Published on Aug 12, 2025 Updated 0 Hours ago

বাণিজ্যিক ধাক্কা সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি দেশগুলিকে পুরনো মডেলগুলি পুনর্বিবেচনা করতে প্ররোচিত করেছে। ভারত অস্ট্রেলিয়ার জন্য গভীর সম্পর্ক শক্তিশালী এবং আরও স্থিতিস্থাপক সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরির একটি উপায় প্রদান করে

ভারত-অস্ট্রেলিয়া: ভঙ্গুর বিশ্বে সরবরাহ শৃঙ্খলের সশক্তিকরণ

চিরাচরিত বাণিজ্য তত্ত্ব তুলনামূলক সুবিধার নীতির উপর কেন্দ্রীভূত, যেখানে দেশগুলি এমন পণ্য উৎপাদনে বিশেষজ্ঞ, যা তারা সবচেয়ে দক্ষতার সঙ্গে (কম খরচে) তৈরি করতে পারে এবং এমন পণ্য আমদানি করতে পারে, যা তারা উৎপাদন করতে পারে না। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক দৃশ্যপট উল্লেখযোগ্য রকমের বিকশিত হয়েছে। কোভিড-১৯ অতিমারি, ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, জলবায়ু বিপর্যয় এবং সুরক্ষাবাদী নীতির উত্থান চিরাচরিত সরবরাহ শৃঙ্খলে দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। এই ব্যাঘাতগুলি বাণিজ্য শৃঙ্খলগুলিতে বৈচিত্র্য স্থিতিস্থাপকতার প্রয়োজনীয়তাকে দর্শায় এবং নির্দিষ্ট শিল্প, বাজার বা সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরতা হ্রাস করে। দেশগুলি যখন এই পরিবর্তনশীল ভূ-পরিসরে জায়গা করে নিচ্ছে, তখন দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য অভিযোজিত শক্তিশালী সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলা কৌশলগত ভাবে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে, ভারত-অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্য সহযোগিতার মতো অংশীদারিত্ব স্থিতিস্থাপকতা তৈরি এবং বহিরাগত ধাক্কার বিরুদ্ধে  সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রমবর্ধমান বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতা: ভারত-অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্যিক পরিসর

সংরক্ষণবাদী নীতির পুনরুত্থান বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য পরিসরকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক প্রবর্তিত শুল্ক ব্যবস্থা - কানাডিয়ান এবং মেক্সিকান আমদানিতে ২৫ শতাংশ, চিনা পণ্যের উপর ১০ শতাংশ এবং কানাডিয়ান জ্বালানি রফতানিতে বিধিনিষেধ - প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সূচনা করেছে। চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও বিমান রফতানিতে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে, অন্য দিকে কানাডা মেক্সিকো শুল্ক এবং অ-শুল্ক বাধা দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এই বাণিজ্য যুদ্ধগুলি পচনশীল পণ্য ধাতু থেকে শুরু করে জ্বালানি মধ্যস্থতাকারীদের জন্য শিল্প-কারখানায় ব্যয় বৃদ্ধি করেছে এবং অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ যুক্ত করেছে। এর ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলের বিশ্বব্যাপী পুনর্গঠন ঘটেছে, যা ব্যবসাগুলিকে বিকল্প বাণিজ্য পথ এবং আমদানি করার নতুন কৌশল খুঁজতে বাধ্য করেছে।

চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও বিমান রফতানিতে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে, অন্য দিকে কানাডা মেক্সিকো শুল্ক এবং অ-শুল্ক বাধা দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, আমেরিকায় অ্যাভোকাডোর শীর্ষস্থানীয় রফতানিকারক মেক্সিকো, হন্ডুরাস এবং গুয়াতেমালার সঙ্গে বাণিজ্য জোরদার করে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। ভারত সবচেয়ে বেশি শুল্ক আরোপকারী দেশগুলির মধ্যে অন্যতম, যেখানে গড় হার ১২ শতাংশ। ট্রাম্পের ভারতকে ‘শুল্কের রাজাহিসেবে চিহ্নিত করা এবং একই সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা ভারতের সুরক্ষাবাদী নীতির পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা দর্শায়, যা দেশটি ইতিমধ্যে ধীরে ধীরে শুল্ক কমানোর মাধ্যমে মোকাবিলা শুরু করেছে, যাতে গভীর অর্থনৈতিক সমন্বয়কে উৎসাহিত করা যায়। যাই হোক, তবে, এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও থাকে, বিশেষ করে আমদানি সংক্রান্ত সংরক্ষণ এবং এর পরিবর্তিত বাণিজ্য নীতির ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কেতসমূহ মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে।

