জাতীয়ভাবে একটি ইন্টিগ্রেটেড ওয়ান হেলথ ব্যবস্থার দিকে জরুরি পরিবর্তন প্রয়োজন।
ভারতে গুলিয়েন-বারে সিনড্রোম-এর (জিবিএস) সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় একটি ইন্টিগ্রেটেড ওয়ান হেলথ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়। পুনেকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্র, অন্ধ্র প্রদেশ, আসাম, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই প্রাদুর্ভাব এ বছর ২৩ জনের মৃত্যু ঘটিয়েছে, ২০০টিরও বেশি কেস রিপোর্ট করা হয়েছে।
এই প্রাদুর্ভাব স্নায়বিক ব্যাধির সূত্রপাতের ক্ষেত্রে পরিবেশগত দূষণের ভূমিকা এবং আরও বিস্তৃতভাবে, এই ধরনের জনস্বাস্থ্য হুমকি মোকাবিলায় ভারতের প্রস্তুতি সম্পর্কে, প্রশ্ন উত্থাপন করে।
একটি অপ্রত্যাশিত উৎসসহ একটি স্নায়বিক ব্যাধি
জিবিএস হল একটি গুরুতর স্নায়বিক ব্যাধি যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে তার নিজের স্নায়ুকে আক্রমণ করে, যার ফলে দুর্বলতা, পক্ষাঘাত এবং চরম ক্ষেত্রে শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা দেখা দেয়। রোগ নির্ণয় করা চ্যালেঞ্জিং, কারণ লক্ষণগুলি অন্যান্য স্নায়বিক অবস্থার জন্য একই রকম, এবং চিকিৎসকেরা প্রায়শই জিবিএস নির্ণয়ের জন্য ক্লিনিকাল বৈশিষ্ট্য এবং পরীক্ষার উপর নির্ভর করেন। [১] যদিও অনেক রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন, কিছু রোগীর প্লাজমাফেরেসিস এবং ইমিউনোগ্লোবিউলিন থেরাপির মতো গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়।
কিন্তু এই প্রাদুর্ভাবের পেছনের আসল গল্প হল জল। ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাল সংক্রমণের পরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জিবিএস কেস তৈরি হয়। সবচেয়ে সুপরিচিত ট্রিগারগুলির মধ্যে একটি হল ক্যাম্পিলোব্যাক্টর জেজুনি, একটি ব্যাকটেরিয়া যা গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস সৃষ্টি করে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় জিবিএস চালক। পুনেতে প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে এই ব্যাকটেরিয়া জড়িত।
মানুষ, প্রাণী এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্য তথ্য একীভূত করে এমন একটি বিস্তৃত নজরদারি ব্যবস্থা না থাকলে এই ধরনের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অন্ধ হয়ে থাকবেন।
সি জেজুনি হল একটি জুনোটিক রোগজীবাণু। এগুলি পুরোপুরি রান্না না হওয়া মুরগি, আনপাস্তুরাইজড দুগ্ধজাত পণ্য, এবং দূষিত জলের মাধ্যমে খাদ্য শৃঙ্খলে প্রবেশ করতে পারে। যদিও সি জেজুনির সংক্রমণ সাধারণত স্ব-সীমাবদ্ধ থাকে, কিছু ক্ষেত্রে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিপর্যস্ত হয়ে যায়, যার ফলে জিবিএস হয়। এটি ঘটে যখন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তৈরি অ্যান্টিবডিগুলি ভুলভাবে পেরিফেরাল স্নায়ুগুলিকে আবৃত করে এমন গ্যাংলিওসাইডগুলিকে আক্রমণ করে, যার ফলে অ্যাক্সোনাল ডিগ্রেডেশন এবং ডিমাইলিনেশন এবং অবশেষে পক্ষাঘাত হয়।
বিশ্বব্যাপী একই রকম প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ২০২৩ সালে, পেরুতে সি জেজুনি-প্ররোচিত জিবিএস প্রাদুর্ভাবের পর স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল।[২] ব্রাজিলে জিকা ও চিকুনগুনিয়া ভাইরাস জিবিএস সংখ্যার বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত ছিল। [৩] জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ও স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট (নিমহান্স)-এর একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ৮০% জিবিএস-এর আগে অন্য সংক্রমণ হয়েছিল — বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস। [৪] মানুষ, প্রাণী এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্য তথ্য একীভূত করে এমন একটি বিস্তৃত নজরদারি ব্যবস্থা না থাকলে এই ধরনের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অন্ধ হয়ে থাকবেন।
