মৎস্যজীবীদের সীমানা লঙ্ঘনের বিষয়ে সহযোগিতা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমন্বিত সামুদ্রিক শাসন ও প্রোটোকলের মাধ্যমে আস্থা পুনঃনির্মাণের একটি মানবিক পথ খুলে দেয়।
পারস্পরিক স্বার্থে অভিন্ন সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং অভিন্ন উদ্বেগের সমাধান করার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে শাসন সংক্রান্ত পরিপূরকতা অপরিহার্য। তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করার সাথে সাথে ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্য পুনরুদ্ধার করা তাই একটি অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান প্রশাসন নির্বাচিত হওয়ার আগে প্রায় আঠারো মাস ধরে বাংলাদেশ শাসনকারী অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত ছিল। ঢাকার রাজনীতি ছিল জমানা-চালিত, যা জাতীয় স্বার্থরক্ষার পরিবর্তে আইনি ম্যান্ডেটের অনুপস্থিতিতে জনগণের থেকে বৈধতা অর্জনের দিকে বেশি মনোযোগী ছিল। তবে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সরকার কোনও অস্থায়ী ব্যবস্থা নয় এবং এর নির্বাচকমণ্ডলীর সেবা করার দায়িত্ব রয়েছে, যার মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ সম্পর্ক বজায় রাখাও অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে, ভারতের সাথে এর একটি সমস্যাপূর্ণ অতীতও রয়েছে এবং তাই এটি সম্পর্ক উন্নয়নে সতর্ক। একই কারণে, আওয়ামী লিগের দীর্ঘদিনের মিত্র নয়াদিল্লিও বিএনপি-শাসিত ঢাকার সঙ্গে তার অংশীদারি পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে সতর্কভাবে এগোতে আগ্রহী। এমন পরিস্থিতিতে, মানবিক সহযোগিতার এমন ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা জরুরি, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত নয়।
পারস্পরিক স্বার্থে অভিন্ন সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং অভিন্ন উদ্বেগের সমাধান করার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে শাসন সংক্রান্ত পরিপূরকতা অপরিহার্য।
এরকমই একটি শক্তিশালী আন্তঃরাষ্ট্রীয় উদ্বেগের ক্ষেত্র হল বঙ্গোপসাগরে সংলগ্ন সামুদ্রিক অঞ্চলে জেলেদের অনধিকার প্রবেশ। দুটি দেশের একটি অবিচ্ছিন্ন উপকূলরেখা রয়েছে, যা উত্তরে এই অর্ধ-আবদ্ধ সমুদ্রকে ঘিরে রেখেছে। হেগ-এর পার্মানেন্ট কোর্ট অফ আরবিট্রেশনের একটি রায়ের পর ২০১৪ সালে ভারত ও বাংলাদেশের সার্বভৌম জলসীমা নির্ধারণ করা হয়। তবে, এই সীমানা নির্ধারণ সত্ত্বেও, উভয় দেশের গণমাধ্যম একে অপরের সামুদ্রিক অঞ্চলে জেলেদের বেআইনি অনুপ্রবেশের খবর দিয়ে চলেছে। যদিও ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ জলসীমার তুলনায় এই ঘটনাগুলি কম ঘটে, তবুও এই ধরনের অনধিকার প্রবেশ এবং এর ফলস্বরূপ গ্রেফতারি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর এবং দুই দেশের মধ্যে সদ্ভাবকে বিপন্ন করার সম্ভাবনা রাখে। তা ছাড়া, শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা যেমনটা দেখায়, জেলেদের গ্রেফতার যখন জাতীয়তাবাদ, উপকূলীয় রাজনীতি এবং সামুদ্রিক আইন প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তখন তা রাষ্ট্রীয় রূপ নিতে পারে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতি করতে শুরু করতে পারে, বিশেষ করে যখন সেই সম্পর্কগুলি আগে থেকেই ভঙ্গুর হয়ে রয়েছে।
লঙ্ঘনের কারণসমূহ
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জেলেদের ইচ্ছাকৃত সীমান্ত লঙ্ঘনের তিনটি কারণ রয়েছে:
