Author : Soumya Bhowmick

Published on Jun 16, 2025 Updated 0 Hours ago

ট্রাম্প ২.০ যুগে বিশ্বস্ত পশ্চিমী অর্থনীতির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির জন্য ভারতের প্রয়াস পছন্দের পরিবর্তে প্রয়োজনীয়তা হয়ে উঠেছে।

অনিশ্চয়তার যুগে ভারতের বাণিজ্য পুনর্গঠন

পশ্চিমী দেশগুলির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে ভারতের সাম্প্রতিক অগ্রগতি শুধু অর্থনৈতিক স্বার্থের চেয়েও বেশি কিছু — উদীয়মান প্রবণতার মুখোমুখি হয়ে ভারত একটি উল্লেখযোগ্য ভূ-অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সুরক্ষাবাদী তরঙ্গ, সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা, এবং ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। এই পরিবর্তনগুলি দেশগুলিকে বাণিজ্য নির্ভরতা পুনর্বিবেচনা করতে, এবং স্থিতিস্থাপকতা ও কৌশলগত সুবিধার জন্য জোটগুলিকে নতুন করে ভারসাম্যপূর্ণ করতে বাধ্য করেছে। ভারত নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং সুপ্ত চুক্তিগুলিকে পুনরায় সক্রিয় করে নতুন বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে একটি মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

ভারত-নিউজিল্যান্ড: পুনরায় চালু অংশীদারিত্ব, ত্বরান্বিত বাণিজ্য

২০২৫ সালের মার্চ মাসে
ভারতে তাঁর প্রথম সফরের সময় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সন — যিনি রাইসিনা সংলাপ ২০২৫-এর প্রধান অতিথিও ছিলেন — প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের পর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের অব্যবহৃত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে চিহ্নিত এই সফর ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠেছে।

এক দশক পর
নিউজিল্যান্ড এবং ভারতের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) পুনর্নবীকরণের আলোচনায় নতুন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং উন্নত অর্থনৈতিক সমন্বয়ের কথা উঠে এসেছে। পূর্ববর্তী আলোচনার প্রধান বাধা ছিল দুগ্ধ ক্ষেত্রে ভারতের সুরক্ষাবাদ, যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড গঠন করে এবং লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র কৃষককে সমর্থন করে। নিউজিল্যান্ডের অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক দুগ্ধ ক্ষেত্র ভারতীয় বাজারে প্রবেশাধিকারের বৃদ্ধি চেয়েছিল, কিন্তু প্রস্তাবটি ভারতের জন্য রাজনৈতিকভাবে আপত্তিকর প্রমাণিত হয়েছিল। আজ, উভয় দেশই পারস্পরিকভাবে লাভজনক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য এই সংবেদনশীলতাগুলি কাটিয়ে উঠতে ইচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে।

নিউজিল্যান্ডের অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক দুগ্ধ ক্ষেত্র ভারতীয় বাজারে প্রবেশাধিকারের বৃদ্ধি চেয়েছিল, কিন্তু প্রস্তাবটি ভারতের জন্য রাজনৈতিকভাবে আপত্তিকর প্রমাণিত হয়েছিল।



সফরকালে, লুক্সন বলেছিলেন যে নিউজিল্যান্ড উদ্ভাবনী লেনদেন এবং ক্ষেত্রভিত্তিক সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত থাকাকালীন দুগ্ধজাত পণ্যের প্রাপ্যতা অব্যাহত রাখবে। নয়াদিল্লি একই নমনীয়তার প্রতিধ্বনি করে বলেছে যে চুক্তিটি পরবর্তী দশকে
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে দশগুণ বাড়িয়ে তুলবে

এই দৃষ্টিভঙ্গিটির দৃঢ় ভিত্তি রয়েছে: ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডে ভারতের রপ্তানি রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছে, প্রথমবারের মতো ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা হল ২০১৯ সালের পর ৬২ শতাংশ বৃদ্ধি। তবে, সামগ্রিক
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এখনও পরিমিত, একই সময়ের মধ্যে মাত্র ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

চিত্তাকর্ষক বিষয় হল, যদিও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ২০১৫ সালে ৮৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, কোভিড-পরবর্তী যুগে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছে — ভারত নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে তার বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য ঘাটতি থেকে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। ভারত মূলত নিউজিল্যান্ড থেকে পণ্য ও পরিষেবা আমদানি করে, যেমন পশম, লোহা ও ইস্পাত, ফল ও বাদাম এবং অ্যালুমিনিয়াম। বিপরীতে, নিউজিল্যান্ডে ভারতীয় রপ্তানি মূলত ওষুধ, যন্ত্রপাতি, বস্ত্রবয়ন পণ্য এবং মূল্যবান পাথর । এগুলি উভয় অর্থনীতির পরিপূরক শক্তি এবং গভীর বাণিজ্য একীকরণের সম্ভাবনা প্রতিফলিত করে।

যদিও বাণিজ্য কাঠামো এখনও মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, পর্যটন, উন্নত কৃষি-প্রযুক্তি এবং শিক্ষা পরিষেবাগুলিতে এখনও প্রচুর সম্ভাবনা কাজে  লাগানো হয়নি। নিউজিল্যান্ড যখন তার বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার চিন থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন ভারতের বিশাল ভোক্তা ভিত্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতিকে একীভূত করে নিউজিল্যান্ডকে প্রবেশদ্বার হিসাবে কাজে লাগালে তুলনামূলকভাবে অনাবিষ্কৃত এই অঞ্চলে নতুন বাণিজ্যপথ এবং দর-‌কষাকষির শক্তি উন্মোচিত হবে।

