Author : K. Madan Gopal

Expert Speak Health Express
Published on May 01, 2026 Updated 0 Hours ago

ভারত গুরুত্বপূর্ণ ওয়ান হেলথ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে, কিন্তু নেতৃত্ব নির্ভর করবে এটি বিভিন্ন খাতের মধ্যে বিজ্যানন, নজরদারি, মান এবং শাসনকে সংযুক্ত করতে পারে কি না তার উপর।


এই প্রবন্ধটি ওয়ার্ল্ড হেল্থ ডে ২০২৬: স্ট্যান্ডিং উইথ সায়েন্স ইন অ্যান এজ অফ শেয়ারড রিস্ক’‌  শীর্ষক সিরিজের অংশ।

ভারতের ‘ওয়ান হেলথ’ মুহূর্তের জন্য প্রয়োজন বিজ্ঞান, ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রনীতি

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ এমন এক সময়ে এসেছে যখন স্বাস্থ্য বিষয়ক বিতর্কগুলি রোগের বোঝা ছাড়াও বিজ্ঞান, আস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দ্বারাও সমানভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। এ বছরের মূলভাব, “স্বাস্থ্যের জন্য একতা, বিজ্ঞানের পাশে দাঁড়ান” শুধুমাত্র আবিষ্কারের উপর থেকে মনোযোগ সরিয়ে সেই বৃহত্তর বাস্তুতন্ত্রের দিকে নিয়ে যায়, যা বিজ্ঞানকে মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ এবং এই গ্রহকে রক্ষা করতে সক্ষম করে। বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা, জনআস্থা এবং বহুপাক্ষিক সমন্বয়—এই সবই সেই প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা শুধুমাত্র গবেষণাগার, ওষুধ এবং বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের উপর নির্ভর করবে না। এটি নির্ভর করবে দেশগুলি প্রমাণকে এমন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতে পারে কি না যা আস্থা অর্জন করে, বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে, এবং জনগণের কাছে বৈধতা ধরে রাখে।

ভারতের জন্য, বিষয়টি কৌশলগত। কোভিড-১৯-এর বছরগুলি থেকে দেশটি বৃহত্তর বৈজ্ঞানিক দৃশ্যমানতা, ডিজিটাল গণপরিকাঠামোর উপর দৃঢ় আস্থা, এবং আন্তর্জাতিকভাবে আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্বাস্থ্য পরিচিতি নিয়ে উঠে এসেছে। পরবর্তী পর্যায়টি পরীক্ষা করবে যে এই সক্ষমতাকে টেকসই শাসনব্যবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায় কিনা। ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতিটি এই চ্যালেঞ্জটি নিয়ে ভাবার অন্যতম সুস্পষ্ট একটি উপায় প্রদান করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ‘ওয়ান হেলথ’-কে একটি সমন্বিত পদ্ধতি হিসেবে বর্ণনা করে, যা মানুষ, প্রাণী এবং বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্যকে সর্বোত্তম করার চেষ্টা করে, এবং একই সঙ্গে এই বিষয়গুলিকে সংক্রামক রোগ, খাদ্য নিরাপত্তা, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ এবং পরিবেশগত অখণ্ডতার সঙ্গে সংযুক্ত করে।


মানুষের মধ্যে পরিচিত সংক্রামক রোগগুলির একটি উল্লেখযোগ্য অংশই জুনোটিক, এবং বেশিরভাগ উদীয়মান সংক্রামক রোগের উৎপত্তি প্রাণী থেকে। ভারতে এই মহামারী সংক্রান্ত বাস্তবতা যে কোনও গুরুতর জনস্বাস্থ্য কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে জুনোটিক ঝুঁকিকে। কিন্তু ‘ওয়ান হেলথ’ শুধুমাত্র রোগের প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।


