Author : Rachel Rizzo

Expert Speak Raisina Debates
Published on Apr 24, 2026 Updated 0 Hours ago

একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বজায় থাকায় ইউরোপ এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন: জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা, শান্তির রূপরেখা তৈরি করা, এবং বৈশ্বিক বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা।

ইরানের যুদ্ধবিরতি ইউরোপকে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে

গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন-ইউরোপ সম্পর্ক আবারও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোকে একটি “কাগুজে বাঘ” বলে অভিহিত করেছেন, এবং বলেছেন যে তিনি প্রায় ৭৭ বছরের পুরনো এই জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়টি “অবশ্যই” বিবেচনা করছেন। এই ধরনের মন্তব্য নতুন নয়, কিন্তু এবার এগুলির গুরুত্ব একটু বেশি। এর কারণ হল, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে সাহায্য করার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যোগ দিতে ইউরোপের অনিচ্ছা, এবং নির্দিষ্ট কিছু সদস্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার অস্বীকার করার সিদ্ধান্ত।

বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের মতামতের বিপরীতে, এই সিদ্ধান্তগুলিকে বিশ্বাসঘাতকতার কাজ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। বরং, এগুলি হল ইউরোপের প্রতি ওয়াশিংটনের নিজস্ব কার্যকলাপের ফলে সৃষ্ট কৌশলগত সার্বভৌমত্বের সুসংগত প্রকাশ। এখন, (‌যদিও নড়বড়ে) একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায়, ওয়াশিংটনের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে ইউরোপকে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে নিজেদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাঁর প্রশাসন ইউরোপের উপর এক শতাব্দীর মধ্যে সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে, গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিয়েছে, এবং ইউরোপ জুড়ে বিভিন্ন উগ্র-দক্ষিণপন্থী দলকে সমর্থন জুগিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বোমা হামলা শুরু করে—যে সামরিক সিদ্ধান্তটি ইউরোপীয়রা চায়নি বা এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে পরামর্শও করা হয়নি—তখন ইউরোপের নেতারা স্বাভাবিকভাবেই হতবাক হয়েছিলেন। তাঁরা আরও বেশি বিস্মিত হয়েছিলেন যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়া হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য তাঁদের কাছে সাহায্যের দাবি জানাতে শুরু করেন এবং তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করলে তাঁদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ঠিক এই সপ্তাহেই, “একটি গোটা সভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার” হুমকি দেওয়ার পর, পাকিস্তান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, এবং এমনকি চিনের মতো কিছু অপ্রত্যাশিত পক্ষের প্রচেষ্টায় শেষ মুহূর্তে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই যুদ্ধবিরতিটি অস্পষ্ট, এবং এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও লিখিত চুক্তি প্রকাশ করা হয়নি। তারপর, আলোচনার চূড়ান্ত রূপ দিতে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা পাকিস্তানে বৈঠকে বসেন।

এটি ইউরোপকে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় দিচ্ছে, এবং তাদের এই সময়টিকে নিজেদের সুবিধার্থে ব্যবহার করা উচিত।


এই দুই সপ্তাহের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি ইউরোপকে জ্বালানি সরবরাহে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ করে দিতে পারে।



প্রথমত, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউরোপের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করেছে, যা তাদের বুঝতে সাহায্য করেছে যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে ‌ইউরোপ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকছে। ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি ও পেট্রোলের দামে তীব্র বৃদ্ধি দেখা যায়, যার প্রভাব ক্রেতারা পাম্পে গিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই অনুভব করেন। এতে ইউরোপীয় সরকারগুলি চরম উদ্বেগে পড়ে, যার ফলে কেউ কেউ মূল্যসীমা আরোপ করে এবং অন্যরা পেট্রোল স্টেশনগুলিকে দিনে মাত্র একবার দাম বাড়ানোর অনুমতি দেয়। এই দুই সপ্তাহের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি ইউরোপকে জ্বালানি সরবরাহে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ করে দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশসমূহ এবং আফ্রিকার সঙ্গে এলএনজি টার্মিনাল চুক্তি ত্বরান্বিত করার জন্য এই সময়সীমা হয়তো খুব কম, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি নিশ্চিত করা এবং একটিমাত্র ট্রানজিট চোকপয়েন্টের উপর মহাদেশের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যটি এর আগে কখনও এত জরুরি বলে মনে হয়নি।


