Author : Prateek Tripathi

Published on Sep 06, 2025 Updated 0 Hours ago

অপারেশন সিন্দুরের পর পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের জন্য ভারতের নতুন করে অনুসন্ধান শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে আমেরিকার এফ-৩৫ কেনার প্রস্তাব গ্রহণ করতে ভারত প্রলুব্ধ হতে পারে। তবে, বিমানের সম্ভাব্য ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত অনেক চ্যালেঞ্জের কারণে, এটি দেশের জন্য আদর্শ পছন্দ নয়।

এফ-৩৫ কি ভারতের জন্য ভাল পছন্দ?

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওয়াশিংটন সফরের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতে এফ-৩৫ বিক্রির ধারণাটি উত্থাপন করেছিলেন, এবং সম্ভবত একটি আনুষ্ঠানিক বিক্রয় প্রস্তাবও আসতে চলেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক সংঘর্ষ এবং অপারেশন সিন্দুর ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) জন্য রাফালের মতো উন্নত যুদ্ধবিমান রাখার গুরুত্বকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে, এবং তা ভবিষ্যতের যে কোনও সংঘাতের পরিস্থিতিতে বিমানের অগ্রগতি অব্যাহত রাখা অপরিহার্য করে তুলেছে। চিনের জে-১০ এবং সম্প্রতি জে-৩৫ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের মতো উন্নত বিমান পাকিস্তানে সরবরাহের প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর অস্ত্রাগারের ভবিষ্যৎ এবং এফ-৩৫ সেরা পছন্দ কি না তা নির্ধারণ করতে হবে। সর্বোত্তম পদক্ষেপ করার জন্য, এফ-৩৫-‌এর ইতিহাস এবং প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলির একটি সতর্ক পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

এফ-৩৫ লাইটনিং ২-‌এর একটি সংক্ষিপ্তসার

১৯৯০-এর দশকে শুরু হওয়া এফ-৩৫ লাইটনিং ২ মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের (ডিওডি)
জয়েন্ট স্ট্রাইক ফাইটার (জেএসএফ) প্রোগ্রামের অধীনে তৈরি করা হয়েছিল। ডিওডি ২০০১ সালের অক্টোবরে লকহিড মার্টিনের বিমানের নকশা নির্বাচন করে, এবং ফলস্বরূপ জেএসএফ প্রোগ্রামটি সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট ও প্রদর্শনের পর্যায়ে প্রবেশ করে। এফ-২২ র‍্যাপ্টারের পাশাপাশি এফ-৩৫-‌কে পঞ্চম প্রজন্মের প্রথম স্ট্রাইক-ফাইটার বিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার উন্নত স্টেলথ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেমন স্টেলথ আবরণ, একটি অভ্যন্তরীণ ওয়েপনস বে এবং সুপারক্রুজ ক্ষমতা (আফটারবার্নার ছাড়াই সুপারসনিক গতিতে উড়ে যাওয়া)। এটি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি এফ-১৩৫ ইঞ্জিন দ্বারা চালিত, যা ৪০,০০০ পাউন্ডেরও বেশি থ্রাস্ট সরবরাহ করতে পারে এবং চতুর্থ প্রজন্মের ইঞ্জিনের চেয়েও বেশি স্টেলথ প্রযুক্তি ধারণ করে। এফ-৩৫ উড়তে পারে  ম্যাক ১.৬ পর্যন্ত গতিতে এবং এর যুদ্ধ ব্যাসার্ধ ৪৫০ থেকে ৬০০ নটিক্যাল মাইল। এর তিনটি ভেরিয়েন্ট আছে — এফ-৩৫ এ, এফ-৩৫ বি, এবং এফ-৩৫ সি — যার সবকটিরই ইঞ্জিন এবং স্টেলথ বৈশিষ্ট্য একই, আর প্রধান পার্থক্য হল উড়ান ও অবতরণের ধরন, জ্বালানি ক্ষমতা ও ক্যারিয়ারের উপযুক্ততা।

চিত্র ১: এফ-৩৫ ভেরিয়েন্ট
Is The F 35 A Good Choice For India
সূত্র:
কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস

 

এফ-৩৫

এফ-৩৫ বি

এফ-৩৫ সি

প্রচলিত টেক-অফ এবং ল্যান্ডিং (সিটিওএল) ক্ষমতা সহ মার্কিন বিমান বাহিনীর (ইউএসএএফ) জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি একটি দ্বৈত-সক্ষম বিমান (ডিসিএ), যার অর্থ এটি প্রচলিত এবং পারমাণবিক অস্ত্র উভয়ই বহন করতে পারে।

মূলত মার্কিন মেরিন কোর (অইএসএমসি) এবং মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য তৈরি, এটি স্বল্প সময়ে টেক-অফ এবং উল্লম্ব ল্যান্ডিং (এসটিওভিএল) ক্ষমতা সম্পন্ন।

