Published on Jul 12, 2025 Updated 0 Hours ago

ক্রমবর্ধমান সম্পদের সংকটের মধ্যে ভারতকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করার জন্য তার তামা সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করতে হবে।

ভারতের তামা শিল্প: কৌশলগত সম্প্রসারণ প্রয়োজন

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উন্নত প্রযুক্তির দিকে বিশ্বব্যাপী পরিবর্তন তামার চাহিদার অভূতপূর্ব বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে, যা সরবরাহ সংকটের মধ্যেও ঠেলে দিয়েছে। পুনর্ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি, তামার সরবরাহ ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী চাহিদার তুলনায় ১.৭ শতাংশ কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘাটতি এমন বিভিন্ন শিল্পকে প্রভাবিত করবে যেখানে তামা একটি অপরিহার্য উপকরণ, যার মধ্যে রয়েছে সৌর প্যানেল, টারবাইন, বিদ্যুৎ গ্রিড, সেমিকন্ডাক্টরসমুদ্রের নিচের  কেবল এবং যুদ্ধাস্ত্র। সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ক্ষমতা এবং পরিকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন প্রভাবিত হবে, যা তামাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় করে তুলেছে। তবে, ভারত বর্তমানে তার তামার সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। ২০২৩-২৪ সালে দেশীয় আকরিক উৎপাদন ছিল ৩.৭৮ মিলিয়ন টন, যা ২০১৮-১৯ সালের তুলনায় ৮ শতাংশ কম। তামা একটি ভূত্বকের গভীরে অবস্থিত খনিজ, যার অনুসন্ধান বা খনন করা পৃষ্ঠ বা বাল্ক খনিজগুলির তুলনায় আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল। অতএব, ভারতকে স্থিতিশীল তামার সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরির জন্য একটি কৌশল তৈরি করতে হবে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন পর্যায়কে আদর্শ স্তরে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করে।


তামা একটি গভীরে অবস্থিত খনিজ, যার অনুসন্ধান বা খনন করা পৃষ্ঠ বা বাল্ক খনিজগুলির তুলনায় আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল।



তামার সরবরাহ শৃঙ্খল

তামার সরবরাহ শৃঙ্খল প্রাথমিক তামা উৎপাদনের জন্য খনির (খোলা গর্ত বা ভূগর্ভস্থ খনির) থেকে শুরু হয়, এবং তার পরে তা গলানো এবং পরিশোধন করা হয়। এর পরে
আধা-ফ্যাব্রিকেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়, যে সময় টিউব, তার, রড এবং অন্যান্য প্রাথমিক সরঞ্জাম তামা এবং স্ক্র্যাপ থেকে তৈরি করা হয়।

এই সরবরাহ শৃঙ্খলের বেশ কয়েকটি অংশ ভৌগোলিকভাবে কেন্দ্রীভূত। ২০২৪ সালে চিলি, পেরু ও অস্ট্রেলিয়ায় যথাক্রমে বিশ্বের তামার মজুতের ১৯ শতাংশ, ১২ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ ছিল। বিশ্বের পরিশোধিত তামা সরবরাহের
প্রায় অর্ধেক চিনের হাতে। ২০২৫ সালে এটি অনলাইনে নতুন গলন ও পরিশোধন ক্ষমতা আনার আশা করছে, যা বিশ্বের অন্যান্য অংশের স্মেল্টারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে, কারণ তারা কম চিনা দামের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার চেষ্টা করছে।

সারণী ১: বৃহত্তম তামার মজুতযুক্ত দেশগুলি

দেশ

আনুমানিক মজু্ত হাজার মেট্রিক টনে

চিলি

১,৯০,০০০

পেরু 

 ১০০,০০০

অস্ট্রেলিয়া

১০০,০০০

রাশিয়া

৮০,০০০

ডিআরসি

৮০,০০০

মেক্সিকো

৫৩,০০০

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

৪৭,০০০

চিন

৪১,০০০

পোল্যান্ড 

৩৪,০০০

ইন্দোনেশিয়া

২১,০০০

জাম্বিয়া

২১,০০০

সূত্র: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিকাল সার্ভের তামা খনিজ পণ্য সারসংক্ষেপ ২০২৫

দ্রষ্টব্য: খনি, নতুন আবিষ্কার এবং গণনার জন্য ব্যবহৃত উৎসের কারণে মজুতের তথ্য পরিবর্তনশীল।

সারণী ২: সর্বোচ্চ তামা শোধনকারী দেশগুলি (২০২৪ সালের হিসাবে)

 

