জেনেরিক ওষুধে ভারতের বিশ্বব্যাপী রফতানি সাফল্যের পিছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপক পরিমাণ ওষুধ ও উপাদানের জন্য চিনের উপর নির্ভরতা।
এই প্রতিবেদনটি ‘চায়না ক্রনিকলস’ সিরিজের ১৮৭তম অংশ।
উন্নয়নশীল বিশ্বের ফার্মেসি হিসেবে ভারতের মর্যাদা যথাযোগ্য। ভারতে বিশ্বের বৃহত্তম ওষুধ শিল্পগুলির মধ্যে অন্যতমটি অবস্থিত এবং সর্বশেষ সরকারি সূত্র অনুসারে, দেশটি আয়তনের দিক থেকে তৃতীয় বৃহত্তম ওষুধ উৎপাদনকারী এবং মূল্যের দিক থেকে ১৪তম। প্রক্রিয়াজাত পেটেন্ট, সস্তা দক্ষ শ্রম এবং জননীতি একত্রিত হয়ে দেশটি বিশ্বের জেনেরিক ওষুধের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ উৎপাদন করে, যা নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের বেশির ভাগ দেশকে সেবা প্রদান করে। এর পিছনে রয়েছে রাসায়নিক ফিডস্টকের দীর্ঘ পরিবর্তনের সমান্তরাল বিকাশ, যা এই রফতানি সাধনীটিকে সম্ভব করে তোলে।
নিম্নলিখিত বিশ্লেষণটি ট্রেড ম্যাপ প্ল্যাটফর্ম থেকে সঙ্কলিত প্রাসঙ্গিক হারমোনাইজড সিস্টেম (এইচএস) বিভাগগুলিতে ২৪ বছরের ধারাবাহিক রাষ্ট্রপুঞ্জের কমট্রেড তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা একুশ শতকের শুরু থেকে ভারতের বাণিজ্য প্রবাহ সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য তথ্য প্রদর্শন করে। এটিতে দু’টি মূল এইচএস অধ্যায় অনুসরণ করা হয়েছে: এইচএস ২৯ জৈব রাসায়নিকগুলির ক্ষেত্রের জন্য, যা ভারতের ক্ষেত্রে সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান (এপিআই) এবং মধ্যবর্তী ওষুধের জন্য যুক্তিসঙ্গত প্রক্সি প্রদান করে; এবং এইচএস ৩০ সম্পূর্ণ তৈরি ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যগুলির জন্য উল্লেখযোগ্য।
ভারতের এপিআই এবং মধ্যবর্তী ওষুধ উৎপাদনের ক্ষমতা ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেলেও নানাবিধ তথ্য থেকে জানা যায় যে, বর্ধিত উৎপাদন মূলত ভারতীয় ওষুধ শিল্পকে এপিআই (প্রায়শই যাকে বাল্ক ওষুধ বলা হয়) এবং মধ্যবর্তী ওষুধের জন্য চিনের উপর নির্ভরতা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে রফতানি করা হয়েছে। ভারতীয় শিল্প এখনও চিনের প্রস্তাবিত ব্যয় সুবিধা ব্যবহার করছে বলে মনে হচ্ছে এবং একই সঙ্গে চিন-সহ অন্যান্য দেশে উচ্চ-মূল্যের জৈব রাসায়নিকের উৎপাদন এবং রফতানি বৃদ্ধি করছে।
এই দু’টি সিরিজের প্রবণতা একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে এই প্রবন্ধটিতে কী ভাবে প্রস্তুতকৃত ওষুধের ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান রফতানি উপস্থিতিকে চিহ্নিত করে, তা দর্শানো হয়েছে। এর পাশাপাশি এপিআই এবং মধ্যবর্তী ওষুধের জন্য চিনের উপর আমদানি নির্ভরতার দ্বারা তা কী ভাবে বিকশিত হয়েছে এবং রূপ নিয়েছে, সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ভারতের এপিআই এবং মধ্যবর্তী ওষুধ উৎপাদনের ক্ষমতা ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেলেও নানাবিধ তথ্য থেকে জানা যায় যে, বর্ধিত উৎপাদন মূলত ভারতীয় ওষুধ শিল্পকে এপিআই (প্রায়শই যাকে বাল্ক ওষুধ বলা হয়) এবং মধ্যবর্তী ওষুধের জন্য চিনের উপর নির্ভরতা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে রফতানি করা হয়েছে। ভারতীয় শিল্প এখনও চিনের প্রস্তাবিত ব্যয় সুবিধা ব্যবহার করছে বলে মনে হচ্ছে এবং একই সঙ্গে চিন-সহ অন্যান্য দেশে উচ্চ-মূল্যের জৈব রাসায়নিকের উৎপাদন এবং রফতানি বৃদ্ধি করছে।