বিমানবাহী বাহক ভেরিয়েন্ট

এফ-৩৫ হল ডিওডি-র এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী এবং ব্যয়বহুল ক্রয় প্রচেষ্টা, ২,৪৭০টি বিমান এবং ইঞ্জিনের উন্নয়ন ও উৎপাদনের জন্য যার মোট ব্যয় আনুমানিক ৪৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি, যদিও অনুমান করা হয় যে এই প্রোগ্রামের মোট উন্নয়ন ব্যয় ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এফ-২২-এর পাশাপাশি, এফ-৩৫ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ভিত্তিপ্রস্তর গঠন করে কারণ উভয় বিমান একসাথে একটি "উচ্চ-নিম্ন মিশ্রণ" তৈরি করে, যা বিমান শ্রেষ্ঠত্বের যোদ্ধা (এফ-২২) এবং আরও পরিমিত ডিসিএ (এফ-৩৫)-‌র সংমিশ্রণ। তার উপর, ডিওডি ২০৪০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এফ-৩৫ সংগ্রহ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।


এফ-৩৫-এর সমালোচনা

উন্নয়ন এবং আধুনিকীকরণ পর্যায়ে এফ-৩৫ বেশ কয়েকটি বাধার সম্মুখীন হয়েছে, যার ফলে বারবার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে, এটি
৮৭৩টি অমীমাংসিত ত্রুটি নিয়ে প্রাথমিক অপারেশনাল পরীক্ষা এবং মূল্যায়ন পর্যায়ে প্রবেশ করে, যার মধ্যে ১৩টিকে ক্যাটাগরি ১ — অর্থাৎ নিরাপত্তা এবং/অথবা যুদ্ধ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে এমন "অবশ্যই সমাধান করা উচিত" আইটেম হিসেবে — শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল। যদিও ডিওডি ২০২৪ সালের মার্চ মাসে পূর্ণ-হারে উৎপাদনের জন্য বিমানটিকে অনুমোদন দেয়, তবুও এফ-৩৫ প্রোগ্রামটি এখনও  বেশ কয়েকটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সম্মুখীন।


ব্লক ৪ এবং টিআর-৩

এফ-৩৫ প্রোগ্রামের মুখোমুখি হওয়া প্রধান সমস্যাগুলির মধ্যে একটি হল "
ব্লক ৪" আধুনিকীকরণ পরিকল্পনা, যা ২০১৭ সালের মার্চ মাসে অনুমোদিত হয়েছিল। এর মধ্যে একটি উন্নত সেন্সর স্যুট এবং উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার মতো হার্ডওয়্যার আপডেট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই পরিকল্পনায় টেকনিক্যাল রিফ্রেশ ৩ (টিআর-৩) সফটওয়্যার আপডেট সাবপ্রোগ্রামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ৫০টিরও বেশি সফটওয়্যার আপগ্রেড রয়েছে। এর অর্থ, আংশিকভাবে, ব্লক ৪ ক্ষমতা-‌সক্ষম করার জন্য প্রক্রিয়াকরণ শক্তি প্রদান করা। ব্লক ৪ আপগ্রেডগুলিতে একাধিক বিলম্ব হয়েছে, এবং কমপক্ষে তিনটি পৃথক সময়ে বাজেটের চেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে। প্রোগ্রাম বাজেট ২০১৮ সালে প্রাথমিক ১০.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৩ সালের মধ্যে ১৬.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। জেএসএফ প্রোগ্রাম পরিচালনাকারী জয়েন্ট প্রোগ্রাম অফিস (জেপিও) জানিয়েছে যে, অনেক ব্লক ৪ ক্ষমতা ২০৩০-‌এর দশকের আগে উপলব্ধ হবে না। একইভাবে, টিআর-৩-‌ও বিলম্বিত হয়েছে, যার ফলে ইউএসএএফ ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এফ-৩৫ এ বিমানের ডেলিভারি সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীকালে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে, ইউএসএএফ টিআর-৩-‌এর সীমিত সংস্করণ সহ এফ-৩৫ বিমানের ডেলিভারি পুনরায় গ্রহণ শুরু করে। আপগ্রেড সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এটি প্রাথমিকভাবে প্রতি বিমানের জন্য ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান স্থগিত রেখেছিল; পরবর্তীতে এই পরিমাণ প্রতি বিমানের জন্য ১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে নামিয়ে আনা হয়



এফ-৩৫ রক্ষণাবেক্ষণ বৃদ্ধির জন্য অটোনমিক লজিস্টিকস ইনফরমেশন সিস্টেম (এএলআইএস) নামক একটি ডেটা-ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করে। তবে, এর পুরানো সফটওয়্যার আর্কিটেকচারের কারণে, সিস্টেমটি খুব বেশি দক্ষ নয় বলে জানা গিয়েছে। এর প্রায়শই ম্যানুয়াল ইনপুট প্রয়োজন হয় এবং এটি সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিতেও থাকে।



