Author : Oommen C. Kurian

Expert Speak Health Express
Published on May 19, 2026 Updated 0 Hours ago

স্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় নমুনা সমীক্ষার (এনএসএস) ৮০তম পর্বে উন্নততর প্রবেশাধিকার এবং বিমার আওতার প্রসার দেখা গেলেও, ক্রমবর্ধমান অসুস্থতা, বেসরকারি চিকিৎসার উপর নির্ভরশীলতা এবং ক্রমাগত নিজেদের পকেট থেকে চিকিৎসার খরচ পরিবারগুলিকে আর্থিক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

ভারতের ২০২৫ সালের জাতীয় স্বাস্থ্য সমীক্ষার আপডেট: উন্নততর প্রবেশাধিকার, অব্যাহত আর্থিক ঝুঁকি

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পরিচালিত স্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় নমুনা সমীক্ষা (এনএসএস)-র ৮০তম পর্বটি অতিমারি-পরবর্তী সময়ে ভারতের পরিবার-স্তরের রোগ, চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, সন্তান জন্মদান, বিমা আওতা এবং ব্যক্তিগত খরচের একটি পূর্ণ-বাৎসরিক চিত্র প্রদান করে। জনসংখ্যা-স্তরের স্বাস্থ্য সূচকগুলির জন্য ভারতের সবচেয়ে সমৃদ্ধ তথ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত এই সমীক্ষায় গ্রামীণ ও শহুরে ভারতের ১,৩৯,৭৩২টি পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল, এবং এটি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের আচরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এনএসএস স্বাস্থ্য সমীক্ষার বিভিন্ন পর্বের ইউনিট-স্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে যে, গত তিন দশকে স্বাস্থ্যসেবা-সম্পর্কিত কোনও খরচ করেছে এমন পরিবারের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ১৯৯৫-৯৬ সালের ২২.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪৫.৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে (গ্রাফ ১)। এর পাশাপাশি, জাতীয় পর্যায়ে পরিবার প্রতি প্রকৃত গড় স্বাস্থ্য ব্যয় ১৯৯৫-৯৬ সালের (২০২৫ সালের মূল্য অনুযায়ী) ১,৭৭৮ ভারতীয় রুপি (‌টাকা)‌ থেকে বেড়ে ২০১৪ সালে ৭,০০২ রুপি হয়, ২০১৭-১৮ সালে তা কমে ৫,২৩৬ রুপিতে দাঁড়ায়, এবং ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৭,৩৩৯ রুপিতে পৌঁছয়—যা ৪.১৩ গুণ প্রকৃত বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

গ্রাফ ১: ভারতে স্বাস্থ্য খাতে কোনও ব্যয় করে এমন পরিবারের অনুপাত
India S 2025 National Health Survey Update Higher Access Persistent Financial Risk
সূত্র: এনএসএসও ইউনিট-স্তরের সমীক্ষার তথ্য (বিভিন্ন বছর), যা স্ট্যাটা ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং ক্লড ব্যবহার করে দৃশ্যমান করা হয়েছে। সমস্ত অনুমান ওয়েটেড।

২০২৫ সালের সমীক্ষায় উপস্থাপিত অসুস্থতার তথ্য থেকে স্ব-প্রতিবেদিত অসুস্থতার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি প্রকাশ পায়। বিগত ১৫ দিনে অসুস্থ বলে উত্তরদাতা ব্যক্তির অনুপাত (পিপিআরএ) দীর্ঘমেয়াদে তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামীণ ভারতে, পিপিআরএ ১৯৯৫-৯৬ সালের ৫.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১২.২ শতাংশ হয়েছে; শহুরে ভারতে, এটি ৫.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪.৯ শতাংশ হয়েছে (গ্রাফ ২)। এনএসএস-এর ৮০তম রাউন্ড ২০২৫ সালের জন্য সর্বভারতীয় পিপিআরএ ১৩.১ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এই বৃদ্ধিকে রোগের বোঝা, উন্নত শনাক্তকরণ, যত্নের সাথে বৃহত্তর যোগাযোগ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে পরিবর্তিত প্রত্যাশার একটি সম্মিলিত সংকেত হিসেবে ভালভাবে বোঝা যায়। ২০১৭-১৮ সালের সমীক্ষা পর্বে অসুস্থতার কথা জানানোর অনুপাত এবং স্বাস্থ্যখাতে ব্যয়ের অপ্রত্যাশিত হ্রাস এই সমালোচনার জন্ম দিয়েছে যে, এই পর্বে হয়তো অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি, উচ্চ-ব্যয়বহুল দীর্ঘস্থায়ী রোগ এবং শীর্ষ দশ শতাংশের ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। এই উদ্বেগটি আরও নিবিড় পর্যালোচনার দাবি রাখে, বিশেষ করে ২০২৫ সালের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পরিপ্রেক্ষিতে।

