Expert Speak Raisina Debates
Published on Jan 30, 2026 Updated 0 Hours ago

ভারত চিনের দ্রুত  ফলপ্রসূ সমাধান অন্বেষণের সিদ্ধান্ত ভুটানের জন্য জটিল ত্রি-সংযোগ সমস্যা সমাধানের একটি সুযোগ তৈরি করেছে, যদিও এটি চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়।

ভারত, চিন এবং দ্রুত  ফলপ্রসূ  সমাধান: ভুটানের সীমান্ত বাজি অনুধাবন

২০২৫ সালের আগস্ট মাসে, এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বেজিং সফরের কয়েক সপ্তাহ আগে, ভারত চিনের সঙ্গে বিশেষ প্রতিনিধি (এসআর) পর্যায়ের ২৪তম দফা আলোচনা আয়োজন করে। এই বৈঠকে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয় কার্যপ্রণালীর (ডব্লিউএমসিসি) অধীনে একটি বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী গঠনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত নির্ধারণের জন্য দ্রুত ফলপ্রসূ সমাধান (‌আর্লি হারভেস্ট সলিউশন)‌ খুঁজে বার করা। ভারত ও চিনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা এবং সীমান্ত চৌকিগুলি দিয়ে সরাসরি বিমান চলাচল ও বাণিজ্য পুনরায় চালুর সম্ভাবনার আলোচনার মধ্যেই এই অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ভারত যখন তার নিকটতম প্রতিবেশী বেজিংয়ের সঙ্গে সতর্কভাবে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করছে, তখন ভুটানও চিনের সঙ্গে তার সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির একটি নতুন সুযোগ পেয়েছে, যদিও এটি চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়।

ভুটানের পশ্চিমাঞ্চল এবং ত্রিমুখী সমীকরণ

ভারতের সঙ্গে ভুটানের একটি বিশেষ সম্পর্ক এবং চিনের সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। ভুটান ও চিনের মধ্যে কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। চিন তিনটি জায়গায় ভুটানের ভূখণ্ড দাবি করে: উত্তর, পশ্চিম এবং পূর্ব (দেখুন সারণি ১)। ১৯৮৪ সাল থেকে ভুটান ও চিন ২৫ দফা সীমান্ত আলোচনা করেছে। দেশটির কৌশলগত অবস্থান এবং অনন্য সম্পর্কের কারণে এই আলোচনাগুলি বৃহত্তর চিন-ভারত সম্পর্কের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষ করে, চিন কৌশলগত চুম্বি উপত্যকার কাছে পশ্চিমাঞ্চলে (সিকিম ও ভুটানের মাঝে) তার উপস্থিতি (প্রস্থ ও গভীরতার দিক থেকে) প্রসারিত করতে চায়। চুম্বি উপত্যকা এবং এই অঞ্চলে চিনের দাবির একটি চিত্র দেখতে মানচিত্র ১ দেখুন।

সারণি ১. ভুটানের ভূখণ্ডের উপর চিনের দাবি
Table 1‌

India China And The Early Harvest Understanding Bhutan S Border Bet
সূত্র: লেখকের সংকলন

মানচিত্র ১. চুম্বি উপত্যকা এবং পশ্চিমাঞ্চলে চিনের দাবি
Map

India China And The Early Harvest Understanding Bhutan S Border Bet
সূত্র: লেখকের সংকলন

ভারত পশ্চিমাঞ্চলে চিনের দাবি নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও, ডোকলাম মালভূমি এবং সীমান্ত সংযোগস্থল নিয়ে করা দাবিগুলো নিয়েই সবচেয়ে বেশি শঙ্কিত। ভারত ও ভুটান বাতাং লা-কে সংযোগস্থলের শুরু বলে মনে করে, অন্যদিকে চিন গিপমোচিকে সংযোগস্থলের শুরু বলে দাবি করে (মানচিত্র ২ দেখুন)। এই দাবিগুলি চিনকে ভারতের উপর একটি বড় কৌশলগত সুবিধা এনে দেয়। ১৪,৫২৩ ফুট উচ্চতায়  অবস্থিত জামফেরি শৈলশিরার গিপমোচির উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করলে ভারতের শিলিগুড়ি করিডোরের বিরুদ্ধে বেজিংয়ের আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং নজরদারি ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এটিও একটি কারণ যে ভুটানের সঙ্গে চিনের আলোচনায় খুব কম অগ্রগতি হয়েছে। অতীতে, চিন ভুটানকে একটি প্যাকেজ চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল — উত্তরে তাদের দাবি ত্যাগ করার বিনিময়ে ভুটান পশ্চিমাঞ্চলের বিতর্কিত অঞ্চলগুলি ছেড়ে দেবে। তবে, ভারতের উপর এর প্রভাব বিবেচনা করে ভুটান এই চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার সাথে সাথে চিনা আগ্রাসন ও অনুপ্রবেশ  বিতর্কিত সীমান্ত বরাবর তীব্র হয়েছে


