ভারত-পাকিস্তান সঙ্কটে মার্কিন নীতি বরাবরই স্বার্থ-চালিত থেকেছে। ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের প্রত্যাশা না করেই পাল্টা জবাব দেওয়ার কাজ অব্যাহত রাখবে।
ভারতীয় ভূখণ্ডে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদী হামলা অথবা ভারতীয় বাহিনীর উপর কোনও প্রচলিত হামলার জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ইউএস) ভারতের প্রতিক্রিয়া সীমিত করে দিতে পারে… এই সম্ভাবনাটি এখন ভারতীয় কৌশলগত মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা ভারতকে এ কথা জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে যে, পাকিস্তানি আগ্রাসনের মুখে তারা নিজেদের থেকে ভারতকে সমর্থন জানাবে না। ওয়াশিংটন তার জাতীয় স্বার্থকে নিজস্ব বিবেচনা অনুযায়ী অনুসরণ করবে এবং তাই অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বা নৈতিকতার কারণে ভারতকে সমর্থন করতে বাধ্য থাকবে না। সম্প্রতি ভারতে নিযুক্ত প্রাক্তন মার্কিন দূত কেনেথ জাস্টার বলেছেন যে, আমেরিকা-পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নতি নয়াদিল্লিকে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বাধ্য করতে পারে। পাকিস্তান বিশ্বাস করে যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার বর্তমান সৌহার্দ্য এবং আমেরিকা-ইরান আলোচনায় তার বর্তমান ভূমিকা কোনও সংঘাতের ক্ষেত্রে তাকে ভারতীয় প্রতিশোধ থেকে রক্ষা করবে।
যুদ্ধের আগে পাকিস্তানকে মার্কিন সামরিক সরবরাহ প্রদান করা সত্ত্বেও, ভারত পাকিস্তানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দেওয়া থেকে বিরত থাকেনি।
পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদ বা আগ্রাসনের মুখে ভারতকে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়া থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরত থাকার সম্ভাবনা নতুন কিছু নয়। ১৯৪৭ সাল থেকে পাকিস্তানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রচলিত ও অপ্রচলিত উভয় প্রকারেই ভারতের প্রতিক্রিয়া নির্ভর করেছে পাকিস্তানি আগ্রাসনের পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য ভারত সরকার কতটা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ অনুভব করেছে তার উপর। চিরাচরিত ভাবে, প্রশাসন ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান যে-ই হোক না কেন, কোনও পাকিস্তানি আক্রমণের পর ওয়াশিংটন কখনওই নয়াদিল্লিকে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন করেনি। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের সময় রাওয়ালপিন্ডি সেই সংঘাতের সূত্রপাত করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশেই সামরিক সরবরাহ স্থগিত করে দিয়েছিল। যুদ্ধের আগে পাকিস্তানকে মার্কিন সামরিক সরবরাহ প্রদান করা সত্ত্বেও ভারত পাকিস্তানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দেওয়া থেকে বিরত থাকেনি। পাকিস্তান কমিউনিস্ট সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিজেদের মিত্রতা বজায় রাখতে মধ্যপ্রাচ্য প্রতিরক্ষা সংস্থা (মিডল ইস্ট ডিফেন্স অর্গানাইজেশন বা মিডো), কেন্দ্রীয় চুক্তি সংস্থা (সেন্ট্রাল ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা সেন্টো) এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া চুক্তি সংস্থার (সাউথ-ইস্টার্ন এশিয়ান ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা সিয়াটো) মতো বিভিন্ন চুক্তিতে সদস্যপদ লাভের মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছিল। জনসন প্রশাসনের অধীনে ওয়াশিংটন এই যুদ্ধে একটি নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছিল এবং পাকিস্তানের চুক্তি সদস্যপদকে ভারতকে আক্রমণ করার লাইসেন্স হিসেবে বিবেচনা করেনি। বরং ওয়াশিংটনের এই নিরপেক্ষতা ভারতকে সাহায্যই করেছিল। কারণ পাকিস্তান মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল ছিল।
১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে ‘ঝুঁকে পড়েছিল’, যা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে সৌহার্দ্য স্থাপনে রাওয়ালপিন্ডির ভূমিকার প্রতি নিতান্তই অনুগ্রহ। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম পাকিস্তানে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের যে কোনও ভারতীয় প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সঙ্কেত দিতে মার্কিন নৌবাহিনীর (ইউএসএন) সপ্তম ফ্লিটের অংশ হিসেবে ইউএসএস এন্টারপ্রাইজকেও পাঠিয়েছিল। ভারতের পশ্চিম সীমান্তে সামরিক পদক্ষেপ ছিল মূলত আত্মরক্ষামূলক। ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে হেনরি কিসিঞ্জার যেমন চিনের প্রিমিয়ার চৌ এনলাইকে বলেছিলেন: ‘আমাদের মতে ভারতীয়রা এই পরিস্থিতিতে আর পূর্ব পাকিস্তানকে একটি আইনি সমস্যা হিসেবে দেখছে না, বরং পাকিস্তানের [পশ্চিম পাকিস্তান-সহ] সমগ্র সমস্যার নিষ্পত্তির একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে, যা তারা কখনওই স্বীকার করেনি।’ তবুও এই ক্ষেত্রে পাকিস্তানের পক্ষে মার্কিন হস্তক্ষেপ সংঘাতের ফলাফলের জন্য অপ্রাসঙ্গিক ছিল।
