২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধ প্রকাশ করে যে, আধুনিক সংঘাত কী ভাবে মিশ্রিত গোয়েন্দা তথ্য - হিউমিন্ট, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং এআই - দ্বারা রূপায়িত হয় - যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে এবং ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন দুর্বলতাকে প্রকট করে দিয়েছে।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির সকালে তেহরানের পাস্তুর স্ট্রিটে তোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক যুগের সূচনা করে। সেই প্রথম প্রভাবের পর থেকে প্রতি দিন ও প্রতি ঘণ্টায় যুদ্ধটি একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক এবং সম্ভাব্য বৈশ্বিক দাবানলে পরিণত হয়েছে, যা বিদ্যমান আঞ্চলিক শৃঙ্খলাকে একেবারে নস্যাৎ দিয়েছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে অনিশ্চয়তাকে আরও গভীর করেছে।
এই যুদ্ধকে টিকিয়ে রাখা এবং সম্ভবত এই যুদ্ধ সমাধানের মূল চাবিকাঠি হল গোয়েন্দা তথ্য। এটি অঞ্চল জুড়ে কম্যান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল স্ক্রিনে প্রদর্শিত ডেটা পয়েন্টগুলিতে এমবেড করা হয়েছে, যা মানব এজেন্টদের মাধ্যমে বাস্তবের মাটিতে সংগৃহীত হয়েছে, প্রক্রিয়াজাত হয়েছে এবং এমনকি লার্জ ল্যাঙ্গোয়েজ মডেল (এলএলএম) ও স্বয়ংচালিত ব্যবস্থা দ্বারা স্বাধীন ভাবে পরিচালিত হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলি অন্বেষণের মাধ্যমে এই প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে যে, কী ভাবে গোয়েন্দা তথ্য চলমান শত্রুতার গতিপথকে আকার দিচ্ছে এবং এই প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহার আধুনিক রাষ্ট্রযন্ত্রের ক্ষেত্রে বর্তমান ও ভবিষ্যতের ভূমিকা সম্পর্কে কী প্রকাশ করতে পারে।
কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স: ইরানি ভ্রান্তি এবং ক্ষয়ক্ষতির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ
ইরান ও তার আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মোসাদের গোপন অভিযানের কার্যকারিতা এবং প্রাণঘাতী পদক্ষেপ তেহরানের বিরুদ্ধে ছায়া যুদ্ধে ইজরায়েলের জন্য গভীর কৌশলগত সুবিধা প্রদান করেছে। বিশেষ করে গত বছর ধরে ইরানের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিষেবাগুলিতে এই প্যারানোইয়া বা বিভ্রম প্রবেশ করেছে, যা প্রচলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্ষয় করে দিয়েছে। এই পাহারার অনুপস্থিতি যুদ্ধের আরও এবং অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করেছে।
শত্রু গোয়েন্দা পরিষেবাগুলির অনুপ্রবেশের ভয় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘকাল ধরে প্রকট হয়েছে এবং গত দশকে এই উদ্বেগগুলি দেশের অভ্যন্তরে উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিত্বদের লক্ষ্য করে হত্যা করার ক্রমবর্ধমান পরিশীলন ও পৌনঃপুনিকতার মধ্যে একটি ক্ষয়িষ্ণু ভ্রম-আতঙ্কে রূপান্তরিত হয়েছে। ২০২০ সালে মোহসেন ফখরিজাদেহের হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, পারমাণবিক বিজ্ঞানী তাঁর দেহরক্ষী এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদীদের মধ্যে চলা কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন, যা ইরানের নিরাপত্তা পরিষেবাগুলিতে ইজরায়েলিদের অনুপ্রবেশের ইঙ্গিত দেয় এবং রাষ্ট্র কর্তৃক প্রকাশিত পরবর্তী বিবরণের বিরোধিতা করে। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে ‘১২ দিনের যুদ্ধ’ চলাকালীন এবং তার পরে ইজরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিত্বদের নিশানা করে এবং হিংস্র ও ধারাবাহিক ভাবে তাঁদের হত্যা করে। হামাসের রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়াহ - যিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তাঁর তেহরানের সেফহাউসের ভিতরে পুঁতে রাখা একটি স্যুটকেস বোমার হামলায় নিহত হন – সম্ভবত এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গ্রিম বিপার’-এর মাধ্যমে সরবরাহ শৃঙ্খলে অনুপ্রবেশের প্রমাণিত ক্ষমতা এবং ইরান জুড়ে মোসাদ কর্মীদের দ্বারা স্বল্প-পাল্লার ড্রোন হামলার পাশাপাশি এই ধরনের ঘটনাগুলি ইরানের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সংস্থাগুলির মধ্যে এই ভৌতিকতার অনুভূতিকে আরও গভীর করেছে।
