Author : Shoba Suri

Expert Speak Health Express
Published on Apr 29, 2026 Updated 0 Hours ago

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ভারতে সার জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলকে ব্যাহত করছে, চাষ-‌আবাদের খরচ বাড়াচ্ছে, ভর্তুকির উপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে।

ভারতীয় কৃষি ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত—বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর চারপাশের বিশৃঙ্খলা—একটি ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত থেকে বৈশ্বিক খাদ্য ও জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য একটি পদ্ধতিগত ধাক্কায় পরিণত হয়েছে। ভারতের মতো একটি প্রধান কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির জন্য, যা আমদানিকৃত সার ও জ্বালানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, এর প্রভাব তাৎক্ষণিক এবং কাঠামোগত উভয়ই। এই সংঘাত ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়, বিঘ্নিত সরবরাহ শৃঙ্খল, আর্থিক চাপ, এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে, যার প্রাথমিক লক্ষণগুলি ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সার আমদানির উপর ভারতের নির্ভরতা, বিশেষ করে নাইট্রোজেন-ভিত্তিক সারের উপর, যা প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালী, যা ক্রমবর্ধমানভাবে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে, একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথ যেখান দিয়ে ভারত তার বেশিরভাগ ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সংগ্রহ করে। জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং বর্ধিত নিরাপত্তা ঝুঁকি সরবরাহকে সীমিত করেছে, মাল পরিবহণের খরচ বাড়িয়েছে, এবং বৈশ্বিক বাজারকে সংকুচিত করেছে।


এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সার আমদানির উপর ভারতের নির্ভরতা, বিশেষ করে নাইট্রোজেন-ভিত্তিক সারের উপর, যা প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল।



চিনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সার ভোক্তা দেশ ভারত কাঁচামাল এবং তৈরি সার উভয়ই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আমদানি করে, যার মধ্যে বছরে প্রায় ৪০ মিলিয়ন টন ইউরিয়া ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, ভারত ফসফেটিক সারের জন্য আমদানির উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল এবং পটাশের জন্য প্রায় সম্পূর্ণরূপে আমদানিনির্ভর, যা বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষিতে এর ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। আসন্ন বপন মরসুমের জন্য বর্তমান দেশীয় মজুত পর্যাপ্ত বলে মনে করা হলেও, বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন যে সংঘাত চলতে থাকলে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

অ্যামোনিয়া এবং গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশীয় সার কারখানাগুলির উৎপাদন খরচ বেড়েছে এবং পরিচালন মুনাফার হার সংকুচিত হয়েছে, যা উপসাগরীয় গ্যাস আমদানির উপর ভারতের নির্ভরশীলতার কাঠামোগত দুর্বলতাকে তুলে ধরে। এর জবাবে, সরকার সরবরাহের প্রাপ্যতা স্থিতিশীল করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাশিয়া, বেলারুশ ও মরক্কোসহ বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে উৎসের বৈচিত্র্য আনার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে।

সারের উচ্চমূল্যের কারণে ভারতীয় কৃষকদের চাষ-‌আবাদের খরচ সরাসরি বেড়েছে। ধান ও গমের মতো প্রধান ফসলের ফলন বজায় রাখার জন্য সার অপরিহার্য। দাম বাড়লে কৃষকরা প্রায়শই সার প্রয়োগের হার কমিয়ে ক্ষতিপূরণ করেন, যা উৎপাদনশীলতা হ্রাস করতে পারে এবং ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে পারে। বিশেষজ্ঞেরা সতর্ক করেছেন যে, যদি পরবর্তী ফসলচক্রগুলিতেও সারের ঘাটতি অব্যাহত থাকে, তবে উৎপাদন হ্রাস এবং খাদ্যপণ্যের দামে বিলম্বিত বৃদ্ধি ঘটতে পারে।


সারের উচ্চমূল্যের কারণে ভারতীয় কৃষকদের চাষ-‌আবাদের খরচ সরাসরি বেড়েছে।



এই সংঘাত একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। উত্তেজনার কারণে হরমুজ করিডোর ব্যাহত হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম তীব্রভাবে বেড়েছে, যা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের (২০২২-২৩) মতো অতীতের ঘটনাগুলিরই প্রতিচ্ছবি। এটি ভারতের জন্য  দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে: একদিকে যেমন ব্যয়বহুল জ্বালানি আমদানি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে এলএনজি-র উচ্চমূল্য সার উৎপাদন ক্ষমতাকে সীমিত করছে। কৃষি প্রকৃতিগতভাবে জৈব হলেও এটি গভীরভাবে শক্তি-নির্ভর—সেচ, যান্ত্রিকীকরণ এবং পরিবহণের জন্য ডিজেল হল জ্বালানি; আর সার উৎপাদনের ভিত্তি হল প্রাকৃতিক গ্যাস। সুতরাং, তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি ভারতের কৃষি-মূল্য শৃঙ্খল জুড়ে মূল্য-‌চালিত মূল্যস্ফীতিতে রূপান্তরিত হয়। এই চাপ আরও তীব্র হয় যখন বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটায়, যা আমদানিকৃত পণ্যের ভূমিতে পৌঁছনোর খরচ বাড়িয়ে দেয়।