১। আরও বেশি পরিমাণে মাছের সন্ধান: বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান অনেক মাছের প্রজাতি পরিযায়ী, আবার কিছু প্রজাতি সমুদ্রের নির্দিষ্ট অংশে পাওয়া যায়, যেমন জনপ্রিয় বম্বে ডাক। তাই, জেলেরা প্রায়শই আরও ভাল বা নির্দিষ্ট মাছ ধরার আশায় সামুদ্রিক সীমানা অতিক্রম করে। এটি বিশেষভাবে তখন ঘটে থাকে যখন অতিরিক্ত মাছ ধরার কারণে মাছের মজুত কমে যায়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে, উভয় দেশেই মূল্যবান ইলিশ মাছ ধরার জন্য ভারতীয় মাছ ধরার ট্রলারগুলি প্রায়শই বাংলাদেশের জলসীমায় এবং বাংলাদেশের ট্রলারগুলি ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করে। এই ধরনের কার্যকলাপ প্রতিরোধের দায়িত্ব প্রায়শই কোস্ট গার্ডের উপর বর্তায়।
২। মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় ভিন্নতা: সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণের বারো বছর পরেও, প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় সামঞ্জস্যের অভাব রয়েছে, যা জেলেদের সীমানা অতিক্রম করতে বাধ্য করছে। বাংলাদেশ প্রতি বছর অক্টোবরে ইলিশ মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের মরসুমি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, অন্যদিকে প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সাময়িকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা জারি রাখে। ভারতের পূর্ব উপকূলের রাজ্যগুলিও ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ৬১ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যেখানে বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সব ধরনের সামুদ্রিক মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে আসছে। এই ভিন্ন ভিন্ন নিষেধাজ্ঞার ফলে জেলেরা, বিশেষ করে যারা একটিমাত্র জীবিকার উপর নির্ভরশীল, মাছ ধরার জন্য সামুদ্রিক সীমান্ত অতিক্রম করে। এটি শুধু নিষেধাজ্ঞার সংরক্ষণমূলক উদ্দেশ্যকেই ব্যর্থ করে না, বরং এর পরিণতিতে গ্রেফতার ও কারাবাসের ঘটনাও ঘটে, যা আবার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।
৩। পারিবারিক সম্পর্ক: বিভিন্ন জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে যারা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর বসবাস করে, তাদের মধ্যে প্রায়শই পারিবারিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে। ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের আগে পর্যন্ত তারা সামুদ্রিক এলাকা ভাগাভাগি করে একসঙ্গে মাছ ধরত। ২০১২ সালে, বঙ্গোপসাগর বৃহৎ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র প্রকল্পের ‘বঙ্গোপসাগরে অভিবাসী মৎস্যজীবী এবং আন্তঃসীমান্ত মৎস্যচাষের উপর একটি সমীক্ষা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয় যে, যেসব জনসম্প্রদায়ের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সাদৃশ্য এবং পারিবারিক বন্ধন রয়েছে, তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের কথা জানায় না।
যখন মৎস্যজীবীরা আইন লঙ্ঘনের জন্য গ্রেফতার হন, তখন এর পরিণতি গুরুতর হতে পারে: জীবিকা হারানো, মোটা অঙ্কের জরিমানা এবং কিছু ক্ষেত্রে, আইনি প্রক্রিয়া মাসের পর মাস চলতে থাকায় বিদেশে দীর্ঘ কারাবাস। তবে, যেহেতু উভয় দেশই সমুদ্র আইন সংক্রান্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের (ইউএনক্লস) স্বাক্ষরকারী, তাই আশা করা যায় যে আইন লঙ্ঘনকারী মৎস্যজীবীদের বিরুদ্ধে নিবারণমূলক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সংক্রান্ত তাদের জাতীয় আইন একটি নিয়ম-ভিত্তিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
কার নিয়ম-ভিত্তিক ব্যবস্থা?
