সাহসী নতুন নীতি প্রণয়নের পর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় ভারতের সাফল্য এখন নির্ভর করছে উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে কার্যকর ও সমন্বিত বাস্তবায়নে রূপান্তরিত করার ওপর।
খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন (এমএমডিআর) ২০২৫
জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশনের জন্য ৩৪,০০০ কোটি টাকার একটি সার্বভৌম তহবিল বরাদ্দ করার সরকারি সিদ্ধান্ত, যার মধ্যে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের বৈশ্বিক অনুসন্ধান ও অধিগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত, একটি সাহসী এবং দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করে।
একটি জাতীয় অনুসন্ধান অংশীদারিত্ব
ভারতের খনিজ সম্পদ — বিশেষ করে লিথিয়াম, কোবাল্ট, নিকেল এবং বিরল মৃত্তিকা উপাদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির জন্য — এখনও ব্যাপকভাবে অনাবিষ্কৃত রয়ে গিয়েছে। যদিও জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (জিএসআই) ভিত্তি মানচিত্র তৈরির একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে, তবুও দেশে অনুমানমূলক অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় হাই-রেজোলিউশনের ৪ডি ভূতাত্ত্বিক ডেটাসেটের অভাব রয়েছে। এমএমডিআর আইন ২০২৫, যা অনুসন্ধান এবং সার্বভৌম তহবিলের উপর জোর দেয়, ভারতের অনুসন্ধান বাস্তুতন্ত্রকে নতুন করে সাজানোর একটি সুযোগ তৈরি করেছে। একটি বৈজ্ঞানিক জ্ঞানভিত্তিক কৌশলকে অবশ্যই এই স্তম্ভের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করতে হবে।
জিএসআই-এর উচিত উন্নত ভূ-ভৌত, ভূ-রাসায়নিক, আইসোটোপিক (এজ) এবং রিমোট-সেন্সিং ডেটাসেটগুলিকে একীভূত করে একটি ন্যাশনাল মিনারেল সিস্টেম ম্যাপিং কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়া। এই প্রচেষ্টাগুলির চূড়ান্ত ফলস্বরূপ সমগ্র দেশ জুড়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির জন্য আঞ্চলিক খনিজ লক্ষ্য নির্ধারণ (আরএমটি) কর্মসূচির মাধ্যমে, এবং সক্ষম নোটিফায়েড বেসরকারি অনুসন্ধান সংস্থাগুলির (এনপিইএ) সহযোগিতায়, ব্যাপক ভূগর্ভস্থ ভূতাত্ত্বিক মডেল এবং খনিজ উর্বরতা মানচিত্র তৈরি করা উচিত। জিএসআই-এর ভূমিকা একটি শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান প্রদানকারী হিসেবে বিকশিত হওয়া উচিত, যা অনুসন্ধানকে পথ দেখানোর জন্য উচ্চ মানের প্রতিযোগিতামূলক ডেটাসেট সরবরাহ করবে। এর পরিপূরক হিসেবে, এনপিইএ-গুলির উচিত জাতীয় খনিজ অনুসন্ধান ট্রাস্ট (এনএমইটি )-এর তহবিল ব্যবহার করে তাদের ক্ষিপ্রতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে কাজে লাগানো, যাতে ব্যাপক প্রতিযোগিতা-পূর্ব অনুসন্ধান পরিচালনা করা যায় এবং খনিজ উর্বরতা বিশ্লেষণ থেকে প্রাপ্ত উচ্চ-অগ্রাধিকারের লক্ষ্যগুলিকে পদ্ধতিগতভাবে পরীক্ষা করা যায়। এই সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার বৈজ্ঞানিক পরিকাঠামোকে বেসরকারি উদ্যোগের সক্ষমতার সঙ্গে সারিবদ্ধ করবে, যা অনুসন্ধানের দক্ষতা ব্যাপকভাবে উন্নত করবে, আবিষ্কারকে ত্বরান্বিত করবে, এবং ভারতকে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে দেখা বৈশ্বিক সর্বোত্তম অনুশীলনের কাছাকাছি নিয়ে যাবে।
একটি বিনিয়োগ-বান্ধব নিয়ন্ত্রক ও আর্থিক বাস্তুতন্ত্র