বাণিজ্য ধাক্কাগুলিকে বিস্তৃত ভাবে দুটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে: প্রথমটি অনুমানযোগ্য, যেমন বর্তমান শুল্ক-সম্পর্কিত ব্যাঘাত এবং দ্বিতীয়টি হল অপ্রত্যাশিত ধাক্কা, যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রকৃতি নির্বিশেষে বাণিজ্য ব্যবস্থাগুলিকে এই ধরনের ধাক্কা থেকে পর্যাপ্ত ভাবে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। অর্থনৈতিক তত্ত্ব প্রতিক্রিয়া হিসাবে বিভিন্ন নীতিগত সরঞ্জাম সরবরাহ করে, যার মধ্যে রয়েছে আমদানি প্রতিস্থাপন, ফতানি সংক্রান্ত প্রণোদনা, উৎপাদক ভর্তুকি এবং বিভিন্ন অ-শুল্ক সুরক্ষাবাদী ব্যবস্থা। তবে এই সাধনীগুলির আর্থিক প্রভাব মিশ্র হতে পারে। যা গুরুত্বপূর্ণ তা হল, বাণিজ্যের ধর এবং সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা - তা সে সক্রিয় ভাবে (অনুমানপূর্বক) হোক অথবা প্রতিক্রিয়াশীল ভাবে (ঘটনার পরবর্তী ক্ষেত্রে) ভাবে। ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সম্পর্ক এই ধরনের অভিযোজিত কৌশলের একটি আকর্ষণীয় উদাহরণ।

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রায় ৮.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করতে এবং ভারত-অস্ট্রেলিয়া সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য বেশ কয়েকটি সহযোগিতামূলক সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভারত ও অস্ট্রেলিয়া মূলত খনিজ, মুক্তা, ধাতু আকরিকের আন্তঃশিল্প বাণিজ্যে জড়িত। অর্থবর্ষ ২০২৪ পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ থেকেছে ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রায় ৮.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করতে এবং ভারত-অস্ট্রেলিয়া সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য বেশ কয়েকটি সহযোগিতামূলক সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, অনুদান, বহু স্তরের আলোচনা, নতুন বাণিজ্য খাতের কৌশলগত অনুসন্ধান এবং দক্ষতা ও মানব পুঁজির স্থানান্তরের মতো পদক্ষেপ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও গভীর করে এবং বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ধাক্কা ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য গতিশীলতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ প্রদান করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ধাক্কার পাশাপাশি অস্থির বিশ্ব বাণিজ্য পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভারত-অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্যিক আখ্যান নীতিগুলি ভারতের অন্য বাণিজ্য অংশীদারদের জন্য নীতিগুলিকে ত্বরান্বিত করতে পারে, যা ভারতকে সর্বজনীননীতির পরিবর্তে দেশ-নির্দিষ্টবাণিজ্য নীতি গ্রহণ করতে সহায়তা করে।

ধাক্কা থেকে রক্ষা: বহু-ক্ষেত্র এবং বহু-শিল্প বাণিজ্য

একক বাজার, একক পণ্য বাণিজ্য মডেল থেকে সরে এসে ভারত সমন্বিত মূল্য শৃঙ্খলকে উৎসাহিত করে, যা অর্থনৈতিক ধাক্কার বিরুদ্ধে স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে। দূর প্রাচ্য অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করেছে এবং সরবরাহ-শৃঙ্খল সুরক্ষা জোরদার করেছে। ভারত, অস্ট্রেলিয়া জাপানের মধ্যে সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিস্থাপকতা উদ্যোগ (এসসিআরআই) বাণিজ্য অংশীদারিত্ব, ডিজিটাল বাণিজ্য ঝুঁকি প্রশমন কৌশল বৃদ্ধি করে সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে। এই ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৈচিত্র্যকে উৎসাহিত করে স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে এবং সরবরাহ-শৃঙ্খল দক্ষতা সর্বোত্তম করার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রহণকে ত্বরান্বিত করে।