সূত্র: ট্রেড ম্যাপ থেকে তথ্য, লেখকের সঙ্কলন এবং বিশ্লেষণ
২০০১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যে ধরনটি উদ্ভূত হয়েছে, তা হল দ্বৈত টেক-অফের মধ্যে একটি। বিশ্বে ভারতের প্রস্তুতকৃত ওষুধ পণ্য রফতানি (রেখচিত্র ১) ২০০১ সালে ১.০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সামান্য বেশি থেকে ২০২৪ সালে প্রায় ২৩.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বর্তমান দামে যা একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিকেই দর্শায়। একই সময়ে ভারতে এপিআই এবং মধ্যবর্তী ওষুধের আমদানি প্রায় ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে প্রায় ২৬.০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা প্রায় পনেরো গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে (রেখচিত্র ২)। এইচএস ২৯ আমদানি এবং এইচএস ৩০ রফতানি উভয়ই খুব কাছাকাছি চলে আসে এবং সংখ্যাগুলি কার্যকারণ প্রমাণ না করলেও এগুলি উপেক্ষা করা কঠিন।

সূত্র: ট্রেড ম্যাপ থেকে তথ্য, লেখকের সঙ্কলন এবং বিশ্লেষণ
বাল্ক ড্রাগ সংক্রান্ত পরীক্ষানিরিক্ষা থেকে শুরু করে চিনের মূল শক্তি পর্যন্ত
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পারস্পরিক সম্পর্ক একটি দীর্ঘ কাঠামোগত আখ্যানের অংশ, যা বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা বিশদ ভাবে পুনর্গঠিত হয়েছে। সুদীপ চৌধুরী পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, স্বাধীনতার পর প্রথম দশকগুলিতে ভারত হিন্দুস্থান অ্যান্টিবায়োটিক এবং ইন্ডিয়ান ড্রাগস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড-এর (আইডিপিএল) মতো সরকারি ক্ষেত্রের সংস্থাগুলির মাধ্যমে এপিআই ক্ষমতা তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। ১৯৭৫ সালে হাতি কমিটি এবং ১৯৭৮ সালে ড্রাগ নীতি এপিআইগুলিকে একটি প্রতিযোগিতামূলক ফর্মুলেশন শিল্পের জন্য কৌশলগত, কম মার্জিনবিশিষ্ট হিসেবে বিবেচনা করেছিল এবং বাল্ক ওষুধে একটি শক্তিশালী সরকারি ক্ষেত্রের উপস্থিতির পক্ষে যুক্তি দিয়েছিল। সেই দৃষ্টিভঙ্গি কখনওই সম্পূর্ণ রূপে বাস্তবায়িত হয়নি এবং বৃহৎ আকারের আমদানি নির্ভরতার জন্য ক্ষেত্রটি উন্মুক্ত ছিল।
১৯৯০-১৯৯১ সাল নাগাদ ভারত চিন থেকে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও কম মূল্যের বাল্ক ওষুধ আমদানি করেছিল এবং চিন বাল্ক-ওষুধ আমদানির ১ শতাংশেরও কম অংশের জন্য দায়বদ্ধ ছিল। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এর অংশ ২০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায় এবং সুদীপ চৌধুরী পর্যবেক্ষণ করেন যে, ২০২০ সাল নাগাদ চিন ভারতের এপিআই এবং মধ্যবর্তী ওষুধ আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে। ফার্মাসিউটিক্যালস বিভাগের বার্ষিক প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ বাল্ক ওষুধের জন্য চিনের উপর ভারতের অত্যধিক নির্ভরতা স্বীকার করা হয়েছে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি সেখান থেকে আসে।