ভারত পশ্চিমাঞ্চলে চিনের দাবি নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও, ডোকলাম মালভূমি এবং সীমান্ত সংযোগস্থল নিয়ে করা দাবিগুলো নিয়েই সবচেয়ে বেশি শঙ্কিত। ভারত ও ভুটান বাতাং লা-কে সংযোগস্থলের শুরু বলে মনে করে, অন্যদিকে চিন গিপমোচিকে সংযোগস্থলের শুরু বলে দাবি করে।



মানচিত্র ২. ডোকলাম মালভূমি এবং ত্রি-সংযোগস্থল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দাবি
Map 2

India China And The Early Harvest Understanding Bhutan S Border Bet
‌সূত্র: ফরেন পলিসি ;  লেখকের সংযোজন

দ্রুত ফলপ্রসূ চুক্তিতে ভুটানের স্বার্থ:

আলোচনায় সীমিত অগ্রগতির কারণে ভুটান ও চিন ২০১০-এর দশকে বিতর্কিত এলাকাগুলির যৌথ মাঠ পর্যায়ের জরিপ পরিচালনা এবং মানচিত্র বিনিময়ে উৎসাহিত হয়। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় বিতর্কিত সেক্টরগুলির জরিপ যথাক্রমে ২০১৩ ও ২০১৫ সালে সম্পন্ন হয়। এই জরিপগুলোর পাশাপাশি বার্ষিক সীমান্ত আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয় (২০১৩ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত)। সমান্তরালভাবে, ভারত ও চিনও তাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল। ২০১২ সালে, ভারত ও চিন সিকিম সেক্টরে তাদের সীমান্ত ‘সীমারেখার ভিত্তিতে’‌ (‌অন দ্য বেসিস অফ অ্যালাইনমেন্ট’)‌ নির্ধারণে সম্মত হয় এবং পরবর্তীতে সেক্টরটি চিহ্নিত করার বিষয়ে একমত হয়। তারা এ বিষয়েও একমত হয় যে, ত্রি-সংযোগ সীমান্ত বিন্দুগুলি সংশ্লিষ্ট (তৃতীয়) দেশগুলির সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত করা হবে, যা ডোকলাম ত্রি-সংযোগকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

২০১৭ সালে চিন সবচেয়ে কম বিতর্কিত সেক্টর—সিকিমে—সীমানা নির্ধারণ শুরু করার জন্য একটি প্রাথমিক সমাধান প্রস্তাব করে। এটি সম্ভবত ২০১২ সালে উপনীত হওয়া সীমারেখার ভিত্তিতে করা হয়েছিল। একই বছরে, চিন ডোকলামের মধ্য দিয়ে জামফেরি শৈলশিরার দিকে একটি রাস্তা নির্মাণ শুরু করে, যার প্রধান কারণ ছিল ২০১২ সালের আলোচনা থেকে ত্রি-সংযোগস্থলটিকে বাদ রাখা এবং ভুটানের সঙ্গে বিতর্কিত অঞ্চলে তাদের জরিপ সম্পন্ন করা। ভারত আশঙ্কা করেছিল যে এই পদক্ষেপ ডোকলাম মালভূমিকে আরেকটি স্থায়ী অনুপ্রবেশের কেন্দ্রে পরিণত করবে এবং চিনকে রাস্তা নির্মাণে বাধা দেয়, যার ফলে একটি উত্তেজনাপূর্ণ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। চলমান আলোচনা সত্ত্বেও ভুটানও সীমান্ত বরাবর চিনা অনুপ্রবেশ এবং তাদের পূর্ববর্তী চুক্তি লঙ্ঘনের সমালোচনা করেছিল


২০১২ সালে, ভারত ও চিন সিকিম সেক্টরে তাদের সীমান্ত ‘সীমারেখার ভিত্তিতে’‌ নির্ধারণে সম্মত হয় এবং পরবর্তীতে সেক্টরটি চিহ্নিত করার বিষয়ে একমত হয়। তারা এ বিষয়েও একমত হয় যে, ত্রি-সংযোগ সীমান্ত বিন্দুগুলি সংশ্লিষ্ট (তৃতীয়) দেশগুলির সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত করা হবে, যা ডোকলাম ত্রি-সংযোগকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।