সুদূরপ্রসারী পরিণতিসহ জল সংকট
পুনেতে প্রাদুর্ভাব আবারও দূষিত জলের বিপদ তুলে ধরেছে, যা ভারতে একটি পুনরাবৃত্ত জনস্বাস্থ্য হুমকি। তদন্তে দেখা গিয়েছে যে সি জেজুনি হয়তো পয়ঃনিষ্কাশন দূষণের মাধ্যমে জল সরবরাহ প্রণালীতে প্রবেশ করেছে, যার মধ্যে রিভার্স অসমোসিস (আরও) সিস্টেমে অনুপ্রবেশও রয়েছে। এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিশ্বব্যাপী, সি জেজুনির সঙ্গে সম্পর্কিত পূর্ববর্তী প্রাদুর্ভাবগুলির কারণ হিসাবে অপ্রতুল জল পরিশোধন এবং স্থানীয় বন্যার ঘটনাগুলিকে সনাক্ত করা হয়েছে, যা দূষিত ভূপৃষ্ঠের জলকে ভূগর্ভস্থ জলের উৎসগুলিতে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম করেছিল। [৫]
তদন্তে দেখা গিয়েছে যে সি জেজুনি হয়তো পয়ঃনিষ্কাশন দূষণের মাধ্যমে জল সরবরাহ প্রণালীতে প্রবেশ করেছে, যার মধ্যে রিভার্স অসমোসিস (আরও) সিস্টেমে অনুপ্রবেশও রয়েছে।
এর প্রভাব জিবিএস ছাড়িয়ে যায়। জলবাহিত গ্যাস্ট্রোএন্টেরিক সংক্রমণ জনস্বাস্থ্যের উপর ভারী বোঝা চাপিয়ে দেয়, যার ফলে ব্যাপক অসুস্থতা, উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ব্যয় হয়। বিশ্ব ব্যাঙ্কের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, খাদ্যবাহিত অসুস্থতার চিকিৎসার বার্ষিক বিশ্বব্যাপী ব্যয় ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। পুনের প্রাদুর্ভাব এটি স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেয় যে খাদ্য ও জলের নিরাপত্তা শুধু নিয়ন্ত্রক উদ্বেগ নয়। এগুলি স্বাস্থ্য সুরক্ষার কেন্দ্রবিন্দু।
ওয়ান হেলথ অপরিহার্য
এই ধরনের প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ওয়ান হেলথ পদ্ধতি অনুসরণ অপরিহার্য। ওয়ান হেলথ স্বীকার করে যে মানুষের স্বাস্থ্য প্রাণী ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যের সঙ্গে জটিলভাবে জড়িত।[৬] এই ধরনের প্রাদুর্ভাবের জন্য একটি শক্তিশালী জনস্বাস্থ্য প্রতিক্রিয়ার মধ্যে কৃষি এবং পশুচিকিৎসা থেকে শুরু করে পরিবেশ বিজ্ঞান এবং মানব স্বাস্থ্যসেবা পর্যন্ত একাধিক ক্ষেত্রে সমন্বিত নজরদারি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
ঠিক এখানেই ভারত তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। যদিও দেশ ওয়ান হেলথ কাঠামো গ্রহণে অগ্রগতি করেছে, বাস্তবায়ন এখনও খণ্ডিত। পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ জোরদার করা, কঠোর খাদ্য নিরাপত্তা বিধিমালা প্রয়োগ করা, এবং সঠিক স্যানিটেশন পরিকাঠামো নিশ্চিত করা — এই সবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু এর বাইরেও, ভারতকে প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণের জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জামগুলিতে বিনিয়োগ করতে হবে।
পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ জোরদার করা, কঠোর খাদ্য নিরাপত্তা বিধিমালা প্রয়োগ করা, এবং সঠিক স্যানিটেশন পরিকাঠামো নিশ্চিত করা — এই সবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এরকম একটি হাতিয়ার হল হোল জিনোম সিকোয়েন্সিং (ডাবলুজিএস), যা বিজ্ঞানীদের অভূতপূর্ব অভ্রান্ততার সঙ্গে প্রাদুর্ভাবের উৎস খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। এটি ডাবলুজিএস প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী সি জেজুনি-র সঠিক প্রজাতি নির্ধারণ করতে পারে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য, কারণ ব্যাকটেরিয়ার সমস্ত প্রজাতি জিবিএস সৃষ্টি করে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) খাদ্যজনিত প্রাদুর্ভাব তদন্তের জন্য ডাবলুজিএস-কে দৃঢ়ভাবে সুপারিশ করে, তবুও উচ্চ খরচ, গ্রামীণ এলাকায় পরিকাঠামোর অভাব এবং প্রশিক্ষিত কর্মীদের অভাবের কারণে ভারতে এর গ্রহণ সীমিত।