রেখচিত্র ৩-এ জৈব রাসায়নিকের বিস্তৃত বিভাগ অনুসরণ করে এই উন্নয়নের উপর নজর দেওয়া হয়েছে, যাতে দেখা যায় যে, ২০০১ সাল থেকে ভারতের এপিআই সরবরাহের প্রাথমিক সরবরাহকারী হিসেবে চিনের গুরুত্ব কী ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, বিশেষ করে যে বছর তুলনামূলক তথ্য পাওয়া যায়। ২০১০ সাল নাগাদ ভারতের জৈব রাসায়নিক আমদানিতে চিনের অবদান দ্বিগুণ হয়ে এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে এবং ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে এটি ছিল চারের দশকের সমান। ২০২৪ সালের মধ্যে এটি সামান্য হ্রাস পেয়েছে এবং ৪০ শতাংশের উপরেই রয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ চিন থেকে আমদানি ২০০১ সালে প্রায় ০.২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি হয়েছে, যা প্রায় চল্লিশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে চিন ভারতের জৈব রাসায়নিক আমদানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী থেকে ভারতের ওষুধ উৎপাদনের মেরুদণ্ডে পরিণত হয়েছে এবং এর অর্থ হল ভারতের ওষুধ উৎপাদন নিঃসন্দেহে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূত্র: ট্রেড ম্যাপ থেকে তথ্য, লেখকের সঙ্কলন এবং বিশ্লেষণ
রফতানি বৃদ্ধির মানচিত্র নির্মাণ
ঔষধজাত পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের চিত্তাকর্ষক প্রবৃদ্ধি (রেখচিত্র ১) উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ রফতানি বৃদ্ধির কারণে হয়েছে। ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের রফতানির মাত্র ১২ শতাংশ নিয়েছিল। ২০২৪ সালের মধ্যে এই অংশ ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ (রেখচিত্র ৪)। ২০০০-এর দশকের গোড়ার দিকে রাশিয়া, ব্রাজিল এবং মধ্যম আয়ের অর্থনীতির একটি গোষ্ঠী শক্তিশালী ভাবে স্থান পেয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শীর্ষ রফতানি-গন্তব্য তালিকা হিসেবে উঠে এসেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং উন্নত ও বৃহৎ উদীয়মান বাজারের মিশ্রণকে ঘিরে তা একত্রিত হয়েছিল।

সূত্র: ট্রেড ম্যাপ থেকে তথ্য, লেখকের সঙ্কলন এবং বিশ্লেষণ
এই চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল আফ্রিকা। যদি আমরা ভারতীয় ওষুধ পণ্যের পাঁচটি প্রধান আফ্রিকান আমদানিকারক অর্থাৎ দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, ঘানা এবং তানজানিয়ার দিকে তাকাই, তা হলে এই পাঁচটি দেশে ভারতের রফতানি ২০০১ সালে প্রায় ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে প্রায় ১.৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে ভারতের রফতানিতে তাদের সম্মিলিত অংশ ১১ শতাংশেরও বেশি থেকে কমে ৮ শতাংশের একটু উপরে পৌঁছেছে। কারণ ধনী বাজারগুলিতে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি আরও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ভারতের কাঠামোগত রফতানিতে নীরবে গুরুত্বপূর্ণ আফ্রিকান স্তম্ভ তৈরি হয়েছে, যা একটি প্রভাবশালী ট্রান্সআটলান্টিক গ্রাহকের সঙ্গেই সহাবস্থান করছে।