এই সংজ্ঞাটি সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করা উচিত। মানুষের মধ্যে পরিচিত সংক্রামক রোগগুলির একটি উল্লেখযোগ্য অংশই জুনোটিক, এবং বেশিরভাগ উদীয়মান সংক্রামক রোগের উৎপত্তি প্রাণী থেকে। ভারতে, এই মহামারী সংক্রান্ত বাস্তবতা যে কোনও গুরুতর জনস্বাস্থ্য কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে জুনোটিক ঝুঁকিকে। কিন্তু ওয়ান হেলথ শুধুমাত্র রোগের প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। যে চাপগুলি স্পিলওভারকে চালিত করে, সেগুলিই খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ এবং পরিবেশগত চাপকেও প্রভাবিত করে। মানব বসতি, পশুপালন ব্যবস্থা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের ব্যবহার এবং খাদ্য শৃঙ্খল—এই সবই একই বাস্তুতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের অংশ। ওয়ান হেলথ মূল্যবান, কারণ এটি এই সংযোগগুলিকে একটি একক নীতিগত সমস্যার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। সুতরাং, প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ শুধু হাসপাতাল বা জরুরি প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। তাই, এটি সেই বৃহত্তর পরিস্থিতিগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে হতে হবে, যার মধ্যে এই ধরনের ঝুঁকিগুলি উদ্ভূত হয় এবং ছড়িয়ে পড়ে।

ভারত এবং ওয়ান হেলথ কাঠামো

ভারত বিগত কয়েক বছর ধরে ওয়ান হেলথ-এর অনুমোদন থেকে এগিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক নির্মাণের দিকে অগ্রসর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন উপদেষ্টা পরিষদ (পিএম-এসটিআইএসি) কর্তৃক অনুমোদিত ‘ন্যাশনাল ওয়ান হেলথ মিশন’টিকে দেশজুড়ে ‘ওয়ান হেলথ’ কার্যক্রমকে সমন্বয়, সমর্থন এবং সংযুক্ত করার জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রক প্রচেষ্টা হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)। একাধিক মন্ত্রক ও বিভাগ দ্বারা যৌথভাবে তৈরি একটি সমন্বিত কাঠামো এই মিশনকে পথ দেখায়, যা একটি দ্বি-স্তরীয় কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই কাঠামোতে রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি কার্যনির্বাহী কমিটি এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টার সভাপতিত্বে একটি বৈজ্ঞানিক স্টিয়ারিং কমিটি। নাগপুরের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়ান হেলথ’ এই প্রচেষ্টার একটি মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই মিশনের নকশাটি ঝুঁকি এবং প্রস্তুতির একটি ব্যাপক ধারণাকে প্রতিফলিত করে। এর লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে সমন্বিত রোগ নিয়ন্ত্রণ, মহামারী প্রস্তুতি, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, নজরদারি, বিভিন্ন খাতের মধ্যে তথ্য সংযোগ, টিকা, রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট গবেষণা ও উন্নয়ন এবং জনসম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ। সম্মিলিতভাবে, এই উদ্দেশ্যগুলো ইঙ্গিত দেয় যে ‘ওয়ান হেলথ’-কে শুধুমাত্র মাঠ পর্যায়ের মহামারীবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শাসনব্যবস্থা, তথ্য ব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক সমন্বয় এবং প্রস্তুতির একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্যগুলির বৃহত্তর সম্পৃক্ততার দিকেও পদক্ষেপ করা শুরু হয়েছে। জুন ২০২৫-এ, জাতীয় ‘ওয়ান হেলথ মিশন’-এর অধীনে শাসনব্যবস্থার কাঠামো এবং পরিচালন পরিকল্পনাকে সহায়তা করার জন্য প্রথম রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।


অ্যান্টি-‌মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্লিনিকাল সেবা, পশুচিকিৎসায় ব্যবহার, কৃষি, বর্জ্য জল দূষণ, সংক্রমণ প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয় এবং বাজারের আচরণের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত। কোনও একক বিভাগ এত বড় একটি ক্ষেত্রকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারে না। ভারত যদি অ্যান্টি-‌মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ নীতিতে ‘ওয়ান হেলথ’ দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, তবে এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য ফোরামগুলিতে প্রচারিত বহু ঘোষণার চেয়ে বহু-খাতভিত্তিক শাসনের একটি অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য উদাহরণ স্থাপন করবে।