দেশ

আনুমানিক শোধনাগার উৎপাদন হাজার মেট্রিক টনে

চিন

১২,০০০

ডিআরসি

২,৫০০ 

চিলি

১,৯০০

জাপান

১,৬০০

রাশিয়া 

৯৬০

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

৮৯০

জার্মানি

৬৩০

রিপাবলিক অফ কোরিয়া

৬২০   

পোল্যান্ড 

৫৯০

ভারত

৫১০

অস্ট্রেলিয়া

৪৬০

সূত্র: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিকাল সার্ভের তামা খনিজ পণ্য সারসংক্ষেপ ২০২৫

 

ভূ-রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা

তামার ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্ব খনিজ সম্পদে ক্রমবর্ধমান রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি ক্ষেত্রের বিনিয়োগের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে, তামার সরবরাহ শৃঙ্খলে চিনের বিনিয়োগ সবচেয়ে স্পষ্ট, বিশেষ করে আফ্রিকায়। চিনের জেসিএইচএক্স মাইনিং জাম্বিয়ার
লুবাম্বে খনির ৮০ শতাংশ অংশীদারি অর্জন করেছে এবং চিন ২০৩১ সালের মধ্যে জাম্বিয়ায় তামা উৎপাদনে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গিয়েছে। একই রকম প্রবণতা দেখা যাচ্ছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি), যেখানে ২০২৪ সালে চিনে পরিশোধিত তামার রপ্তানি বার্ষিক ভিত্তিতে ৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাজ্য সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের রপ্তানি অর্থায়নের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম তামা উৎপাদনকারী আলমালিককে ঋণ অনুমোদন করেছে। এই ঋণ সম্ভবত উজবেকিস্তানে তামায় পদচিহ্ন রাখার লক্ষ্যে। যুক্তরাজ্য সৌদি আরবের সঙ্গেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অংশীদারিত্ব স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত। এই পদক্ষেপটি ফলপ্রসূ, কারণ সৌদি আরব তার বহুলাংশে অব্যবহৃত খনিজ সম্পদের উপর  আরও মনোযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে তামাও রয়েছে। জাপান তামার খনিতে তার সরকারের দখলের সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এর লক্ষ্য হল বেসরকারি ক্ষেত্রের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা, বিশেষ করে আফ্রিকার মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে। জাপানের একটি যৌথ সংস্থা সুমিতোমো বিশ্বজুড়ে ছয়টি খনিতে বিনিয়োগ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোরেনসি ও পেরুর সেরো ভার্দে। ২০২৪ সালে, তারা রিও টিন্টোর সঙ্গে উইনু প্রকল্পে ৩০% অংশীদারি অর্জনের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার লক্ষ্য পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় একটি তামা-সোনা প্রকল্প গড়ে তোলা। দেশগুলি তামার ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা উন্নত করার চেষ্টা করার পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনাও তৈরি হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, অস্ট্রেলিয়ান খনি কোম্পানি, বিএইচপি, সম্প্রতি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় একটি তামা পরিশোধন ও গলন সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য ফ্লুর অ্যান্ড হ্যাচ-‌কে একটি ইপিসিএম (ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্রয় এবং নির্মাণ ব্যবস্থাপনা)-‌এর বরাত দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী সম্পদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৃদ্ধি শুধু একটি অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা নয়, বরং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন রক্ষার একটি প্রচেষ্টাও।


ভারতের ভূদৃশ্য

বিশ্বব্যাপী তামার চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভারতও ব্যতিক্রম নয়। আত্মনির্ভর ভারত, মেক ইন ইন্ডিয়া, দ্রুত অভিযোজন ও (হাইব্রিড) বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদন, এবং স্মার্ট সিটিজ মিশন-‌এর মতো নীতিগুলির কারণে ভারতের তামার চাহিদা ১৩% বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪ অর্থবছরে
১,৭০০ কিলোটনে পৌঁছেছে। এর তাৎপর্য বিবেচনা করে ২০২৩ সালে তামা ভারতের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল, এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশন (এনসিএমএম) দ্বারা তা সমর্থিত, যার লক্ষ্য দেশের সম্পদ সুরক্ষা জোরদার করা।

দেশে তামার আকরিকের উল্লেখযোগ্য মজুত থাকা সত্ত্বেও ভারত এখনও তার চাহিদা মেটাতে আমদানির উপর নির্ভরশীল। ভারতের ১.৬৬ বিলিয়ন টন তামার আকরিক সম্পদ রয়েছে। তবে, এর মাত্র ৯.৮৭ শতাংশ (১৬৩.৮৯ মিলিয়ন টন) মজু্ত হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, অর্থাৎ, খনির জন্য অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর মজুত, এবং তা প্রধানত রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত। এছাড়াও কোনও উচ্চ-গ্রেড মজুত নেই (১.৮৫ শতাংশ বা তার বেশি তামার গ্রেড)। ফলস্বরূপ, ভারত অর্থবছর ২০২৩ সালে ৩.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের কাঁচা তামার আকরিক ও কনসেনট্রেটস আমদানি করেছে, যার বেশিরভাগই চিলি, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও পেরু থেকে। এই মূল্য লিথিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, নিকেল ও সিলিকনের সম্মিলিত আমদানির চেয়ে বেশি ছিল।



