প্রথাগত ভাষায় মোড়া অথচ কৌশলগত স্বার্থে নিহিত সোমালিল্যান্ড-বিষয়ক কূটনৈতিক প্রতিযোগিতাটি দেখায় যে, স্বীকৃতির রাজনীতিতে নীতির চাইতে ক্ষমতার চর্চাই বেশি।
সোমালিল্যান্ডকে ঘিরে বিদ্যমান কূটনৈতিক লড়াইকে প্রায়শই একটি নৈতিক বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয় — সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণ, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ও গণতান্ত্রিক বৈধতার মধ্যে একটি পছন্দ। কিন্তু এই আদর্শগত পরিভাষার আড়ালে আরও অনেক বেশি পরিচিত একটি ধারা নিহিত রয়েছে। সোমালিল্যান্ডের কূটনৈতিক স্বীকৃতির বিষয়ে দেশগুলির গৃহীত অবস্থান কোনও নৈতিক দায়বদ্ধতার চাইতে বাস্তবতার এক চিরস্থায়ী যুক্তিকেই বেশি প্রতিফলিত করে। এটি এমন একটি উদাহরণও বটে, যা দর্শায়, কী ভাবে জাতীয় স্বার্থ, ক্ষমতা এবং কৌশলগত সুবিধা কোনও জাতির পররাষ্ট্রনীতিকে নির্ধারণ করে। অন্য কথায় বললে, সোমালিল্যান্ডের ঘটনাটি একটি জোরালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যে, স্বীকৃতির রাজনীতি কী ভাবে আইনি বা নৈতিক অনুশীলনের চাইতে স্বার্থ চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে বেশি কাজ করে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইজরায়েল আনুষ্ঠানিক ভাবে সোমালিল্যান্ডকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং এই ভূখণ্ডকে সোমালিয়ার অংশ হিসেবে গণ্যকারী আন্তর্জাতিক ঐকমত্য ভঙ্গকারী প্রথম দেশ হয়ে ওঠে। এই সিদ্ধান্তটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং সোমালিল্যান্ডের প্রদর্শিত শাসনক্ষমতার নিরিখে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে, ১৯৯১ সালে একতরফা ভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে সোমালিল্যান্ড তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে, কার্যকর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন পরিচালনা করেছে— যা সোমালিয়ার দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার সম্পূর্ণ বিপরীত। তবে ইজরায়েলের এই পদক্ষেপের সময়কাল ও এর প্রভাব এমন কিছু উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয়, যা আদর্শগত সমর্থনের চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত।
ইজরায়েলি স্বীকৃতিকে লোহিত সাগরে প্রবেশের জন্য একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, যার সঙ্গে সেই অস্থিতিশীল অথচ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিও জড়িত।
এই সিদ্ধান্তটি বোঝার জন্য লোহিত সাগর অঞ্চলের কৌশলগত ভূগোল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুয়েজ খালের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরকে বাব আল-মান্দেবের মধ্য দিয়ে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে, এই করিডোরটি বিশ্ব বাণিজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিচালনা করে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইজরায়েলি জাহাজের উপর হুতি হামলার ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা ইজরায়েলকে এই অঞ্চলে সামুদ্রিক নজরদারি সক্ষমতা এবং অগ্রবর্তী অবস্থান অর্জনে বাধ্য করেছে। এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত সোমালিল্যান্ডের বারবেরা বন্দর একটি মূল্যবান সুবিধাজনক অবস্থান প্রদান করে। সুতরাং ইজরায়েলি স্বীকৃতিকে লোহিত সাগরে প্রবেশের জন্য একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, যার সঙ্গে সেই অস্থিতিশীল অথচ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিও জড়িত।
এই স্বার্থের যুক্তি কেবল ইজরায়েলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইরিত্রিয়ার স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘকাল ধরে স্থলবেষ্টিত ইথিওপিয়াও সক্রিয় ভাবে বিকল্প সমুদ্রপথের সন্ধান করেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে আদ্দিস আবাবা সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করে, যেখানে বন্দর ব্যবহারের সুযোগের বিনিময়ে স্বীকৃতির প্রস্তাব দেওয়া হয়। যদিও ইথিওপিয়া এর পর থেকে সতর্কতা অবলম্বন করেছে — সম্ভবত আফ্রিকান ইউনিয়নের মতো আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলির চাপে — তবে, এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য যথেষ্ট স্পষ্ট: জিবুতির উপর নির্ভরতা কমানো, যার মাধ্যমে এটি বর্তমানে তার সামুদ্রিক বাণিজ্যের সিংহভাগ পরিচালনা করে। বারবেরা করিডোরটি সোমালিল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের প্রতি কোনও আদর্শগত অঙ্গীকার নয়, বরং এটি একটি কাঠামোগত অর্থনৈতিক দুর্বলতার বাস্তবসম্মত সমাধান।