১৯৭০-এর দশকে পাকিস্তান ‘ভূ-প্রাকৃতিক আক্রমণ’ এবং ‘মানচিত্রগত বিভ্রান্তি’… দুইয়ের কারণ মিশিয়ে একটি অভিযান শুরু করে। তাদের দাবি ছিল, সিয়াচেন হিমবাহ-সহ সমগ্র সালতোরো শৈলশিরা পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) অংশ। পাকিস্তান হিমবাহ জুড়ে পর্বতারোহী দল পাঠায় এবং সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) ও পেন্টাগনের আমেরিকান মানচিত্রে সালতোরো শৈলশিরাকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হয়। এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন রাওয়ালপিন্ডির এই মানচিত্রগত যুদ্ধকে পরোক্ষ ভাবে মেনে নেয়। যাই হোক, ১৯৭৯ সাল থেকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসন ও দখলের বিরুদ্ধে লড়াইরত মুজাহিদদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রসজ্জিত করার কাজে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের বিনিময়ে ওয়াশিংটনের এই সমর্থন ছিল একটি প্রতিদানস্বরূপ। এই ঘটনাপ্রবাহে উদ্বিগ্ন হয়ে ইন্দিরা গান্ধী সরকারের নির্দেশে ভারতীয় সেনাবাহিনী (আইএ) ‘অপারেশন মেঘদূত’ শুরু করে। ভারত সালতোরো শৈলশিরার সবচেয়ে কৌশলগত ভাবে সুবিধাজনক অবস্থানগুলি সুরক্ষিত করতে সক্ষম হয়, যা ভারত আজও ধরে রেখেছে।
পাকিস্তান হিমবাহ জুড়ে পর্বতারোহী দল পাঠায় এবং সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) ও পেন্টাগনের আমেরিকান মানচিত্রে সালতোরো শৈলশিরাকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হয়।
একই ভাবে, ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ক্লিনটন প্রশাসন ভারতকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সমর্থন জানায়নি। যদিও ওয়াশিংটন সংঘাত শুরু করার জন্য পাকিস্তানের দায় স্বীকার করেছিল, কিন্তু সংঘাতের উৎস নিয়ে তারা যতটা উদ্বিগ্ন ছিল, ঠিক ততটাই উদ্বিগ্ন ছিল পাকিস্তানের ভূখণ্ড দখলের পাল্টা ব্যবস্থা নিতে ভারতের সরাসরি সংঘাত বাড়ানোর সিদ্ধান্তে। সংঘাত যত এগিয়েছে, ওয়াশিংটনের অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে এবং আমেরিকানরা অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভারতের পক্ষ নিয়েছে। কারণ ভারত সংঘাত আরও বাড়িয়ে তোলার হুমকি দিয়েছিল।
২০০১-২০০২ সালের সঙ্কটকালে পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তইবা (এলইটি) কর্তৃক ২০০১ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতীয় সংসদে হামলার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এর উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানকে তার সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণ শিবিরগুলি বন্ধ করতে বাধ্য করা, যেমনটা করার প্রতিশ্রুতি রাওয়ালপিন্ডি দিয়েছিল। তবে এই সঙ্কট শেষ পর্যন্ত মার্কিন চাপের কারণে ভারতকে পাকিস্তান আক্রমণ করা থেকে পিছু হঠতে বাধ্য করে। উপরন্তু, ২০০২ সালের শুরুতে পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ রেখা (লাইন অফ কন্ট্রোল বা এলওসি) এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত (ইন্টারন্যাশনাল বর্ডার বা আইবি) বরাবর হামলা চালানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভারত সংযম প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়; কিন্তু সামরিক পদক্ষেপে বিলম্ব, পরিবর্তনশীল দাবি এবং নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে দুর্বল বেসামরিক-সামরিক সমন্বয় সঙ্কটকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ওয়াশিংটন - যা ততদিনে ৯/১১ সন্ত্রাসবাদী হামলার ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের (গ্লোবাল ওয়ার অন টেরর বা জিডব্লিউওটি) মাঝখানে ছিল - পাকিস্তানের উপর কোনও ভারতীয় আক্রমণ বরদাস্ত করতে রাজি ছিল না। তালিবান ও আল কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য পাকিস্তানকে ন্যাটো-বহির্ভূত প্রথম সারির মিত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং ভারতের সামরিক সমাবেশ আফগানিস্তানে আমেরিকার উদ্দেশ্যগুলির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফলস্বরূপ, আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে আসা আল কায়েদা সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পাকিস্তানি সামরিক সম্পদ ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার কাজে চালিত করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন দেখেছিল যে, তার স্বার্থ সরাসরি বিপন্ন, তখন নয়াদিল্লির কাছে সৈন্য প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। বরং, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়াদিল্লির উপর জোরালো চাপ সৃষ্টি করেছিল, যার মধ্যে আমেরিকানদের উপমহাদেশে ভ্রমণ না করার জন্য একটি ভ্রমণ সতর্কতাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর এটি ছিল মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা, যেখানে ভারত ও আমেরিকার স্বার্থ একে অপরের বিরোধী হয়েছিল। অন্যথায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দক্ষিণ এশিয়া তার বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্যের ক্ষেত্রে একটি তৃতীয় বা দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্ষেত্র হিসেবেই বিবেচিত হয়ে আসছে।
আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে আসা আল কায়েদা সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পাকিস্তানি সামরিক সম্পদ ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার কাজে চালিত করা হয়।
২৬/১১ হামলার পর ওয়াশিংটন আবারও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ না নেওয়ার জন্য ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করে। আমেরিকার চাপে ভারত সরকার সামরিক ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া না জানাতে রাজি হয়, যদিও দেশের অভ্যন্তরেও সামরিক প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ছিল, যা সম্ভবত ভারতীয় সংযমের প্রধান কারণ ছিল।
২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পরেই ভারত পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বালাকোটে অবস্থিত জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেইএম) সন্ত্রাসবাদী শিবিরে বিমান হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেয়। এই ঘটনায় ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর ভারত প্রথম বারের মতো পাকিস্তানের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। তবুও ওয়াশিংটন ভারতীয় প্রতিক্রিয়ার সরাসরি বিরোধিতা করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) বালাকোট হামলার প্রাক্কালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমনকি এই কথাও বলেছিলেন যে, ভারত এমন পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে, যা হবে ‘…নিতান্তই কঠোর… তাই আমি সেটাও বুঝতে পারি।’
ছ’বছর পর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগাম সন্ত্রাসবাদী হামলা ভারতকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালাতে বাধ্য করে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর এই হামলাগুলিই ছিল সবচেয়ে ব্যাপক, কারণ ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ) মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণ শিবিরগুলোতে হামলা চালায়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভান্স ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার লড়াই সম্পর্কে বলেন, এটি ‘আমাদের কোনও বিষয় নয়’ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেবল সংঘাত নিরসনের জন্য পর্দার আড়ালে কূটনীতিই অনুসরণ করছিল। তবুও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হওয়ার পর পাকিস্তানই ২০২৫ সালের ১০ মে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়, যা ভারত মেনে নেয়। তবে পাকিস্তান ঘোষণা করে যে, এর সমস্ত কৃতিত্ব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রাপ্য, যা তিনি সানন্দে গ্রহণ করেন এবং এখনও তেমনটাই দাবি করে চলেছেন।
আজ ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা সত্ত্বেও পাকিস্তানকে অবশ্যই এটিকে এমন কোনও প্রতিদান হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়, যা তাকে ভারতের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করার অনুমতি দেয়।
ভারতের জন্য এর প্রভাব
এ কথা স্পষ্ট যে, গত ৮০ বছরে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত শুরু হওয়ার পর মার্কিন নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে: যুদ্ধরত পক্ষগুলির মধ্যে নিরপেক্ষতা; ভারতের প্রতি সরাসরি বিরোধিতা; পাকিস্তানের প্রতি মৌন সমর্থন এবং ক্রমান্বয়ে তার সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন; ভারতের সঙ্গে অনিচ্ছুক মিত্রতা; ভারতের প্রতি সহানুভূতি ও সমবেদনা; এবং পরিশেষে, সংঘাত নিরসনে অসহায় বোধ। প্রতিটি ক্ষেত্রেই, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের বিষয়ে ওয়াশিংটনের মিশ্র অবস্থান তার স্বার্থেরই প্রতিফলন ঘটিয়েছে। আজ ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা সত্ত্বেও পাকিস্তানকে অবশ্যই এটিকে এমন কোনও প্রতিদান হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়, যা তাকে ভারতের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করার অনুমতি দেয়। এ কারণেই নয়াদিল্লিকে রাওয়ালপিন্ডি এবং ওয়াশিংটন উভয়কেই মনে করিয়ে দিতে হবে, যে কোনও উস্কানির পাল্টা জবাব দিতে ভারত বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
কার্তিক বোম্মাকান্তি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের সিনিয়র ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Kartik is a Senior Fellow with the Strategic Studies Programme. He is currently working on issues related to land warfare and armies, especially the India ...
Read More +