Author : Rahul Batra

Expert Speak Raisina Debates
Published on Jan 29, 2026 Updated 0 Hours ago

পাকিস্তান তার উদীয়মান ক্রিপ্টো বাস্তুতন্ত্র এবং কৌশলগত কূটনীতি ব্যবহার করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুকূল্য লাভ করেছিল এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল আর্থিক পরিমণ্ডলে নিজেকে একটি মূল খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

কীভাবে পাকিস্তানের ক্রিপ্টো কূটনীতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রভাবিত করেছিল

তাদের কৌশলগত ও বিদেশ বিষয়ক সম্প্রদায়ের ২৫ বছরের সতর্ক ও সমন্বিত প্রচেষ্টার পর, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য চাপের সম্মুখীন হয়েছে। যদিও কিছু মৌলিক বিরোধপূর্ণ ক্ষেত্র এর জন্য দায়ী, যেমন মার্কিন বাণিজ্যের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র খুলে দেওয়ার বিষয়ে ভারতের আপত্তি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ভারতের রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বস্তি, তবে মে ২০২৫-এ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের তীব্র সামরিক সংঘাতের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একটি বড় বাধার সম্মুখীন হয়।

এই মতবিরোধের সবচেয়ে আলোচিত দিকটি ছিল ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে মার্কিন ও ভারতীয় পক্ষ থেকে আসা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য যে, তিনি ভারত ও পাকিস্তানের সাথে আসন্ন বাণিজ্য চুক্তি আলোচনার সুযোগ ব্যবহার করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করেছেন। অন্য দিকে, পাকিস্তান শুধু ট্রাম্পের দাবি স্বীকারই করেনি, বরং এই কারণে তারাই প্রথম ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে। এরপর থেকে, উপরোক্ত দাবির বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য ট্রাম্পের অবিরাম প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ভারত তার অবস্থানে অটল রয়েছে


অন্য দিকে, পাকিস্তান শুধু ট্রাম্পের দাবি স্বীকারই করেনি, বরং এই কারণে তারাই প্রথম ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে।



যদিও এর ফলে নোবেল পুরস্কারের প্রতি ট্রাম্পের মোহকে ঘিরে যথেষ্ট ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল, পাকিস্তানের প্রতি তার এই নতুন ঝোঁকের আরেকটি দিক হল দুই পক্ষের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি (ক্রিপ্টো) নিয়ে অভিন্ন আগ্রহ।

পাকিস্তানের উদীয়মান ক্রিপ্টোকারেন্সি বাস্তুতন্ত্র

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দুর্দশার কথা সর্বজনবিদিত। দীর্ঘস্থায়ী আর্থ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত দেশটি অতি মূল্যস্ফীতি, স্থবির পুঁজি গঠন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন, একটি অদক্ষ আমলাতন্ত্র এবং বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্সের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার মতো বড় ধরনের কাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে। এটি ঐতিহ্যবাহী আর্থিক ব্যবস্থার উপর তাদের নাগরিকদের আস্থা নষ্ট করেছে, ফলে অনেকেই মোহভঙ্গ হয়ে নিজেদের সম্পদ এবং অর্থনৈতিক স্বাধিকার রক্ষার জন্য বিকল্প উপায় খুঁজছেন। ২০২৩ সালে দেউলিয়া হওয়া থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার পর, এই পরিস্থিতি দেশটিকে একটি ক্রিপ্টো-ভিত্তিক অর্থনীতি থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য এক অনন্য অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

পাকিস্তান সরকার মার্চ ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান ক্রিপ্টো কাউন্সিল (পিসিসি) চালু করেছে, যার উদ্দেশ্য হল ব্লকচেন প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল সম্পদকে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ ও একীভূত করা। অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেবের সভাপতিত্বে গঠিত এই পিসিসি-র লক্ষ্য হল নীতি প্রণয়ন করা, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং পাকিস্তানে ক্রিপ্টো গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি নিরাপদ ও দূরদর্শী পদ্ধতি নিশ্চিত করা। পিসিসি-র পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন স্টেট ব্যাঙ্ক অফ পাকিস্তানের গভর্নর, ফেডারেল আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসিপি)-‌এর চেয়ারম্যান। পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রক দাবি করেছে যে দেশে "৪০ মিলিয়নেরও বেশি ক্রিপ্টো ব্যবহারকারী রয়েছে, এবং বার্ষিক ক্রিপ্টো লেনদেনের পরিমাণ আনুমানিক ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে", যদিও এই সংখ্যা (যদিও ক্রমাগত বাড়ছে) কম হতে পারে বলে  বিভিন্ন প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে

পিসিসি-র পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন স্টেট ব্যাঙ্ক অফ পাকিস্তানের গভর্নর, ফেডারেল আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসিপি)-‌এর চেয়ারম্যান।