এর জবাবে জিবুতি এই ধরনের পদক্ষেপগুলিকে আঞ্চলিক ব্যবস্থার অস্থিতিশীল লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। কিন্তু এই অবস্থানের নেপথ্যেও বস্তুগত বিবেচনার সমান ভূমিকা রয়েছে। জিবুতির উপর ইথিওপিয়ার নির্ভরতা থেকে বছরে শত শত কোটি ডলার রাজস্ব আসে, ফলে বারবেরার দিকে যে কোনও পরিবর্তনই একটি সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতি। ইন্টারগভর্নমেন্টাল অথরিটি অন ডেভেলপমেন্ট-এর (আইজিএডি) মধ্যে তার কূটনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জিবুতি স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ভাষায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।
বাস্তববাদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, সোমালিয়ার এই অবস্থান রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব এবং শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার ভিত্তি হিসেবে ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষার মৌলিক স্বার্থকেই প্রতিফলিত করে। সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিলে তা কেবল সোমালি রাষ্ট্রকেই খণ্ডিত করবে না, বরং এর কূটনৈতিক অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ বৈধতাকেও দুর্বল করে দেবে।
সোমালিয়ার প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশিত ভাবেই তীব্র হয়েছে। মোগাদিশু ইজরায়েলের এই স্বীকৃতিকে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছে এবং রাষ্ট্রপুঞ্জ (ইউএন) ও অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশন-এর (ওআইসি) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির কাছে সমর্থনের জন্য আবেদন জানিয়েছে। এই আবেদনগুলি আন্তর্জাতিক আইনের ভাষায় করা হয়েছে, যেখানে সীমান্তের পবিত্রতা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী দৃষ্টান্তের বিপদের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তববাদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, সোমালিয়ার এই অবস্থান রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব এবং শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার ভিত্তি হিসেবে ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষার মৌলিক স্বার্থকেই প্রতিফলিত করে। সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিলে তা কেবল সোমালি রাষ্ট্রকেই খণ্ডিত করবে না, বরং এর কূটনৈতিক অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ বৈধতাকেও দুর্বল করে দেবে।
অন্য আঞ্চলিক ও বহিরাগত পক্ষগুলিও আদর্শিক বাগাড়ম্বরের আড়ালে একই ভাবে কৌশলগত হিসেব-নিকেশ প্রদর্শন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, মিশর সোমালিল্যান্ডের প্রতি ইথিওপিয়ার উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে এবং এই বিষয়টিকে গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁস ড্যাম (জিইআরডি) নিয়ে আদ্দিস আবাবার সঙ্গে তাদের বৃহত্তর প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে যুক্ত করেছে। সোমালিয়ার অবস্থানকে সমর্থন করে এবং এই অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা গভীরতর করার মাধ্যমে মিশর ইথিওপিয়ার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে সীমিত করতে চায়। তুরস্ক - যা সোমালিয়ায় সামরিক, অবকাঠামোগত এবং মানবিক দিক-সহ একটি ব্যাপক উপস্থিতি গড়ে তুলেছে - তারাও মোগাদিশুর দাবিকে সমর্থন করে। আঙ্কারার সম্পৃক্ততাকে প্রায়শই সংহতি ও উন্নয়নের নিরিখে বর্ণনা করা হয়, কিন্তু এটি একই সঙ্গে সোমালিয়ার রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে তুরস্কের অবস্থানকে সুদৃঢ় করে, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিশ্চিত হয়।