ভারতের নিয়ন্ত্রক সংস্কার, যেমন এক্সপ্লোরেশন লাইসেন্স (ইএল) এবং কম্পোজিট লাইসেন্স (সিএল) প্রবর্তন করা হলেও, এবং এগুলিকে অগ্রগতি হিসেবে গণ্য করা গেলেও, যুগান্তকারী অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় ঝুঁকি মূলধন আকর্ষণ করার জন্য তা যথেষ্ট নয়। কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো শীর্ষস্থানীয় দেশগুলি অনুসন্ধানকারীদের শক্তিশালী মেয়াদ ও স্বত্বের নিরাপত্তার অধীনে স্বাধীনভাবে এলাকা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়, এবং অনুসন্ধানের অধিকারকে হস্তান্তরযোগ্য সম্পদ হিসেবে গণ্য করে। এটি নমনীয়তা তৈরি করে, বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে এবং অনুসন্ধানকারী সংস্থাগুলিকে শেয়ার বাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করার সুযোগ দেয়। ভারতেরও অনুরূপ একটি মডেল গ্রহণ করা উচিত। অনুসন্ধানকারীদের জন্য তাদের আবিষ্কৃত খনিজ সম্পদের উপর স্পষ্ট অধিকার এবং পরিবেশগত ও বন বিভাগের অনুমোদনের জন্য একটি সহজ প্রক্রিয়া এই ক্ষেত্রে প্রবেশের বাধা কমিয়ে দেবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরির জন্য একটি অনুমানযোগ্য, স্বচ্ছ এবং সুসমন্বিত রাজ্য-কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জিএসআই-এর ভূমিকা একটি শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান প্রদানকারী হিসেবে বিকশিত হওয়া উচিত, যা অনুসন্ধানকে পথ দেখানোর জন্য উচ্চ মানের প্রতিযোগিতামূলক ডেটাসেট সরবরাহ করবে। এর পরিপূরক হিসেবে, এনপিইএ-গুলির উচিত জাতীয় খনিজ অনুসন্ধান ট্রাস্ট (এনএমইটি)-এর তহবিল ব্যবহার করে তাদের ক্ষিপ্রতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে কাজে লাগানো, যাতে ব্যাপক প্রতিযোগিতা-পূর্ব অনুসন্ধান পরিচালনা করা যায় এবং খনিজ উর্বরতা বিশ্লেষণ থেকে প্রাপ্ত উচ্চ-অগ্রাধিকারের লক্ষ্যগুলিকে পদ্ধতিগতভাবে পরীক্ষা করা যায়।
আর্থিক দিক থেকে, একটি দেশীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হলে মূল্যের স্বচ্ছতা আনা যাবে, বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানো যাবে, এবং বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে ঝুঁকি বণ্টনের সুযোগ তৈরি হবে। ভারতের অনুসন্ধান ক্ষেত্রকে বৈশ্বিক রিপোর্টিং মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ইন্ডিয়ান মিনারেল ইন্ডাস্ট্রি কোডের (আইএমআইসি) সঙ্গে যুক্ত করলে বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে। অনুসন্ধানকারীদের বিএসই এবং এনএসই-তে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করলে বিপুল পরিমাণ দেশীয় পুঁজি উন্মুক্ত হবে, যা তুলনামূলকভাবে ছোট অনুসন্ধানকারী ও খনি কোম্পানিগুলিকে কার্যকরভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মূলধন বিনিয়োগ করতে সক্ষম করবে। এই সংস্কারগুলি ভারতের অনুসন্ধান ক্ষেত্রকে রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত অবস্থা থেকে মুক্ত করে আবিষ্কারের একটি বাজার-চালিত ইঞ্জিনে রূপান্তরিত করবে।
প্রবাসীদের সঙ্গে সংযুক্ত একটি বৈদেশিক অধিগ্রহণ মডেল
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব উদ্যোগের (পিএসইউ) মাধ্যমে বিদেশে খনিজ সম্পদ সুরক্ষিত করার ভারতের প্রচেষ্টা ঐতিহাসিকভাবে আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব এবং বাণিজ্যিক তৎপরতার অভাবে ব্যর্থ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অধিগ্রহণের জন্য একটি সার্বভৌম তহবিল নির্দিষ্ট করা হলেও, ভারতের বৈদেশিক অধিগ্রহণ কৌশলের একটি সাহসী পুনর্গঠন অপরিহার্য। সরকারি উদ্যোগ ও প্রবাসী অংশীদারিত্বের একটি মডেল, যা সরকারের-সঙ্গে-সরকারের (জিটুজি) সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পরিপূরণ করা হবে, একটি বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারে। অনেক উদ্যমী ভারতীয় উদ্যোক্তা ইতিমধ্যেই বিদেশে, বিশেষ করে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে অংশীদারিত্ব অর্জন করেছেন।