তার উপর, উভয় দেশই এফটিএ-‌কে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বর্ধিত অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অভিসৃতির সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে পড়ে বলে মনে করে। কৌশলগত অর্থনৈতিক অভিন্নতার সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে চূড়ান্ত চুক্তিতে ব্যবসার জন্য বৃহত্তর গতিশীলতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং ডিজিটাল পরিষেবাগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৌশলগত বাণিজ্য: জটিলতা, অভিসৃতি এবং প্রতিযোগিতা

ভারতের বাণিজ্য কূটনীতি শুধু নিউজিল্যান্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তি (ইসিটিএ) বাস্তবায়িত করেছিল, যা তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসাবে চিহ্নিত। এই চুক্তির লক্ষ্য বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবার উপর শুল্ক নির্মূল বা হ্রাস করা, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।
ইসিটিএ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে বর্তমান ৩১ বিলিয়ন থেকে ৪৫-৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। লাভবান হওয়ার প্রত্যাশিত মূল ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে কৃষি, সম্পদ এবং পরিষেবা, যা অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার জন্য উভয় দেশের দায়বদ্ধতা প্রতিফলিত করে।


ভারত ও অস্ট্রেলিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তি (ইসিটিএ) বাস্তবায়িত করেছিল, যা তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসাবে চিহ্নিত।



নয়াদিল্লি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভূ-অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে পরিপক্ব বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা করছে। এই এফটিএ-‌গুলি ভারতের বৃদ্ধি কৌশলের এমন একটি মূল বিন্দু হবে যা রপ্তানি দ্বারা পরিচালিত। এগুলি দেশীয় অগ্রাধিকার, যেমন ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের বৃদ্ধি, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগের (এমএসএমই) ক্ষমতায়ন, এবং "মেক ইন ইন্ডিয়া" উদ্যোগের অংশ হিসাবে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা দ্বারা পরিপূরিত হয়।

যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে এক ডজনেরও বেশি বার আলোচনা হয়েছে। ব্রিটিশ অগ্রাধিকারগুলি হল অটোমোবাইল, হুইস্কি এবং আর্থিক পরিষেবাগুলিতে প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করা। ভারতের অগ্রাধিকারগুলি হল ব্যবসার জন্য নিয়ম শিথিল করা, তথ্যের পর্যাপ্ত স্বীকৃতি নিশ্চিত করা, এবং বস্ত্রবয়ন, ফার্মা ও কৃষি পণ্যের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করা। ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে
পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১২.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইতিমধ্যে, এফটিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর, আরও ৬.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য — যেমন পোশাক, সামুদ্রিক খাবার, আম এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য — শুল্ক হ্রাসের সুবিধা পাবে।

ইতিমধ্যে, ২০২২ সালে ভারত এবং ইইউ তাদের এফটিএ আলোচনা পুনরায় শুরু করে, যা ২০১৩ সাল থেকে স্থগিত ছিল। উভয় পক্ষ ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখে। তবে, উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলি অমীমাংসিত থেকে গিয়েছে। ইইউ চাপ দিচ্ছে গাড়ি, ওয়াইন এবং দুগ্ধজাত পণ্যের উপর শুল্ক হ্রাসের জন্য, অন্যদিকে ভারত কার্বন ট্যাক্স এবং টেকসইতার ধারাগুলির মতো অ-শুল্ক বাধাগুলির অপসারণ চায়, কারণ এগুলি ভারতের রপ্তানিকারকদের উপর অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। বিনিময়ে, ভারত আইটি পেশাদার ও জেনেরিক ওষুধের জন্য উন্নত প্রবেশাধিকার এবং ডেটা-সুরক্ষিত দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দাবি করে, যাতে আরও অনিয়ন্ত্রিত আন্তঃসীমান্ত ডেটা প্রবাহ সম্ভব হয়।

সুরক্ষাবাদী নীতিতে নতুন করে বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা দ্বারা চিহ্নিত ট্রাম্প ২.০ যুগে বিশ্বস্ত পশ্চিমী অর্থনীতির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিকতা ভারতের পছন্দের পরিবর্তে প্রয়োজনীয়তা হয়ে উঠেছে। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমী অংশীদারদের সঙ্গে ভারতের সম্প্রসারিত এফটিএ সম্পৃক্ততা লেনদেন ও শুল্ক হ্রাসের বাইরেও বিকশিত হয়েছে; এগুলো এখন স্থিতিস্থাপক বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে একীভূত হওয়া, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, এবং ভারতের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব বৃদ্ধির জন্য কৌশলগত হাতিয়ার হিসাবে কাজ করে। কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে, এই চুক্তিগুলি কেবল ভারতীয় উদ্যোগগুলির জন্য বাজার প্রবেশাধিকার উন্নত করবে না, বরং বিশ্ব বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ স্থাপত্য গঠনে একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং কেন্দ্রীয় খেলোয়াড় হিসাবে ভারতের খ্যাতিও সুসংহত করতে পারবে।
 



এই ভাষ্যটি প্রথম
দ্য ডিপ্লোম্যাট -‌এ প্রকাশিত হয়েছিল।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.