এই অচলাবস্থা সীমান্ত চিহ্নিতকরণের জন্য ভারতের জরুরি প্রয়োজনকে তুলে ধরেছে। ২০১৯ সালে চিন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে ‘দ্রুত ফলপ্রসূ সমাধান (‌আর্লি হারভেস্ট)‌’ প্রস্তাব পেশ করে। ভারত এই সমাধানে সম্মত হয়েছিল, তবে শর্ত ছিল যে সিকিমের পাশাপাশি উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশের সীমান্তও (মধ্য সেক্টর) চিহ্নিত করতে হবে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ এই আলোচনাকে আবারও স্থগিত করে দেয়, কিন্তু ভারতের প্রতি চিনা চ্যালেঞ্জের তীব্রতাকে আরও একবার সামনে নিয়ে আসে। সম্ভাব্য সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুগুলি কমাতে কথিত আছে যে ভারত ভুটানকে চিনের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে এবং তাদের সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে (ত্রিসংযোগ ব্যতীত) অনুরোধ করেছে (বা সবুজ সংকেত দিয়েছে), যার লক্ষ্য ভবিষ্যতে এই ধরনের অনুপ্রবেশ সীমিত করা এবং সুবিধাজনক সময়ে জটিল ত্রিসংযোগ সমস্যাটির সমাধান করা।

ভুটানের জন্য একটি সুযোগ

অন্যদিকে, চিনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মনোভাবের চাপে ভুটান চিনের সঙ্গে আলোচনা দ্রুততর করে। ২০২০ সালে, একটি তিন-ধাপের রোডম্যাপে সম্মতি জানানো হয়, যা সম্ভবত পূর্বে সম্পন্ন হওয়া জরিপগুলির উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। এই তিনটি ধাপের মধ্যে ছিল: আলোচনার মাধ্যমে সীমান্তে একমত হওয়া, স্থানগুলি পরিদর্শন করা, এবং তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে সীমান্ত চিহ্নিত করা। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে, উভয় দেশ ১০ম, ১১শ, ১২শ এবং ১৩শ বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠীর বৈঠক (ইজিএম) আয়োজন করে, রোডম্যাপের বিষয়ে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করে, এবং সীমান্ত আলোচনার ২৫তম দফা বৈঠক করে। এই আলোচনাগুলি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ভুটানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং বলেছিলেন, "সীমান্ত চিহ্নিতকরণের কাজটি আরও এক বা দুটি বৈঠকের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।" সেই বছরের শেষের দিকে, ২৫তম দফা আলোচনার সময়, উভয় দেশ সীমান্ত নির্ধারণ ও চিহ্নিতকরণের বিষয়ে যৌথ প্রযুক্তিগত দলের (জেটিটি) দায়িত্ব ও কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে।

তবে, এই আলোচনা থেকে ডোকলাম ত্রি-সংযোগস্থলকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। একাধিকবার ভুটান একটি বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে ত্রিপক্ষীয়ভাবে ত্রি-সংযোগস্থলের সমস্যা সমাধানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। শেরিং আরও মন্তব্য করেছিলেন, “ডোকলামের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব শুধু ভুটানের একার নয়... আমরা প্রস্তুত। অন্য দুটি পক্ষও যখন প্রস্তুত হবে, তখন আমরা আলোচনা করতে পারি।”


সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এবং ‘দ্রুত সমাধান’‌ অন্বেষণের আগ্রহ ভারত-চিন সীমান্ত নির্ধারণ প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে আবারও সিকিম সেক্টরকে নিয়ে এসেছে। এটি ভুটানকে জটিল ত্রি-সংযোগস্থল সমস্যাটি সমাধানের একটি সুযোগ করে দিয়েছে।


সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এবং ‘দ্রুত সমাধান’‌ অন্বেষণের আগ্রহ ভারত-চিন সীমান্ত নির্ধারণ প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে আবারও সিকিম সেক্টরকে নিয়ে এসেছে। এটি ভুটানকে জটিল ত্রি-সংযোগস্থল সমস্যাটি সমাধানের একটি সুযোগ করে দিয়েছে। ২০১২ সালে ত্রি-সংযোগস্থল নিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে সীমিত আলোচনা, যা ২০১৭ সালে অচলাবস্থায় পর্যবসিত হয়েছিল, তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ভুটানের ইচ্ছাকে প্রভাবিত করতে থাকবে। চিনা অনুপ্রবেশের ক্রমবর্ধমান হার দ্বারা এটি আরও জোরদার হচ্ছে।

সমাধানের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে?