২০২৫ সালের এপ্রিলে, পিসিসি ট্রেডিং ভলিউমের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সের প্রাক্তন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) চ্যাংপেং ঝাওকে ক্রিপ্টো নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে একজন কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করেছিল। ফোর্বসের মতে, ২০২৫ সালের মে মাসে ঝাও ৬৪.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আনুমানিক মোট সম্পদ নিয়ে বিশ্বের ২৪তম ধনী ব্যক্তি হিসেবে স্থান পেয়েছিলেন। তিনি বাইন্যান্সের ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা ধরে রেখেছেন।

২০২৫ সালের মে মাসে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মার্চ মাস থেকে পিসিসি-র সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বিলাল বিন সাকিবকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ব্লকচেন ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ করেন। একই মাসে, সাকিব বিটকয়েন ভেগাস ২০২৫-এ পাকিস্তানের প্রথম রাষ্ট্র-সমর্থিত কৌশলগত বিটকয়েন রিজার্ভ উন্মোচন করেন। যেহেতু কিছুদিন আগে পর্যন্ত পাকিস্তানে ক্রিপ্টো লেনদেন অবৈধ ছিল, তাই এই ব্যবস্থাটি নেওয়া হয়েছিল বিশেষভাবে বিদেশি দর্শক এবং বিশেষ করে মার্কিন ক্রিপ্টো শিল্পের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য। এই লক্ষ্যে, পাকিস্তান সরকার প্রথম ধাপে বিটকয়েন মাইনিং এবং এআই গবেষণার লক্ষ্যে ডেটা সেন্টারের জন্য ২,০০০ মেগাওয়াট উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ করেছে (যা ভবিষ্যতের ক্রিপ্টো-মাইনিং দক্ষতা বাড়ানোর জন্যও উদ্দিষ্ট)।

এখানে এটি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যে, পাকিস্তানের শোচনীয় উপভোক্তা অর্থনীতি দুর্বল শাসন কাঠামোর ফল হওয়া সত্ত্বেও—উপরের সমস্ত উদ্যোগই সরকার-পরিচালিত—এই নির্দিষ্ট ডিজিটাল মুদ্রাটি মূলত রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত অর্থায়নের বিরুদ্ধে একটি সুরক্ষা হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছিল। তাই, এই ঘটনাগুলির পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি স্পষ্ট উদ্বেগের কারণ হল, জাতীয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সম্পদকে ক্রিপ্টোর অত্যন্ত অস্থির প্রকৃতির কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়া—যা ফাটকা মূল্যের উপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি বিনিময় মাধ্যম (যেমন সোনা এবং প্রচলিত মুদ্রা)। বিশেষজ্ঞেরা পাকিস্তানের এই পদক্ষেপে আইনি অস্পষ্টতা, সাইবার হুমকি, পুঁজি পাচার এবং ডিজিটাল বঞ্চনার মতো কিছু কাঠামোগত ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করেছেন।


যেহেতু কিছুদিন আগে পর্যন্ত পাকিস্তানে ক্রিপ্টো লেনদেন অবৈধ ছিল, তাই এই ব্যবস্থাটি নেওয়া হয়েছিল বিশেষভাবে বিদেশি দর্শক এবং বিশেষ করে মার্কিন ক্রিপ্টো শিল্পের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য।



উপরোক্ত অনেক উদ্বেগ প্রশমিত করার জন্য, পাকিস্তান ডিজিটাল অ্যাসেট অথরিটি (পিডিএএ) ২০২৫ সালের মে মাসে দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় (জানা যায়, ঝাও-এর পরামর্শে), এবং এতে তাদের অর্থ মন্ত্রক ও আইনপ্রণেতাদের সমর্থন ছিল। এটিকে ব্লকচেন-ভিত্তিক আর্থিক পরিকাঠামো তত্ত্বাবধান, ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) মানদণ্ড মেনে চলা, এবং এই ক্ষেত্রের সর্বত্র লাইসেন্সিং তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের নাগরিকদের কাছে ২০-২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি থাকায়, ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত ক্রিপ্টো ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশটি ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ক আগ্রহ

তার প্রথম মেয়াদ জুড়ে, এবং এমনকি তার পরেও কিছুকাল, ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন ক্রিপ্টো-সংশয়বাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন; তিনি ডিজিটাল মুদ্রাকে "অর্থ নয়" এবং "অত্যন্ত অস্থির ও ভিত্তিহীন" বলে বর্ণনা করেছিলেন, এবং বলেছিলেন যে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনকে "একটি কেলেঙ্কারি বলে মনে হয়"। পরবর্তীতে বাইডেন প্রশাসন বেশ কয়েকটি বড় ক্রিপ্টো কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করে। কেবল ২০২৪ সালে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সাথে শক্তিশালী লবিং এবং যোগাযোগের মাধ্যমেই মার্কিন ক্রিপ্টো শিল্প কিছুটা প্রভাব তৈরি করতে শুরু করে। অফিসে ফিরে আসার পরপরই, মার্চ ২০২৫-এ, ট্রাম্প আমেরিকাকে "বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানী" বানানোর পরিকল্পনা উন্মোচন করেন এবং দুটি বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন (বিটিসি) এবং ইথেরিয়াম (ইটিএইচ)-কে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রচার করার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'ক্রিপ্টো স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ' ঘোষণা করেন। মে ২০২৫-এ লাস ভেগাসে পিসিসি-র সিইও কর্তৃক ঘোষিত পাকিস্তানের "স্ট্র্যাটেজিক বিটকয়েন রিজার্ভ" উদ্যোগটি ট্রাম্পের প্রচেষ্টার অনুকরণে তৈরি। প্রকৃতপক্ষে, ভেগাসের সেই অনুষ্ঠানে, যেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং প্রেসিডেন্টের পুত্র এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র উপস্থিত ছিলেন, সাকিব ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করে তাঁকে "ক্রিপ্টোকে বাঁচানো প্রেসিডেন্ট" হিসেবে আখ্যা দেন।