এই বিদ্যমান নেটওয়ার্কগুলিকে কাজে লাগিয়ে ভারত একটি সার্বভৌম-সমর্থিত বিশেষ উদ্দেশ্যসাধক সংস্থা (এসপিভি) হিসেবে ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ওভারসিজ অ্যাকুইজিশন অথরিটি (সিএমওএএ) প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এই সংস্থাটি একটি কৌশলগত বিনিয়োগ শাখা হিসেবে কাজ করবে, যেখানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলি অর্থায়ন, সার্বভৌম নিশ্চয়তা এবং কূটনৈতিক সুবিধা প্রদান করবে, অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী অভিজ্ঞ প্রবাসী-নেতৃত্বাধীন কোম্পানি এবং বেসরকারি সংস্থাগুলি কার্যক্রম পরিচালনা, প্রযুক্তিগত যাচাই-বাছাই এবং বাণিজ্যিক আলোচনার দায়িত্ব পালন করবে। সিএমওএএ-র একটি হাইব্রিড শাসন কাঠামো থাকা উচিত, যা রাষ্ট্রীয় সংস্থার তদারকির সঙ্গে বেসরকারি ক্ষেত্রের ক্ষিপ্রতার সমন্বয় ঘটাবে। এর বোর্ডে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক, রাষ্ট্রীয় সংস্থা, প্রবাসী উদ্যোক্তা এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন, যা কৌশল এবং গতির মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। এই কাঠামোটি এসপিভি-কে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে সিদ্ধান্তমূলকভাবে কাজ করতে এবং প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম করবে।
গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অধিগ্রহণের জন্য একটি সার্বভৌম তহবিল নির্দিষ্ট করা হলেও, ভারতের বৈদেশিক অধিগ্রহণ কৌশলের একটি সাহসী পুনর্গঠন অপরিহার্য। সরকারি উদ্যোগ ও প্রবাসী অংশীদারিত্বের একটি মডেল, যা সরকারের-সঙ্গে-সরকারের (জিটুজি) সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পরিপূরণ করা হবে, একটি বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারে।
অধিগ্রহণের বাইরে, ভারতের উচিত বিদেশি সম্পদগুলিকে একটি 'মাইন টু ইন্ডিয়া' মূল্য শৃঙ্খলে একীভূত করার উপর মনোযোগ দেওয়া। এর মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক রাষ্ট্রগুলিতে প্রক্রিয়াকরণ অংশীদারিত্ব গঠন, লজিস্টিকস পরিকাঠামো সুরক্ষিত করা এবং ভারতের নিম্নধারার শিল্পগুলিতে প্রযুক্তি হস্তান্তর সহজতর করা। এই ধরনের একটি পদ্ধতি শুধু কাঁচামালই সুরক্ষিত করবে না, বরং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে এবং এর পরিচ্ছন্ন শক্তি ও উচ্চ-প্রযুক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য একটি স্থিতিস্থাপক বাস্তুতন্ত্র তৈরি করবে। এই মডেলটি চিনের কৌশল থেকে অনুপ্রেরণা নেয়, যেখানে রাষ্ট্র-সমর্থিত বেসরকারি উদ্যোগগুলি বিদেশে অধিগ্রহণে আধিপত্য বিস্তার করে এবং কূটনৈতিক সহায়তায় কাজ করে। তবে, ভারতের একটি অনন্য সুবিধা রয়েছে: এর অত্যন্ত দক্ষ এবং সুপ্রতিষ্ঠিত প্রবাসী সম্প্রদায় নয়াদিল্লি এবং সম্পদশালী দেশগুলির মধ্যে একটি প্রাকৃতিক সেতু হিসেবে কাজ করে, যা ভারতের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবকে বাড়িয়ে তোলে এবং একই সঙ্গে কার্যক্রমের ঝুঁকি কমায়। সার্বভৌম তহবিল এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করার মাধ্যমে ভারত একটি বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া তৈরি করতে পারে, এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের দীর্ঘমেয়াদি, বৈচিত্র্যপূর্ণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে।