এই কাঠামোটি জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মাধ্যমেও শক্তিশালী হয়েছে। এর 'সেন্টার ফর ওয়ান হেলথ' বেশ কয়েকটি জাতীয় কর্মসূচিতে কাজ করে, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, জুনোসিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য জাতীয় ওয়ান হেলথ কর্মসূচি, লেপ্টোস্পাইরোসিস কর্মসূচি এবং সর্পদংশনজনিত বিষক্রিয়া প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা। এর বৃহত্তর লক্ষ্য হল আন্তঃখাত সমন্বয়, সমন্বিত নজরদারি, সেন্টিনেল সাইট, যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, জনসচেতনতা এবং কর্মভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে জাতীয় স্তর থেকে জেলা ও তার নিচের স্তর পর্যন্ত 'ওয়ান হেলথ'কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। ২০৩০ সালের মধ্যে কুকুরবাহিত জলাতঙ্ক নির্মূল করার উদ্যোগটি এই দৃষ্টিভঙ্গিকে একটি সুনির্দিষ্ট সরকারি কর্মসূচিতে বাস্তবায়নের অন্যতম স্পষ্ট উদাহরণ। ভারতের উচিত ‘ওয়ান হেলথ’-কে এমন একটি শাসন কাঠামো হিসেবে গ্রহণ করা, যা স্বাস্থ্য সুরক্ষা, খাদ্য ব্যবস্থা, অ্যান্টি-‌মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ এবং পরিবেশগত স্থিতিস্থাপকতার মতো বিষয়গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

অ্যান্টি-‌মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ এবং বিচ্ছিন্ন শাসন ব্যবস্থা

ভারত ২০২৫-২৯ সালের জন্য ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ২.০ বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’র মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে। এই পরিকল্পনাটি মানব স্বাস্থ্য, গবেষণা, নাগরিক সমাজ, পরিবেশ এবং পশুপালন ক্ষেত্রের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে, যেখানে বিশটিরও বেশি মন্ত্রক ও বিভাগ জড়িত ছিল। এই ব্যাপকতাই সেই সমস্যার মূল কেন্দ্রবিন্দু, যা এই পরিকল্পনাটি সমাধান করতে চায়। অ্যান্টি-‌মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্লিনিকাল সেবা, পশুচিকিৎসায় ব্যবহার, কৃষি, বর্জ্য জল দূষণ, সংক্রমণ প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয় এবং বাজারের আচরণের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত। কোনও একক বিভাগ এত বড় একটি ক্ষেত্রকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারে না। ভারত যদি অ্যান্টি-‌মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ নীতিতে ‘ওয়ান হেলথ’ দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, তবে এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য ফোরামগুলিতে প্রচারিত বহু ঘোষণার চেয়ে বহু-খাতভিত্তিক শাসনের একটি অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য উদাহরণ স্থাপন করবে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এই যুক্তিকে আরও শক্তিশালী করে। চতুষ্পাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলি—খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, রাষ্ট্রপুঞ্জ পরিবেশ কর্মসূচি, বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা—আরও স্থিতিস্থাপক ব্যবস্থার মাধ্যমে জটিল ঝুঁকির মোকাবিলা করতে শক্তিশালী জাতীয় সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২-২০২৬ সালের জন্য ‘ওয়ান হেলথ জয়েন্ট প্ল্যান অফ অ্যাকশন’ চালু করেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদ ‘ডব্লিউএইচও প্যান্ডেমিক এগ্রিমেন্ট’ গ্রহণ করে, যা গভীরতর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানায়। তার পাশাপাশি এটি দেশগুলিকে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা ছাড়াও মহামারী প্রতিরোধ ও প্রস্তুতির জন্য বহু-খাতভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে উৎসাহিত করে। ২০২৩ সালে ভারতের জি-২০ সভাপতিত্ব ‘ওয়ান হেলথ’, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স, জলবায়ু-সহনশীল ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা প্রতিষেধকের ন্যায়সঙ্গত প্রাপ্তির দিকে অধিকতর মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল।

এই অগ্রগতিগুলি ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগও উন্মুক্ত করে। এটি শুধু জটিল উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এমন একটি বৃহৎ দেশ হিসেবেই নয়, বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে সক্ষম প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিজ্ঞানকে শাসনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে চাওয়া একটি দেশ হিসেবেও কথা বলতে পারে।



