Expert Speak Raisina Debates
Published on Mar 23, 2026 Updated 1 Hours ago

গাজা সঙ্কটের পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় দেশগুলি প্রতিরক্ষা বাণিজ্য কমিয়ে আনার ফলে ইজরায়েলের অস্ত্র রফতানি ক্রমবর্ধমান ভাবে এশীয় বাজারের দিকে ঝুঁকছে।

ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা রফতানি এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে

কয়েক দশক ধরে অস্ত্র রফতানি ইজরায়েলের বৈদেশিক নীতির লক্ষ্য অর্জনের জন্য এবং রাজস্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করে আসছে। আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও ইজরায়েল বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র রফতানিকারকদের অন্যতম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ২০২০-২০২৪ সময়কালে এটি বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম অস্ত্র রফতানিকারক হয়েছেযা মোট বৈশ্বিক অস্ত্র রফতানির . শতাংশ। ২০২৪ সালে এর অস্ত্র রফতানি ১৪. বিলিয়ন মার্কিন ডলারে আর একটি রেকর্ড স্থাপন করেযা ২০২৩ সালে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল। ইজরায়েলের তৈরি প্রতিরক্ষা সামগ্রী ইউরোপ, লাতিন আমেরিকাআফ্রিকা এবং এশিয়া জুড়ে জনপ্রিয়।

২০২৪ সালে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাক্ষেপণাস্ত্র  রকেট তার অস্ত্র রফতানির ৪৭ শতাংশের জন্য দায়ী ছিলযেখানে যানবাহন শতাংশউপগ্রহ  সম্পর্কিত সরঞ্জাম শতাংশরাডার  ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা শতাংশএবং মানবচালিত বিমান  এভিওনিক্স ছিল  শতাংশ। এই শ্রেণির অস্ত্র সংগ্রহ ইজরায়েলি ক্লায়েন্টদের সামনে সামরিক-নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলিকে তুলে ধরেযার মধ্যে ভারতও অন্যতম বৃহত্তম আমদানিকারক। এই প্রবন্ধে গাজা সঙ্কটের পর ইজরায়েলের অস্ত্র রফতানির উদীয়মান গতিশীলতা মূল্যায়ন করা হয়েছেযার ফলে ইউরোপীয় ক্রেতারা ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের প্রতিরক্ষা বাণিজ্য কমিয়ে দিয়েছে এবং একই সঙ্গে এশীয় বাজারগুলিতেবিশেষ করে ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করেছে।

ইউরোপ ও এশিয়ায় অস্ত্র রফতানি

ইজরায়েলের জন্য স্থিতিশীল অস্ত্র রফতানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এর প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশীয় ভাবে তৈরি অস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করেতবে এর বেশির ভাগই বিশ্বব্যাপী রফতানি করা হয়যা প্রতিরক্ষা গবেষণা উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। অস্ত্র ব্যবসায় ব্যাঘাত তার প্রতিরক্ষা শিল্পের স্থায়িত্বকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেযার মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন  বেসরকারি উভয় সংস্থাই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলস্বরূপইজরায়েলি সরকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা  তার আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে অংশীদারিত্বের প্রচারকে অগ্রাধিকার দেয়। এর একটি সর্বোত্তম উদাহরণ হল ভারত-ইজরায়েল প্রতিরক্ষা সম্পর্কযা আর গোপন রাখা হয়নি ১৯৯০ এবং ২০০০-এর দশকে এই সহযোগিতার বিষয়ে জনসাধারণের আলোচনা ব্যাপক ভাবে নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত হত। অন্য এশীয় অংশীদারদের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা স্পষ্টযেখানে সামরিক-নিরাপত্তা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছে। গত বছর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলই ইজরায়েলি অস্ত্র রফতানির ২৩ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল।