এছাড়াও, ট্রাম্প পরিবারের একটি ক্রিপ্টো কোম্পানি, ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল (ডব্লিউএলেপ)-এ সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার রয়েছে, যার নিজস্ব ‘স্টেবলকয়েন’ হল ইউএসডি১। উপরে উল্লেখিত ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স, যার সহ-প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাও পিসিসি-র একজন কৌশলগত উপদেষ্টা, তিনি নাকি ইউএসডি১-এর জন্য কোড (‘স্মার্ট কন্ট্রাক্ট’) লিখতে সাহায্য করেছিলেন এবং তারপর ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাদের ২৭৫ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর কাছে এই স্টেবলকয়েনটির প্রচার করেন। এর ফলে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের ইউএসডি১ স্টেবলকয়েন বাইন্যান্স ওয়ালেটে জমা হয়, যা ট্রাম্প পরিবারকে কয়েক কোটি ডলার মুনাফা এনে দেয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটিকে একটি নির্লজ্জ স্বার্থের  সংঘাতের পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ ঝাও এরপর এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ক্ষমার জন্য আবেদন করেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি বাইন্যান্সে অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণের জন্য সঠিক ব্যবস্থা স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাঙ্ক সিক্রেসি অ্যাক্ট (বিএসএ)-‌এর অধীনে একটি অপরাধ। তিনি ২০২৩ সালের নভেম্বরে দোষ স্বীকার করেন এবং ২০২৪ সালে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চার মাস জেল খাটেন।


ভারত এই বিষয়টি কঠিন পথে শিখছে, বিশেষ করে তার ‌বিদেশনীতি পরিচালনার বাস্তববাদী-আমলাতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং এই ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের তুলনামূলকভাবে চটপটে প্রকৃতির (যদিও এটি স্পষ্টতই সামষ্টিক স্তরের হতাশার একটি উপজাত) কারণে।



সাকিব ডব্লিউএলএফ-এর একজন উপদেষ্টাও। জানা গিয়েছে যে, ইসলামাবাদ ব্লকচেন এবং স্টেবলকয়েন গ্রহণের বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য ডব্লিউএলএফ-এর প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে একটি ‘লেটার অফ ইন্টেন্ট’ স্বাক্ষর করেছে, যার মধ্যে ট্রাম্পের বিশেষ দূত (রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের জন্য) স্টিভ উইটকফের ছেলে জ্যাক উইটকফও অন্তর্ভুক্ত। এই বছরের শুরুতে সাকিব ফিনান্সিয়াল টাইমসকে বলেছিলেন যে, পাকিস্তানের ক্রিপ্টো কূটনীতি “আমাদের পাকিস্তানকে বৈশ্বিক উদ্ভাবন বাস্তুতন্ত্রে শুধু সুবিধাভোগী হিসেবে নয়, বরং একজন নির্মাতা হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেছে”।

উপসংহার

এই বছর জুড়ে তীব্র ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে একটি বিষয় এখন সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত যে, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত প্রোটোকল এবং নিয়মকানুন অনুসরণ করেন না। ভারত এই বিষয়টি কঠিন পথে শিখছে, বিশেষ করে তার ‌বিদেশনীতি পরিচালনার বাস্তববাদী-আমলাতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং এই ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের তুলনামূলকভাবে চটপটে প্রকৃতির (যদিও এটি স্পষ্টতই সামষ্টিক স্তরের হতাশার একটি উপজাত) কারণে। লেনদেনভিত্তিক সুবিধাবাদের বাইরে, এটি দেখার বিষয় যে পাকিস্তান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়েই ভবিষ্যতে সামরিক উপস্থিতি বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ চুক্তির মতো কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ব্যবহার করতে পারে কি না। এর প্রতিক্রিয়ায়, ভারত তার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শক্তিশালী নীতি-ভিত্তিক পরিসর থেকে কখনওই সরে আসবে না ঠিকই, কিন্তু পরিবর্তিত আঞ্চলিক বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত জটিল চ্যালেঞ্জগুলির জন্য সৃজনশীল এবং চটপটে কৌশলগত সমাধানের লক্ষ্যে একটি আরও অভিযোজনযোগ্য কৌশলগত কাঠামো তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।


রাহুল বাত্রা একজন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক, যিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ের সংযোগস্থল ‌সম্পর্কে ব্যাপক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.