আন্তঃনির্ভরতা, স্থিতিস্থাপকতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের রাজনীতি
চিন থেকে জৈব রাসায়নিকের আমদানি (রেখচিত্র ৩) দর্শায় যে, কূটনৈতিক বা এমনকি সামরিক উত্তেজনাও বাণিজ্যের পরিমাণকে প্রভাবিত করেনি। ২০২০ সালে অবশ্য এর হ্রাস ঘটে, যখন ভারতে আমদানি ২০১৯ সালে প্রায় ২০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে কমে প্রায় ১৮.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে এসে পৌঁছেছে এবং চিন থেকে আমদানির পরিমাণও কিছুটা কমেছে। তবুও ২০২১ সালে আমদানি আবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং সীমান্ত সংঘর্ষের পর চিনা ইনপুট থেকে কাঠামোগত বিচ্ছিন্নতার কোনও প্রমাণ মেলেনি।
নীতি ও কৌশলকে কাঠামোর মধ্যে আনার পর আখ্যানটি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ভারতীয় পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই স্বীকার করা হয়েছে - যা অতিমারি সঙ্কটের দরুন আরও জোরদার হয়েছে – যে, ঘনীভূত এপিআই আমদানির উপর নির্মিত রফতানি সাফল্য স্পষ্টতই ওষুধ সুরক্ষা ঝুঁকি বহন করে। সরকারের প্রতিক্রিয়া - যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কি স্টার্টিং মেটেরিয়ালস (কেএসএম), ইন্টারমিডিয়েটস, এপিআই এবং তিনটি বাল্ক-ড্রাগ পার্কের জন্য উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা (পিএলআই) স্কিম অন্তর্ভুক্ত ছিল - আসলে রফতানি ইঞ্জিনটি ভেঙে না দিয়ে কিছু সংস্কারক্ষম ক্ষমতা পুনর্নির্মাণের একটি প্রচেষ্টা ছিল। যাই হোক, সরকারি তথ্যের সংশ্লেষণ থেকে জানা গিয়েছে যে, ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ সাল পর্যন্ত বাল্ক-ড্রাগ ও মধ্যবর্তী ওষুধের আমদানি প্রায় ২৪,১৭২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩৭,৭২২ কোটি টাকা হয়েছে, যেখানে চিন থেকে আমদানি ১৬,৪৪৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২৭,০০০ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে। ফলে এটি চিনের মূল্যের অংশকে ৭০ শতাংশের উপরে ঠেলে দিয়েছে। এটি নিশ্চিত করে যে, নীতিটি চিনে দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় সুবিধা ও মাত্রাযোগ্য অর্থনীতির জোয়ারের বিরুদ্ধে কাজ করছে এবং সম্ভবত উচ্চমূল্যের জৈব রাসায়নিকের ভারতীয় নির্মাতাদের রফতানি উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধেও কার্যকর থেকেছে।

সূত্র: ট্রেড ম্যাপ থেকে তথ্য, লেখকের সঙ্কলন এবং বিশ্লেষণ
একই সময়ে, চিন থেকে এপিআই এবং মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি করা কেবল একটি দুর্বলতা নয়। এটি ভারতীয় সংস্থাগুলিকে প্রক্রিয়া উদ্ভাবন, নিয়ন্ত্রক সম্মতি এবং ফর্মুলেশনের বাজারে প্রবেশাধিকারের উপর মনোনিবেশ করার অনুমতি দিয়েছে। মার্কিন জেনেরিক বাজারের উপর করা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের বিশ্লেষণ অনুসারে, ধনী দেশগুলিতে ব্যবহৃত অনেক কম দামের ওষুধ ভারতে তৈরি করা হয় এবং এর জন্য মূলত চিন থেকে এপিআই ব্যবহার করা হয়। এর পাশাপাশিই রেখচিত্র ৫ দর্শায় যে, ২০০১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতের জৈব রাসায়নিকের রফতানি - যার মধ্যে এপিআই এবং মধ্যবর্তী ওষুধ রয়েছে - প্রায় ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২১.০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যখন ভারতীয় ওষুধ সংস্থাগুলি চিনা ইনপুটগুলির উপর নির্ভর করতে থাকে।