ইঞ্জিন আপগ্রেড

ব্লক ৪ এবং টিআর-৩ আপগ্রেডিংয়ের জন্য এফ-১৩৫ ইঞ্জিনের পাওয়ার এবং কুলিং আপগ্রেড করা প্রয়োজন। জেনারেল ইলেকট্রিক এবং প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি উভয়ই ২০১৬ সালে
অ্যাডাপ্টিভ ইঞ্জিন ট্রানজিশন প্রোগ্রামের অধীনে এফ-৩৫-‌এর জন্য উন্নত ইঞ্জিন তৈরি করতে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বরাত পেলেও এক্সএ১০০ ও এক্সএ১০১ উভয় ইঞ্জিনই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, সম্ভবত অতিরিক্ত ইন্টিগ্রেশন খরচের কারণে। ডিওডি পরিবর্তে বিদ্যমান এফ-১৩৫ ইঞ্জিনের জন্য একটি ইঞ্জিন কোর আপগ্রেড প্রোগ্রাম বেছে নিয়েছে, যা ২০৩২ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


অটোনমিক লজিস্টিকস ইনফরমেশন সিস্টেম (এএলআইএস)

এফ-৩৫ রক্ষণাবেক্ষণ বৃদ্ধির জন্য অটোনমিক লজিস্টিকস ইনফরমেশন সিস্টেম (এএলআইএস) নামক একটি ডেটা-ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করে। তবে, এর
পুরনো সফটওয়্যার আর্কিটেকচারের কারণে, সিস্টেমটি খুব বেশি দক্ষ নয় বলে জানা গিয়েছে। এর প্রায়শই ম্যানুয়াল ইনপুট প্রয়োজন হয় এবং এটি সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিতেও থাকে। ২০২০ সালে ডিওডি অপারেশনাল ডেটা ইন্টিগ্রেটেড নেটওয়ার্ক (ওডিন) নামক একটি ক্লাউড-ভিত্তিক সিস্টেমে রূপান্তরের প্রস্তাব করেছিল, যা টিআর-৩ আপগ্রেডের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এএলআইএস-থেকে-ওডিন রূপান্তর কর্মসূচি বর্তমানে চলছে।


উপরোক্ত সমস্যাগুলি এফ-৩৫ এর কর্মক্ষমতা লক্ষ্য অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে প্রাপ্যতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালে, ইউএসএএফ-‌এর এফ-৩৫ এ
বহরের মিশন-সক্ষম হার ছিল ৫১.৯ শতাংশ,, যা ন্যূনতম লক্ষ্যমাত্রার ৮০ শতাংশের চেয়ে অনেক কম। তাছাড়া, সম্প্রতি কিছু জল্পনা চলছে যে এফ-৩৫ এই মুহূর্তে যুদ্ধ-সক্ষমও নয়। উপরন্তু, ২০২০ সাল থেকে এফ-৩৫ একাধিক দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত — কিছু ছোটখাটো, তবে কিছু উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কারণ হয়েছে। যদিও দুর্ঘটনা যে কোনও বিমানের উন্নয়ন চক্রের অংশ, এই ঘটনাগুলি এফ-৩৫ প্রোগ্রামকে জর্জরিত করে এমন কিছু পদ্ধতিগত সমস্যা তুলে ধরে।


যদিও লকহিড মার্টিন সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাতের জন্য
 কোভিড-১৯ অতিমারিকে দায়ী করে দাবি করেছে যে এই সমস্যাগুলির বেশ কয়েকটির পিছনে রয়েছে অতিমারি। তবে প্রতিরক্ষা জায়ান্টটি ২০২৩ সালের মধ্যেও তার সরবরাহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। এটি আরও জানিয়েছে যে কোম্পানিটি  আর ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেক্সট জেনারেশন এয়ার ডমিন্যান্স প্রোগ্রামে জড়িত নয়, পরিবর্তে ডিওডি বোয়িংয়ের এফ-৪৭ বিমান বেছে নিয়েছে। ফলস্বরূপ, সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলি অন্তত আংশিকভাবে প্রযুক্তিগত উদ্বেগের কারণে এফ-৩৫ ক্রয় থেকে বেরিয়ে আসার কথা বিবেচনা করছে।