খনি মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ এবং মাটির অনেক গভীরের খনিজগুলির অনুসন্ধান এবং ব্যবহারের জন্য একটি নতুন খনিজ ছাড়, যাকে বলা হয় এক্সপ্লোরেশন লাইসেন্স চালু করেছে।

এই সমস্যা কমাতে ভারত সরকার জাম্বিয়ার গ্রিনফিল্ড জমির জন্য অনুসন্ধানের অধিকার নিশ্চিত করেছে, যা তারা খনিজ উত্তোলনের অধিকারে রূপান্তরিত করার আশা করছে। এছাড়াও, খনি মন্ত্রক গুরুত্বপূর্ণ ও মাটির অনেক গভীরের খনিজগুলির অনুসন্ধান ও ব্যবহারের জন্য একটি নতুন মাইনিং কনসেশন চালু করেছে, যাকে ‘‌এক্সপ্লোরেশন লাইসেন্স’‌ বলা হয়। জেএসডব্লিউ -এর মতো কোম্পানিগুলিও খনি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা শুরু করেছে। এই উদ্যোগগুলি সত্ত্বেও, খনিতে বিশ্বব্যাপী গড় লিড টাইম ১৭.৯ বছর। ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে  তামার উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।


ভারতের তামা পরিশোধন ক্ষেত্র বর্তমানে এক পরিবর্তনের পর্যায়ে রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে, হিন্দুস্তান কপার লিমিটেড এবং হিন্ডালকো ইন্ডাস্ট্রিজের মতো কোম্পানিগুলি যথাক্রমে ঝাড়খণ্ডের
ঘাটশিলা ও গুজরাটের দহেজে শোধনাগার স্থাপন করে এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে ২০১৮ সালে বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত তামিলনাড়ুর থুথুকুডিতে বেদান্তের স্টারলাইট কপার প্ল্যান্ট ভারতের ৪০ শতাংশ তামা উৎপাদন করত। এর ফলে দেশীয় পরিশোধন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়, এবং ভারত পরিশোধিত তামার নেট আমদানিকারী হয়ে ওঠে। ভারত একটি পরিশোধন বাস্তুতন্ত্র তৈরির জন্য প্রকল্পগুলির উন্নয়ন শুরু করেছে, যা নিচে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যদিও পরিশোধন ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আসবে, বিদ্যমান খনিতে সম্পদ শেষ হয়ে আসা, গ্রেড হ্রাস এবং সীমিত আবিষ্কারের কারণে সরবরাহের সীমাবদ্ধতা বজায় থাকবে।


সারণী ৩: ভারতের তামা বাস্তুতন্ত্রে সাম্প্রতিক বিনিয়োগ

Entity

Nature of Investment/ Proposed Investment

জেএসডব্লিউ

ঝাড়খণ্ডে দুটি খনির ব্লকের জন্য  খনি অপারেটর এবং ডেভেলপারের সঙ্গে চুক্তি; হিন্দুস্তান কপার প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে

হিন্দুস্তান কপার

মালঞ্জখণ্ডে উৎপাদন ক্ষমতা সম্প্রসারণ; খেতড়ি, কোলিহান এবং সুরদায় প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ

হিন্ডালকো

দহেজে তামা গলানোর ক্ষমতার প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ এবং তামা পুনরুদ্ধারের জন্য একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্ল্যান্ট তৈরি করা

আদানি

মুন্দ্রায় অবস্থিত তামার ইউনিট, যার প্রাথমিক উৎপাদন ক্ষমতা বার্ষিক ৫,০০,০০০ টন এবং লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে বার্ষিক ১০ লক্ষ টন উৎপাদন অর্জন করা; চিলি-ভিত্তিক কোডেলকো ঘোষণা করেছে যে তারা এই সুবিধার জন্য তামার কনসেনট্রেশন সরবরাহ করবে।

 