প্রক্রিয়াকরণ, গবেষণা ও উন্নয়ন, এবং খনিজ উত্তোলন প্রযুক্তি ও পরিষেবা ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা
গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সুরক্ষার বিষয়টি শুধু কাঁচামাল সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মূল্য শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে প্রক্রিয়াকরণ, পরিশোধন এবং উদ্ভাবনের ক্ষমতাই ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নির্ধারণ করবে। বর্তমানে, লিথিয়াম, বিরল মৃত্তিকা এবং কোবাল্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির বৈশ্বিক প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশ চিন নিয়ন্ত্রণ করে, যা ভারতকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলেছে। এমএমডিআর আইন ২০২৫ গবেষণা ও উন্নয়নের উপর সঠিকভাবেই জোর দিয়েছে, কিন্তু বিশ্বনেতাদের সমকক্ষ হতে হলে ভারতের প্রচেষ্টার মাত্রা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। ‘গবেষণাগার থেকে কারখানা’ পর্যন্ত ব্যবধান পূরণের জন্য এনএমইটি বাজেটের ২০-৩০ শতাংশ নিষ্কাশন ধাতুবিদ্যা গবেষণা ও উন্নয়নে বরাদ্দ করা অত্যন্ত জরুরি।
তবে, প্রাথমিক এবং শহুরে খনিজ আহরণের বাইরে, ভারতের আসল প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা একটি বিশ্বমানের খনি সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও পরিষেবা (এমইটিএস) বাস্তুতন্ত্র বিকাশের মধ্যে নিহিত থাকতে পারে। এমইটিএস ক্ষেত্রটি প্রযুক্তি সরবরাহকারী, প্রকৌশল সংস্থা এবং পরিষেবা সংস্থাগুলির নেটওয়ার্ককে বোঝায়, যা সমগ্র খনিশিল্পের মূল্য শৃঙ্খলকে সমর্থন করে।
সিএসআইআর-আইএমএমটি এবং সিএসআইআর-এনএমএল-এর মতো শীর্ষস্থানীয় জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলিকে, নতুন প্রতিষ্ঠিত সেন্টার অফ এক্সেলেন্সগুলির সঙ্গে মিলে, সাশ্রয়ী ও পরিবেশগতভাবে টেকসই নিষ্কাশন এবং প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি ডিজাইন ও বাণিজ্যিকীকরণের জন্য বেসরকারি ক্ষেত্রের সঙ্গে নিবিড় অংশীদারিত্বে কাজ করা উচিত। এই প্রচেষ্টাগুলিতে বিরল মৃত্তিকা উপাদানের পরিচ্ছন্ন পৃথগীকরণ, স্বল্প-কার্বন লিথিয়াম নিষ্কাশন, ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার এবং সাধারণ ধাতুর জন্য সবুজ ধাতুবিদ্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। ভারতের সম্প্রতি অনুমোদিত ১,৫০০ কোটি টাকার নগর খনি উদ্যোগ, যা ই-বর্জ্য এবং খনির বর্জ্য থেকে কৌশলগত খনিজ পুনরুদ্ধারের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, তা একটি বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তোলার দিকে আরেকটি সাহসী পদক্ষেপ।
তবে, প্রাথমিক এবং শহুরে খনিজ আহরণের বাইরে, ভারতের আসল প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা একটি বিশ্বমানের খনি সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও পরিষেবা (এমইটিএস) বাস্তুতন্ত্র বিকাশের মধ্যে নিহিত থাকতে পারে। এমইটিএস ক্ষেত্রটি প্রযুক্তি সরবরাহকারী, প্রকৌশল সংস্থা এবং পরিষেবা সংস্থাগুলির নেটওয়ার্ককে বোঝায়, যা সমগ্র খনিশিল্পের মূল্য শৃঙ্খলকে সমর্থন করে। অস্ট্রেলিয়ার এমইটিএস শিল্প, যা অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে ৯০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অবদান রাখছে, এবং কানাডার সমৃদ্ধ খনি উদ্ভাবন ক্লাস্টারগুলো দেখায় যে কীভাবে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা একটি দেশীয় শিল্পকে একটি বৈশ্বিক শক্তিকেন্দ্রে পরিণত করতে পারে।
