ্যটি প্রথম দ্য ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত হয়েছিল।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr Swati Prabhu is a Fellow with the Centre for New Economic Diplomacy at Observer Research Foundation. Her research explores the idea of aid, role of ...
Read More +
Matej Simalcik is executive director of the Central European Institute of Asian Studies (CEIAS). ...
Read More +
Dr. Jagannath Panda is the head of the Stockholm Center for South Asian and Indo-Pacific Affairs (SCSA-IPA); and a professor at the Department of Regional ...
Read More +