তার উপর, ভারতের তামার চাহিদার প্রায় ৩৮ শতাংশ পুনর্ব্যবহৃত স্ক্র্যাপের মাধ্যমে  পূরণ করা হয়, যা দেশীয়ভাবে এবং আমদানির মাধ্যমে পাওয়া যায়। ২০২৪ সালে, কেন্দ্রীয় সরকার অ-লৌহঘটিত ধাতু পণ্যগুলিতে পুনর্ব্যবহৃত সামগ্রীর উপর একটি নির্দেশ প্রস্তাব করে, যা ২০২৮ অর্থবছরে তামার জন্য ৫ শতাংশ অনুপাত দিয়ে শুরু হবে এবং ২০৩১ অর্থবছরের মধ্যে ২০% বৃদ্ধি পাবে। যাই হোক, স্ক্র্যাপ সংগ্রহ মূলত অসংগঠিত ক্ষেত্র দ্বারা করা হয়, যার ফলে বিভিন্ন ধরনের স্ক্র্যাপ ব্যবহারের কারণে সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং তামার বিশুদ্ধতার অভাব দেখা দেয়। একটি বৃত্তাকার অর্থনীতিকে সমর্থন করার সময় অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা ভারতের জন্য  একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, তবে সম্পদ পুনরুদ্ধার বৃদ্ধির জন্য নীতিগত প্রণোদনা প্রয়োজন।


নীতিগত সুপারিশ

ভারতে নীতি নির্ধারণে তামার নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করার একটি শক্তিশালী কারণ রয়েছে। এনসিএমএম-এর মতো ভিত্তিগত ব্লক স্থাপনের পর ভারতকে তামার নিরাপত্তার জন্য তিনটি মূল ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

প্রথমত, ভারত যখন তার তামার পরিশোধন শিল্প তৈরি করে, তখন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তামার আকরিকের বৃহত্তর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। আফ্রিকায় অনুসন্ধান পরিকল্পনার পাশাপাশি, ভারতের উচিত দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া ও ওশিয়ানিয়ার মতো অঞ্চলে খনির সুযোগ অন্বেষণ করা। ভারতের বিদ্যমান অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা তার খনিজ সম্পদ সম্প্রসারণে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন, ভারত ও আর্জেন্টিনার মধ্যে
লিথিয়াম অনুসন্ধান এবং খনিজ বিনিয়োগের জন্য একটি সমঝোতাপত্র রয়েছে। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিদ্যমান অংশীদারিত্বও আছে। তামার খনির জন্যও অংশীদারি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই সম্পর্কগুলিকে কাজে লাগানো যেতে পারে। আগামী দশকগুলির প্রাথমিক প্রয়োজন বিদেশে খনির মাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।



আনুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহার জালিকা শক্তিশালী করা হলে এবং ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা কার্যকর করা হলে তা সম্পদের ক্ষয় কমাতেও সাহায্য করবে।



দ্বিতীয়ত, স্থিতিশীলতার লক্ষ্য পূরণের জন্য তামার পুনর্ব্যবহারের দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাইড্রোমেটালার্জিক্যাল রিফাইনিংয়ের মতো উন্নত পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তির  গবেষণায় বিনিয়োগ করা হলে তা দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে, এবং পরিবেশগত প্রভাব কমাতে পারে। আনুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহার জালিকা শক্তিশালী করা হলে এবং ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা কার্যকর করা হলে তা সম্পদের ক্ষয় কমাতেও সাহায্য করবে।


তৃতীয়ত, ভারতের তামা শিল্পে
উদ্ভাবন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এটি মেশিন লার্নিং-চালিত প্রসেস অপ্টিমাইজেশনের মতো উদীয়মান প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে, এবং উন্নত অনুসন্ধান, দক্ষ নিষ্কাশন ও টেকসই প্রক্রিয়াকরণে বিশেষজ্ঞ স্টার্টআপগুলিকে সমর্থন করে করা যেতে পারে। সালফাইড লিচিং এবং মোটা কণা পুনরুদ্ধারের মতো নতুন নিষ্কাশন কৌশল গ্রহণ জল ও শক্তি খরচ হ্রাস করার পাশাপাশি নিম্ন-গ্রেড আকরিক থেকে সাশ্রয়ী নিষ্কাশন উন্নত করতে পারে।


সরবরাহ স্থিতিস্থাপকতা, বৃত্তাকার অর্থনীতি অনুশীলন, এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে সক্রিয়ভাবে বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারত তার তামার মূল্য শৃঙ্খলকে ভবিষ্যতের জন্য সুরক্ষিত করতে পারে। এটি শুধু ‌দীর্ঘমেয়াদে তামার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, বরং বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের ক্ষেত্রে ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসাবেও স্থান করে দেবে।



আমোহা বাসরুর অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজির জুনিয়র ফেলো।

প্রাঞ্জলি গোরাদিয়া অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ ইন্টার্ন

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.