একইসঙ্গে ভারত ও চিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে এবং তাদের নিজ নিজ উদ্বেগ প্রশমিত করার মাধ্যমে ভুটান সীমান্ত সমস্যার সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে বলে মনে হচ্ছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন সরকার সীমান্ত আলোচনা সম্পর্কে ভারতকে অবহিত রেখেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে উভয় দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে (সারণি ২ দেখুন)। এই আলোচনাগুলির অনেকগুলিতেই প্রায়শই ‘‌দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সম্পূর্ণ পরিসর’‌ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা অগ্রাধিকারের অন্য ক্ষেত্রগুলির পাশাপাশি সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিক যোগাযোগের ইঙ্গিত দেয়। ভারত ও ভুটান জরিপ এবং সীমান্ত-সম্পর্কিত কাজে প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছে।

চিনা অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভুটান ভারতের সঙ্গে তার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। পারস্পরিক নিরাপত্তার জন্য দেশটি নতুন প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী, যা পশ্চিমাঞ্চলে এগুলিকে কাজে লাগানোর ইঙ্গিত দেয়। ভুটানের চিফ অপারেটিং অফিসার সম্প্রতি ভারতের ডিফেন্স ইমেজ প্রসেসিং অ্যান্ড অ্যানালিসিস সেন্টার (ডিআইপিএসি) পরিদর্শন করেছেন, যা উপগ্রহ-ভিত্তিক চিত্র সংগ্রহের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা একটি সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট। ভারত প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ভুটানকে তার সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটি লজিস্টিকস এবং সব আবহাওয়ার উপযোগী রাস্তার মাধ্যমে ভুটানের সামরিক বাহিনীকে সংগঠিত করতেও সহায়তা করছে।

সারণি ২. ভারত ও ভুটানের মধ্যে উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা
Table

India China And The Early Harvest Understanding Bhutan S Border Bet
সূত্র: লেখকের সংকলন

তবে, ভুটানও গতি ধরে রাখতে এবং দেশটির সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক এড়াতে চিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে, উভয় দেশ ১৪তম বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বৈঠক (ইজিএম) আয়োজন করে এবং যৌথ কারিগরি দলের (জেটিটি) দায়িত্ব ও কার্যাবলি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, চিনের বিদেশ মন্ত্রকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা  সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভুটানের অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে, যিনি রাজপরিবারেরও একজন সদস্য। ২০২৫ সালের মার্চে, ভুটান ও চিন সরকার যৌথভাবে থিম্পুতে চিনা নববর্ষের একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করে, যেখানে ভুটানের রাজপরিবারের সদস্য এবং মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এর পরপরই, ভুটান প্রথমবারের মতো তিব্বতকে 'শিজাং' নামে উল্লেখ করে, যা সম্ভবত বেজিংয়ের উদ্বেগের প্রতি লক্ষ্য রেখে করা হয়েছিল।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জসমূহ

ভারত ও চিনের উদ্বেগগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে এবং প্রশমিত করে ভুটান তার সীমান্ত আলোচনায় যুক্তিসঙ্গত অগ্রগতি অর্জন করেছে। ভারত যখন সতর্কতার সঙ্গে চিনের সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন করছে এবং একটি দ্রুত সমাধান খুঁজছে, তখন ভুটানের সামনে এখন চিনের সঙ্গে তার সীমান্ত বিরোধ, বিশেষ করে ত্রি-সংযোগ অঞ্চলের বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে, বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গিয়েছে। এর অনেকটাই নির্ভর করবে নয়াদিল্লি-বেজিং সম্পর্কের উপর এবং তাদের একের অপরের প্রতি আস্থার উপর, বিশেষ করে যখন চিন চুম্বি উপত্যকায় সামরিকীকরণ চালিয়ে যাচ্ছে। এটি পরোক্ষভাবে ডোকলাম নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ভাগ্যকেও প্রভাবিত করবে।

আরও একটি জটিল চ্যালেঞ্জ হল ত্রিপক্ষীয় ইস্যুতে চিনের অবস্থান। চিন ডোকলাম নিয়ে আলোচনা না করেই ভুটানের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও, ত্রিপক্ষীয় সমাধান নিয়ে তারা এখনও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। এমনকি ২০১৭ সালের ডোকলাম অচলাবস্থার সময়েও চিন ২০১২ সালের সমঝোতার কোনও উল্লেখ করেনি। বেজিং দাবি করেছিল যে চিন-ভুটান সীমান্ত সমস্যা একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয় এবং ভুটানের পক্ষে হস্তক্ষেপ করা বা দাবি জানানোর কোনও অধিকার ভারতের নেই। ভারত ও চিনের মধ্যে সতর্কতামূলক পুনঃসম্পর্ক স্থাপন এবং ভুটানের তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনার সক্ষমতা ত্রি-সংযোগ প্রশ্নটির সমাধানে কোনো অর্থপূর্ণ অগ্রগতি ঘটাতে পারে কিনা, তা দেখার বিষয়।


আদিত্য গৌদারা শিবমূর্তি  অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Aditya Gowdara Shivamurthy

Aditya Gowdara Shivamurthy

Aditya Gowdara Shivamurthy is an Associate Fellow with the Strategic Studies Programme’s Neighbourhood Studies Initiative.  He focuses on strategic and security-related developments in the South Asian ...

Read More +