শূন্য সহনশীলতার কাঠামো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারত এখন আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্রাধিকার দিয়েছে চরমপন্থী নেটওয়ার্কগুলি নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই তাদের সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার উপর।
একবিংশ শতাব্দীর সূচনাপর্ব পারস্পরিক সমৃদ্ধিতে আবদ্ধ এক আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে এটি অপ্রতিসম হিংস্রতার দ্বারা ক্ষতবিক্ষত এক যুগ উপহার দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন এক খণ্ডিত বহুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পথ চলছে, তখন ছায়া সংঘাত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মৌলিক কাঠামোর শক্তি পরীক্ষা করছে। আমরা সন্ত্রাসবাদের রূপান্তর প্রত্যক্ষ করছি, যা বিক্ষিপ্ত আদর্শগত উগ্রবাদ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার এক অত্যন্ত পরিশীলিত হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
আজ, শান্তির শত্রুরা শুধু দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলেই লুকিয়ে থাকে না; তারা ডার্ক ওয়েবের এনক্রিপ্টেড গোলকধাঁধার মধ্যে সক্রিয় এবং বিকেন্দ্রীভূত ক্রিপ্টোকারেন্সির হিসাবের খাতাগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
চরমপন্থী নেটওয়ার্কগুলি যেহেতু নির্বিঘ্নে আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধ এবং মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে, তাই অভ্যন্তরীণ পুলিশি ব্যবস্থা এবং বাহ্যিক প্রতিরক্ষার মধ্যেকার চিরাচরিত সীমারেখা সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে গিয়েছে।
এই বিশাল রূপান্তরের প্রতিক্রিয়ায়, ভারত সরকার সম্প্রতি ‘প্রহার’ উন্মোচন করেছে, যা একটি সক্রিয়, সাত-স্তম্ভবিশিষ্ট সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কাঠামো। এটি ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে প্রতিক্রিয়াসম্পন্ন সহনশীলতা থেকে সক্রিয়ভাবে বিঘ্ন ঘটানোর দিকে মৌলিকভাবে পরিবর্তিত করে।
থ্রেট ম্যাট্রিক্সের রূপান্তর
নতুন প্রহার ডকট্রিন বা মতবাদটি আধুনিক অসম যুদ্ধের ভয়াবহ গতিপথকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছে। বিশ্ব এখন সন্ত্রাসবাদের এক ভয়ঙ্কর বিবর্তন প্রত্যক্ষ করছে, যেখানে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো আদিম বাহক ব্যবহার থেকে সরে এসে অত্যন্ত এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, কাস্টমাইজড ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল (ভিওআইপি)-ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন, আলপাইনকোয়েস্টের মতো জিপিএস ম্যাপিং অ্যাপ এবং শনাক্ত-অযোগ্য ডিজিটাল আর্থিক চ্যানেল ব্যবহার শুরু করেছে। সীমান্তের ওপার থেকে সমর্থন পেয়ে সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটগুলি ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়েছে, এবং প্রতিষ্ঠিত সংগঠিত অপরাধ চক্রের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি বিশ্বাসযোগ্য অস্বীকৃতি বজায় রাখার জন্য ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর মতো ধর্মনিরপেক্ষ নামে নিজেদের নতুন পরিচয় বিজ্ঞাপিত করেছে। এক বছর আগে পহেলগামে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হিংসা সন্ত্রাসবাদের এই রূপান্তরকেই তুলে ধরেছিল।
পাকিস্তানের মতো সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকেরা ক্রমবর্ধমানভাবে তাদের প্রক্সিগুলিকে স্বয়ংক্রিয় আকাশযান ব্যবস্থা দিয়ে সজ্জিত করছে, যা ড্রোনগুলিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত জুড়ে মাদক এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহের যন্ত্রে রূপান্তরিত করছে।