এই পাহারার অনুপস্থিতি যুদ্ধের আরও এবং অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করেছে।
সাম্প্রতিক শত্রুতার আলোকে ইরানের পাল্টা গোয়েন্দা বাহিনীর মধ্যে অবিশ্বাসের পরিবেশের তিনটি প্রধান প্রভাব রয়েছে। প্রথমত, ইরানের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে নেতৃত্ব এবং পদস্থ কর্মকর্তা উভয়ের মধ্যেই ‘আনুগত্য’ প্রদর্শনের দাবি আরও বাড়বে। এটি হিংসাত্মক ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে ধূসরাঞ্চলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি, যা চলমান সংঘাতকে আরও তীব্রতর করার হুমকি দেয়।
দ্বিতীয়ত, ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের হ্যাকিং সম্পর্কে উদ্বেগ ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ধীর অ্যানালগ প্রক্রিয়াগুলিতে ফিরে এসেছে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা বাধা দেওয়ার জন্য বেশি প্রতিরোধী হলেও আধুনিক যুদ্ধের ত্বরান্বিত গতি ও সঙ্কটে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাকে অতিক্রম করে যায়। এটি তেহরানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), সামরিক এবং গোয়েন্দা পরিষেবার পদমর্যাদার মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি করেছে। উভয়ের মধ্যে ধীর ও প্রায়শই অনুপস্থিত যোগাযোগের কারণে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এখন স্বাধীন ভাবে কাজ করা এবং প্রতিষ্ঠিত সীমা ছাড়িয়ে সংঘাত বাড়ানোর জন্য আরও বেশি সুযোগ পেয়েছে, যেমনটা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রক ইতিমধ্যেই দাবি করেছে। সৌদি তেলক্ষেত্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মহানগরী এবং এমনকি তুরস্কে সাম্প্রতিক ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এটি প্রতিফলিত হয়েছে। যদিও উল্লেখ্য যে, ইজরায়েলের সঙ্গে এই দেশগুলির বৈরিতার সম্পর্ক রয়েছে।
তৃতীয়ত, ইরানের গোয়েন্দা পরিষেবাগুলির চলমান শুদ্ধিকরণ এবং ‘মধ্যপন্থী’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ভয় সংঘাত সমাধানের জন্য গোয়েন্দা নেতৃত্বাধীন ব্যাক চ্যানেলের (গোপন ও দ্বিতীয় আঁতাঁতমূলক পদ্ধতি) মাধ্যমে গোপন কূটনীতির সুযোগকে হ্রাস করে। যুদ্ধের সময় গোপন কূটনীতি গোয়েন্দা পরিষেবাগুলির একটি প্রধান দায়িত্ব। তবে যদি অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ডের হুমকির মুখে আলোচনার প্রচেষ্টাকে নিরুৎসাহিত করে, তা হলে ইরানের গোয়েন্দা পরিষেবাগুলির বিভিন্ন পর্যায়ে আসীন কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএ) বা মোসাদের সঙ্গে আলোচনার পথ অন্বেষণ করার সম্ভাবনা কমিয়ে দেবে, যা অদূর ভবিষ্যতে শত্রুতা শেষ করার সম্ভাবনাকেও খর্ব করবে।
উচ্চ মূল্যের লক্ষ্যবস্তু: একই পঙ্ক্তিতে হিউমিন্ট এবং টেক-ইন্ট
এই পর্যায়ে যুদ্ধের অজ্ঞাত গতিপথ মূলত ইরানের আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী, যে যুদ্ধের শুরু মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনী কর্তৃক খামেনির হত্যার মাধ্যমে হয়েছে। তবুও যুদ্ধের পূর্ববর্তী পরিকল্পনাটি সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যা আধুনিক গোয়েন্দা দৃশ্যপটের মধ্যে মানব বুদ্ধিমত্তা (হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স বা হিউমিন্ট) এবং প্রযুক্তিগত/সঙ্কেত বুদ্ধিমত্তার (টেকনিক্যাল/সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স বা টেক-ইন্ট/সিগ-ইন্ট) সমন্বিত প্রকৃতিকে প্রকাশ করে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি আরও ‘স্বচ্ছ’ কর্মক্ষম পরিবেশে হিউমিন্ট-এর অনুমিত অবাস্তবতা বা মৃত্যু সম্পর্কে মিথগুলিকে ভেঙে দেয়।