ভারতের এমইটিএস কৌশলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে: অত্যাধুনিক অনুসন্ধান সরঞ্জাম এবং স্বায়ত্তশাসিত খনি ব্যবস্থা তৈরির জন্য এনএমইটি-সমর্থিত উদ্ভাবন অনুদান প্রদান; শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে একত্রিত করার জন্য জাতীয় খনি উদ্ভাবন ক্লাস্টার স্থাপন; এবং ভারতে তৈরি খনি সফটওয়্যার ও পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির রপ্তানি প্রসারিত করা। প্রক্রিয়াকরণ এবং এমইটিএস-এ ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারত উচ্চ-দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং তার প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করতে পারে। এটি ভারতকে খনিজ উৎপাদক থেকে খনি উদ্ভাবনের একটি বৈশ্বিক সরবরাহকারীতে রূপান্তরিত হতে সক্ষম করবে, যা একবিংশ শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের প্রতিযোগিতায় ভারতকে একটি নির্ণায়ক সুবিধা দেবে।
এই প্রবন্ধে বর্ণিত সমন্বিত পদ্ধতি — একটি জাতীয় অনুসন্ধান অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ-বান্ধব নিয়ন্ত্রক ও আর্থিক পরিবেশ, প্রবাসী ভারতীয়দের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি বৈদেশিক অধিগ্রহণ কৌশল এবং একটি বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়াকরণ ও এমইটিএস বাস্তুতন্ত্র — ভারতের রূপান্তরের জন্য একটি সমন্বিত নীলনকশা তৈরি করে।
ভবিষ্যতের পথ: দুর্বলতা থেকে নেতৃত্বে
ভারতের যুগান্তকারী সংস্কার, উচ্চাভিলাষী সার্বভৌম অর্থায়ন এবং দূরদর্শী নীতিগত উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে। এখন চ্যালেঞ্জ হল এর বাস্তবায়ন। এই প্রবন্ধে বর্ণিত সমন্বিত পদ্ধতি — একটি জাতীয় অনুসন্ধান অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ-বান্ধব নিয়ন্ত্রক ও আর্থিক পরিবেশ, প্রবাসী ভারতীয়দের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি বৈদেশিক অধিগ্রহণ কৌশল এবং একটি বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়াকরণ ও এমইটিএস বাস্তুতন্ত্র — ভারতের রূপান্তরের জন্য একটি সমন্বিত নীলনকশা তৈরি করে। এই পদ্ধতি ভারতকে শুধু একটি খনিজ উৎপাদক হিসেবে নয়, বরং অনুসন্ধান প্রযুক্তি, প্রক্রিয়াকরণ উদ্ভাবন এবং টেকসই খনি অনুশীলনে এক বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিরাপত্তা এখন আর কোনও ক্ষেত্রভিত্তিক অ্যাজেন্ডা নয়; এটি ভারতের শিল্প সার্বভৌমত্ব, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তর এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার জন্য অপরিহার্য। ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, উদ্ভাবনে উৎসাহ দেওয়া এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব তৈরির মাধ্যমে দেশটি দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করতে পারে, তার সম্পদ ভিত্তি বৈচিত্র্যময় করতে পারে, এবং বৈশ্বিক খনিজ অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দিতে পারে। আগামী দশকটিকে অবশ্যই ভারতের অনুসন্ধান ও উদ্ভাবনের বিপ্লবের দশক হতে হবে, যা নির্ভরতা থেকে নেতৃত্বের দিকে একটি নির্ণায়ক উল্লম্ফন।
বিপ্লব চ্যাটার্জি জিওভ্যালে সার্ভিসেস-এর সিইও ও ডিরেক্টর এবং সিআইআই-এর খনি বিষয়ক জাতীয় কমিটির অধীনে ক্রিটিক্যাল মিনারেলস সাব-কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Biplob Chatterjee is the CEO and Director of Geovale Services and serves as Chair of the Sub-Committee on Critical Minerals under CII’s National Committee on ...
Read More +