জীবাশ্ম জ্বালানির জন্য দায়বদ্ধতাকে সর্বজনীন করার মাধ্যমে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত সমতাকে ক্ষুণ্ণ করা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিকে শাস্তি দেওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছে।
২০২৫ সালের ২৩ জুলাই, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক পরামর্শমূলক মতামত প্রদান করে। এর মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে এই বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করার মধ্যে যে, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে জলবায়ু সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন একটি অন্যায় কাজ হিসেবে গণ্য হবে, যার ফলে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হবে।
প্রথম দর্শনে যা আশাব্যঞ্জক বলে মনে হয়েছিল, তা শীঘ্রই গভীরতর উদ্বেগের জন্ম দেয়, বিশেষ করে সমমনস্ক উন্নয়নশীল দেশগুলির (এলএমডিসি) জন্য—যা এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার ২৪টি দেশের একটি জোট, যারা জলবায়ু আলোচনায় সমতা এবং উন্নয়নমূলক উদ্বেগের ওপর জোর দেয়। ৪২৭ অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে, আইসিজে জোর দিয়ে বলেছে যে, জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন, ব্যবহার, অনুসন্ধান, লাইসেন্স প্রদান বা জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাস (জিএইচজি) নির্গমন কমাতে কোনও রাষ্ট্রের ব্যর্থতা একটি আন্তর্জাতিকভাবে অন্যায় কাজ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
সাধারণ কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব-সংশ্লিষ্ট সক্ষমতা (সিবিডিআর-আরসি) নীতিটি বাদ দেওয়ার অর্থ হল বাধ্যবাধকতাগুলির একটি সর্বজনীন কাঠামো তৈরি করা।
উল্লেখ্য, সাধারণ কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব-সংশ্লিষ্ট সক্ষমতা (সিবিডিআর-আরসি) নীতিটি বাদ দেওয়ার অর্থ হল বাধ্যবাধকতাগুলির একটি সর্বজনীন কাঠামো তৈরি করা। এটি এই উদ্বেগের জন্ম দেয় যে, আইসিজে-র বিস্তৃত ব্যাখ্যাটি ঐতিহাসিক নির্গমনের দায়বদ্ধতাকে উপেক্ষা করতে পারে, ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি ধীরে ধীরে কমানোর উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলির জাতীয়ভাবে নির্ধারিত পথগুলি ব্যাহত হতে পারে।
জীবাশ্ম জ্বালানির পর্যায়ক্রমিক হ্রাস বনাম পর্যায়ক্রমিক বিলুপ্তি: শব্দার্থের গুরুত্ব রয়েছে
আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি কমানো বা বিলুপ্ত করার জন্য রাষ্ট্রগুলির কোনও নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা নেই। এর বিপরীতে, রাষ্ট্রগুলির নিজস্ব পরিবেশগত ও উন্নয়নমূলক নীতি অনুসারে, তাদের ভূখণ্ড বা এক্তিয়ারের মধ্যে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানিসহ তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করার একটি অবিচ্ছেদ্য সার্বভৌম অধিকার রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণভাবে, আজ জলবায়ু কূটনীতির ভাষা এই বহু-কষ্টে অর্জিত ঐকমত্যকেই প্রতিফলিত করে। সম্প্রতি কপ২৬, কপ২৭, এবং কপ২৮ ভর্তুকি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার বিষয়ে কোনও বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি থেকে দূরে থেকেছে, পরিবর্তে শুধু অপরিশোধিত কয়লার ব্যবহার পর্যায়ক্রমে কমানো এবং এমন অদক্ষ ভর্তুকি অপসারণের আহ্বান জানিয়েছে যা শক্তি সরবরাহ বা ন্যায্য রূপান্তরের উদ্দেশ্য পূরণ করে না। এর কারণ হল, একটি ধীরগতির পর্যায়ক্রমিক হ্রাস নিম্ন ও মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য তাদের কৌশলগত স্বল্প-কার্বন নিঃসরণ উন্নয়ন রূপান্তর নিশ্চিত করার একটি বাস্তবসম্মত ও ন্যায়সঙ্গত বিকল্প প্রদান করে।