পূর্ববর্তী ধরনগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইজরায়েলের অস্ত্র স্থানান্তর মানবাধিকার সংস্থাবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং মাঝে মাঝে ক্ষমতাসীন সরকারগুলির কাছ থেকে কঠোর তদন্তের মুখোমুখি হয়। গাজা সঙ্কটের পরে এই তদন্ত আরও তীব্রতর হয়। কয়েকটি ইউরোপীয়  এশীয় দেশ ইজরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রেখে চললেও তাদের সামরিক অভিযানের প্রতি স্পষ্ট অসম্মতি প্রকাশ করেছে। উদাহরণস্বরূপস্পেন এবং জার্মানি - উভয়ই ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা আমদানির গুরুত্বপূর্ণ উৎস - গাজায় ইজরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের নিন্দা প্রকাশের জন্য ইজরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি সীমাবদ্ধতা বা স্থগিত করার জন্য প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে। ইতালি ‘সমস্ত নতুন রফতানির শংসাপত্র স্থগিত রাখার ঘোষণা করেছে এবং অক্টোবরের পরে স্বাক্ষরিত সমস্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি।’ এই বিধিনিষেধমূলক নীতিগুলি নির্বাচিত দেশগুলির দ্বারা ব্যবহৃত একটি জবরদস্তিমূলক কূটনৈতিক হাতিয়ারের প্রতিনিধিত্ব করেযা এই ধরনের সংঘাতের সময় একটি বিস্তৃত শান্তি মীমাংসা বা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আলোচনা করতে বাধ্য করে। তা সত্ত্বেওইউরোপ ইজরায়েলের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্যযা ২০২৪ সালে মোট রফতানির ৫৪ শতাংশকে দর্শায়।

কিছু ইউরোপীয় অংশীদার ইজরায়েল থেকে প্রতিরক্ষা আমদানি কমিয়ে আনার ফলে বৃহত্তর এশীয় অঞ্চল ইজরায়েলি অস্ত্রের জন্য ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যস্থল হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। গত বছর ইজরায়েলের মোট প্রতিরক্ষা রফতানির ২৩ শতাংশ ছিল এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ক্রেতারাযা ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উন্নয়নের কারণে অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত গবেষণায় ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অস্ত্র সংগ্রহের বাইরেভারতভিয়েতনাম, তাইল্যান্ডফিলিপিন্সসিঙ্গাপুরমালয়েশিয়াইন্দোনেশিয়াজাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া-সহ (পূর্ব এশিয়ায়) এশীয় দেশগুলি প্রযুক্তি স্থানান্তর ব্যবস্থাযৌথ উদ্যোগ এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত উৎপাদন চুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্প অংশীদারিত্বে বিনিয়োগ করছেযা দেশীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতার দিকে কৌশলগত পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটায়।

এই দেশগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্ররাশিয়া এবং চিনের মতো চিরাচরিত অংশীদারদের সঙ্গে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইজরায়েল স্থিতিশীল ভাবে এগিয়ে চলেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা পণ্যের বৃহত্তম আমদানিকারক হিসেবে ভারত থেকেছে ছাড়া ভিয়েতনামফিলিপিন্স, তাইল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুরে ইজরায়েলি সিস্টেম  প্রযুক্তি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এই দেশগুলিতে অস্ত্র বিক্রি কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা দ্বারা পরিচালিত হয়যার মধ্যে রয়েছে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব সংরক্ষণ, চিনের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উপস্থিতি হ্রাস করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা। রাজনৈতিক শর্ত ছাড়াই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের জন্য ইজরায়েলের প্রস্তুতি - সরবরাহকারীদের বৈচিত্র্যময় করার এই দেশগুলির আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিলিত হয়ে - অস্ত্র স্থানান্তর এবং বৃহত্তর সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব-সহ ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে উৎসাহিত করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রধান ইউরোপীয় ক্লায়েন্টরা ইজরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য হ্রাস করার সঙ্গে সঙ্গে এশীয় অংশীদারদের সঙ্গেবিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া  ভারতে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি  ক্রয় চুক্তি আবির্ভূত হয়। ২০২৪ সালের শেষের দিকে ইজরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (আইএসিসামরিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের যৌথ উন্নয়নের জন্য ভিয়েতনামি সংস্থাগুলির সঙ্গে জড়িত ছিল। জানা গিয়েছে যেদুই দেশ ইজরায়েল থেকে দুটি উন্নত নজরদারি উপগ্রহের জন্য প্রায় ৬৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছেযা ভিয়েতনামের গোয়েন্দা ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং চিনা দৃঢ়তা পর্যবেক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সরবরাহ করবে। এই ধরনের যৌথ উদ্যোগ হানোইয়ের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন জোরদার করার প্রচেষ্টাকেও সমর্থন করে।