গ্রাফ ২: গত ১৫ দিনের সময়কালে অসুস্থ হিসেবে সাড়া দেওয়া ব্যক্তির অনুপাত (পিপিআরএ)
India S 2025 National Health Survey Update Higher Access Persistent Financial Risk

সূত্র: লেখকের দ্বারা সংকলিত এবং ক্লড ব্যবহার করে দৃশ্যমানকৃত এনএসএসও প্রতিবেদনের  তথ্য।

পিপিআরএ-র বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক বিন্যাস বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ (গ্রাফ ৩)। ২০২৫ সালে, সর্বভারতীয় স্তরে নারীদের মধ্যে অসুস্থতার হার পুরুষদের চেয়ে বেশি ছিল: ১৪.৪ শতাংশ বনাম ১১.৮ শতাংশ। শহুরে নারীদের মধ্যে অসুস্থতার হার ছিল সর্বোচ্চ, ১৬.৬ শতাংশ। ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ক্রমবর্ধমানভাবে বয়স্ক, অধিক দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত এবং চিকিৎসা সম্পর্কে অধিক সচেতন জনগোষ্ঠীর মোকাবিলা করছে। তীব্র অসুস্থতার সময় পরামর্শ ও হাসপাতালে ভর্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাথমিক পরিচর্যা, রোগ নির্ণয়, ঔষধপত্র, ফলো-আপ এবং আর্থিক সুরক্ষা যাতে দৈনন্দিন দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, তা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

গ্রাফ ৩: গত ১৫ দিনের সময়কালে অসুস্থ হিসেবে সাড়া দেওয়া ব্যক্তির অনুপাত (পিপিআরএ)
India S 2025 National Health Survey Update Higher Access Persistent Financial Risk

সূত্র: লেখকের দ্বারা সংকলিত এবং ক্লড ব্যবহার করে চিত্রিত এনএসএসও প্রতিবেদনের  তথ্য।

বয়সের তারতম্য এই দিকটিকে আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ৪২.৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৫.৪ শতাংশ নারী বিগত ১৫ দিনে অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন (গ্রাফ ৪)। ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই অনুপাত আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে দ্রুত এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। যেহেতু প্রবীণ জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যসেবায় উদীয়মান প্রযুক্তি-চালিত উদ্ভাবনগুলি পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বাধার সম্মুখীন হতে পারেন, তাই এটি নীতি নির্ধারকদের জন্য আরও বড় একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

গ্রাফ ৪: বিগত ১৫ দিনের সময়কালে অসুস্থ হিসেবে সাড়া দেওয়া ব্যক্তিদের অনুপাত (পিপিআরএ)
India S 2025 National Health Survey Update Higher Access Persistent Financial Risk
সূত্র: লেখকের দ্বারা সংকলিত এবং ক্লড ব্যবহার করে চিত্রিত এনএসএসও প্রতিবেদনের  তথ্য।

২০২৫ সালের সমীক্ষায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী নির্বাচন থেকে বোঝা যায় কেন এর আর্থিক প্রভাব গুরুতর (গ্রাফ ৫)। বহির্বিভাগীয় চিকিৎসার ক্ষেত্রে, গ্রামীণ ও শহুরে উভয় ভারতেই বেসরকারি ডাক্তার ও ক্লিনিকগুলোর আধিপত্য রয়েছে; গ্রামীণ এলাকায় বহির্বিভাগীয় চিকিৎসার প্রায় ৪৩ শতাংশ এবং শহুরে এলাকায় ৪৪ শতাংশ চিকিৎসা বেসরকারি ডাক্তার ও ক্লিনিকগুলির মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। গ্রামীণ বহির্বিভাগীয় সেবার ক্ষেত্রে সরকারি পরিষেবা এখনও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শহুরে সেবার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব কম। হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে, বেসরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভরতা আরও বেশি: গ্রামীণ এলাকায় হাসপাতালে ভর্তির ৫৭.৯ শতাংশ এবং শহুরে এলাকায় ৬৪.৬ শতাংশ ঘটনা বেসরকারি হাসপাতালেই ঘটেছে। তবে, এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। এনএসএস সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে বেসরকারি হাসপাতালের শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে, যার মধ্যে এবি-পিএমজেএওয়াই, সিজিএইচএস, ইসিএইচএস, রাজ্য বিমা প্রকল্প, ইএসআই/ইএসআইসি এবং এই জাতীয় অন্যান্য ব্যবস্থার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিও রয়েছে। সুতরাং, ‘বেসরকারি’ শ্রেণিটি একটি বিশুদ্ধ বাজারভিত্তিক শ্রেণি নয়। তবুও, পরিবারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বোঝা যায় যে, প্রকৃত চিকিৎসার একটি বড় অংশ সরকারি পরিষেবা নেটওয়ার্কের বাইরেই প্রদান করা হয়।