১৯৯৪ সালে কার্যকর হওয়া ইউএনক্লস অনধিকার প্রবেশকারীদের শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে ‘আঞ্চলিক সমুদ্র’ এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড)-এর মধ্যে পার্থক্য করে। এর কারণ হল, একটি দেশের আঞ্চলিক সমুদ্র তার ভূখণ্ডেরই একটি বর্ধিত অংশ এবং এই এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ধরনের এলাকায় রাষ্ট্র পূর্ণ আইনি সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করে, এবং তার জাতীয় আইনের অধীনে অনুপ্রবেশকারীদের শাস্তি দিতে পারে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইইজেড) উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করে না, কিন্তু তারা সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ, অনুসন্ধান, ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণের সার্বভৌম অধিকার ভোগ করে। এক্ষেত্রে, ইউএনক্লস উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলিকে আইন লঙ্ঘনকারী জাহাজের বিরুদ্ধে আরোহণ, পরিদর্শন, গ্রেফতার এবং আইনি কার্যক্রমের মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের মৎস্য আইন প্রয়োগ করার অনুমতি দেয়। তবে, একটি যুক্তিসঙ্গত বন্ড বা জামানত জমা দেওয়ার পর গ্রেফতার করা জাহাজ ও নাবিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট দেশগুলি অন্যভাবে কাজ করতে সম্মত না হলে, এটি মৎস্য আইন লঙ্ঘনের জন্য কারাদণ্ড বা শারীরিক শাস্তিকে নিরুৎসাহিত করে।
বাংলাদেশের ইইজেড-এ ভারতীয় জেলেদের কারাদণ্ড দুই সরকারের মধ্যে ভবিষ্যতে বিরোধের জন্ম দিতে পারে। এটি একে অপরের ইইজেড-এ অবৈধভাবে প্রবেশকারী জেলেদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।
১৯৮১ সালের ‘ভারতের সামুদ্রিক অঞ্চল আইন’, যদিও ইউএনক্লস-এর প্রায় দশ বছর আগে প্রণীত, তবুও এটি ভারতের আঞ্চলিক সমুদ্র এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ধরা পড়া জেলেদের মধ্যে পার্থক্য করে ইউএনক্লস-এর সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করে। তবে, বাংলাদেশের ২০২০ সালের ‘সামুদ্রিক মৎস্য আইন’ -এ বলা হয়েছে যে, ‘বাংলাদেশ সামুদ্রিক মৎস্যক্ষেত্র’-এর (যা একটি ব্যাপক পরিভাষা এবং এর মধ্যে আঞ্চলিক সমুদ্র ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উভয়ই অন্তর্ভুক্ত) মধ্যে পাওয়া যে কোনও অবৈধ মাছ ধরার নৌকার জন্য কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এটি ইউএনক্লস-এর সঙ্গে একটি টানাপড়েন সৃষ্টি করে, বিশেষ করে যদি আঞ্চলিক সমুদ্র এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উভয় ক্ষেত্রেই লঙ্ঘনের জন্য একই শাস্তিমূলক বিধান সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়। তা সত্ত্বেও, বাংলাদেশের ইইজেড-এ ভারতীয় জেলেদের কারাদণ্ড দুই সরকারের মধ্যে ভবিষ্যতে বিরোধের জন্ম দিতে পারে। এটি একে অপরের ইইজেড-এ অবৈধভাবে প্রবেশকারী জেলেদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।
দ্বিপাক্ষিক প্রতিবন্ধকতা
সীমান্ত লঙ্ঘন প্রতিরোধের জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নিছক প্রাথমিক পর্যায়ের ব্যবস্থা রয়েছে; দুটিই ২০১৫ সালের জুন মাসে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। প্রথমটি হল তাদের উপকূলরক্ষী বাহিনীদের মধ্যে “সমুদ্রে আন্তঃসীমান্ত অবৈধ কার্যকলাপ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বিকাশের জন্য সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপন” বিষয়ক একটি সমঝোতাপত্র (এমওইউ)। এর উদ্দেশ্য হল সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা উন্নত করা, যার মধ্যে জেলেদের