এই অগ্রগতিগুলি ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগও উন্মুক্ত করে। এটি শুধু জটিল উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এমন একটি বৃহৎ দেশ হিসেবেই নয়, বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে সক্ষম প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিজ্ঞানকে শাসনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে চাওয়া একটি দেশ হিসেবেও কথা বলতে পারে। এই অভিজ্ঞতা গ্লোবাল সাউথ জুড়ে প্রতিধ্বনিত হবে, যেখানে অনেক দেশ মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে নিবিড় সংস্পর্শ, অসম নজরদারি, ভঙ্গুর পরীক্ষাগার বাস্তুতন্ত্র, জলবায়ুগত চাপ এবং সীমিত আর্থিক সংস্থানের মতো একই ধরনের চাপের সম্মুখীন। টিকা, জেনেরিক ওষুধ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, মাঠ পর্যায়ের মহামারীবিদ্যা, এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভারতের প্রকৃত শক্তি রয়েছে। তবে, পরবর্তী পর্যায়ে শুধু সরবরাহের চেয়েও বেশি কিছুর প্রয়োজন হবে: এর জন্য প্রয়োজন হবে মান, আস্থা এবং দেশীয় ব্যবস্থাগুলি যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুসংহতভাবে কাজ করতে পারে তার প্রমাণ।

সমন্বয়ই ভারতের ‘ওয়ান হেলথ’ উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সংজ্ঞায়িত করবে

ভারতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ হল বাস্তবে সমন্বয়কে কার্যকর করা। ‘ওয়ান হেলথ’-এর ব্যাপক কাঠামোটি উন্নত হচ্ছে, কিন্তু মানব স্বাস্থ্য, পশুচিকিৎসা পরিষেবা, বন্যপ্রাণী, খাদ্য ব্যবস্থা, জল এবং পরিবেশ কর্তৃপক্ষের মধ্যে দৈনন্দিন সমন্বয় এখনও অসম। নজরদারি এখনও মূলত খাতভিত্তিক সীমানার মধ্যেই পরিচালিত হয়। পরীক্ষাগার নেটওয়ার্কগুলি এখনও সম্পূর্ণরূপে আন্তঃকার্যকরী ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে না। বর্জ্য জলের সংকেত এবং পরিবেশগত ঝুঁকির সূচকসহ পরিবেশগত তথ্য এখনও প্রয়োজনীয় মাত্রায় নিয়মিত জনস্বাস্থ্য চর্চায় প্রবেশ করতে পারেনি। আন্তঃক্ষেত্র পরিকল্পনার সক্ষমতা, প্রণোদনা এবং প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও রাজ্য ও জেলা প্রশাসনগুলির মধ্যে তীব্র পার্থক্য রয়েছে। এমনকি মিশন নথিগুলিতেও স্বীকার করা হয়েছে যে এই সক্ষমতাগুলির অনেক কিছুই এখনও নির্মীয়মান।

যখন প্রতিষ্ঠানগুলি হুমকি আগেভাগে শনাক্ত করে, স্পষ্টভাবে যোগাযোগ করে, ন্যায্যভাবে কাজ করে এবং দক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে, তখন বিজ্ঞানের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়। বিজ্ঞান-চালিত একটি রাষ্ট্রকে শুধু গবেষণায় অর্থায়ন করলেই চলবে না;‌ তাকে তথ্যের সঙ্গে সিদ্ধান্ত, গবেষণাগারের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে জনদায়বদ্ধতার সংযোগ স্থাপন করতে হবে।



নেতৃত্ব শুধু বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার উপর নির্ভর করবে না; এটি নির্ভর করবে বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান, আন্তঃকার্যকরী ব্যবস্থা এবং এমন শাসন কাঠামোর উপর যা বিভিন্ন ক্ষেত্রকে একযোগে কাজ করতে সক্ষম করে। এই সক্ষমতাগুলি যেমন মহামারী মোকাবিলার রূপ দেয়, তেমনই জনআস্থাও তৈরি করে। যখন প্রতিষ্ঠানগুলি হুমকি আগেভাগে শনাক্ত করে, স্পষ্টভাবে যোগাযোগ করে, ন্যায্যভাবে কাজ করে এবং দক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে, তখন বিজ্ঞানের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়। বিজ্ঞান-চালিত একটি রাষ্ট্রকে শুধু গবেষণায় অর্থায়ন করলেই চলবে না;‌ তাকে তথ্যের সঙ্গে সিদ্ধান্ত, গবেষণাগারের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে জনদায়বদ্ধতার সংযোগ স্থাপন করতে হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ‘ওয়ান হেলথ’ কর্মসূচিটি সরাসরি রাষ্ট্রের সক্ষমতা সংক্রান্ত প্রশ্নের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত। এটি সম্মিলিত গোয়েন্দা তথ্য, অভিন্ন প্রোটোকল, যৌথ তদন্ত, সাধারণ ড্যাশবোর্ড, সমন্বিত প্রশিক্ষণ এবং এমন অর্থায়ন ব্যবস্থার আহ্বান জানায় যা আমলাতান্ত্রিক বিচ্ছিন্নতার পরিবর্তে সহযোগিতাকে পুরস্কৃত করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের রূপরেখা এই চ্যালেঞ্জের একটি অংশকে তুলে ধরে, যেখানে আস্থা পুনর্নির্মাণ এবং জনজীবনে বিজ্ঞান-ভিত্তিক সমাধানগুলির একটি শক্তিশালী স্থান করে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ওয়ান হেলথ, সংকট মোকাবিলা এবং নিয়মিত শাসনব্যবস্থা