সূত্র: ট্রেড ম্যাপ থেকে তথ্য, লেখকের সঙ্কলন এবং বিশ্লেষণ
এটি জটিল আন্তঃনির্ভরতারই একটি উদাহরণ: অর্থাৎ একটি ত্রিভুজাকার শৃঙ্খল যা চিন থেকে সস্তা কাঁচামাল আমদানি, প্রস্তুত ওষুধ এবং এপিআই উভয়ের ভারতীয় ওষুধ উৎপাদনের পাশাপাশি ধনী দেশগুলির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সংযুক্ত করে। অ্যান্টিবায়োটিকের মতো নির্দিষ্ট বিভাগে চিনা আমদানির উপর ভারত অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে (রেখচিত্র ৬), যেখানে ভারতে সমস্ত আমদানির ৮৭ শতাংশ আসে চিন থেকে। পিএলআই স্কিমগুলিতে মনোযোগ এবং দেশে জৈব রাসায়নিকের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ সত্ত্বেও বাণিজ্য তথ্য বিশ্লেষণ দেখায় যে, স্বল্পমেয়াদে ভারতের লক্ষ্য চিন থেকে প্রভাবশালী সরবরাহকারী হিসেবে যে কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বিলম্বিত করা, যেখানে বেজিংয়ের খরচ সংক্রান্ত সুবিধা রয়েছে এবং উত্তর ও দক্ষিণের বিস্তৃত দেশগুলিতে নিজস্ব রফতানি সম্প্রসারণ করা। আশ্চর্যের বিষয় হল, গত দু’দশকের বেশির ভাগ সময় ধরে চিন ভারতীয় জৈব রাসায়নিকের জন্য শীর্ষ পাঁচ রফতানি গন্তব্যস্থলের মধ্যে অন্যতম ছিল (রেখচিত্র ৭)।
পিএলআই স্কিমগুলিতে মনোযোগ এবং দেশে জৈব রাসায়নিকের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ সত্ত্বেও বাণিজ্য তথ্য বিশ্লেষণ দেখায় যে, স্বল্পমেয়াদে ভারতের লক্ষ্য চিন থেকে প্রভাবশালী সরবরাহকারী হিসেবে যে কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বিলম্বিত করা, যেখানে বেজিংয়ের খরচ সংক্রান্ত সুবিধা রয়েছে এবং উত্তর ও দক্ষিণের বিস্তৃত দেশগুলিতে নিজস্ব রফতানি সম্প্রসারণ করা।

সূত্র: ট্রেড ম্যাপ থেকে তথ্য, লেখকের সঙ্কলন এবং বিশ্লেষণ
মার্কিন শুল্কের আওতায় জেনেরিক ওষুধ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনও তাৎক্ষণিক আশঙ্কা নেই বলে মনে হলেও মার্কিন প্রশাসনের তরফে ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি রয়ে গিয়েছে। একক বাজারের উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক হিসেবে - কাঁচামালের জন্য চিনের উপর এবং সমাপ্ত পণ্যের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর - ভারতের মূল ক্ষেত্রগুলিতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন শক্তিশালী করার পাশাপাশি রফতানি ও আমদানি উভয় বাজারকেই বৈচিত্র্যময় করার উপায় খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
উম্মেন সি কুরিয়ান অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হেলথ ইনিশিয়েটিভের প্রধান এবং সিনিয়র ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Oommen C. Kurian is Senior Fellow and Head of the Health Initiative at the Inclusive Growth and SDGs Programme, Observer Research Foundation. Trained in economics and ...
Read More +