অস্ট্রেলিয়া-ভারত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তি (ইসিটিএ) দুই দেশের মধ্যে পণ্যের শুল্কমুক্ত চলাচলকে আরও সহজ করেছে। বাস্তবায়নের পর থেকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ হয়েছে এবং সোনা দিয়ে বাঁধানো হিরে ও টার্বোজেটের মতো নতুন রফতানি বিভাগগুলির উত্থানের দরুন এমনটা হয়েছে। এই বৈচিত্র্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে সরবরাহ শৃঙ্খলকে সুরক্ষিত করেছে ও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে। এই গতির উপর ভিত্তি করে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ব্যাপক অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি (সিইসিএ) জন্য আলোচনাও চলছে, যা আরও বাণিজ্য উদারীকরণ এবং ক্ষেত্রভিত্তিক সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেয়। এটি জ্বালানি খাতে একক-উৎসের শক্তি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরতা হ্রাস করতে চায়। অগ্রগতিশীল ভারত-অস্ট্রেলিয়া গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বিনিয়োগ অংশীদারিত্বের লক্ষ্য হল খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলকে সুরক্ষিত বৈচিত্র্যময় করা, চিনের উপর নির্ভরতা হ্রাস করা এবং বাজার ডাম্পিং অর্থনৈতিক জবরদস্তির ঝুঁকি হ্রাস করা।

মেড ইন অস্ট্রেলিয়া' কৌশল একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প নীতি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের উপর জোর দেয় স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতাকে শক্ত করে।

সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতায় জননীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অস্ট্রেলিয়ার ‘মেড অ্যাট হোম’ প্রচার দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করা এবং বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য বিঘ্ন থেকে অর্থনীতিকে সুরক্ষিত করার প্রচেষ্টার উদাহরণ। একই ভাবে, ‘মেড ইন অস্ট্রেলিয়া' কৌশল একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনীতি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের উপর জোর দেয় স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতাকে শক্ত করে। ভারতের জন্য, উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা (পিএলআই) প্রকল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তি এবং দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মতো উদ্যোগগুলিকে কাজে লাগানো দেশের সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করার জন্য অপরিহার্য হবে। উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো, সরবরাহ আধুনিকীকরণ এবং বাণিজ্য সুবিধা ব্যবস্থাগুলি ভারতের বাণিজ্য বাস্তুতন্ত্রের অভিযোজনযোগ্যতা স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পরিশেষে, বাণিজ্য বিঘ্ন, অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক সাযুজ্যতার যুগে স্থিতিস্থাপক বৈচিত্র্যময় সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারিত্ব ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অগ্রভাগে রয়েছে। দূষণহীন শক্তি, প্রযুক্তি উন্নত উৎপাদন ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক উদ্যোগ নিশ্চিত করবে যে, ভারত অস্ট্রেলিয়া একটি গতিশীল এবং বিকশিত বিশ্ব বাণিজ্য শৃঙ্খলায় মূল শক্তি হিসেবে থাকবে।

 


সৌম্য ভৌমিক অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি (সিএনইডি) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিজ অ্যান্ড সাস্টেনেবিলিটির প্রধান এবং গবেষক।

মণীশ বৈদ্য অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ ইন্টার্ন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Soumya Bhowmick

Soumya Bhowmick

Dr. Soumya Bhowmick is a Fellow and Lead for World Economies and Sustainability at the Centre for New Economic Diplomacy (CNED) at the Observer Research ...

Read More +
Manish Vaidya

Manish Vaidya

Manish Vaidya is a Research Assistant with ORF’s Centre for New Economic Diplomacy.  His work centres on research and active engagement in applied economics, with a ...

Read More +