বাণিজ্যিক পথগুলি যখন ক্রমশ ভেঙে পড়ছে এবং ভূ-রাজনীতি কঠিন হচ্ছে, তখন আইএমইসি একটি বৈচিত্র্য-চালিত সংযোগ মডেলের প্রস্তাব দিচ্ছে, যা প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে স্থিতিস্থাপকতার উপর বেশি গুরুত্ব দেয়।
২০২৩ সালের জি২০ ভারত শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠকে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একটি বাণিজ্য পথ হিসেবে ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের (আইএমইসি) ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন অনেকেই এটিকে চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ-এর (বিআরআই) একটি পালটা পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। পূর্ববর্তী ট্রাম্প ও বাইডেন প্রশাসন এই করিডোরকে সমর্থন করলেও, ট্রাম্প ২.০-এর পারস্পরিক শুল্ক নীতি এবং সংরক্ষণবাদের কারণে সৃষ্ট বাণিজ্য অনিশ্চয়তা আইএমইসি-র মতো একটি বহু-রাষ্ট্রীয়, বহুমাধ্যম পরিবহণ ও বাণিজ্য করিডোরের বিকাশের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইএমইসি-র বিষয়টি থেকে মূলত বেরিয়ে গিয়েছে, যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটিকে ‘ইতিহাসের অন্যতম সেরা বাণিজ্য পথ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এই প্রক্রিয়ায় আইএমইসি এখন ২০২৩ সালের চুক্তির পক্ষভুক্ত অন্য অর্থনীতিগুলি – যেমন ভারত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই), ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালির - দ্বারা পরিচালিত একটি উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।
আইএমইসি-কে বিআরআই-এর প্রতিচ্ছবি বা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বোঝা উচিত নয়, বরং এটিকে একটি কাঠামোগত ভাবে ভিন্ন সংযোগ স্থাপত্য হিসেবে দেখা উচিত, যা অংশগ্রহণকারী দেশগুলির বৈচিত্র্যকরণ, মান, স্থায়িত্ব এবং অভিন্ন অর্থনৈতিক মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
তবুও আইএমইসি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে প্রায়শই উত্থাপিত প্রশ্নটি পুরোপুরি চাপা পড়েনি — আইএমইসি কি চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ-এর (বিআরআই) প্রতিপক্ষ? প্রশ্নটি উস্কানিমূলক হলেও, এটি একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর। ভূ-কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আজকের দিনে সংযোগ ব্যবস্থা ভূ-রাজনীতি এবং প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দুতে প্রোথিত। আবার এটি বিভ্রান্তিকরও। কারণ আইএমইসি-কে বিআরআই-এর প্রতিচ্ছবি বা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বোঝা উচিত নয়, বরং এটিকে একটি কাঠামোগত ভাবে ভিন্ন সংযোগ স্থাপত্য হিসেবে দেখা উচিত, যা অংশগ্রহণকারী দেশগুলির বৈচিত্র্যকরণ, মান, স্থায়িত্ব এবং অভিন্ন অর্থনৈতিক মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া প্রায় সকল অংশগ্রহণকারী দেশের জন্যই আইএমইসি কোনও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়। বরং এটি সরবরাহ-শৃঙ্খলের সঙ্কট, ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন এবং জলবায়ুগত চাপের মতো বিষয় দ্বারা চিহ্নিত একটি যুগে বৈশ্বিক বাণিজ্যকে ভবিষ্যৎ-সুরক্ষিত করার জন্য একটি অর্থনৈতিক বিমা হিসেবে কাজ করে।
বিপ্লবের যুগে সংযোগ ব্যবস্থা
সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেখলে এই অপরিহার্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২১ সালের মার্চ মাসে একটি বিশাল কন্টেনার জাহাজের জন্য সুয়েজ খাল অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল, যার ফলে বেশ কয়েকটি জাহাজ আটকা পড়ে। এই বিঘ্ন বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশকে প্রভাবিত করেছিল, যতক্ষণ না একটি বড় উদ্ধার অভিযান সফল ভাবে সেগুলিকে মুক্ত করে। অতি সম্প্রতি বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হুতিদের আক্রমণের কারণে সৃষ্ট ২০২৩-২৪ সালের লোহিত সাগর সঙ্কট অতি-কেন্দ্রীভূত বাণিজ্য পথের ভঙ্গুরতা প্রকাশ করে দেয়। লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী ভারতের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পণ্য বিলম্বের সম্মুখীন হয়। কারণ জাহাজগুলিকে কেপ অফ গুড হোপের চারপাশ দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে প্রায় ৩,৫০০ নটিক্যাল মাইল অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হয়, যাতায়াতের সময় এক সপ্তাহের বেশি বেড়ে যায়, প্রতি যাত্রায় জ্বালানি খরচ প্রায় দশ লক্ষ ডলার বৃদ্ধি পায় এবং বিমার প্রিমিয়ামও বেড়ে যায়।
যেহেতু ইইউ-ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য লোহিত সাগর-সুয়েজ খাল করিডোরে কেন্দ্রীভূত, তাই ভারতীয় রফতানিকারকরা ২০২৩-২৪ সালের শেষ ত্রৈমাসিকে পণ্য চালান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন, যার ফলে ইইউ-ভারত বাণিজ্যে পতন ঘটে। যেহেতু ইইউ ভারতের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং মোট পণ্য বাণিজ্যের ১২ শতাংশেরও বেশি অংশীদার, তাই এই দুর্বলতা সুস্পষ্ট।
ভারতের জন্য আইএমইসি কোনও ভূ-রাজনৈতিক উস্কানি নয়, বরং বাণিজ্য পথের বৈচিত্র্যায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি কৌশল।
আইএমইসি সরাসরি এই কাঠামোগত ঝুঁকির মোকাবিলা করে। এটি সুয়েজ খাল করিডোর বা নর্থ-সাউথ করিডোরের (যা রাশিয়ার মধ্য দিয়ে যায়) মতো বিদ্যমান সামুদ্রিক পথগুলিকে প্রতিস্থাপন করার জন্য নয়, বরং সেগুলির পরিপূরক হিসেবে পরিকল্পিত। সুতরাং, ভারতের জন্য আইএমইসি কোনও ভূ-রাজনৈতিক উস্কানি নয়, বরং বাণিজ্য পথের বৈচিত্র্যায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি কৌশল।
চিত্র ১: আইএমইসি মানচিত্র

উৎস: আইএমইসি
চলাচলের ঊর্ধ্বে উঠে: অর্থনৈতিক ভূগোলের পুনর্কল্পনা
যদিও বন্দর, রেলপথ, ডিজিটাল পরিকাঠামো, জ্বালানি ব্যবস্থা এবং লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্মগুলিকে সংযুক্তকারী এই বহু-মাধ্যম, বহু-খাতভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোটি একটি বাণিজ্য ও পরিবহণ করিডোর হিসেবে উন্মোচিত হয় - যা চলাচলের সময় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত এবং লজিস্টিকস খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ কমাতে পারে - এটি তার চেয়েও বেশি কিছু। এটি যে ভাবে উৎপাদন ভূগোলকে পুনর্গঠন করে তার মধ্যেই এর গভীরতর মূল্য নিহিত রয়েছে। আইএমইসি একটি ত্রিভুজাকার অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করে: ভারত একটি উৎপাদন ও পরিষেবা কেন্দ্র হিসেবে; উপসাগরীয় অঞ্চল একটি লজিস্টিকস, জ্বালানি ও পুঁজি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে; এবং ইউরোপ একটি প্রযুক্তি ও ভোগ কেন্দ্র হিসেবে। এটি নিষ্কাশন-ভিত্তিক সংযোগ নয়, বরং অঞ্চল জুড়ে নিহিত সহ-সৃষ্ট মূল্য। এই কাঠামোটি মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক ভূমিকার একটি পরিবর্তনকেও প্রতিফলিত করে। উপসাগরীয় অঞ্চল এখন আর শুধুমাত্র হাইড্রোকার্বন দ্বারা সংজ্ঞায়িত নয়। এটি ক্রমবর্ধমান ভাবে একটি লজিস্টিকস, অর্থায়ন এবং উদ্ভাবন কেন্দ্র, যা এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য, পুঁজি এবং তথ্য প্রবাহে মধ্যস্থতা করার জন্য প্রস্তুত।
