ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বাণিজ্যিক বিঘ্ন ভারত-বেলারুশ সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি করলেও উভয় পক্ষই বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের মাধ্যমে সম্পর্ক পুনর্নবীকরণের চেষ্টা করছে।
‘আমি বেলারুশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান অবস্থায় সন্তুষ্ট নই। সত্যি বলতে, ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। তাই ভারত সহজ গন্তব্য নয়... তবে [এটি] আমাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি অর্থনৈতিক অংশীদার। ভারত একটি বিশাল বাজার এবং আমরা সোভিয়েত আমল থেকে ভারতের বাজারে উপস্থিত। আমাদের অবশ্যই মূল ক্ষেত্রগুলিতে সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করতে হবে।’ বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ভারতে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মিখাইল ক্রাস্কোর প্রধান অগ্রাধিকারের রূপরেখা এ ভাবেই তুলে ধরেন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্থিরতার ধারণাটি যুক্তিসঙ্গত ভাবে বাণিজ্য হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। মিনস্কের উদ্দেশ্য স্পষ্ট: পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার আলোকে, বেলারুশ তার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে বৈচিত্র্যময় করতে এবং তার পণ্যের জন্য নতুন বাজার খুঁজে বের করতে চাইছে। প্রাথমিক লক্ষ্যগুলির মধ্যে একটি হল ভারতে রফতানি পুনর্গঠন করা, যা ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে তীব্র ভাবে হ্রাস পেয়েছে।
একটি হৃত অর্থনৈতিক সুযোগ
২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে যখন বেলারুশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নিষেধাজ্ঞার শিকার হয় এবং পরবর্তীতে ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়, তখন মিনস্ককে বাল্টিক বন্দর ব্যবহার থেকে বিরত রাখা হয়। এর ফলে সারের মতো প্রধান পণ্য রফতানিতে গুরুতর বাধা তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালের আগে এই পণ্যের প্রধান উৎপাদক বেলারুস্কালি থেকে প্রতি বছর প্রায় ১০-১২ মিলিয়ন টন পটাসিয়াম সার লিথুয়ানিয়ান ক্লাইপেদা বন্দর দিয়ে পরিবহণ করা হত। এই পথে প্রবেশাধিকার হারানোর পর বেলারুশকে নতুন সরবরাহ শৃঙ্খল স্থাপন করতে বাধ্য করা হয়, যার ফলে দেশটি রাশিয়ার পরিবহণ অবকাঠামোর উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। যেহেতু রুশ টার্মিনালগুলিতে সার পরিবহণের ক্ষমতা সীমিত, তাই পরিবহণের পরিমাণ বেলারুশ রফতানিকারকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। মস্কো ও মিনস্ক রাশিয়ার মুরমানস্ক অঞ্চলে বেলারুশিয়ান সার ও তেল পণ্য পরিবহণের জন্য নিবেদিত একটি বন্দর নির্মাণের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করলেও প্রকল্পটি নকশা তৈরি ও সমীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে এবং কেবলমাত্র ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
মিনস্কের জন্য এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও, বিশেষ করে বেদনাদায়ক ধাক্কা ছিল ভারতের সারের আমদানি হ্রাস, যা মোট বাণিজ্যের ৮০ শতাংশেরও বেশি ছিল।
ভারত-বেলারুশ বাণিজ্যের কথা বলতে গেলে, লজিস্টিক প্রতিবন্ধকতা এবং অর্থপ্রদান সংক্রান্ত সমস্যাগুলি মিনস্কের ভারতে রফতানিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে, যা প্রায় স্থবির করে দিয়েছে (দ্রষ্টব্য চিত্র ১)। মিনস্কের জন্য এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও, বিশেষ করে বেদনাদায়ক ধাক্কা ছিল ভারতের সারের আমদানি হ্রাস, যা মোট বাণিজ্যের ৮০ শতাংশেরও বেশি ছিল। বেলারুশ থেকে ভারতীয় সারের আমদানি ২০২০-২১ অর্থবছরে ২২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে (যথাক্রমে ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ) তা মাত্র ৫০,০০০ মার্কিন ডলার এবং ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। ভারত ওষুধ, জৈব রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হলেও বেলারুশে এর রফতানি ৬০-৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি ওঠানামা করেছে। বেলারুশের সার সরবরাহে নাটকীয় পতন ও ভারতের রফতানিতে অপ্রতুলতার কারণে দুই দেশ এক দশক আগে আন্তঃসরকারি কমিশন (আইজিসি) কর্তৃক নির্ধারিত ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে।
চিত্র ১. বেলারুশ থেকে ভারতের আমদানি ও রফতানি (২০২০-২০২৫, মিলিয়ন মার্কিন ডলারে)
সূত্র: বাণিজ্য বিভাগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক, ভারত সরকার