২০২৩ সালের নভেম্বরে তাইল্যান্ডের ডিফেন্স টেকনোলজি ইনস্টিটিউট (ডিটিআইএবং ইজরায়েলের রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেম ইজরায়েল-নির্মিত গাইডেড মিসাইল সিস্টেমের দুটি রূপ স্থানীয় ভাবে তৈরি করার জন্য একটি যৌথ-উৎপাদন চুক্তি স্বাক্ষর করে: স্পাইক নন-লাইন-অফ-সাইট (এনএলওএসএবং স্পাইক এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ (এআই) এই চুক্তির স্থায়িত্ব তাইল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনীর ক্রয় এবং চুক্তিবদ্ধ প্রতিশ্রুতির উপর নির্ভর করে। গাজা সঙ্কটের পর ইজরায়েল-সিঙ্গাপুর অস্ত্র ব্যবসার বিরুদ্ধে কিছু সিঙ্গাপুরবাসীর প্রতিবাদ সত্ত্বেও সিঙ্গাপুর গত বছরের নভেম্বর মাসে হার্মিস ৪৫০-এর পরিবর্তে ইজরায়েলের এলবিট সিস্টেমসের হার্মিস ৯০০ মনুষ্যবিহীন বিমানবাহী যান (ইউএভিবেছে নেওয়ার ঘোষণা করেযা সিঙ্গাপুর সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) ২০২৪ রূপান্তরের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

যাই হোক২০২৫ সালে ফিলিপিন্স ইজরায়েলের সঙ্গে নতুন অস্ত্র চুক্তি স্থগিত করার পর একটি উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ চিন সাগরে ফিলিপিন্সের সমুদ্রসীমাকে স্বীকৃতি দিতে ইজরায়েল অস্বীকার করে এবং চলমান গাজা সঙ্কটের কারণে এই পরিবর্তনটি ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইজরায়েলি অস্ত্রের একটি প্রধান ক্লায়েন্ট হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা ইজরায়েলের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ধাক্কার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই বিষয়গুলির সংবেদনশীলতার পরিপ্রেক্ষিতেইজরায়েলকে কূটনৈতিক বুদ্ধিমত্তার হাত ধরেই ফিলিপিন্সের সঙ্গে তার সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে। সাশ্রয়ী মূল্যের -পশ্চিমি অস্ত্র ব্যবস্থার সন্ধানে ফিলিপিন্সের মতো ক্লায়েন্টকে হারানো কৌশলগত এবং বাণিজ্যিক ভাবে বোকামি হবে।