এছাড়াও, গোল্ডেন ক্রেসেন্টের ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে ভারত মাদক-সন্ত্রাসবাদের এক বিপজ্জনক সংমিশ্রণের সম্মুখীন হচ্ছে। মাদক পাচারকারী চক্রগুলি এখন অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র এবং জাল নোট পাচারের জন্য তাদের প্রতিষ্ঠিত চোরাচালানের পথগুলি ব্যবহার করছে। পাকিস্তানের মতো সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকেরা ক্রমবর্ধমানভাবে তাদের প্রক্সিগুলিকে স্বয়ংক্রিয় আকাশযান ব্যবস্থা দিয়ে সজ্জিত করছে, যা ড্রোনগুলিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত জুড়ে মাদক এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহের যন্ত্রে রূপান্তরিত করছে। এই বহুমুখী হুমকির জন্য স্থল, আকাশ এবং সামুদ্রিক—এই তিন ক্ষেত্রেই সমানভাবে পরিশীলিত সরকারি প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন, বিশেষ করে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যের আলোকে, যা প্রকাশ করেছে যে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলি জলপথে হামলার জন্য তাদের কর্মীদের সক্রিয়ভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সক্রিয় প্রতিবন্ধকতা
এর আনুষ্ঠানিক ভাষার আড়ালে, প্রহার মতবাদটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং কর্মপরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রের মধ্যে বিযুক্তি নির্মূল করার বিষয়ে একটি গভীর অন্তর্নিহিত বার্তা বহন করে। শূন্য সহনশীলতার একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে ভারত এখন চরমপন্থী নেটওয়ার্কগুলিকে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই সম্পূর্ণরূপে ভেঙে দেওয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্রাধিকার দিয়েছে। হুমকি শনাক্তকরণ এবং অভিযানগত প্রতিক্রিয়ার মধ্যেকার ঐতিহাসিক গতির ব্যবধানটি পূরণ করার জন্য জাতীয় ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল গোয়েন্দা-নির্দেশিত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। গোয়েন্দা বিষয়ক যৌথ টাস্ক ফোর্সের পাশাপাশি মাল্টি-এজেন্সি কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী হুমকিগুলি বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই নিষ্ক্রিয় করতে এবং সক্রিয়ভাবে ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার (এজিডব্লিউ) মডিউলগুলিকে ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ার জন্য স্থানীয় পুলিশকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডের মতো অভিজাত বিশেষায়িত ইউনিটের সঙ্গে একীভূত করা হলে, সংকটের একেবারে প্রথম মুহূর্ত থেকেই রাষ্ট্র পরিমিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় কমিয়ে এনে ভারত স্লিপার সেলগুলিকে ভেঙে দিতে এবং সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নের পথ বন্ধ করতে চায়, যার মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী নিরাপত্তা আখ্যান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। এই পদ্ধতি প্রমাণ করে যে, প্রতিপক্ষের নেটওয়ার্কের ভেতর থেকে দ্রুত গোয়েন্দা তথ্য পেতে পারলে তা ক্রমাগত আগ্রাসনকে কার্যকরভাবে প্রতিহত করে এবং জাতীয় স্থিতিস্থাপকতাকে শক্তিশালী করে।
নাগরিক স্বাধীনতা সমুন্নত রাখা এবং যুবকদের পুনরুদ্ধার
প্রহার ডকট্রিন -এর একটি প্রকৃত স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হল অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রতি, বিশেষত দেশের উগ্রপন্থী যুবকদের বিষয়ে, এর গভীর মানবিক ও সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি। শুধু কঠোর বলপ্রয়োগের বাইরে গিয়ে, এই নীতিটি একটি পর্যায়ক্রমিক পুলিশি প্রতিক্রিয়া চালু করেছে, যা তাদের সংশোধনের একটি প্রকৃত পথ দেখানোর জন্য পরিকল্পিত। এর মাধ্যমে ভারত স্বীকার করেছে যে, অরক্ষিত ব্যক্তিরা প্রায়শই সুপরিকল্পিত আদর্শগত দীক্ষা এবং লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক প্রচারণার শিকার হয়। প্রত্যেক উগ্রপন্থী যুবককে এক অ-সংশোধনযোগ্য হুমকি হিসেবে গণ্য করার পরিবর্তে, রাষ্ট্র একটি সহানুভূতিশীল মূল্যায়ন করার লক্ষ্য রাখে।
শুধু কঠোর বলপ্রয়োগের বাইরে গিয়ে, এই নীতিটি একটি পর্যায়ক্রমিক পুলিশি প্রতিক্রিয়া চালু করেছে, যা তাদের সংশোধনের একটি প্রকৃত পথ দেখানোর জন্য পরিকল্পিত।