গ্রাফ ৫: সেবা প্রদানকারী নির্বাচন, বহির্বিভাগীয় সেবা বনাম হাসপাতালে ভর্তি
India S 2025 National Health Survey Update Higher Access Persistent Financial Risk

সূত্র: লেখকের দ্বারা সংকলিত এবং ক্লড ব্যবহার করে চিত্রিত এনএসএসও প্রতিবেদনের  তথ্য।

২০২৫ সালের সমীক্ষা থেকে প্রাপ্ত প্রসব-সংক্রান্ত তথ্য থেকে দেখা যায় যে, ভারতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব এখন প্রায় সর্বজনীন: ২০২৫ সালে ৯৬.২ শতাংশ প্রসব হয়েছে প্রতিষ্ঠানে, যার মধ্যে গ্রামীণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৯৫.৬ শতাংশ এবং শহুরে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৯৭.৮ শতাংশ (গ্রাফ ৬)। গ্রামীণ ভারতে বাড়িতে প্রসবের হার কমে ৪.৪ শতাংশ এবং শহুরে ভারতে ২.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিকভাবে, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিই প্রসবের প্রধান স্থান হিসেবে রয়ে গিয়েছে, যেখানে ৬১.৭ শতাংশ প্রসব হয়। তবে, শহুরে ভারতে এখন বেসরকারি খাতের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে, যেখানে ৫০.৮ শতাংশ প্রসব বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হচ্ছে।

গ্রাফ ৬: প্রসবের স্থান অনুযায়ী শিশুজন্ম
India S 2025 National Health Survey Update Higher Access Persistent Financial Risk
সূত্র: লেখকের দ্বারা সংকলিত এবং ক্লড ব্যবহার করে চিত্রিত এনএসএসও প্রতিবেদনের  তথ্য।

২০২৫ সালের সমীক্ষাটি পিএমজেএওয়াই চালুর পর প্রথম স্বাস্থ্য সমীক্ষা, এবং প্রত্যাশিতভাবেই, এটি সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য বিমার আওতায় থাকা জনসংখ্যার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখিয়েছে (গ্রাফ ৭)। ২০১৭-১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পগুলির আওতা গ্রামীণ ভারতে ১৪.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৭.৪ শতাংশ এবং শহুরে ভারতে ১৯.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৪.৩ শতাংশ হয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত প্রকল্পগুলির আওতা গ্রামীণ ভারতে ১২.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৫.৫ শতাংশ এবং শহুরে ভারতে ৮.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩১.৮ শতাংশ হয়েছে, যা আর্থিক সুরক্ষার কাঠামোতে একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। এনএসএস এ বিষয়েও সতর্ক করেছে যে, যদি কোনও ব্যক্তি একাধিক প্রকল্পে নথিভুক্ত হন, তবে শুধুমাত্র একটি নথিভুক্ত করা হয়, যা তথ্য গোপনের একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্দেশ করে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আওতাভুক্ত থাকা মানেই চিকিৎসার সময় পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়া নয়।

গ্রাফ ৭: ভারতজুড়ে স্বাস্থ্য বিমার আওতা
India S 2025 National Health Survey Update Higher Access Persistent Financial Risk
সূত্র: লেখকের দ্বারা সংকলিত এবং ক্লড ব্যবহার করে চিত্রিত এনএসএসও প্রতিবেদনের   তথ্য।