ভারত-ইজরায়েল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

দক্ষিণ এশিয়ায় ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের অস্ত্র বাণিজ্য ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তি’ এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিকে থাকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ২০২৪ সালে তাদের অস্ত্র বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইজরায়েল ভারতের মোট অস্ত্র আমদানির ১৩ শতাংশ সরবরাহ করেছিলযেখানে ভারত ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা রফতানির প্রায় ৩৪ শতাংশ জুড়ে ছিল। ভারতের আমদানি মূলত পাকিস্তান এবং চিনের সঙ্গে উত্তেজনার কারণে ঘটেছে। ক্রমবর্ধমান দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন সত্ত্বেও ইজরায়েলের মতো অংশীদাররা - যারা ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তির বিকাশ ঘটায়ভারতের প্রতিরক্ষা কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৫ সালের  নভেম্বর ১৭তম যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত ভারত-ইজরায়েল সমঝোতাপত্রটি  তাৎপর্যপূর্ণ। যৌথ ভাবে উৎপাদন  উন্নয়নের ঊর্ধ্বে উঠে উভয় দেশ প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতাপ্রশিক্ষণপ্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতা আরও গভীর করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত বছরের মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের অপারেশন সিঁদুরের সময় যৌথ ভাবে তৈরি বরাক- ক্ষেপণাস্ত্র এবং হার্পি ড্রোনের মতো যৌথ ভাবে তৈরি অস্ত্র ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রদর্শিত হয়েছিল। যৌথ উদ্যোগ হিসেবে ইজরায়েল ওয়েপন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (আইডব্লিউআই) এবং ভারতের আদানি গ্রুপ মেক-ইন-ইন্ডিয়া উদ্যোগের অধীনে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য ,২৫,০০০ ক্লোজ-কোয়ার্টার ব্যাটেল (সিকিউবি) কার্বাইন অ্যাসল্ট রাইফেল তৈরির জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। প্রতিবেদনে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যেভারত ইজরায়েল-নির্মিত এয়ার লোরা ক্ষেপণাস্ত্র (আইএআই দ্বারা উত্পাদিত) এবং রাফায়েলের আইস ব্রেকার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেযার মধ্যে যৌথ ভাবে উৎপাদন ব্যবস্থা থাকবে। সামরিক স্থাপনাক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাবিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রতিপক্ষের স্থল সমুদ্র-কেন্দ্রিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় এই ব্যবস্থাগুলি ভারতের জন্য কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনাপ্রবাহ ভারত-ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গভীরতা  দৃঢ়তা এবং ইজরায়েলের অস্ত্র রফতানির জন্য দক্ষিণ এশীয় বাজারের কৌশলগত মূল্যকেই তুলে ধরে।

ইজরায়েলের অস্ত্র রফতানির জন্য ইউরোপীয় বাজার গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও এশীয় দেশগুলি - বিশেষ করে ভারত এবং উপরে আলোচিত দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলি - ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মধ্যে প্রতিরক্ষা উপকরণের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে তুলনামূলক সুযোগ প্রদান করে। এই দেশগুলির বেশির ভাগের ডিফেন্স ইনডেজিনাইজেশন প্রোগ্রাম এখন শুরু হয়েছে এবং বিলম্বিত সরবরাহের সম্মুখীন হচ্ছে তাদের সরকারগুলি কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরশীল থাকবে। অতএব ইজরায়েলের আঞ্চলিক শক্তিদের সঙ্গে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিতযার ফলে বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রূপান্তরিত হবে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বৃহত্তর গতি সঞ্চারিত হবে।

২০০০-এর দশকের শেষের দিকে প্রাইম মিনিস্টার বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দ্বারা ত্বরান্বিত ইজরায়েলের ‘এশিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ানীতিকে (পিভট টু এশিয়াঅবশ্যই সুযোগসন্ধানী সম্পৃক্ততা থেকে কৌশলগত প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের দিকে স্থানান্তরিত হতে হবে। এশিয়ার প্রতিরক্ষা বাজার বৃদ্ধি  আধুনিকীকরণ দ্রুততর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইজরায়েলের উচিত এশীয় অংশীদারদের স্বদেশীকরণের লক্ষ্যগুলিকে সমর্থন করার জন্য সরাসরি বিক্রয়ের চেয়ে প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং যৌথ উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া। পরিশেষেইজরায়েলের প্রতিরক্ষা রফতানির স্থায়িত্ব ক্রমবর্ধমান ভাবে ইউরোপীয় বাজারগুলিকে এশীয় বাজার দ্বারা প্রতিস্থাপনের উপর কম এবং স্থিতিশীলপারস্পরিক উপকারী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার উপর বেশি নির্ভর করে।

 


আলভিতে নিংথৌজাম ভারতের পুনের সিম্বায়োসিস ইন্টারন্যাশনালের (ডিমড ইউনিভার্সিটি) সিম্বায়োসিস স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ডেপুটি ডিরেক্টর এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.