ভারতীয় নীতি ব্যবস্থায় ‘ওয়ান হেলথ’-কে শুধুমাত্র সংকটকালে সক্রিয় করার মতো কিছু হিসেবে বিবেচনা করার অভ্যাস পরিহার করা উচিত। এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি দেশটিকে স্থায়ীভাবে প্রতিক্রিয়ানির্ভর করে তুলবে। ‘ওয়ান হেলথ’-কে শাসন ও প্রশাসনের দৈনন্দিন কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এটি জেলা প্রস্তুতি, নগর পরিকল্পনা, পরীক্ষাগার কৌশল, পশুচিকিৎসা-জনস্বাস্থ্য সমন্বয়, জলবায়ু ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপকে প্রভাবিত করবে। এটি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক, মহামারী বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, পশুচিকিৎসক, পরিবেশ বিজ্ঞানী এবং স্থানীয় প্রশাসকদের প্রশিক্ষণকেও রূপ দেবে। একটি মিশন কাঠামো এই প্রক্রিয়াটিকে গতিশীল করতে পারে, কিন্তু স্থায়ী ফলাফল নির্ভর করবে ধারাবাহিক প্রশাসনিক পুনর্গঠনের উপর।

ভারত তার ‘ওয়ান হেলথ’ যাত্রার একটি নির্ণায়ক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর সামনে প্রশ্নটি এই নয় যে এই কাঠামোর কোনও মূল্য আছে কি না, বরং এটি বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগ করা সম্ভব কি না। এই পরীক্ষাই নির্ধারণ করবে যে ভারত বিশ্ব স্বাস্থ্যের ক্রমবিকাশমান ভাষায় এক অংশগ্রহণকারী হিসেবে থাকবে, নাকি এর প্রাতিষ্ঠানিক শর্তাবলি রচনায় অবদান রাখবে। গ্লোবাল  সাউথে নেতৃত্ব নির্ভর করবে প্রথমে নিজ দেশে ‘ওয়ান হেলথ’ কার্যকর করার উপর। তাই ভারতে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬-কে একটি স্মরণীয় উপলক্ষ হিসেবে না দেখে একটি নীতিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা উচিত। বিজ্ঞানের পাশে দাঁড়ানোর অর্থ শুধু ভুল তথ্য বা অস্বীকৃতিবাদের বিরুদ্ধে প্রমাণকে রক্ষা করা নয়। এর জন্য এমন ব্যবস্থা প্রয়োজন যা বিজ্ঞানকে বিভিন্ন মন্ত্রক, রাজ্য, প্রজাতি এবং সীমান্ত জুড়ে পৌঁছে দেবে। ভারত ইতিমধ্যেই এর বেশ কিছু ভিত্তি স্থাপন করেছে। পরবর্তী কাজ হল সেগুলোকে একটি টেকসই সক্ষমতায় পরিণত করা। এর সাফল্য ভারতের জনগণের সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং যৌথ ঝুঁকির এই যুগে বিজ্ঞান, সার্বভৌমত্ব, উন্নয়ন ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে কীভাবে সমন্বিত করা যায়, তার একটি বাস্তব উদাহরণ স্থাপন করবে।



ডঃ কে. মদন গোপাল সিনিয়র স্বাস্থ্য ক্ষেত্র বিশেষজ্ঞ এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা উপদেষ্টা। স্বাস্থ্য নীতি, সুশাসন এবং ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে তাঁর ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি পূর্বে নীতি আয়োগে সিনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

K. Madan Gopal

K. Madan Gopal

Dr. K. Madan Gopal is a senior public health expert with over three decades of experience in health sector reforms and health systems strengthening in ...

Read More +