Published on Feb 08, 2026 Updated 0 Hours ago

এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এ।

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্পর্কের এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যা অধিকতর সমতা দ্বারা চিহ্নিত।

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: অস্থিরতার চক্রের অবসান

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে প্রায়শই এমন একটি প্রেসিডেন্সি হিসেবে দেখা হয়যা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়িয়েছিল এবং বিশেষ করে শুল্কহুমকি সবচেয়ে উদ্বেগজনক ভাবে অনিশ্চয়তার কারণে দেশগুলিকে শঙ্কিত করে তুলেছিল। তবে ভারত আমেরিকার শুল্ক আরোপের অস্ত্রের তীব্র ধার অনেকটাই ভোঁতা করতে সফল হয়েছিল। ভারত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত ছিলস্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছিল এবং ওয়াশিংটন থেকে আসা উস্কানির জবাবে ইচ্ছাকৃত ভাবে সংযত এবং হতাশাজনক ভাবে নীরব একটি পন্থা অবলম্বন করেছিল। তবে এই কৌশলটি কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের মধ্যে অসম অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের আকাঙ্ক্ষা নয়াদিল্লির চেয়ে ওয়াশিংটনেই তীব্রতর বলে মনে হয়েছিল। তবে একটি বাণিজ্য চুক্তির দীর্ঘ অনুপস্থিতি যে মূল্যহীন ছিলতেমনটা নয়। এটি ভারতের জন্যবিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির উপর ব্যাপক ভাবে নির্ভরশীল খাতগুলির জন্য স্পষ্ট অর্থনৈতিক অসুবিধা বয়ে এনেছিল।

১৮ শতাংশের সংশোধিত শুল্ক হার দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে উৎসাহিত করতে পারে এবং বস্ত্র, গাড়ির যন্ত্রাংশ, রত্ন ও গয়না এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের মতো ক্ষেত্রগুলিতে নতুন করে প্রাণশক্তি জোগাতে পারে।

আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে দেখলে বোঝা যাবেএই বাণিজ্য চুক্তির একটি অনস্বীকার্য অর্থনৈতিক তাৎপর্য রয়েছেযা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি এবং একটি গতিশীল চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। ১৮ শতাংশের সংশোধিত শুল্ক হার দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে উৎসাহিত করতে পারে এবং বস্ত্র, গাড়ির যন্ত্রাংশরত্ন গয়না এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের মতো ক্ষেত্রগুলিতে নতুন করে প্রাণশক্তি জোগাতে পারে। তবে মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তির রাজনৈতিক তাৎপর্য দ্বিপাক্ষিক ভাবেআঞ্চলিক ভাবে এবং বিশ্বব্যাপী আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিপাক্ষিক পর্যায়েএই চুক্তিটি ভারত-মার্কিন সম্পর্কের একটি বেশ অস্বস্তিকর অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছে, বিশেষ করে যে সময়ে ট্রাম্পের অনমনীয়তা রাজনৈতিক অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রতীকী ভাবে এই চুক্তিটি একটি রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত দেয়যা ওয়াশিংটনের আকস্মিক আঞ্চলিক বৈশ্বিক পুনঃসংযোজনের পরিপ্রেক্ষিতে নয়াদিল্লির দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ ভাবে স্বাগতযোগ্য। ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছিলতখন বৈশ্বিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছিলযা প্রায়শই এই ধারণা তৈরি করেছিল যেট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য অগ্রাধিকারও রয়েছে।

অন্তত চারটি ঘটনা ওয়াশিংটনে একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলযা ভারতের জন্য প্রতিকূল বলে মনে হয়েছিল। প্রথমটি ছিল এমন একটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে বণিকবাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করাযা চিরাচরিত ভাবে  হেন শর্তে গড়ে ওঠেনি। এটি ভারতকে অপ্রস্তুত করেছিলযদিও পরে ভারত নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিল। ২৫ শতাংশের পারস্পরিক শুল্ককে ব্যাপক ভাবে অতিরিক্ত বলে মনে করা হয়েছিল এবং এটিকে ভারতীয় ছাড় আদায়ের জন্য একটি ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, রুশ তেল কেনার জন্য ভারতের উপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। এটি একটি বিশেষ কঠোর পদক্ষেপ ছিল। কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের কোনও সরাসরি স্বার্থ ছিল না। তবুও ভারত একটি সুবিধাজনক মাধ্যম হয়ে উঠেছিলযার মাধ্যমে মস্কোর উপর চাপ বাড়ানো হয়েছিল। তৃতীয়তভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতে মার্কিন নীতি অতীতের ধারা থেকে বিচ্যুত হতে শুরু করেবিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে। ন্যায্যতার খাতিরে বলা যায়মার্কিন-পাকিস্তান সম্পর্কে উন্নতি দেখা গেলেও এটি ভারতীয় স্বার্থের কোনও সুনির্দিষ্ট ক্ষতির কারণ হয়নি। মোদ্দা কথাএই পরিবর্তনটি মার্কিন অর্থনৈতিক বিবেচনা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থানের দ্বারা চালিত বলে মনে হয়েছিল। সব শেষে বলা যায়বাণিজ্যিক অচলাবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারত-বিরোধী মনোভাব তৈরির সুযোগ তৈরি করেছিলযা কখনও কখনও অভ্যন্তরীণ ভাবে শক্তি অর্জনকারী বৃহত্তর রক্ষণশীল  স্বদেশি প্রবাহের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল।