সীমান্ত অতিক্রম করা থেকে বিরত রাখাও অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়টি হল ব্লু ইকনমি বিষয়ক একটি এমওইউ, যা জেলেদের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমানার অনিচ্ছাকৃত লঙ্ঘন মোকাবিলা এবং তাদের দ্রুত মুক্তি সহজতর করার প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করে। দুই দেশ ব্লু ইকনমি ও সামুদ্রিক সহযোগিতার জন্য একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করতেও সম্মত হয়েছে, কিন্তু তা শুধু কাগজে-কলমেই রয়ে গিয়েছে। তবে, এমওইউগুলি চুক্তির মতো একই স্তরের বলবৎযোগ্য বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না; এগুলির বাস্তবায়ন মূলত রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপর নির্ভর করে।
এই এমওইউ-গুলিকে চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে বিলম্বের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে সর্বাগ্রে উল্লেখযোগ্য হল উভয় দেশেই ব্লু ইকনমি এখনও একটি নবীন ধারণা, এবং তা সত্ত্বেও এটি জেলেদের গ্রেফতারের সঙ্গে জড়িত মানবিক উদ্বেগের চেয়ে সম্পদ সুরক্ষার সঙ্গেই বেশি সংযুক্ত।
এই এমওইউ-গুলিকে চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে বিলম্বের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে সর্বাগ্রে উল্লেখযোগ্য হল উভয় দেশেই ব্লু ইকনমি এখনও একটি নবীন ধারণা, এবং তা সত্ত্বেও এটি জেলেদের গ্রেফতারের সঙ্গে জড়িত মানবিক উদ্বেগের চেয়ে সম্পদ সুরক্ষার সঙ্গেই বেশি সংযুক্ত। সুতরাং, সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত নীতিগত নির্দেশনা ছাড়া কোনও দেশই কোনও আইনি প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না। দ্বিতীয়ত, মামলার সংখ্যা কম হওয়ায় নীতিনির্ধারকরা জেলেদের আইন লঙ্ঘন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ত্বরান্বিত করতে পারেননি। তাই, ভারত বা বাংলাদেশ কেউই এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ অনুভব করেনি। তবে, পরিস্থিতি যে শান্ত থাকবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই, এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে যেমনটা দেখা গিয়েছিল, দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনার মুহূর্তে এটি আরও গুরুতর হতে পারে।
সংকট থেকে আস্থা নির্মাণ
উত্তেজনার মুহূর্তেও, মৎস্যজীবী-সংক্রান্ত সহযোগিতা কূটনৈতিক বরফ গলানোর মাধ্যম হিসেবে তার উপযোগিতা প্রমাণ করেছে। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৫ সালের ৩ থেকে ৫ জানুয়ারির মধ্যে, “এফভি লায়লা-২” ও “এফভি মেঘনা-৫” নামক দুটি মাছ ধরার জাহাজ এবং ৯০ জন বাংলাদেশি জেলেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। এর বিনিময়ে, ভারত বাংলাদেশে আটক করা ছয়টি মাছ ধরার নৌকা এবং ৯৫ জন জেলে ও নাবিককে ফেরত পায়। দুই দেশের নিজ নিজ কোস্টগার্ড এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। এটি সেই প্রাথমিক দাবিকে সত্য প্রমাণ করে যে, প্রায়শই দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনার সময়ে মানবিক বিষয়ে সহযোগিতা নতুন করে সম্পৃক্ততার জন্য একটি প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক বরফ গলানোর কাজ করে। তারেক রহমানের সরকারও এই বিষয়ে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে, কারণ তারা সম্প্রতি মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়কাল সংশোধন করে ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন করেছে, যা ভারতের পূর্ব উপকূলের নিষেধাজ্ঞার ক্যালেন্ডারের কাছাকাছি। নয়াদিল্লির জন্য, সামুদ্রিক জীবিকা ব্যবস্থাপনার উপর যৌথ পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার এটি একটি কৌশলগত মুহূর্ত। সমন্বিত মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, দ্রুত মুক্তি দেওয়ার প্রোটোকল, যৌথ জেলে ডেটাবেস, কোস্ট গার্ড হটলাইন, জিপিএস ও নেভিগেশন সহায়তা, এবং ইইজেড-সম্পর্কিত মৎস্যক্ষেত্র লঙ্ঘনের বিষয়ে একটি আইনসম্মত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি—এগুলি অতএব পারস্পরিক বিবেচনার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র।