গত কয়েক বছর ধরে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে বেলারুশিয়ান অটোমোবাইল প্রধান বেলাজ ৭৭টি ১৩০ টন মাইনিং ডাম্প ট্রাক সরবরাহের জন্য কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর দু’বছর পর সাউথ ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের সঙ্গে তারা ২৪০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ৯৬টি মাইনিং ট্রাকের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। ২০২১ সাল থেকে বেলারুশিয়ান কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারক মিনস্ক ট্র্যাক্টর ওয়ার্কস (এমটিডব্লিউ) এরিশা অ্যাগ্রিটেক প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় বাজারে উপস্থিত রয়েছে। ভারতে কৃষি সরঞ্জাম স্থানীয়করণ ও একত্রিত করার পাশাপাশি এটি সংস্থাটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় তার উপস্থিতি প্রসারিত করতে সক্ষম করেছে, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায় ট্রাক্টর সরবরাহ করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মিনস্ক অটোমোবাইল প্ল্যান্ট (এমএজেড) ‘ভারতীয় উপাদান, কাঁচামাল এবং মেশিন টুল প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য’ নয়াদিল্লিতে তার কার্যালয় খুলেছিল।
বেলারুশের অর্থনীতিতে ভারতের বিনিয়োগ বেশ সীমিত ও আনুমানিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বিনিয়োগের বেশিরভাগই ওষুধ খাতকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, যা ২০১৬ সালে বেলারুশে তিনটি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ভারত বেলারুশকে বেশ কয়েকটি ঋণও দিয়েছে। ২০১২ সালে ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড (বিএইচইএল) ভারতের এক্সিম ব্যাঙ্কের অর্থায়নে গ্রোডনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংস্কারের জন্য ৫৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্পের অংশ হিসাবে একটি গ্যাস টারবাইন স্থাপনের কাজ তত্ত্বাবধান করে। একই বছরে মিনস্কের হাই টেকনোলজি পার্কে ৫০ মিলিয়ন টাকার ভারতীয় ঋণ দিয়ে একটি ডিজিটাল লার্নিং সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে ভারত সরকার বেলারুশের সঙ্গে যৌথ প্রকল্পের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণের কথা ঘোষণা করেছিল; তবে এর বাস্তবায়নের বিষয়ে আর কোনও খবর প্রকাশিত হয়নি।
নয়াদিল্লি ও মিনস্কের মধ্যে সাম্প্রতিক মিথস্ক্রিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততার জন্য বহুপাক্ষিক মঞ্চের মূল্যকে তুলে ধরে।
২০২৩ সালে, বেলারুশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি সংস্থা গ্রোডনোএনার্গো গ্যাস টারবাইন সরবরাহ, পরিষেবা এবং রক্ষণাবেক্ষণে সহযোগিতার বিষয়ে বিএইচইএল-এর সঙ্গে আলোচনা করে। তবে এর কোনও ফল পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও ২০২৩ সালে ভারতীয় সংস্থাগুলি ভারতে সরবরাহ বাড়ানোর জন্য বেলারুশের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রোডনো আজোটে নাইট্রোজেনযুক্ত সার উৎপাদন সম্প্রসারণের জন্য ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই পরিকল্পনাগুলিও এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রান্তিকতার ঊর্ধ্বে উঠে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা
ভারত ছিল সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনে (এসসিও) বেলারুশের সদস্যপদ এবং ব্রিকস-এ এর অংশীদার মর্যাদাকে সমর্থনকারী প্রথম দেশগুলির অন্যতম। নয়াদিল্লি ও মিনস্কের মধ্যে সাম্প্রতিক মিথস্ক্রিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততার জন্য বহুপাক্ষিক মঞ্চের মূল্যকে তুলে ধরে। এখন অনেক সরকারি বৈঠক এসসিও, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (এনএএম), সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন ও অর্থায়ন প্রতিরোধকারী ইউরেশিয়ান গ্রুপ (ইএজি), রাষ্ট্রপুঞ্জ (ইউএন) এবং ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর মধ্যে শেষ বৈঠক - যা সংক্ষিপ্ত ছিল এবং ‘সমান্তরাল বৈঠক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল - ২০১৯ সালে কিরগিজস্তানের বিশকেকে এসসিও বৈঠকের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পূর্ববর্তী দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনটি ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যখন লুকাশেঙ্কো ভারত-বেলারুশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৫তম বার্ষিকী উদ্যাপনের জন্য নয়াদিল্লি সফর করেছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্কর তার বেলারুশিয়ান সমকক্ষের সঙ্গে চারবার দেখা করেছেন: জানুয়ারি ও মার্চ মাসে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই আলেনিকের সঙ্গে এবং জুলাই ও সেপ্টেম্বরে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাকসিম রাইজেনকভের সঙ্গে। যেহেতু বেলারুশিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের বিশেষ প্রতিনিধি এবং আইজিসি-র সহ-সভাপতি, তাই এই বৈঠকগুলিতে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক উদ্বেগ, বাণিজ্য, শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং শিক্ষা ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক-সহ বিস্তৃত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিন বছরের বিরতির পর, উভয় পক্ষই ‘অদূর ভবিষ্যতে’ একটি ব্যবসায়িক শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি একটি নতুন আইজিসি অধিবেশন আহ্বানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