বাণিজ্যিক অচলাবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারত-বিরোধী মনোভাব তৈরির সুযোগ তৈরি করেছিল, যা কখনও কখনও অভ্যন্তরীণ ভাবে শক্তি অর্জনকারী বৃহত্তর রক্ষণশীল ও স্বদেশি প্রবাহের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল।

এই প্রেক্ষাপটেএকটি সুস্পষ্ট সময়সীমার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা এবং ৫০০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়কেই দর্শায়। উভয় দেশের জন্যই এই চুক্তিটি সম্পর্কের অন্যান্য দিককে পুনরুজ্জীবিত করতে পারেযা এত দিন উপেক্ষিত ছিল। উদাহরণস্বরূপদীর্ঘ-বিলম্বিত কোয়াড বৈঠকটি এখন নতুন রাজনৈতিক বৈধতা পেয়েছেযা একটি বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি ছাড়া টিকিয়ে রাখা কঠিন হত। ভারতের সভাপতিত্বে কোয়াড বৈঠকটি ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তিও প্রদান করবে। ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলগত নথিগুলি — জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল ইতিমধ্যেই ইন্দো-প্যাসিফিকের প্রতি একটি প্রতিশ্রুতির উপর ভিত্তি করে তৈরি বলে মনে হয়েছিল। যদিও এই শর্ত বহাল ছিল যেআঞ্চলিক অংশীদারদের উপর দায়িত্বের বোঝা বেশি করে বর্তাবে। ভারত কী ভাবে তার ইন্দো-প্যাসিফিক প্রতিশ্রুতিগুলি পরিচালনা করতে চায় তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করলেও ওয়াশিংটনের সমর্থন নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করতে পারে।

ভারত-মার্কিন সম্পর্কে সঠিক পথে অবিচল থাকার ফল পাওয়া গিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এই ঘটনা থেকে তিনটি স্বতন্ত্র ধারা উঠে আসে। প্রথমতভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্পর্কের একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছেযেখানে দীর্ঘদিনের অসাম্য ধীরে ধীরে বৃহত্তর সমতার দিকে চালিত হচ্ছে। দ্বিতীয়তশুল্ক সংক্রান্ত ঘটনাটি ভারতকে আস্থার বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করতে এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক শ্রম সংস্কারের পাশাপাশি বহুমুখী বাহ্যিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি নরম ভারসাম্যের কৌশল অনুসরণ করতে উৎসাহিত করেছে। পরিশেষেবাণিজ্য চুক্তিটি ভারতের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হলেও  ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও অব্যাহত রয়েছেযার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলজটিল বৃহৎ শক্তির সম্পর্ক পরিচালনা করাবিশেষ করে রাশিয়া  চিনের সঙ্গে সম্পর্ক। ওয়াশিংটনের এই শক্তিগুলির সঙ্গে নিজস্ব দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কী ভাবে বিকশিত হয়তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।

বাণিজ্য চুক্তিটি ভারতের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হলেও এ ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও অব্যাহত রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, জটিল বৃহৎ শক্তির সম্পর্ক পরিচালনা করা, বিশেষ করে রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে সম্পর্ক।

ভারত  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যৌথ চ্যালেঞ্জ হবে বাণিজ্য সংঘাতের সময় তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণাগুলিকে পাল্টে দেওয়া। যদি বর্তমান গতিধারা বজায় থাকে, তা হলে এই ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি সংজ্ঞায়িত ভাঙনের পরিবর্তে একটি সংক্ষিপ্ত বিচ্যুতি হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে ভারতের জন্য দীর্ঘস্থায়ী পরীক্ষা হবে বাহ্যিক প্রভাব ছাড়াই স্বাধীন সম্পর্কগুলি পরিচালনা করার সক্ষমতাযা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত স্পষ্ট ভাবে প্রমাণ করেছে।

 


এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Harsh V. Pant

Harsh V. Pant

Professor Harsh V. Pant is Vice President at Observer Research Foundation, New Delhi. He is a Professor of International Relations with King's India Institute at ...

Read More +
Vivek Mishra

Vivek Mishra

Vivek Mishra is Deputy Director – Strategic Studies Programme at the Observer Research Foundation. His work focuses on US foreign policy, domestic politics in the US, ...

Read More +