একটি বিশ্বব্যাপী হুমকি
এই চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি ভারত একা নয়। বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা জুনোটিক রোগের প্রাদুর্ভাবের ক্রমবর্ধমান পুনঃপৌনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে লড়াই করছে। জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণ এবং কৃষির ঘনত্ববৃদ্ধি — এই সমস্ত এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যা রোগজীবাণুগুলিকে প্রাণী এবং মানুষের মধ্যে আরও সহজে ছড়িয়ে পড়তে দেয়। এই প্রেক্ষাপটে পুনে প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে ভারতের প্রতিক্রিয়ায় সহায়তা করার ক্ষেত্রে হু-এর অব্যাহত অংশগ্রহণ স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় সংস্থার কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে আরও জোরদার করেছে।
পরিশেষে, জনস্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্ব জাতীয় সরকারগুলির। ভারত এই ধরনের প্রাদুর্ভাবকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে না। পরিবর্তে, তাদের ওয়ান হেলথ নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে, খাদ্য ও জলবাহিত রোগজীবাণুগুলির প্রাথমিক সনাক্তকরণ উন্নত করতে, এবং আন্তঃক্ষেত্রীয় সমন্বয় বৃদ্ধি করতে সক্রিয় পদক্ষেপ করতে হবে।
ওয়ান হেলথ নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে, খাদ্য ও জলবাহিত রোগজীবাণুগুলির প্রাথমিক সনাক্তকরণ উন্নত করতে, এবং আন্তঃক্ষেত্রীয় সমন্বয় বৃদ্ধি করতে সক্রিয় পদক্ষেপ করতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশগত দূষণকারীদের পর্যবেক্ষণ জোরদার করা, কৃষি প্রতিকার অন্তর্ভুক্ত করা, নিরাপদ পশুপালন অনুশীলনের প্রচার, মানুষ-প্রাণীর যোগাযোগকে প্রভাবিত করে এমন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কারণগুলি বিবেচনা, পর্যাপ্ত খাদ্য সুরক্ষা অনুশীলন নিশ্চিত করা এবং জল, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) ব্যবস্থাপনা প্রোটোকলের কঠোর আনুগত্য। [৭]
হোল-জিনোম সিকোয়েন্সিং (ডাবলুজিএস) হল হু-র পরামর্শ অনুসারী গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড টেকনিক যা ওয়ান হেলথ দৃষ্টিকোণ থেকে খাদ্যবাহিত প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করে। এটি উৎসের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করতে সক্ষম করে, বিশেষ করে যেহেতু সি জেজুনি-র সমস্ত প্রজাতি জিবিএস সৃষ্টি করে না, এবং প্রাদুর্ভাবের উৎস ও মাত্রা সনাক্ত করতে সহায়তা করে। [৮] এই প্রাদুর্ভাবগুলি পর্যবেক্ষণে ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জগুলি হল ডাবলুজিএস সম্পর্কিত উচ্চ ব্যয়, গ্রামীণ পরিবেশে পরিকাঠামোগত সহায়তা এবং প্রশিক্ষিত বৈজ্ঞানিক কর্মীর অপ্রতুলতা, এবং দেশের ওয়ান হেলথ নজরদারি ব্যবস্থার সঙ্গে একীকরণ। [৯]
[১] লুপু, ভি. ভি. প্রমুখ। চিলড়েন ৯, ১৯৬৯ (২০২২)।
[২] কুইনো, ডব্লিউ. প্রমুখ। মাইক্রোবায়োল স্পেকটার ১০, ই০১১৮৭-২২ (২০২২)।
[৩] লিওনহার্ড, এস. ই. প্রমুখ। জে নিউরোল সায়েন্স ৪২০, ১১৭২৭২ (২০২১)।
[৪] দত্ত, ডি. প্রমুখ। জে পেরিফেরাল নার্ভাস সিস্টেম ২৬, ২৯৮–৩০৬ (২০২১)।
[৫] জ্যাকসন, বি. আর. প্রমুখ। এপিডেমিওল ইনফেক্ট ১৪২, ১০৮৯–১০৯৯ (২০১৪)।
[৬] ডেসৌকি, ওয়াই. ই. প্রমুখ। গাট প্যাথোজেনস ১৪, ৪৪ (২০২২)।
[৭] প্রাতা, জে. জে. এমার্জ। কনটাম। ন্যানোপ্লাস্টিক্স ১, ১৫ (২০২২)।
[৮] ডেসৌকি, ওয়াই. ই. প্রমুখ। গাট প্যাথোজেনস ১৪, ৪৪ (২০২২)।
[৯] বার্নাল, জে. এফ. প্রমুখ। আইজেআইডি রিজিয়নস ৯, ৮০–৮৭ (২০২৩)
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Lakshmy is an Associate Fellow with ORF’s Centre for New Economic Diplomacy. Her work focuses on the intersection of biotechnology, health, and international relations, with a ...
Read More +