অপ্রত্যাশিতভাবে, স্বাস্থ্য বিমার আওতা দ্রুত সম্প্রসারণ এবং ক্রমবর্ধমান অসুস্থতার হার সত্ত্বেও, হাসপাতালে ভর্তির হার তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে (গ্রাফ ৮)। প্রতি ১,০০০ জনে গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা ১৯৯৫-৯৬ সালের ১৩ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৭-এ দাঁড়িয়েছে, যেখানে শহুরে ঘটনা ২০ থেকে বেড়ে ৩২ হয়েছে। ২০১৪ সালে এই হার সর্বোচ্চ ছিল, যখন প্রতি ১,০০০ জনে গ্রামীণ প্রায় ৩৫ জন এবং শহুরে ৪৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছিল। ২০১৭-১৮ সালের হ্রাসের পর, যা সম্ভবত জরিপ-সম্পর্কিত কারণের জন্য ঘটেছিল, ২০২৫ সাল নাগাদ গ্রামীণ সর্বমোট হার প্রতি ১,০০০ জনে ২৭-এ প্রায় অপরিবর্তিত ছিল, যেখানে শহুরে সর্বমোট হার আরও কমে প্রতি ১,০০০ জনে ৩২-এ দাঁড়িয়েছে। এই প্রবণতার কারণ নির্ধারণের জন্য আরও বিশ্লেষণের প্রয়োজন হবে।

গ্রাফ ৮: প্রতি ১,০০০ জনে হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা
India S 2025 National Health Survey Update Higher Access Persistent Financial Risk
সূত্র: লেখকের দ্বারা সংকলিত এবং ক্লড ব্যবহার করে চিত্রিত এনএসএসও প্রতিবেদনের  তথ্য।

সর্বশেষে, প্রতিবার হাসপাতালে ভর্তির জন্য গড় ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয় ছিল সামগ্রিকভাবে ৩৪,০৬৪ টাকা, যেখানে সরকারি হাসপাতালগুলিতে এই ব্যয় ছিল ৬,৬৩১ টাকা এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ৫০,৫০৮ টাকা। ২০২৫ সালের সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালগুলিতে বহির্বিভাগে আসা রোগীদের অর্ধেকের চিকিৎসা বিনামূল্যে করা হয়েছে, এবং সরকারি হাসপাতালগুলিতে ভর্তি হওয়া রোগীদের অর্ধেকের ক্ষেত্রে ব্যয় হয়েছে ১,১০০ টাকা বা তার কম। তবুও, দরিদ্র পরিবারগুলির জন্য অসুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক ঝুঁকি তীব্রই থেকে যায় (গ্রাফ ৯)। এমনকি সবচেয়ে দরিদ্রতম কুইন্টাইলেও, গ্রামীণ ভারতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের গড় চিকিৎসা ব্যয় প্রায় ২৫,৭০৪ টাকা এবং শহুরে ভারতে ২৫,১৭৮ টাকা, যা ধনী কুইন্টাইলগুলির ব্যয়ের সমতুল্য। দরিদ্র পরিবারগুলির পারিবারিক আয়ের তুলনায় এই ব্যয় যথেষ্ট বেশি হতে পারে এবং তা ক্রমবর্ধমান আর্থিক নিরাপত্তাহীনতার কারণ হতে পারে।

গ্রাফ ৯: কুইন্টাইল অনুযায়ী গড় ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয়
India S 2025 National Health Survey Update Higher Access Persistent Financial Risk

সূত্র: লেখকের দ্বারা সংকলিত এবং ক্লড ব্যবহার করে দৃশ্যমানকৃত  এনএসএসও প্রতিবেদনের  তথ্য।

২০২৫ সালের এনএসএস স্বাস্থ্য সমীক্ষা একটি পরিবর্তনশীল স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক মিশ্র চিত্র তুলে ধরেছে। ভারত মাতৃসেবা, বিমাভুক্তি এবং ঘোষিত পরিষেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রকৃত অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু উচ্চ হারে অসুস্থতার প্রতিবেদন, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান চাহিদা, দীর্ঘস্থায়ী রোগের ক্রমবর্ধমান দৃশ্যমানতা, বেসরকারি বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগীয় সেবার উপর প্রবল নির্ভরশীলতা এবং প্রতিটি পর্বের জন্য উচ্চ চিকিৎসা ব্যয় এটাই নির্দেশ করে যে, সংস্কারের পরবর্তী পর্যায়কে অবশ্যই নামমাত্র সুরক্ষা থেকে কার্যকর সুরক্ষার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এমন নীতিগত পদক্ষেপ অপরিহার্য যা বিমাভুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবারের প্রকৃত স্বাস্থ্যখাতের ব্যয় কমাতে সক্ষম হবে।



ওমেন সি কুরিয়ান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো এবং ‌হেল্থ ইনিশিয়েটিভ-‌এর প্রধান।

তথ্য বিশ্লেষণে মূল্যবান সহায়তার জন্য লেখক শ্রী রাকেশ কুমার সিনহার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছেন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.