Author : Kabir Taneja

Published on Dec 24, 2025 Updated 0 Hours ago
টিআরএফ-এর বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপের উপর ভিত্তি করে ভারতকে আরও এগিয়ে যেতে হবে

২০২৫ সালে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ভূ-রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত, যা সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ উভয়ই প্রদান করে। পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) একটি শাখা দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট-কে (টিআরএফ) বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের (এফটিও) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মার্কিন বিদেশ দপ্তরের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটনের চলমান অভিযানের একটি লক্ষ্যণীয় মুহূর্ত।

টিআরএফ পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করেছিল, যেখানে ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। ভারত পাকিস্তান ভূখণ্ডের গভীরে সন্ত্রাসী শিবির এবং অবকাঠামো লক্ষ্য করে একটি সামরিক অভিযান অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়, যা ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতের দিকে পরিচালিত করে। তার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তিনি দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছিলেন।  ভারত দৃঢ় ভাবে বলেছে যে, ইসলামাবাদ যোগাযোগ করার পরেই যুদ্ধ থামানো হয়।

টিআরএফ হল রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করার পাকিস্তানের দীর্ঘ প্রচেষ্টার সর্বশেষ প্রকাশ।

দীর্ঘদিন ধরে এলইটি এবং জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেইএম) এই প্রচেষ্টার অগ্রভাগে ছিল। ২০১৯ সালের শেষের দিকে টিআরএফ গঠিত হয় এবং মূলত তা ছিল ভারতের ৩৭০ ধারা বাতিল করার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া, যে ধারায় কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে কাশ্মীর উপত্যকায় আর কটি অনুরূপ সত্তা, পিপলস অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট ফ্রন্ট (পিএএফএফ) মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল। এলইটি এবং জেইএম-এর বিপরীতে, উভয়ই তাদের নামে অ-ইসলামিক পরিভাষা ব্যবহার করে, যা তাদেরকে ধর্মতত্ত্ব-কেন্দ্রিকতার চেয়ে জাতীয়তাবাদী এবং দেশপ্রেমিক প্রতিরোধের ধারণার সঙ্গে আদর্শগত ভাবে আরও বেশি সংযুক্ত করে তোলে।

তাদের পরিকল্পনা ধর্মের পাশাপাশি ভূমিকেও অগ্রাধিকার দেয়। দুটি গোষ্ঠী সরকারের নীতির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য তরুণ নিয়োগকারীদের একত্রিত করার জন্য নিজেদেরকে স্থানীয় ভাবে অবস্থিত করতে চায় এবং কয়েক দশক ধরে প্রচারিত আন্তঃসীমান্ত বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়। ২০২১ সালে তালিবানরা কাবুল পুনরুদ্ধারের পর টিআরএফ তাদের প্রশিক্ষণ শিবির পশ্চিমে তৈরি অস্ত্র যেমন এম৪ এবং এম১৬ রাইফেল প্রদর্শনকারী প্রচারণামূলক ভিডিও ছবি প্রকাশ করে। প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানে টিআরএফকে সন্ত্রাস পুনরুজ্জীবনের ফ্রন্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।

বাস্তব জগতে সম্ভাব্য সীমিত প্রভাব সত্ত্বেও, মার্কিন এই নামকরণ পাকিস্তানের জন্য একটি ধাক্কা বটেদেশটির সর্বশক্তিমান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ওয়াশিংটন সফর আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাওয়ালপিন্ডিকে বিচ্ছিন্ন কোণঠাসা করার ভারতের প্রচেষ্টার জন্য ক্ষতিকারক ছিল। দুই পারমাণবিক শক্তির মধ্যে যুদ্ধবিরতি আনার দাবি অব্যাহত রাখার কারণে ট্রাম্পের মনে হয় অন্য পরিকল্পনা ছিল। এতে নিঃসন্দেহে নয়াদিল্লিতে উত্তেজনা বেড়ে যেত। তবে এই বিষয়ে সরাসরি ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ করা আত্ম-পরাজয়ের মতো হত। টিআরএফ, পিএএফএফ এবং অন্যান্য বিষয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা যাতে সঠিক পক্ষ শুনতে পায় এবং সেগুলি সমাধান করতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য ধীরে ধীরে তার অভ্যন্তরীণ বৃত্তে প্রবেশ করা পাশাপাশি দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে।

সন্ত্রাসবাদ দমন করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি মূল নিরাপত্তা অর্জনযোগ্য বিষয় কিন্তু ৯/১১-এর পর এই সমস্যাটিকে একটি প্রধান বৈশ্বিক সঙ্কট হিসেবে মোকাবিলা করার কাঠামো পরিবর্তিত হয়েছে। ভারতের এগিয়ে যাওয়ার পদ্ধতিতে এটি অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত। গত পাঁচ বছরে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে সামরিক ভাবে পরাজিত করার চেষ্টার চেয়ে আপস রাজনৈতিক তীক্ষ্ণতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে আফগানিস্তানে তালিবানদের সঙ্গে আমেরিকা একটি চুক্তি করে। সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের পতনের পর হায়াত তাহরির আল শাম-এর (এইচটিএস) প্রাক্তন আল কায়েদা নেতা আহমেদ আল শারা দামাস্কাসে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এটিও পশ্চিমি শক্তিগুলি দ্বারা সরাসরি প্রচারিত না হলেও গৃহীত হয়েছিল। মধ্যস্থতা রাজনীতিকরণ হল নতুন খেলা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টিআরএফ-কে একটি মূল উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরার একটি উপায় হতে পারে হামাসের মতো তার পরিকল্পনা দেখানো, যেটি বর্তমানে মার্কিন রাজনৈতিক কাঠামোর কল্পনাকে সত্যিকার অর্থে ধারণ করে। যদিও টিআরএফ হামাস কাঠামো, অনুশীলন এবং গঠনের দিক থেকে স্পষ্টতই আলাদা, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে রায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণ এবং গাজায় পরবর্তী ইরায়েলি যুদ্ধের পর থেকে প্রথমটি একটি আখ্যানের শীর্ষে রয়েছে, যেখানে জনমতের অনেক কক্ষে এটিকে প্রতিরোধহিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

টিআরএফ-কে সন্ত্রাসবাদী তালিকার অন্তর্ভুক্ত করার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের তীব্র প্রতিক্রিয়া ভারতের জন্য একটি বিরল জয় কারণ ঐতিহাসিক ভাবে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী অ্যাজেন্ডার কথা তুলে ধরার জন্য ভারত এতদিন একাই লড়ে গেছে।

ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই তালিকা ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বৃহত্তর বিকাশের অংশও হতে পারে, যা প্রকৃতিগত ভাবে লেনদেনমূলক এবং স্বল্পমেয়াদি লাভের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। যেহেতু উভয় দেশই একটি বহুল প্রত্যাশিত বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, তাই টিআরএফ তালিকাটি একটি বিনিময়ের অংশ হতে পারে, যেখানে ট্রাম্প একটি মূল সুরক্ষা প্রদানের বিনিময়ে বাণিজ্য এবং শুল্ক ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সুবিধা অর্জন করতে পারেন। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার এই ভঙ্গুর বিশ্বে এখন ওয়াশিংটন থেকে অন্যান্য বহুপাক্ষিক দ্বিপাক্ষিক মঞ্চে গতি বহন করার দায়িত্ব ভারতের।

 


এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় হিন্দুস্থান টাইমস-এ।

 


নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.