আইএমইসি এবং বিআরআই: মৌলিক পার্থক্য
উভয়ের মধ্যে পার্থক্য আরও গভীর। বিআরআই মূলত একটি দ্বিপাক্ষিক, রাষ্ট্র-চালিত এবং ঋণ-অর্থায়িত উদ্যোগ। অন্য দিকে, আইএমইসি স্বভাবতই বহুপাক্ষিক, বাজার-ভিত্তিক এবং মান-চালিত। এটি কোনও শাসনব্যবস্থার মডেল রফতানি করে না; বরং এটি তার নকশার মধ্যেই স্বচ্ছতা, আন্তঃকার্যক্ষমতা এবং স্থায়িত্বকে অন্তর্ভুক্ত করে।
যেখানে বিআরআই পরিধি এবং গতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল, সেখানে আইএমইসি স্থিতিস্থাপকতা, অর্থায়নযোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতাকে অগ্রাধিকার দেয়। এটি জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা, ডিজিটাল শাসনের নিয়মাবলি এবং বৈচিত্র্যময় ঝুঁকি-বণ্টনের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করতে চায়, বিশেষ করে যে বৈশিষ্ট্যগুলি বিনিয়োগকারী এবং সমাজ উভয়ের দ্বারাই ক্রমবর্ধমান ভাবে কাঙ্ক্ষিত। আইএমইসি-র দীর্ঘমেয়াদি বৈধতা নির্ভর করবে এটি স্থিতিশীল এবং নৈতিক সংযোগের একটি মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে কি না, তার উপর। এর শক্তি এবং ডিজিটাল স্তম্ভগুলি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বাণিজ্য, সবুজ হাইড্রোজেন করিডোর এবং আন্তঃসীমান্ত তথ্য পরিকাঠামোকে সমর্থন করতে পারে। এটি স্বাভাবিক ভাবেই ইইউ গ্রিন ডিল এবং ভারতের স্বল্প-কার্বন প্রবৃদ্ধি কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিআরআই প্রকৃতপক্ষে স্থায়িত্বের এমন কোনও নীতি প্রকাশ করেনি এবং এর পরিবর্তে একটি একক-রাষ্ট্র-চালিত, শীর্ষ-থেকে-নিম্নমুখী পদ্ধতি অবলম্বন করে। সর্বোপরি, করিডোরের কাঠামোতে ডেটা গভর্ন্যান্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতি থেকে শুরু করে শ্রম ও পরিবেশগত সুরক্ষা পর্যন্ত ডিজিটাল এবং নৈতিক মানগুলিকে একীভূত করার সুযোগের মাধ্যমে আইএমইসি ‘নৈতিক সংযোগ’-এর একটি পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে, যা ভবিষ্যতের বাণিজ্য করিডোরগুলি কী ভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণ করবে।
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ-এর (বিআরআই) প্রেরণা এসেছে একটি ‘ভোগ-চালিত প্রবৃদ্ধি’র কৌশল থেকে, যার লক্ষ্য হল অভ্যন্তরীণ ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশীয় ভোগ ব্যয় বাড়ানো, যা চিনের চতুর্দশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় স্বীকৃত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিদ্যমান অনিশ্চয়তা প্রবৃদ্ধির জন্য একটি নির্ভরযোগ্য শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে না। তাই গত দশকে চিনে মজুরি, বেতন এবং ফলস্বরূপ শ্রম ব্যয় বহু গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাদের রফতানিকে বহিরাগত বাজারে কম প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারত। এর ফলে তারা প্রচুর এবং সাশ্রয়ী মানব ও প্রাকৃতিক পুঁজি রয়েছে এমন স্থানে উৎপাদনের উপাদান স্থানান্তরের কথা বিবেচনা করতে শুরু করে। সুতরাং বিআরআই ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাজারের পাশাপাশি আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার ‘উপাদানমূলক’ বাজারগুলি দখলের একটি অন্বেষণে পরিণত হয়।
আইএমইসি কি বিআরআই-এর একটি প্রতিপক্ষ?