হিউমিন্ট এবং টেক-ইন্ট এখন আর একে অপরের থেকে আলাদা নয়, যেমনটি এক শতাব্দী আগে আধুনিক গোয়েন্দা আমলাতন্ত্রগুলি প্রথম বিকশিত হওয়ার সময় ছিল। সে সময়ে এই দুই উপাদান ক্রমবর্ধমান ভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।
পরিকল্পনার ধাপগুলি হিউমিন্ট, সর্বব্যাপী প্রযুক্তিগত নজরদারি (ইউবিকিউশাস টেকনিক্যাল সার্ভেলিয়েন্স বা ইউটিএস) এবং সিআইএ ও মোসাদ কৌশলগত যোগাযোগের মধ্যে অসাধারণ সমন্বয় প্রদর্শন করে। প্রথমত, জানা গিয়েছে যে, মোসাদ প্রায় দুই দশক ধরে কেবল আয়াতুল্লাহ খামেনির অভ্যন্তরীণ বৃত্তের মালিকানাধীন ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলিতেই নয়, কাছাকাছি মোবাইল যোগাযোগ টাওয়ারগুলিরও অ্যাক্সেস পেয়েছিল। ফলে খামেনির সেল-ফোন থেকে পাঠানো সিগন্যালকে বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইরানিদের আগাম সতর্কতার বিষয়েও বিলম্বিত করা গিয়েছিল। দ্বিতীয়ত, তেহরানের নজরদারি ক্যামেরার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক হ্যাক করার ফলে ইজরায়েল ইউটিএস-কে নিজের পক্ষে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছিল — অন্যথায় এটিকে হিউমিন্ট-এর প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হত — এবং ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তরফে হওয়া হামলার আগেই আয়াতুল্লাহর ‘জীবনের ধরন’ পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিল। তৃতীয়ত, মানবিক কর্মীদের উপস্থিতি মোসাদ ও সিআইএকে এমন জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত হামলার সাফল্যকে নিশ্চিত করেছিল। যেমন আয়াতুল্লাহ দিনের আলোয় সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ বোধ করেন এমন তথ্য, তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে একটি বৈঠকের আয়োজন করবেন, এমনকি ইজরায়েলি মিডিয়ার প্রতিবেদন বিশ্বাস করলে বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলি নেতৃত্বের জন্য তাঁর মৃত্যুর তাৎক্ষণিক চিত্রও উঠে এসেছিল। অবশেষে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমে কৌশলগত যোগাযোগের একটি সুসময়োচিত ‘ফাঁস’কে (লিক, এ ক্ষেত্রে তথ্যের ফাঁস হওয়া বোঝাচ্ছে) দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছিল যে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান জেনারেল ইয়াল জামির তাঁর অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন, যা একটি ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা (ওএসআইএনটি) দৃষ্টিকোণ থেকে চ্যালেঞ্জগুলিকে সীমিত করেছিল এবং এটি নিশ্চিত করেছিল যে, ইজরায়েলি বিমান বাহিনী (আইএএফ) বিস্ময়ের উপাদান বজায় রেখেছে এবং আসন্ন হামলার খবর প্রথমে সম্প্রচার বা সোশ্যাল মিডিয়ার কাছে পৌঁছয়নি।
এই সব কিছুই সমসাময়িক যুদ্ধ এবং রাষ্ট্রীয় কাজে গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে একটি কেন্দ্রীয় সত্যকে প্রকাশ করে: হিউমিন্ট এবং টেক-ইন্ট এখন আর একে অপরের থেকে আলাদা নয়, যেমনটি এক শতাব্দী আগে আধুনিক গোয়েন্দা আমলাতন্ত্রগুলি প্রথম বিকশিত হওয়ার সময় ছিল। সে সময়ে এই দুই উপাদান ক্রমবর্ধমান ভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। আয়াতুল্লাহর দুর্বলতার অনুভূতি ও সময়সূচি সম্পর্কে হিউমিন্ট-এর জ্ঞান মোসাদ ও সিআইএ দ্বারা টেক-ইন্ট-এর জীবনধারা বিশ্লেষণের তথ্যকে সমর্থন করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। আরও কেন্দ্রীয় ভাবে এটি পরিবর্তিত এবং প্রযুক্তিগত ভাবে চালিত গোয়েন্দা পরিসরে হিউমিন্ট-এর স্থায়ী গুরুত্বকে তুলে ধরে। হামলার সময় এর অবস্থান এবং এর প্রমাণের মতো বিষয়গুলি - যা এর পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের কৌশলগত সুবিধাকে আকার দিয়েছিল - সবই ওএস-ইন্ট-এর উপর নির্ভরশীল ছিল। এই ধরনের প্রমাণ দর্শায় যে, হিউমিন্ট-এর মৃত্যুর প্রতিবেদন - যেমনটি প্রায়শই শৃঙ্খলার উপর সাম্প্রতিক কাজগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে - অত্যন্ত অতিরঞ্জিত রয়ে গিয়েছে। অর্থনীতিতে যেমন সাদৃশ্য দেখা যায়, অর্থাৎ হিউমিন্ট-কে ভবিষ্যতে সম্ভবত একটি ভেবলেন গুড (এমন এক ধরনের বিলাসবহুল পণ্য, যার দাম বাড়লেও চাহিদা বাড়তে থাকে এবং এ ক্ষেত্রে সাধারণ চাহিদার তত্ত্ব মোটেও খাটে না) হিসেবে বিবেচনা করা হবে: ইউটিএস এবং উন্নত ওএস-ইন্ট জাতীয় সাধনীর উত্থানের কারণে এর কর্মকাণ্ডের ক্রমবর্ধমান ‘ব্যয়’ সত্ত্বেও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এই ধরনের গোয়েন্দা কার্যকলাপের চাহিদা কেবল বাড়বেই। কারণ প্রতিপক্ষের প্রেরণা, ভয় এবং দুর্বলতাগুলি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে হিউমিন্ট-এর অন্তর্নিহিত মূল্য রয়েছে।
বুদ্ধিমত্তার ভোক্তা হিসেবে যন্ত্রকে পুনর্বিবেচনা করা
এই যুদ্ধে বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আধুনিক যুদ্ধে এজেন্টিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সর্বব্যাপিতাকে প্রদর্শন করে, যেখানে স্বায়ত্তশাসিত অস্ত্র মঞ্চ এবং লার্জ ল্যাঙ্গোয়েজ মডেল (এলএলএম) তথ্য সংগ্রহ করে, প্রক্রিয়াজাত করে এবং এমনকি মানুষের নির্দেশনা থেকে স্বাধীন ভাবে কম্যান্ডকে কার্যকর করে। মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া চক্র এবং হত্যা শৃঙ্খলের আপাত পতন স্বাভাবিক ভাবেই বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে। তবুও যুদ্ধটি গোয়েন্দা সংশ্লেষণ এবং ক্রিয়াকলাপে এআই-এর উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সঙ্গে সম্পর্কিত দুর্বলতাগুলিকেও প্রকাশ করেছে, যা প্রযুক্তি-চালিত নিরাপত্তা দৃশ্যপটে ভবিষ্যতের গোয়েন্দা অগ্রাধিকারের বিষয়ে একটি আভাস প্রদান করে।
তবুও পর্যাপ্ত মানব তত্ত্বাবধান ছাড়াই স্বায়ত্তশাসিত গোয়েন্দা সংমিশ্রণের জন্য একটি প্রক্রিয়া হিসাবে এআই-এর উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সামরিক মঞ্চের ক্ষতির পাশাপাশি হতাহতের ঝুঁকিও বহন করে।
এআই ফার্ম অ্যানথ্রপিক এবং পেন্টাগনের মধ্যে তাদের মডেলগুলির মালিকানার ব্যবহার নিয়ে চলমান বিরোধ সত্ত্বেও এই যুদ্ধে অ্যানথ্রপিকের ক্লড কোডটি মার্কিন বিমান বাহিনী (ইউএসএএফ) বাস্তব সময়ে বোমা হামলার লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণের সময় সংক্রান্ত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য সংশ্লেষণের জন্য ব্যবহার করেছে। এটি সিদ্ধান্ত চক্রটিকে উল্লেখযোগ্য ভাবে সংক্ষিপ্ত করেছে, নেভিগেশন ও লক্ষ্যবস্তু নকশার বিকাশকে ত্বরান্বিত করেছে এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনীকে আরও দ্রুত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম করেছে।