পোড়খাওয়া কর্মীরা আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হলেও উগ্রপন্থার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা সরলমনা নাগরিকদের চালিত করা হয় সুসংগঠিত সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণ পদ্ধতি এবং উগ্রবাদ-বিরোধী কর্মসূচির দিকে। এই সহানুভূতিশীল কৌশলটি এই ব্যক্তিদের পরামর্শদান ও পুনর্বাসনের জন্য মধ্যপন্থী ধর্মীয় পণ্ডিত, নাগরিক সমাজ সংগঠন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করে, যা কার্যকরভাবে সন্ত্রাসীদের নিয়োগ পথ বন্ধ করে দেয় এবং সমাজে গভীর স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলে। তাৎক্ষণিক কারাদণ্ডের চেয়ে সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতীয় প্রজাতন্ত্র নাগরিক স্বাধীনতা এবং আইনের যথাযথ প্রক্রিয়াকে দৃঢ়ভাবে সমুন্নত রেখেছে, যা প্রমাণ করে যে একটি পরিণত গণতন্ত্র তার নাগরিকদের দিকে নিরাময়ের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বাহ্যিকভাবে অপ্রতিরোধ্য শক্তি প্রদর্শন করতে পারে।
বিচারবিভাগীয় অপরিহার্যতা এবং তদন্তের কঠোরতা
যদিও সামরিক সক্ষমতা জনসমক্ষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, এই মতবাদের প্রকৃত পরীক্ষা হয় বিচার ব্যবস্থার অলিন্দে। বর্তমান নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুতর দুর্বলতা হল আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এবং তদন্ত ক্ষমতার মধ্যে বিশাল সংযোগহীনতা। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির মামলায় অসাধারণ হারে দণ্ডাদেশ আসে, কারণ তারা তাদের বিশাল তদন্ত ক্ষমতাকে কয়েকটি নির্দিষ্ট মামলার উপর কেন্দ্রীভূত করে। এর সম্পূর্ণ বিপরীতে রাষ্ট্রীয় পুলিশ বাহিনী, যাদের প্রায়শই সন্ত্রাস কার্যকলাপ এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন সংক্রান্ত জটিল আইন প্রয়োগ করতে হয়, তারা অনেক সময়েই প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তি স্থাপন না করেই অগ্রসর হয়, যার ফলে জাতীয় পর্যায়ে দণ্ডপ্রাপ্তির হার অত্যন্ত শোচনীয়।
এই মারাত্মক ব্যবধান পূরণের জন্য শুধু নীতিগত নির্দেশনার চেয়েও বেশি কিছু প্রয়োজন; এর জন্য প্রয়োজন আইনি তদন্তকারীদের একটি বিশেষায়িত এবং মিশ্রিত দল তৈরি করা। আইনজীবীদের সঙ্গে সাময়িকভাবে পরামর্শ করার পরিবর্তে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে অবশ্যই পদ্ধতিগত আইন এবং আইনি কারিগরি বিষয়ে পারদর্শী আইনি পেশাদারদের সরাসরি তাদের তদন্তকারী দলে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এফআইআর নথিভুক্ত করার মুহূর্ত থেকেই এই আইনি বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার মাধ্যমেই রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে পারে যে জটিল সাক্ষ্যপ্রমাণ আদালতের কঠোর পর্যালোচনার অগ্নিপরীক্ষায় টিকে থাকবে।
ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা
প্রহার-এর সাফল্যের প্রকৃত পরিমাপ শুধু কৌশলগত অভিযানেই পাওয়া যাবে না, বরং তা নিহিত থাকবে ভারতীয় রাষ্ট্রের অটল সংকল্প এবং কাঠামোগত অখণ্ডতার মধ্যে। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ভারত প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক আইন প্রয়োগকারী এবং সন্ত্রাস-বিরোধী সংস্থাগুলির ক্রমাগত আধুনিকীকরণকে আগ্রাসীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে। গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয় কেন্দ্র, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, এবং একটি নিশ্ছিদ্র বিচার ব্যবস্থার মধ্যে একটি আপসহীন সমন্বয়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মাধ্যমে দেশটি অভ্যন্তরীণ অন্তর্ঘাতের বিরুদ্ধে একটি দুর্ভেদ্য ঢাল তৈরি করেছে।
অভিযানগত প্রয়াসের মধ্যে নিহিত কৌশলগত অস্পষ্টতা অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধের একটি শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করে যাবে, যা প্রতিপক্ষ নেটওয়ার্কগুলিকে ক্রমাগত ভারসাম্যহীন করে রাখবে। একটি পরিণত গণতন্ত্রের এই স্মারকপত্রটি নিশ্চিত করে যে, বিচার ব্যবস্থার কাঠামো প্রতিরোধ ব্যবস্থার মতোই শক্তিশালী হবে, যা একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ এবং সন্ত্রাসমুক্ত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।
এই ভাষ্যটি প্রথম ফার্স্ট পোস্ট -এ প্রকাশিত হয়েছিল।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Sameer Patil is Director, Centre for Security, Strategy and Technology at the Observer Research Foundation. Based out of ORF’s Mumbai centre, his work focuses on ...
Read More +
Ajmal Shah is a practising advocate at the High Court of Jammu and Kashmir and Ladakh in Srinagar. ...
Read More +