 
রপ্তানি সমস্যা

জেএসএফ কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে, মোট
১৯টি মার্কিন-মিত্র দেশে রপ্তানি করা হয়েছে ১,১০০টিরও বেশি এফ-৩৫ বিমান। যদিও সরবরাহের সময়সীমা ঐতিহাসিকভাবে মেনে চলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ক্রমবর্ধমান বিলম্ব হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ব্লক ৪ আপগ্রেড বিলম্বের কারণে ২০২৪ সালে জাপানে ছয়টি এফ-৩৫ বি বিমানের নির্ধারিত ডেলিভারি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বেলজিয়ামে এফ-৩৫ বিমান সরবরাহে একই রকম বিলম্ব দেখা গিয়েছে, যা ইউক্রেনকে প্রতিশ্রুত ৩০টি এফ-১৬ বিমান স্থানান্তর করার ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।



উচ্চ ইউনিট ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ছাড়াও, এফ-৩৫ ন্যাটো আন্তঃকার্য-‌ক্ষমতায়নের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যার ফলে ভারতের জন্য পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা বিশেষভাবে কষ্টকর হবে।


এফ-৩৫ আমদানিকারী দেশগুলির জন্য ক্রমবর্ধমান খরচ আরেকটি উদ্বেগের বিষয়, যেখানে জাপান এবং সম্প্রতি কানাডার মতো দেশগুলি ব্যয়বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ আন্তর্জাতিক অস্ত্র পরিবহণ নিয়ন্ত্রণের মতো নিয়মকানুনগুলি যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সঙ্গেও বিরোধের সৃষ্টি করেছে।
 
এফ-৩৫ কেন ভারতের জন্য উপযুক্ত নয়?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি বিদেশি সামরিক বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে
আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে এফ-৩৫‌এ অফার করার কথা  বিবেচনা করছে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর বহরের জন্য এটি সর্বোত্তম পছন্দ নয়। বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত পঞ্চম প্রজন্মের বিমানগুলির মধ্যে একটি হওয়া সত্ত্বেও, এফ-৩৫ অনেক প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যেমন উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও, ভারতের বিমান ক্রয়ের ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বাধা রয়েছে। উচ্চ ইউনিট ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ছাড়াও, এফ-৩৫ ন্যাটো আন্তঃকার্য-‌ক্ষমতায়নের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যার ফলে ভারতের জন্য পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা বিশেষভাবে কষ্টকর হবে। তা ছাড়া, সফটওয়্যার (এএলআইএস এবং পরবর্তীতে ওডিন) এবং হার্ডওয়্যার (অস্ত্র ব্যবস্থা) রক্ষণাবেক্ষণ এবং আপগ্রেড উভয়ের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর বিমানের সম্পূর্ণ নির্ভরতা সম্ভাব্যভাবে সমস্ত আইএএফ কার্যক্রমকে মার্কিন তদন্ত ও তত্ত্বাবধানের আওতায় নিয়ে আসতে পারে। তার উপর, এফ-৩৫-‌এর সফটওয়্যারটি ক্ল্যাসিফায়েড, যেখানে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ নিজেই লকহিড মার্টিনের সঙ্গে বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকার সংক্রান্ত মামলার মুখোমুখি হচ্ছে


উপসংহার

অপারেশন সিন্দুরের পর, ভারতকে অবশ্যই তার বিমান বহরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে হবে। যদিও সম্প্রতি অনুমোদনপ্রাপ্ত দেশীয়
অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (এএমসিএ) আদর্শ পছন্দ হবে, তবুও দেশীয় ফাইটার তৈরির ক্ষেত্রে ভারতের ইতিহাস অসাধারণ নয়: তেজস লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফটটি সফল হতে ৩০ বছরেরও বেশি সময় লেগেছে, একাধিক বিলম্ব এবং ব্যয় বৃদ্ধির পরে। যদি এএমসিএ প্রোগ্রামটি একই রকম বিলম্বের সম্মুখীন হয়, তাহলে ভারত মূলত রাশিয়ান সুখোই এসইউ-৫৭ বা মার্কিন এফ-৩৫ এর মতো বিদেশী বিকল্পের উপর নির্ভরতা চালিয়ে যেতে বাধ্য হবে। চিন থেকে পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার কেনার জন্য পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টা, এবং ভবিষ্যতের সংঘাতের পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের এই ধরনের বিমানশক্তি সুবিধার আসন্ন বিপদের পরিপ্রেক্ষিতে, ভারত দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটারের অপেক্ষা না-‌করে বিদেশি বিকল্প কিনতে পারে, অবশ্য যদি তা সরবরাহের সময়সীমা পূরণ করে। যদিও উভয় বিকল্পের সঙ্গে তাদের নিজস্ব চ্যালেঞ্জ এবং লেনদেন রয়েছে, উপরোক্ত বিষয়গুলির আলোকে এফ-৩৫ অবশ্যই ভারতের জন্য উপযুক্ত পছন্দ বলে মনে হচ্ছে না।



প্রতীক ত্রিপাঠী অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজির জুনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.