এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় এনডিটিভি-তে।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি সব সময়ই বৈদেশিক শক্তিগুলি, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার উপর নির্ভরশীল ছিল। আবারও একটি শান্তি পর্ষদ বা বোর্ড অফ পিস (বিওপি) কর্তৃক বাস্তবায়িত গাজা শান্তি পরিকল্পনার উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব সুস্পষ্ট। তবে এ বার পরিস্থিতি ভিন্ন; এটি একটি অনুমানযোগ্য ও স্থিতিশীল মার্কিন বিদেশনীতির পরিবর্তে এক অপ্রত্যাশিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রভাবের ফল। বোর্ড অফ পিসের কার্যনির্বাহী কাঠামো কার্যকর ভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পর্ষদটির চেয়ারম্যান হিসেবে স্থাপন করেছে এবং তাঁকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। সমালোচকরা যুক্তি দিয়েছেন যে, ২০২৭ সালের মতো একটি কঠোর সময়সীমা থাকায় বোর্ড অফ পিসের পক্ষে এমন একটি পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, যা একই সঙ্গে কার্যকর ও স্থিতিশীল হবে। অন্যরা মনে করেন যে, গাজার মতো একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ভাবে জটিল সংঘাতে, বিশেষ করে ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি বিধ্বংসী যুদ্ধের পর, সংঘাত নিরসন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সর্বব্যাপী ও বাহ্যিক ভাবে আরোপিত কাঠামো অপরিহার্য হতে পারে।
ভারত-মার্কিন সম্পর্ক বর্তমানে এক ধরনের ঠান্ডা মরসুম পার করছে: একটি জটিল বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, ভারতের সভাপতিত্বে কোয়াড নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে এবং ভারত বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ শুল্কের বোঝাগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটির সম্মুখীন হচ্ছে।
ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিওপি-তে যোগদানের জন্য আমন্ত্রিত কয়েকটি দেশের মধ্যে ভারত অন্যতম। যদিও ২২টি দেশ ইতিমধ্যেই সদস্য হিসেবে স্বাক্ষর করেছে, তবে একটি প্রায় আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার আগে ভারতের কৌশলগত ভাবে বিরতি নিয়ে চিন্তা করার সিদ্ধান্তটি বিচক্ষণ হতে পারে। যদিও বিওপি-র সনদে এটিকে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, তবুও এই ব্যাপক অথচ অলিখিত ঐকমত্য রয়েছে যে, এটি সম্পূর্ণ রূপে সেই সংজ্ঞা পূরণ করে না।
‘পে-টু-স্টে’ বিধানটি - যার অধীনে বিওপি-তে অন্তর্ভুক্তির জন্য ১ বিলিয়ন ডলারের অবদান প্রয়োজন - সম্ভবত এর সবচেয়ে সমস্যাজনক বৈশিষ্ট্য। এটি ‘বৈধতা বনাম জরুরি প্রয়োজন’ সম্পর্কে মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করে, বিশেষ করে সেই সব দেশের জন্য যারা রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়। তা সত্ত্বেও, বেশ কয়েকটি কারণে বিওপি-তে যোগদানের জন্য ভারতের প্রলোভন শক্তিশালী হতে পারে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সময়। ভারত-মার্কিন সম্পর্ক বর্তমানে এক ধরনের ঠান্ডা মরসুম পার করছে: একটি জটিল বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, ভারতের সভাপতিত্বে কোয়াড নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে এবং ভারত বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ শুল্কের বোঝাগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটির সম্মুখীন হচ্ছে।
কাঠামোগত ভাবে যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে, এটি বৈশ্বিক শাসনে ভারতের এগিয়ে আসার একটি মুহূর্ত হতে পারে, বিশেষ করে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের জন্য নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের আহ্বানের প্রেক্ষাপটে। আর একটি কারণ যা ভারতকে বিওপি-তে যোগদানের দিকে জোরালো ভাবে ঠেলে দিতে পারে, তা হল মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের গভীর স্বার্থ, যার মধ্যে রয়েছে একটি বৃহৎ ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রবাসী জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। এই সব কিছুই প্রায়শই খণ্ডিত আঞ্চলিক রাজনীতিকে অতিক্রম করে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যকে ইন্দো-প্যাসিফিকের সঙ্গে সংযুক্ত করার মাধ্যমে গ্লোবাল সাউথের ভবিষ্যতের জন্য যে বৃহত্তর সম্ভাবনা রয়েছে, তা-ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
নীতিগত ভাবে, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনাটি জরুরি প্রয়োজন ও বৈধতা উভয়ের উপরই নির্ভরশীল, তবে জরুরি প্রয়োজনটি বৈধতাকে ছাপিয়ে গিয়েছে।
ভারত কর্তৃক ‘বোর্ড অফ পিস’-এ (বিওপি) যোগদানের বিরুদ্ধে যুক্তিগুলি মূলত এই সংস্থাটি সম্পর্কে স্বচ্ছতার অভাব থেকেই উদ্ভূত। যদিও বিওপি-র নেপথ্যের প্রচেষ্টাটি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব থেকে উৎসারিত, যা গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য তৈরি হয়েছিল। নীতিগত ভাবে, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনাটি জরুরি প্রয়োজন ও বৈধতা উভয়ের উপরই নির্ভরশীল, তবে জরুরি প্রয়োজনটি বৈধতাকে ছাপিয়ে গিয়েছে। বিওপি-র ভবিষ্যৎ প্রাসঙ্গিকতা, এর সনদে গাজা সম্পর্কে কোনও সুস্পষ্ট উল্লেখ না থাকা, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে ন্যস্ত ব্যাপক ক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে এই সংস্থাটি বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতের ক্ষেত্রেও তার মতাদেশ প্রসারিত করতে পারে… এমন সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এ ছাড়াও বিওপি-র মেয়াদ শেষের ধারা অর্থাৎ ২০২৭ সালে এর প্রস্তাবিত সমাপ্তি সম্পর্কিত অস্পষ্টতাও ভারতের হিসেব-নিকেশে একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে দু’টি অমীমাংসিত প্রশ্ন প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রথমত, গাজাকে স্থিতিশীল ও পুনর্গঠন করার জন্য দু’বছর যথেষ্ট নয়, এ কথা বিবেচনা করে যদি বিওপি-র মেয়াদ ২০২৭ সালের পরেও বাড়ানো হয়, তবে এটি অনিবার্য ভাবে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলবে, বিশেষ করে ২০২৮ সালে ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরের সময়কালে। দ্বিতীয়ত, বিওপি-তে যোগদানের বিষয়টি ভারতের জন্য খুব একটা অনুকূল না-ও হতে পারে। কারণ এই সংস্থায় পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশগুলি ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, অথচ চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের মতো উল্লেখযোগ্য গ্লোবাল সাউথের শক্তিগুলি এর সদস্য নয়।
নয়াদিল্লির এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়। কারণ এই মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলির সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের ভবিষ্যৎ কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন দেশটির এই সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় এনডিটিভি-তে।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Professor Harsh V. Pant is Vice President at Observer Research Foundation, New Delhi. He is a Professor of International Relations with King's India Institute at ...
Read More +
Vivek Mishra is Deputy Director – Strategic Studies Programme at the Observer Research Foundation. His work focuses on US foreign policy, domestic politics in the US, ...
Read More +