সমন্বিত মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, দ্রুত মুক্তি দেওয়ার প্রোটোকল, যৌথ জেলে ডেটাবেস, কোস্ট গার্ড হটলাইন, জিপিএস ও নেভিগেশন সহায়তা, এবং ইইজেড-সম্পর্কিত মৎস্যক্ষেত্র লঙ্ঘনের বিষয়ে একটি আইনসম্মত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি—এগুলি অতএব পারস্পরিক বিবেচনার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র।
এই ধরনের সহযোগিতা ভারতকে এটা প্রমাণ করার সুযোগ দেবে যে, তার সামুদ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি শুধু নৌ-নিরাপত্তা বা বাণিজ্য সংযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীগুলির কল্যাণ পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি শুধুমাত্র দেশের ব্লু ইকনমিকে শক্তিশালী করার জন্য ‘মেরিটাইম ইন্ডিয়া ভিশন ২০৪৭’-এর নির্দেশনা বাস্তবায়নেই সাহায্য করবে না, বরং ভারতকে ‘অঞ্চলে সকলের জন্য নিরাপত্তা ও বৃদ্ধি’ (সাগর) থেকে ‘অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ও বৃদ্ধির জন্য পারস্পরিক ও সামগ্রিক অগ্রগতি’ (MAHASAGAR)-র দিকে এগিয়ে যেতেও সক্ষম করবে। পরবর্তীটি হল একটি বিবর্তন, যা সাগর-এর পরিধিকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে প্রসারিত করে একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক, সামুদ্রিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের দিকে নিয়ে যায়, বিশেষভাবে গ্লোবাল সাউথকে লক্ষ্য করে। সুতরাং, ভারত ও বাংলাদেশের জন্য, সামুদ্রিক অনধিকার প্রবেশের শিকার হওয়া থেকে জেলেদের রক্ষা করা একটি অর্থবহ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায় যে, তাদের নবায়িত অংশীদারি বঙ্গোপসাগরীয় সহযোগিতার কেন্দ্রে শুধু ভূ-রাজনীতি নয়, মানুষকেও স্থাপন করতে পারে কি না।
সোহিনী বসু অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের সহযোগী ফেলো।
দ্রষ্টব্য: এই এক্সপার্ট স্পিকটি লেখকের পূর্ববর্তী কাজ, “ফাইন্ডিং সলিউশনস টু ফিশারমেন ট্রান্সগেশনস ইন দ্য ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ মেরিটাইম স্পেস”, অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন, অকেশনাল পেপার নং ৩৩১, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১-এর উপর ভিত্তি করে রচিত, যা এখানে উপলব্ধ।
এই এক্সপার্ট স্পিক-টির একটি সংস্করণ লেখক কর্তৃক ৮ মে ২০২৬ তারিখে ভারতীয় কোস্ট গার্ড (উত্তর-পূর্ব অঞ্চল) দ্বারা তাদের কলকাতা সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘সাগরকে মহাসাগরে’ রূপান্তরের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে একটি নিয়ম-ভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আঞ্চলিক দেশগুলির সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারেও উপস্থাপিত হয়েছিল।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Sohini Bose is an Associate Fellow at Observer Research Foundation (ORF), Kolkata with the Strategic Studies Programme. Her area of research is India’s eastern maritime ...
Read More +