বিআরআই ইতিমধ্যেই আইএমইসি-এর চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে আছে। ২০১৩ সালে ঘোষণার পর থেকে বিআরআই-এর মোট বিনিয়োগ ইতিমধ্যে ১.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে, যেখানে আইএমইসি সবেমাত্র তার যাত্রা শুরু করেছে। গাজা উপত্যকার সংঘাত দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রকল্পটির অগ্রগতি বিলম্বিত করেছে। যদিও গাজার যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির অধীনে রয়েছে, তবে তা ‘শেষ’ হয়েছে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও জল্পনা-কল্পনা চলছে।
করিডোরগুলি দূরদৃষ্টির অভাবে ব্যর্থ হয় না, বরং ঝুঁকির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূলধনের অভাবে ব্যর্থ হয়।
আইএমইসি-র বর্তমান নকশায় এমন কিছু লজিস্টিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যা তেমন গুরুত্ব পায়নি এবং যার জন্য ব্যাপক অবকাঠামোগত বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। এই করিডোরে পশ্চিম ভারতের মুম্বই বা মুন্দ্রা বন্দর থেকে জেবেল আলিতে এবং সেখান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরবের মধ্য দিয়ে রেলপথে ইজরায়েলের হাইফা বন্দরে পণ্য পরিবহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বিশেষ করে সৌদি আরবে রেল সংযোগের অভাব এবং বন্দরের ধারণক্ষমতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্যের কারণে এর কার্যকারিতা সীমিত। যেখানে জেবেল আলি বছরে প্রায় ৯০ মিলিয়ন টন পণ্য পরিচালনা করে, সেখানে হাইফার ধারণক্ষমতা প্রায় ৩০ মিলিয়ন টনে সীমাবদ্ধ, যা একটি কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। হাইফায় ব্যাপক সম্প্রসারণ ছাড়া, আইএমইসি লোহিত সাগর-সুয়েজ রুটের একটি সম্প্রসারণযোগ্য বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা কম, যেখানে মিশরীয় বন্দরগুলি সম্মিলিত ভাবে প্রতি বছর প্রায় ১৮০ মিলিয়ন টন পণ্য পরিচালনা করে।
করিডোরগুলি দূরদৃষ্টির অভাবে ব্যর্থ হয় না, বরং ঝুঁকির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূলধনের অভাবে ব্যর্থ হয়। আইএমইসি-র চ্যালেঞ্জটি সরাসরি অর্থের অভাব নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত চাহিদা এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতার মধ্যে অসামঞ্জস্য। বিশ্বব্যাপী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তাদের পোর্টফোলিওর মাত্র ৫ শতাংশ অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ করে। আইএমইসি এই বৈপরীত্যের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে: বিপুল পরিমাণ মূলধনের সহজলভ্যতা, কিন্তু ঝুঁকি প্রশমনের অপ্রতুল ব্যবস্থা। এর সমাধান নিহিত রয়েছে বেসরকারি ও সরকারি অর্থায়নের সমন্বয়ে গঠিত পোর্টফোলিও পদ্ধতির মাধ্যমে উদ্ভাবনী ও স্তরভিত্তিক অর্থায়নে।
যদিও বিআরআই বৈশ্বিক সংযোগ প্রকল্পের ধারণাকে নতুন ভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিল, আইএমইসি-র ক্ষেত্রেও একই উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিরাজ করতে পারে এর নিজস্ব কাঠামো ও দূরদৃষ্টির কারণে এবং বিশেষ করে এটি বিআরআই থেকে মৌলিক ভাবে ভিন্ন ও স্বতন্ত্র হওয়ার কারণে। এখন চ্যালেঞ্জ হল এর বাস্তবায়ন। পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার বিভাজন এবং সমন্বয়ের ঘাটতি প্রকৃত ঝুঁকি তৈরি করছে। তবুও এর অর্থনৈতিক যুক্তি অত্যন্ত জোরালো।
উপসংহার
আইএমইসি বিআরআই-এর প্রতিপক্ষ নয়, বরং এটি সংযোগের একটি পরবর্তী প্রজন্মের মডেল, যা স্থিতিস্থাপকতা, স্থায়িত্ব এবং অভিন্ন সাধারণ মূল্যের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এর সাফল্য কেবল ভৌত অবকাঠামোর উপরই নির্ভর করবে না, বরং করিডোরটির ভিত্তি হিসেবে থাকা প্রতিষ্ঠান, অর্থায়ন এবং সহযোগিতার মানের উপর বেশি নির্ভর করবে। ভারতের জন্য, আইএমইসি লজিস্টিকস সংস্কারকে ত্বরান্বিত করতে, উৎপাদন একীকরণকে গভীর করতে এবং বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে নিজেকে একটি কেন্দ্রীয় নোড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি মঞ্চ প্রদান করে। ইউরোপের জন্য, এটি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এবং সরবরাহ-শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতাকে শক্তিশালী করে। উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য, এটি হাইড্রোকার্বন থেকে লজিস্টিকস, অর্থায়ন এবং উদ্ভাবনের দিকে রূপান্তরকে জোরদার করে। যদি আইএমইসি সফল হয়, তবে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আদর্শ হিসেবে আবির্ভূত হবে যে, কী ভাবে একই ধরনের মূল্যবোধ সম্পন্ন গণতন্ত্র এবং বাজার অর্থনীতিগুলি একবিংশ শতাব্দীতে সংযোগ স্থাপন করতে পারে— আধিপত্য বা ঋণের মাধ্যমে নয়, বরং অংশীদারিত্ব, বিশ্বাস এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টির মাধ্যমে।
নীলাঞ্জন ঘোষ অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr Nilanjan Ghosh heads Development Studies at the Observer Research Foundation (ORF) and serves as the operational and executive head of ORF’s Kolkata Centre. He ...
Read More +