এমনকি বহুপাক্ষিক প্রতিক্রিয়াগুলিও একই ধরনের চিত্র তুলে ধরে। আফ্রিকান ইউনিয়ন ইজরায়েলের স্বীকৃতিকে ‘বাতিল ও অকার্যকর’ বলে ঘোষণা করেছে, যা ঔপনিবেশিক আমলের সীমান্তকে সম্মান করার তাদের দীর্ঘস্থায়ী নীতিকে পুনর্ব্যক্ত করে। যদিও এই অবস্থানকে মহাদেশীয় শৃঙ্খলার প্রতিরক্ষা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তবে এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে অস্থিতিশীল করতে পারে, এমন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সংস্থাটির প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকেও প্রতিফলিত করে। এই অর্থে দেখলে, আঞ্চলিক অখণ্ডতার নীতিটি একটি সর্বজনীন আদর্শ হিসেবে কম এবং ক্ষমতাসীন সরকারগুলির স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি স্থিতিশীল ব্যবস্থা হিসেবে বেশি কাজ করে।
সর্বোপরি, সোমালিল্যান্ডের ঘটনাটি স্বীকৃতির পরিবর্তনশীলতাকেই উন্মোচিত করে। এটি কোনও চূড়ান্ত বা একতরফা ঘোষণার পরিবর্তে একটি ক্রমবর্ধমান প্রক্রিয়া, যা কূটনৈতিক আদান-প্রদান, অর্থনৈতিক চুক্তি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে অগ্রসর হয়।
সর্বোপরি, সোমালিল্যান্ডের ঘটনাটি স্বীকৃতির পরিবর্তনশীলতাকেই উন্মোচিত করে। এটি কোনও চূড়ান্ত বা একতরফা ঘোষণার পরিবর্তে একটি ক্রমবর্ধমান প্রক্রিয়া, যা কূটনৈতিক আদান-প্রদান, অর্থনৈতিক চুক্তি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে অগ্রসর হয়। ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ এবং সোমালিল্যান্ডের পাল্টা পদক্ষেপ প্রতীকী সমর্থন থেকে কার্যকরী সম্পৃক্ততার দিকে একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এই ধীরগতিই তুলে ধরে যে, সর্বজনীন স্বীকৃতি অর্জন না করেও কী ভাবে নির্দিষ্ট স্বার্থ পূরণের জন্য স্বীকৃতিকে কার্যকর করা যেতে পারে।
পরিশেষে, সোমালিল্যান্ডের ঘটনাটি বাস্তববাদের একটি কেন্দ্রীয় অন্তর্দৃষ্টিকে আরও শক্তিশালী করে: রাষ্ট্রগুলি যতই দাবি করুক না কেন, তারা কেবল মূল্যবোধের ভিত্তিতে কাজ করে না। বরং, মূল্যবোধকে প্রায়শই অন্যান্য বিবেচনার দ্বারা চালিত সিদ্ধান্তগুলিকে বৈধতা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় — বিশেষ করে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ক্ষমতা প্রদর্শন। আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার কথাই বলা হোক না কেন, রাষ্ট্রগুলি একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে সেই নীতিটিই বেছে নেয়, যা তাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সবচেয়ে ভাল ভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
স্বীকৃতির রাজনীতি নিছক একটি নৈতিক অনুশীলন না হয়ে, ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রভাব সুদৃঢ় করার একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়। রীতিনীতির ভাষা কেবল এই গভীরতর ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাগুলিকে আড়াল করার কাজ করে।
এই প্রেক্ষাপটে, সোমালিল্যান্ড একটি বিচ্ছিন্ন বিবাদ নয়, বরং সমসাময়িক আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি। এই সব কিছুই দর্শায় যে, সার্বভৌমত্ব কোনও স্থির নীতি নয়, বরং এটি একটি নমনীয় ধারণা, যা অন্যান্য রাষ্ট্রের কৌশলগত হিসেব-নিকেশ দ্বারা গঠিত ও পুনর্গঠিত হয়। স্বীকৃতির রাজনীতি নিছক একটি নৈতিক অনুশীলন না হয়ে, ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রভাব সুদৃঢ় করার একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়। রীতিনীতির ভাষা কেবল এই গভীরতর ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাগুলিকে আড়াল করার কাজ করে।
সমীর ভট্টাচার্য অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr. Samir Bhattacharya is an Associate Fellow at Observer Research Foundation (ORF), where he works on geopolitics with particular reference to Africa in the changing ...
Read More +