Published on Aug 09, 2025 Updated 0 Hours ago

জ্বালানি নিরাপত্তা থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জনগণের মধ্যে সম্পর্কভারত ও কাতার পাঁচ দশকের আস্থার উপর নির্মিত একটি গভীর, ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারিত্বের রূপরেখা নির্মাণ করছে

৫০তম বর্ষে ভারত ও কাতার: নতুন যুগের জন্য একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব

১৯৭০-এর দশকের গোড়ার দিকে কাতার ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। ২০২৩ সালে দুই দেশ ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করে, যা পাঁচ দশক ধরে বিকশিত বহুমুখী সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে মহামান্য আমিরের ভারত সফরের পর কাতার-ভারত সম্পর্ক আরও গভীর হয়, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী প্রেরণা যোগায় এবং সম্পর্কের একটি নতুন পর্যায়ের ভিত্তি স্থাপন করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর সাম্প্রতিক সফর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করে, যেখানে দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মধ্যে ভারতে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাতারি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

কাতার ভারতের একটি স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহকারী এবং একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি অংশীদার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে; দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান রাখে এবং তার এলএনজি আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে।

কূটনৈতিক সম্পর্ক ছাড়াও, অর্থনৈতিক জনসাধারণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক রয়েছে। কাতার-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বার্ষিক প্রায় ১৪-১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতকে কাতারের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার করে তুলেছে। কাতার ভারতের একটি স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহকারী এবং একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি অংশীদার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে; দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান রাখে এবং তার এলএনজি আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে। ভারত কাতারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে (খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে নির্মাণসামগ্রী পর্যন্ত) রফতানি ক্রমাগত বৃদ্ধি করেছে, যা গত দশকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। উভয় দেশের নেতারা সম্প্রতি বলেছেন, পারস্পরিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং বৈচিত্র্য আনার জন্য দুই দেশের মধ্যে ইচ্ছা সম্ভাবনা উভয়ই রয়েছে’, বিশেষ করে জ্বালানি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ওষুধ এবং সবুজ হাইড্রোজেন খাতে। জনসাধারণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে, কাতারে বর্তমানে প্রায় ২০,০০০ ভারতীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান কাজ করছে এবং দেশটিতে প্রায় ৮০০,০০০ জন ভারতীয় সম্প্রদায়ভুক্ত রয়েছে (যা দেশের বৃহত্তম প্রবাসী জনসংখ্যা)। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত যৌথ ব্যবসায়িক পরিষদের উদ্বোধনী সভার মতো উদ্যোগগুলি উভয় দেশের ব্যবসায়ী ধারণাগুলিকে একটি মঞ্চে একত্রিত করে এই সম্পর্কগুলিকে সহজতর করতে পারে।

কাতারের দৃষ্টিভঙ্গি

কাতার ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখে।

কাতার রাষ্ট্রের জন্য উদ্যোগ নীতিমালা পরিচালনার মূল কাঠামো হল কাতার জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি ২০৩০-এ (কিউএনভি২০৩০) গৃহীত নির্দেশিকা নীতি। এই দৃষ্টিভঙ্গি কাতারের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ভাবে বিকশিত করার চেষ্টা করে, যাতে একটি অস্থির এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক দৃশ্যপটের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে টিকে থাকতে পারে। এই বিকশিত বৈশ্বিক দৃশ্যপটের মধ্যে রয়েছে একমেরু বিশ্ব থেকে বহুমেরু বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক স্থানান্তর, যেখানে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক রূপান্তরিত হচ্ছে। কিছু দেশ যখন জনসংখ্যাগত চ্যালেঞ্জ এবং শিল্পায়নের অধীনস্থতার সঙ্গে লড়াই করছে, অন্যরা তাদের বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক উপস্থিতি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে। ভারতের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার উপলব্ধি ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সর্বাত্মক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিতে প্রবেশের সম্ভাবনা অন্বেষণে কাতারের আগ্রহকে প্রতিফলিত করে। এর জন্য একটি সহায়ক কারণ হল ভারতে কাতার বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের কার্যালয় খোলাপাশাপাশি অবকাঠামো, প্রযুক্তি, উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা, সরবরাহ, আতিথেয়তা এবং পারস্পরিক স্বার্থের অন্যান্য ক্ষেত্র সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এফডিআই এবং এফআইআই-এর মাধ্যমে ভারতে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের উপরোক্ত প্রতিশ্রুতি।

ভারতের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার উপলব্ধি ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সর্বাত্মক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিতে প্রবেশের সম্ভাবনা অন্বেষণে কাতারের আগ্রহকে প্রতিফলিত করে।