এই প্রেক্ষাপটে, আইসিজে-র বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গিটি রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত বোঝাপড়ার সঙ্গে বেমানান বলে মনে হয়। এই ব্যাখ্যাটি জাতীয়ভাবে নির্ধারিত জলবায়ু পদক্ষেপের ক্ষেত্রকে সংকুচিত করে, যা ইউএনএফসিসিসি, প্যারিস চুক্তি এবং প্রথম গ্লোবাল স্টকটেকের ফলাফলে স্পষ্টভাবে সুরক্ষিত করা হয়েছে।
ভারতের ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা
ভারত একটি উন্নয়নশীল দেশ, যা এখনও বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা ও সংযোগের সর্বজনীন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সংগ্রাম করছে। এই পরিস্থিতিতে বৃদ্ধির সঙ্গে জলবায়ু কার্যক্রমের ভারসাম্য রক্ষা করা দেশটির জন্য বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং। তদুপরি, শিল্পোন্নত দেশগুলির মতো ভারত শত শত বছরের জীবাশ্ম জ্বালানি-চালিত বৃদ্ধির সুবিধা ভোগ করেনি। তা সত্ত্বেও, ভারতের সুচিন্তিত ‘অপসারণ, লক্ষ্য নির্ধারণ, স্থানান্তর’ পদ্ধতি তেল ও গ্যাস খাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি ৮৫ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে। এই ভর্তুকি পর্যায়ক্রমে কমানোর ফলে সৃষ্ট আর্থিক সংস্থান গ্রামীণ দরিদ্রদের মধ্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সহজলভ্যতা বৃদ্ধি এবং এর ব্যবহার সম্প্রসারণের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি প্রদানে বরাদ্দ করা হয়েছে। এই কারণে, জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি ভারতের উন্নয়নের প্রয়োজনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য, বিশেষ করে গ্রামীণ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির জন্য, সাশ্রয়ী মূল্যে রান্নার জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে। এই ভর্তুকিগুলি জ্বালানির সহজলভ্যতা, গ্রিড স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকে সমর্থন করে, এবং একই সঙ্গে ভারতকে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের লক্ষ্যগুলির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম করে। তাই, পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা ছাড়া, এই ধরনের ভর্তুকি দ্রুত বন্ধ করার দাবি ন্যায্য বা বাস্তবসম্মত বলে মনে হয় না।
এই ভর্তুকি পর্যায়ক্রমে কমানোর ফলে সৃষ্ট আর্থিক সংস্থান গ্রামীণ দরিদ্রদের মধ্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সহজলভ্যতা বৃদ্ধি এবং এর ব্যবহার সম্প্রসারণের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি প্রদানে বরাদ্দ করা হয়েছে।
সিবিডিআর-আরসি কাঠামোর অধীনে আইনি দায়বদ্ধতার সমন্বয় সাধন
ইউএনএফসিসিসি এবং প্যারিস চুক্তি সিবিডিআর-আরসি-কে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা নিশ্চিত করে যে ন্যায্যতা, জাতীয় পরিস্থিতি এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ অবশ্যই জলবায়ু কার্যক্রমকে কাঠামোবদ্ধ করবে। সিবিডিআর-আরসি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে ঐতিহাসিক বৈষম্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন সক্ষমতাকে স্বীকৃতি দেয়। এই লক্ষ্যে, ভারতের হস্তক্ষেপে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে উন্নত দেশগুলোকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর কমপক্ষে ১.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এটি অনুদান, সহজ শর্তে অর্থায়ন এবং ঋণ-সৃষ্টিকারী নয় এমন সহায়তার মাধ্যমে আসতে হবে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করবে এবং তাদের উপর বৃদ্ধি-প্রতিবন্ধক শর্ত আরোপ করবে না।