ইউরোপকে অবশ্যই তার শক্তি ব্যবহার করে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরতে হবে, যা বিশ্ব মঞ্চে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায়।



দ্বিতীয়ত, যে কোনও শান্তি চুক্তির মধ্যে ভবিষ্যতে ইউরোপ কীভাবে জড়িত হতে চায়, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদিও এই যুদ্ধ তারা চায়নি, তবুও এর পরিণতি থেকে তারা মুক্ত নয়। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক নৌপরিবহণের উপর হুমকি—এই সবকিছুই ইউরোপের দোরগোড়ায় এসে পড়ে, ইউরোপীয় সরকারগুলি কোনও পদক্ষেপ করুক বা না করুক। এর অর্থ হল, যদি পাকিস্তানে আলোচনা সফল হয়, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকে এবং আলোচনা থেকে একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি হয়, তবে সেই কাঠামো নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইউরোপ কী ভূমিকা পালন করবে, সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে। শেষ পর্যন্ত হয়তো ট্যাংকারগুলিকে এসকর্ট করতে বা আকাশপথে নিরাপত্তা দিতে তাকে নৌ-‌সম্পদ মোতায়েন করতে হতে পারে। এক্ষেত্রে ইইউ-এর একটি নজির রয়েছে; আন্তর্জাতিক নৌপরিবহণের উপর হুথি হামলার জবাবে লোহিত সাগর, ভারত মহাসাগর এবং পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ২০২৪ সালে তারা ‘ইউনাভফর অ্যাসপাইডেস ’ (EUNAVFOR ASPIDES) চালু করেছিল। ইউরোপের এটি করা উচিত তার নিজের স্বার্থেই, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে নয়।

অবশেষে, ইউরোপীয় রাজধানীগুলোকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম একটি ঐক্যবদ্ধ সত্তা হিসেবে যখন তারা একত্রে কাজ করে, তখন তারা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়। বিশ্বের বৃহত্তম একক বাজারের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে, কিন্তু তা কাজে লাগানো তখনই সম্ভব যখন সম্মিলিতভাবে এর ব্যবহার করা হয়। এটি শুধু ফলাফলের পরিণতি ভোগ না-‌করে সক্রিয়ভাবে সেগুলিকে প্রভাবিত করতে পারে, কিন্তু তা শুধু তখনই সম্ভব হবে যখন এটি কার্যকরভাবে নিজের প্রভাব খাটানোর সিদ্ধান্ত নেবে। যখন খণ্ডিত থাকে, তখন ইউরোপ নিছক ছোট ছোট দেশগুলির এমন একটি সমষ্টিতে পরিণত হয় যাদের প্রায়শই পরস্পরবিরোধী স্বার্থ থাকে এবং প্রভাব সীমিত থাকে। এই মুহূর্তে, ইউরোপকে অবশ্যই তার শক্তি ব্যবহার করে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরতে হবে, যা বিশ্ব মঞ্চে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায়।

যদিও এই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর, এই মুহূর্তটি ইউরোপের জন্য এক বিরল নমনীয়তার সুযোগ এনে দিয়েছে, যা তাকে অবশ্যই নিজের সুবিধার্থে ব্যবহার করতে হবে।



র‍্যাচেল রিজো অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের সিনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Rachel Rizzo

Rachel Rizzo

Rachel Rizzo is a Senior Fellow with ORF’s Strategic Studies Programme. Her work focuses on US foreign and defence policy, the transatlantic partnership, and US-Europe-India ...

Read More +