২০২৪ সালের জুনে প্রথম দ্বিপাক্ষিক কনস্যুলার সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে সম্প্রতি জনগণের মধ্যে সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে। ভিসা নীতি, ব্যক্তি ও আইনি সত্তার অধিকার সুরক্ষা এবং শ্রম অভিবাসনের সুযোগ সম্পর্কিত বিষয়গুলির উপর আলোচনা করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের অগস্ট মাস থেকে বেলাভিয়া মিনস্ক ও নয়াদিল্লির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে, যা ব্যবসায়িক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং পর্যটনকে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রায় ১,০০০ ভারতীয় শিক্ষার্থী বর্তমানে বেলারুশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অধ্যয়ন করছেন, যাঁদের বেশিরভাগই চিকিৎসা বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।
আরও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার জন্য একে অপরের সংবেদনশীলতার প্রতি পারস্পরিক মনোযোগ প্রয়োজন। বেলারুশ যখন তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মনোযোগ গ্লোবাল সাউথের দিকে স্থানান্তরিত করে, তখন দেশটি পাকিস্তানের সঙ্গে তার সম্পর্ককে শক্তিশালী করেছে, যা ২০২৪ সালের নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো এবং প্রাইম মিনিস্টার শেহবাজ শরিফের মধ্যে পারস্পরিক সফর দ্বারা প্রমাণিত হয়। বর্তমান ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে বেলারুশের আঞ্চলিক কূটনীতি খতিয়ে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও মিনস্ক একটি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে, পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভাষার সঙ্গে তার প্রকাশ্য সাদৃশ্য - যেমন ইসলামাবাদে শরিফ-লুকাশেঙ্কোর কথোপকথনের বেলারুশিয়ান বিবৃতি অনুযায়ী ‘শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ ও রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুসারে সমস্ত আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তা’ - ভারতে উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
নয়াদিল্লির কৌশলগত ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য এবং ভারতের সঙ্গে ব্যবসা করার ব্যবহারিকতা সম্পর্কে মিনস্কে গভীর দক্ষতার অভাব - যেমন বেলারুশিয়ান বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরেছেন - আরও গভীর সম্পৃক্ততাকে সীমাবদ্ধ করার অন্যতম কারণ হতে পারে। বেলারুশিয়ান নেতৃত্ব পূর্বে ভারতীয় পররাষ্ট্র নীতিকে ভুল ভাবে উপস্থাপন করেছেন। প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো বলেছেন যে, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া (সম্ভবত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি) একটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ন্যাটো তৈরি করতে চায়।’ দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি করার জন্য মিনস্ককে নয়াদিল্লির কৌশলগত উদ্দেশ্য ও ভারতীয় নীতিনির্ধারণের সূক্ষ্মতা সম্পর্কে আরও বেশি বোধগম্যতা ও সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করতে হবে।
দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি করার জন্য মিনস্ককে নয়াদিল্লির কৌশলগত উদ্দেশ্য ও ভারতীয় নীতিনির্ধারণের সূক্ষ্মতা সম্পর্কে আরও বেশি বোধগম্যতা ও সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করতে হবে।
বেলারুশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার জন্য নয়াদিল্লিকে ইউরেশিয়ায় তার পররাষ্ট্র নীতির উপর আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে। সোভিয়েত-পরবর্তী সময়ে ভারত স্পষ্টতই তার সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করেছে, নয়াদিল্লির হিসাব-নিকাশে পূর্ব ইউরোপ নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে বর্তমান দশকে বেলারুশের প্রতি ভারতের নীতিতে উচ্চ-স্তরের সফর ও অর্থনৈতিক উদ্যোগের অভাব দেখা গিয়েছে।
ভারত ও বেলারুশ তাদের অংশীদারিত্বকে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করতে পারে কি না - যেমনটি মিনস্ক আহ্বান জানিয়েছে - তা নির্ভর করবে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা গভীর করার ক্ষেত্রে বাধা অতিক্রম করা, আরও নিয়মিত ও বাস্তব রাজনৈতিক আলোচনা গড়ে তোলা এবং একে অপরের পররাষ্ট্র নীতির প্রয়োজনীয়তাগুলিকে আরও ভাল ভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার ক্ষমতার উপর।
আলেক্সেই জাখারভ ওআরএফ-এর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Aleksei Zakharov is a Fellow with ORF’s Strategic Studies Programme. His research focuses on the geopolitics and geo-economics of Eurasia and the Indo-Pacific, with particular ...
Read More +