যাই হোক, এআই-এর উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দুর্বলতার সুযোগকেও প্রসারিত করে, যেমনটি যুদ্ধ তার প্রাথমিক পর্যায়ে দেখিয়েছে। ‘যুদ্ধের কুয়াশা’র স্থায়ী ক্লজউইটজিয়ান বৈশিষ্ট্যটি (অর্থাৎ যুদ্ধ কোনও স্বাধীন ঘটনা নয়, বরং মানুষ, সামরিক বাহিনী এবং সরকারের যুক্তি… এই ত্রিপাক্ষিকতা দ্বারা আকার পাওয়া রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা মাত্র) দুর্ভেদ্য রয়ে গিয়েছে, যেমনটা ২ মার্চ মিত্র কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা এবং মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের মধ্যে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ গুলিচালনা’র (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) একটি ঘটনা দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সম্মিলিত মহাকাশ অপারেশন সেন্টার (কম্বাইন্ড এরোস্পেস অপারেশন সেন্টার বা সিএওসি) দ্বারা বিমান প্রতিরক্ষা ও বিমান হামলার সমন্বয় নিয়ন্ত্রিত হয়। বিশেষজ্ঞরা এই ‘ব্লু অন ব্লু’ (আর এক কথায় বললে ফ্রেন্ডলি ফায়ার বা ভুল করে শত্রুর উপর হামলা না চালিয়ে নিজের দেশের বা মিত্রপক্ষের সেনার উপর হামলা করা) ঘটনাটিকে সিএওসি বা কুয়েতে ‘মানবজনিত ত্রুটি বা অপারেটর’ ত্রুটির পরিবর্তে ‘সফটওয়্যারের সমস্যা’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। অতএব, এটা অনুমান করা যেতে পারে যে, এই ঘটনাটি এজেন্টিক এআই সমন্বয় ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে ঘটেছে, যা একটি গুরুতর সঙ্কটের সময় আকাশ যুদ্ধের বিভিন্ন জটিল দিকগুলিকে আলাদা করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আরও কেন্দ্রীয় ভাবে বলতে গেলে, ক্লডের মতো এআই মডেলের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃত নির্ভরতার কারণে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) ডেটা সেন্টারগুলিতে হামলা চালায়। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এডব্লিউএস-এর উপর নির্ভর করে। ফলে ইরানের লক্ষ্য হল মার্কিন বাহিনীকে ‘অন্ধ’ করে দেওয়া এবং এর ফলে তার কৌশলগত সুবিধা হ্রাস করা।
এই ধরনের উন্নয়ন এই যুদ্ধে এআই-চালিত গোয়েন্দা ব্যবহারের দু’টি মূল দিককে তুলে ধরে। প্রথমত, এই প্রযুক্তির উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলি দক্ষতা এবং স্বয়ংচালিত ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা প্ল্যাটফর্মগুলিতে এর নিরবচ্ছিন্ন একীকরণ নিঃসন্দেহে সিদ্ধান্তের চক্রকে ভেঙে দেয়, একাধিক প্ল্যাটফর্মে তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যকে সংশ্লেষণ করে এবং তেহরানের উপর সময়ের চাপ বাড়িয়ে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের কৌশলগত সুবিধা প্রদান করেছে। তবুও পর্যাপ্ত মানব তত্ত্বাবধান ছাড়াই স্বায়ত্তশাসিত গোয়েন্দা সংমিশ্রণের জন্য একটি প্রক্রিয়া হিসাবে এআই-এর উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সামরিক মঞ্চের ক্ষতির পাশাপাশি হতাহতের ঝুঁকিও বহন করে। এআই-ভিত্তিক গোয়েন্দা সংমিশ্রণ ব্যবস্থাগুলি এই অঞ্চলের ভৌত অবকাঠামোর উপরও নির্ভর করে - যা একবার ভেঙে পড়লে যুদ্ধের কুয়াশার মধ্যে সামরিক কম্যান্ড এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে অন্ধ করে দিতে পারে।
যুদ্ধ এখনও সাম্প্রতিক স্তরে আছে। গোয়েন্দা ক্ষেত্র এবং তার বাইরেও এর সম্পূর্ণ প্রভাব এখনও সম্পূর্ণ রূপে স্পষ্ট হয়নি। তবুও বিশ্বব্যাপী গোয়েন্দা দৃশ্যপটে এর রূপান্তরকারী প্রভাব স্পষ্ট। বিশ্ব জুড়ে নীতিনির্ধারকদের তাই এ বিষয়েও মনোযোগ দেওয়া উচিত। কারণ আমরা এখন যে বিপজ্জনক পৃথিবীতে বাস করি, সেখানে টিকে থাকা এবং এমনকি জীবনযাপনকে উন্নতি করার জন্য তাঁরাই নিজেদের প্রস্তুত করে তোলেন।
অর্চিষ্মান রায় গোস্বামী অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নন-রেসিডেন্ট জুনিয়র ফেলো এবং ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ডের ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস-এর ডিফিল ক্যান্ডিডেট।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Archishman Ray Goswami is a Non-Resident Junior Fellow with the Observer Research Foundation. His work focusses on the intersections between intelligence, multipolarity, and wider international politics, ...
Read More +