আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের উপরেই এখন দেশকে স্থিতিশীল করার দায়িত্ব বর্তায়।
দেড় দশকের সরকারের শেষ রেশটুকু ঝেড়ে ফেলে নতুন সূচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। নোবেলবিজয়ী মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার এখন এমন একটি দেশকে স্থিতিশীল করার দায়িত্বে রয়েছে, যা এখনও বিশৃঙ্খলা ও হিংসায় জর্জরিত। অন্তর্বর্তী সরকারের চিফ অ্যাডভাইজার বা প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে ছাত্রদের দ্বারা মনোনীত - একজন প্রধানমন্ত্রীর সমতুল্য ভূমিকাসম্পন্ন – খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে ১৬ সদস্যের সমন্বয়ে নিজের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছেন। ইউনূস যেহেতু বাংলাদেশকে ‘আবার উঠে দাঁড়ানো’র আহ্বান জানিয়েছেন, তাই এই নতুন মন্ত্রিসভা আসলে কী প্রতিনিধিত্ব করে তা বিশ্লেষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর উপর অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশীয় দেশটির সঞ্চারপথ নির্ভর করবে।
নোবেলবিজয়ী মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার এখন এমন একটি দেশকে স্থিতিশীল করার দায়িত্বে রয়েছে, যা এখনও বিশৃঙ্খলা ও হিংসায় জর্জরিত।
নতুন মন্ত্রিসভায় রয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির প্রধান কার্যনির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান; নারী অধিকারকর্মী ফরিদা আখতার; মানবাধিকার কর্মী ও অধিকারের প্রতিষ্ঠাতা আদিলুর রহমান খান; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশী দেওবন্দী ইসলামী চিন্তাবিদ এএফএম খালিদ হোসেইন; গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টি নুরজাহান বেগম; মানবাধিকার সংস্থা ব্রতীর প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদ; বীর প্রতীকে ভূষিত মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম; ছাত্রকর্মী এবং ২০২৪ সালে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুতকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল সংগঠক নাহিদ ইসলাম; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল সংগঠক আসিফ মাহমুদ; বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক আসিফ নজরুল; প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবী হাসান আরিফ; বাংলাদেশের প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার (২০০৭-২০১২) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এম সাখাওয়াত হোসেন; পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান সুপ্রদীপ চাকমা; মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ও হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক বিধানরঞ্জন রায় এবং প্রাক্তন বিদেশসচিব তৌহিদ হোসেন। এই নতুন মন্ত্রিসভার নির্বাচন কিছু বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। সেগুলি নিম্নরূপ:
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে বিবেচিত ১৫ আগস্টের ছুটি বাতিল করেছে ইউনূস সরকার।
উপরন্তু, ছাত্রদের বিক্ষোভের জবাবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রকের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত মন্ত্রিসভায় দুই ছাত্র প্রতিনিধির অন্যতম আসিফ মাহমুদের ডাকা ছাত্র বিক্ষোভের জবাবে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান-সহ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ছ’জন শীর্ষ বিচারপতি ইউনূস সরকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিক্ষোভকারীদের মতে, এই বিচারকরা ‘পূর্ববর্তী সরকারের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট’। তাঁদের প্রস্থান নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বিচার বিভাগকে পুনর্গঠন করার এই প্রচেষ্টাস্বরূপ। দেশের প্রতি অবদানের কারণে আওয়ামী লীগকে এখনও নিষিদ্ধ করা হয়নি এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ তার মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলি দ্বারা আন্তর্জাতিক ভাবে সমালোচিত হয়েছে।
আগামিদিনের পথ
ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন অবশ্যই বাংলাদেশের সংস্কারের প্রচেষ্টার প্রতিফলন। একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অপরিহার্য দায়িত্ব নিয়মিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং তিন মাসের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন সুনিশ্চিত করা হলেও মহম্মদ ইউনূস ও তাঁর মন্ত্রিসভা যদি ঢাকায় সুষ্ঠু নির্বাচনের সুবিধা প্রদান করতে পারে, তা নিঃসন্দেহে একটি বড় কৃতিত্ব হবে। তবে কোন দল নির্বাচনে লড়বে তা নিয়ে এখন বিভ্রান্তি বিরাজ করছে। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি, অর্থাৎ দেশের প্রধান বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেও জনসমর্থন অর্জনের জন্য দলটির প্রয়োজনীয় নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। জামাত-ই-ইসলামি আসলে সেই সর্ববৃহৎ ইসলামি দল যাকে প্রায়শই তৎকালীন হাসিনা সরকার সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। গত বছর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর এই দলটিও রাজনৈতিক ক্ষমতার নিশ্চিত প্রতিদ্বন্দ্বী। দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও আ.লীগেরও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু নতুন ছাত্রদলের সামনের সারিতে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের উপর মনোনিবেশ করছে, তাই নির্বাচন ঘোষণার সময় এখনও আসেনি। শেষ পর্যন্ত যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, বাংলাদেশের মূল উদ্বেগগুলিকেই অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সমাধান করতে হবে, যেমনটা পরিষদীয় উপদেষ্টা নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়েছে।
সোহিনী বোস অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
অনসূয়া বসু রায়চৌধুরী অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Sohini Bose is an Associate Fellow at Observer Research Foundation (ORF), Kolkata with the Strategic Studies Programme. Her area of research is India’s eastern maritime ...
Read More +
Anasua Basu Ray Chaudhury is Senior Fellow with ORF’s Neighbourhood Initiative. She is the Editor, ORF Bangla. She specialises in regional and sub-regional cooperation in ...
Read More +