বিপরীতে, কাতারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভারতীয় বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান অব্যাহত রাখবে। এর মধ্যে রয়েছে অংশীদারিত্বের বৈচিত্র্য আনা, জ্বালানি বাণিজ্য, শ্রম এবং বিদেশি অর্থ প্রেরণের চিরাচরিত সম্পর্ক সম্প্রসারণ করাপাশাপাশি পর্যটন, প্রযুক্তি ও স্থিতিশীল পরিবর্তনের মতো পারস্পরিক বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্রগুলি অন্বেষণ করা। কাতার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ক্ষেত্র-সহ বেশ কয়েকটি কৌশলগত ক্ষেত্রে তার অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারত এই ক্ষেত্রগুলিতে বিনিয়োগ এবং সহযোগিতার সুযোগ অন্বেষণ করার জন্য কাতারে একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য অংশীদার খুঁজে পাবে।

কাতার এখন ভারতের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বৃহত্তম সরবরাহকারী, যা দেশের মোট এলএনজি আমদানির ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দুই দেশ ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে ২০২৮ সাল থেকে ২০ বছর ধরে ভারতে বার্ষিক ৭.৫ মিলিয়ন টন কাতারের এলএনজি রফতানি করা হবে। এটি ভারতের জ্বালানি রূপান্তরকে সমর্থন করে, যেখানে দূষণহীন জ্বালানির ধারাবাহিক নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। উভয় দেশেরই বর্ধিত জ্বালানি সহযোগিতার জন্য উল্লেখযোগ্য সমন্বয় রয়েছে কারণ ভারত তার জ্বালানি মিশ্রণে গ্যাসের ১৫ শতাংশ অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে এবং কাতার এমন কিছু যুগান্তকারী প্রকল্প উদ্বোধন করবে যা কয়েক বছরের মধ্যে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক এলএনজি উৎপাদন ৭৭ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে বার্ষিক ১৬০ মিলিয়ন টন (এমটিএ) করবে। কাতারের জ্বালানি সম্প্রসারণ একটি স্থিতিশীল প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দ্বারা সমর্থিত, যা অর্থনীতি শিল্পের চাহিদার সম্মুখীন হতে পারে, তা নিশ্চিত করে। এই স্থিতিশীল সুবিধার নেপথ্যের কারণগুলি হল: প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এবং বিশ্বব্যাপী উভয় ক্ষেত্রেই এর স্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান। দ্বিতীয়ত, এটি কিছু প্রাকৃতিক প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ভোগ করে, যেমন এর অনুকূল ভৌগোলিক অবস্থান। এটি এলএনজি উৎপাদনের সর্বনিম্ন ইউনিট খরচের একটিও উপভোগ করে, যা নিশ্চিত করে যে গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেলেও এটি লাভজনক থাকবে। এর একটি বিশাল এলএনজি পরিবহণকারী বহর এবং একটি  অসাধারণ এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা (বিশ্বব্যাপী, শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরে দ্বিতীয়) রয়েছে, যা অর্থনীতির ক্ষেত্রে যথেষ্ট সুবিধা প্রদান করে। বিশ্বব্যাপী গ্যাস বাজারে ওঠানামা সামলে নেওয়ার ক্ষেত্রে কাতার অন্য যে কোন প্রধান গ্যাস সরবরাহকারীর তুলনায় অনেক ভাল অবস্থানে রয়েছে এবং বিদ্যমান বাজারের চাহিদার প্রতিক্রিয়ায় রফতানি প্রবাহে সহজেই সামঞ্জস্য করতে পারে।

কাতারের জ্বালানি সম্প্রসারণ একটি স্থিতিশীল প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দ্বারা সমর্থিত, যা অর্থনীতি শিল্পের চাহিদার সম্মুখীন হতে পারে, তা নিশ্চিত করে।

পরবর্তী ৫০ বছর

কাতার-ভারত সম্পর্কের পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা, আগামী পঞ্চাশ বছর পারস্পরিক স্বার্থ সংহতি অর্জনের মাধ্যমে গভীরতর অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি বহন করে। দুই দেশ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার গুরুত্ব সম্পর্কে গভীর ভাবে সচেতন, যা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মানব উন্নয়নকে উৎসাহিত করে। উভয় দেশের শক্তি এবং তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক (কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক মানুষে মানুষে সম্পর্ক) কাজে লাগিয়ে ২০২৫ সাল দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত।

 


লোগান কোকরান হামাদ বিন খলিফা ইউনিভার্সিটির কলেজ অফ পাবলিক পলিসির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চের সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট।

মুদাসসর আলি বেগ গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চের রিসার্চ ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Logan Cochrane

Logan Cochrane

Dr. Logan Cochrane is an Associate Professor at Hamad Bin Khalifa University's College of Public Policy. Over the past 20 years, Dr. Cochrane has built ...

Read More +
Mudassar Ali Baig

Mudassar Ali Baig

Mudassar Ali Baig is a Research Fellow at GISR, specialising in geopolitical and geoeconomic trends with an Arab regional lens. With over 15 years of ...

Read More +