বাণিজ্য পথগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্য চাল, চিনি এবং চায়ের মতো ভারতীয় কৃষি পণ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু পরিবর্তনশীল রপ্তানি গন্তব্য। জাহাজের পথ পরিবর্তন, উচ্চ বিমা প্রিমিয়াম, এবং জাহাজের বিলম্ব বাণিজ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও প্রতিযোগিতাকে ব্যাহত করেছে। একই সঙ্গে, সার এবং জ্বালানি উপকরণের আমদানি দেরিতে এবং উচ্চ মূল্যে আসছে। সম্মিলিতভাবে, এই পরিস্থিতিগুলি ভারতের কৃষি ব্যবস্থার উপর দ্বৈত চাপ সৃষ্টি করে: উপকরণের উচ্চ মূল্য লাভের পথ সংকীর্ণ করে, অন্যদিকে রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনাকে সীমিত করে।

ভারতের সার ভর্তুকি ব্যবস্থা—যা কৃষকদের বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা থেকে রক্ষা করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—নতুন করে চাপের সম্মুখীন হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক মূল্য মোট ভর্তুকি ব্যয় বাড়িয়ে দেয়, যা সরকারি অর্থায়নের উপর চাপ সৃষ্টি করে। যেহেতু সরকার আমদানিজনিত মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কার একটি বড় অংশ বহন করে, তাই আর্থিক সংস্থান সংকুচিত হয়, যা গ্রামীণ উন্নয়ন বা পরিকাঠামো খাতে ব্যয়ের জন্য সম্পদ সীমিত করে। নীতি বিশেষজ্ঞেরা রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের সময় পরিলক্ষিত ভর্তুকি বৃদ্ধির পুনরাবৃত্তির বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যখন একই ধরনের বাহ্যিক ধাক্কার কারণে সারের ভর্তুকি বাবদ খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। এটি একটি অর্থনৈতিক দোটানার সৃষ্টি করে: কৃষকদের সুরক্ষা দিলে উৎপাদন বজায় থাকে কিন্তু রাজস্ব ঘাটতি বাড়ে; অন্যদিকে এই বোঝা স্থানান্তর করলে সারের ব্যবহার কমে যাওয়া এবং ফলন হ্রাসের ঝুঁকি থাকে। এই পরস্পরবিরোধী বিষয়গুলির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় সতর্কভাবে পরিকল্পিত নীতি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


উৎপাদন উপকরণের ক্রমবর্ধমান খরচ কৃষিপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, অন্যদিকে সরবরাহ শৃঙ্খলের অদক্ষতা খুচরা মূল্যস্ফীতিকে আরও তীব্র করে তোলে।



সারের ঘাটতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবহণ ব্যবস্থায় বিঘ্নের সম্মিলিত চাপ খাদ্য মূল্যস্ফীতির জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। উৎপাদন উপকরণের ক্রমবর্ধমান খরচ কৃষিপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, অন্যদিকে সরবরাহ শৃঙ্খলের অদক্ষতা খুচরা মূল্যস্ফীতিকে আরও তীব্র করে তোলে। এই ধরনের মূল্যস্ফীতি নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলিকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাবিত করে, এবং গণবণ্টন ব্যবস্থা (পিডিএস) সহ ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞেরা সতর্ক করেছেন যে বর্ষার মরসুমে ফসল তোলার সময় এই বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে একটি সম্ভাব্য ‘দ্বিতীয় দফা খাদ্যমূল্য সংকট’ দেখা দিতে পারে।

তাৎক্ষণিক বিঘ্ন ছাড়াও, এই সংকট ভারতের কাঠামোগত দুর্বলতাগুলিকে উন্মোচিত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:

❅ আমদানি করা সার এবং জ্বালানির উপর ব্যাপক নির্ভরতা, যা উভয়ই ভূ-রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত।

❅ রাসায়নিক সারের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা‌, যা বিশ্ব বাজারের অস্থিরতার সময় ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

❅ সরবরাহ ও বাণিজ্য পথের অপ্রতুল বৈচিত্র্য।

এর মোকাবিলায় ভারত অভ্যন্তরীণ সার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে জৈব সার ও নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারের লক্ষ্যে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ করছে। এই পদক্ষেপগুলির উদ্দেশ্য শুধু স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ স্থিতিশীল করাই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করাও।


এর মোকাবিলায় ভারত অভ্যন্তরীণ সার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে জৈব সার ও নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারের লক্ষ্যে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ করছে।



চলতি মধ্যপ্রাচ্য সংকট আঞ্চলিক সীমানা অতিক্রম করে খাদ্য ব্যবস্থার উপর একটি পূর্ণাঙ্গ ধাক্কায় পরিণত হয়েছে। ভারতের জন্য, এটি একই সঙ্গে সার, জ্বালানি, বাণিজ্য, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং খাদ্যমূল্যকে প্রভাবিত করেছে। যদিও এর তাৎক্ষণিক প্রভাব—যেমন উৎপাদন উপকরণের ক্রমবর্ধমান খরচ এবং পণ্য পরিবহণে বিলম্ব—ইতিমধ্যেই স্পষ্ট, তবে এর দীর্ঘমেয়াদি  ফলাফল নির্ভর করবে ভারত কতটা কার্যকরভাবে এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে তার উপর। অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা শক্তিশালী করা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈচিত্র্য আনা, এবং সম্পদের ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধি করা ভবিষ্যতের ভূ-রাজনৈতিক ও জ্বালানি সংকট থেকে ভারতীয় কৃষিকে রক্ষা করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।



শোভা সুরি অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হেলথ ইনিশিয়েটিভের সিনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.