এই প্রেক্ষাপটে, আইসিজে শুধু ব্যাপক বাধ্যবাধকতা ঘোষণাই করেনি, বরং বিচারপতি ভান্ডারি এবং ক্লিভল্যান্ড তাঁদের যৌথ ঘোষণায় উদ্বেগজনকভাবে ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্বকে সম্ভাব্য ‘দায়মুক্তি’র উপায় হিসেবে গণ্য করেছেন। এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, তাঁরা এই কাজটি করার সময় বাহামাসের প্রাথমিক যুক্তি থেকে বাক্যটি গ্রহণ করেছেন (অনুচ্ছেদ ২৭, যৌথ ঘোষণা), যেখানে চিন, ভারত, ওপেক, সৌদি আরব এবং রাশিয়াকে এই গোষ্ঠীর সাধারণ প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ২০, কার্যবিবরণী ২০২৪/৩৬, বাহামাস)। এই ধরনের চিত্রায়ণ শত শত বছরের জীবাশ্ম-জ্বালানি-নির্ভর বৃদ্ধিসম্পন্ন শিল্পোন্নত অর্থনীতি এবং এখনও শক্তি ও মৌলিক কল্যাণের সর্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংগ্রামরত উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলির মধ্যেকার মৌলিক বৈষম্যকে উপেক্ষা করে।
এমনকি যে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো মৌলিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকির উপর নির্ভর করে, তাদের জন্যও আদালতের এই অতিরিক্ত বাধ্যবাধকতার প্রস্তাব জলবায়ু ন্যায়বিচারকে সমতার নীতি থেকে নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করার বিপদ সৃষ্টি করে।
জলবায়ু ন্যায়বিচার: নিয়ন্ত্রণের একটি প্রক্রিয়া?
মনে হচ্ছে যে আইসিজে আনুষ্ঠানিকভাবে সিবিডিআর-আরসি নীতিকে স্বীকৃতি দিলেও, যখন এটি দেশগুলির উন্নয়নশীল অবস্থাকে উপেক্ষা করে জীবাশ্ম জ্বালানির জন্য অভিন্ন দায়বদ্ধতাকে উৎসাহিত করে, তখন এটি সেই নীতিকে দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করে। কার্যত, রাষ্ট্রগুলি সার্বভৌম রাজনৈতিক পছন্দ হিসেবে যা সচেতনভাবে সংরক্ষণ করেছে, তাকেই আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে একটি বাধ্যতামূলক আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে বিচারগতভাবে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে। এমনকি যে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো মৌলিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকির উপর নির্ভর করে, তাদের জন্যও আদালতের এই অতিরিক্ত বাধ্যবাধকতার প্রস্তাব জলবায়ু ন্যায়বিচারকে সমতার নীতি থেকে নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করার বিপদ সৃষ্টি করে।
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে জলবায়ু ন্যায়বিচারের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পথের প্রয়োজন: উন্নত দেশগুলিকে অবশ্যই মোট নিঃসরণ হ্রাসের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে হবে, এবং একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে উন্নয়ন বিসর্জন না দিয়ে স্বল্প-কার্বন বৃদ্ধির পথ অনুসরণ করতে সক্ষম করতে হবে। ভারত তার নিজের পক্ষ থেকে ২০৭০ সালের মধ্যে নেট-জিরো নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির একটি পদ্ধতিগত পর্যায়ক্রমিক হ্রাসের প্রয়োজন হবে। তবে আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে, একটি ন্যায়সঙ্গত ও সমতাপূর্ণ রূপান্তর নিশ্চিত করার জন্য, প্রগতিশীলভাবে, জাতীয়ভাবে নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং ভারতের আর্থ-সামাজিক অগ্রাধিকার ও জাতীয় পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে হওয়া উচিত।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, আইসিজে-র মতামতটি শুল্ক-প্ররোচিত রাজনৈতিক ঝড়ের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলে এবং কপ৩০ এগিয়ে আসার সাথে সাথে, এর প্রভাবগুলো সম্ভবত আলোচনায় আবার সামনে আসবে, যেখানে সমমনস্ক উন্নয়নশীল দেশগুলিকে অবশ্যই জলবায়ু ন্যায়বিচারের নামে নতুন বৈষম্য তৈরির বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
আর্শিয়া রায় অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষণা ইন্টার্ন।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.