-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
ভারতের শিক্ষার সঙ্কট নতুন সুযোগের সম্মুখীন: এআই ব্যবধান পূরণ করতে পারে, নির্দেশনা ব্যক্তিগতকৃত করতে পারে এবং শিক্ষাগত সমতা প্রসারিত করতে পারে।
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির অন্যতম হল ভাষা, ভূখণ্ড এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধরনের পরিসরে গুণমানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান করা, যা স্কুলে ভর্তি হওয়া ২৪.৬৯ কোটি শিশুকে প্রদান করতে হয়। পরখ-এর (পারফরম্যান্স অ্যাসেসমেন্ট, রিভিউ এবং অ্যানালাইসিস অফ নলেজ ফর হোলিস্টিক ডেভেলপমেন্ট) মতো বৃহৎ আকারের মূল্যায়নগুলি স্থায়ী ভিত্তিগত ব্যবধানগুলিকে তুলে ধরে। তৃতীয় শ্রেণিতে মাত্র ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ৯৯ পর্যন্ত নম্বর পেতে সক্ষম হয়েছিল; এবং নবম শ্রেণিতে মাত্র ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী ভগ্নাংশ ও দশমিক সম্পর্কিত উন্নত ধারণাগুলি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে এই নিবন্ধটি দর্শিয়েছে যে, ভারত কী ভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে শেখার ফলাফল উন্নত করতে পারে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার শিশুদের জন্য কিংবা সরকারি বা কম খরচের বেসরকারি স্কুলে ভর্তি হওয়া শিশুদের জন্য।
কোভিড-পর্বে শিক্ষা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা
কোভিড-১৯ অতিমারি অপ্রত্যাশিত ভাবে ডিজিটাল শিক্ষায় একটি দেশব্যাপী পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছিল, যা ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামোর দুর্বলতা এবং সুপ্ত সম্ভাবনা উভয়ই প্রকাশ করে। স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে সরকারগুলি দ্রুত দীক্ষা, হোয়্যাটসঅ্যাপ/গুগল ক্লাসরুম এবং ভিডিও-ভিত্তিক পাঠের মতো বিভিন্ন ডিজিটাল মঞ্চ ব্যবহার করতে শুরু করে। ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ-এর (২০২১) একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২০ সালে যখন নিয়মিত অর্থাৎ অফলাইন স্কুলিং বন্ধ হয়ে যায়, তখন প্রায় দু’মিলিয়ন পরিবার আট সপ্তাহের মধ্যে ডিজিটাল শিক্ষার জন্য সাইন আপ করে। অনেক ব্যবহারকারী ইউটিউব ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানের মোবাইল ফোন দিয়েই বিষয়বস্তু অবধি পৌঁছনোর কাজ করেছেন, যার ফলে কম সম্পদের পরিসরে শেখার বিষয়টি আরও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। গ্রামীণ রাজস্থানে অতিমারি চলাকালীন ৯৬ শতাংশ শিক্ষক দীক্ষা মঞ্চটি ব্যবহার করতে শিখেছেন এবং এটিকে পাঠ পরিকল্পনা ও মূল্যায়নের সঙ্গে একীভূত করেছেন। একই ভাবে রাজ্যে নবম-দ্বাদশ শ্রেণির ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ডিজিটাল পাঠ্যপুস্তক ও ইন্টারেক্টিভ ওয়ার্কশিট ব্যবহার করার জন্য এই মঞ্চকে কাজে লাগিয়েছেন।
অতিমারি চলাকালীন এই হস্তক্ষেপগুলি ততটাও মসৃণ ছিল না। কিন্তু সেগুলি দর্শিয়েছে যে, উদ্দেশ্য ও সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রযুক্তি উচ্চমানের শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু বড় পরিসরে সরবরাহ করতে পারে, এমনকি সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়গুলিতেও এমনটা করা সম্ভব।
অতিমারি চলাকালীন এই হস্তক্ষেপগুলি ততটাও মসৃণ ছিল না। কিন্তু সেগুলি দর্শিয়েছে যে, উদ্দেশ্য ও সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রযুক্তি উচ্চমানের শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু বড় পরিসরে সরবরাহ করতে পারে, এমনকি সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়গুলিতেও এমনটা করা সম্ভব। এই প্রচেষ্টাগুলি এআই-এর মতো আরও উন্নত প্রযুক্তির ভিত্তি তৈরি করেছে, যা শিক্ষাকে ব্যক্তিগতকরণ, ন্যায্যতা চালনা এবং প্রশাসনকে অবহিত করার ক্ষেত্রে এই দ্রুত বিবর্তনকে আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের অপরিহার্য উপাদান এগুলিই।
ভারতে বড় পরিসরে গুণমানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের জন্য এআই-এর ব্যবহার
ভারতে এআই-এর পাঁচটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারের ঘটনা নিচে তুলে ধরা হল, যা গুণমানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের সঙ্গে নিবিড় ভাবে সম্পর্কিত।
১. শিক্ষার্থীদের জন্য এআই: ব্যক্তিগতকৃত শিক্ষার পথ এবং প্রতিকার
শিক্ষায় এআই-এর মূল সুবিধাগুলির মধ্যে একটি হল শিক্ষার্থীর জন্য নির্দেশনা তৈরি করার ক্ষমতা। অভিন্ন গতি ও আগেকার দিনের চিরাচরিত মডেলগুলির বিপরীতে এআই ব্যবস্থা রিয়েল-টাইমে একজন শিক্ষার্থীর স্তর মূল্যায়ন করতে পারে এবং সেই অনুযায়ী বিষয়বস্তুর অসুবিধা, বিন্যাস বা গতির সামঞ্জস্য করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, মাইন্ডক্রাফ্ট - যা বিশেষ ভাবে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মঞ্চ - তাদের ভাষাগত বাধা এবং ভৌগোলিক অসুবিধাগুলি অতিক্রম করতে সাহায্য করে, বিশেষ করে উপযোগী শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু প্রদান করে। এই মঞ্চে একজন এআই-চালিত টিউটর রয়েছেন, যিনি ভিজ্যুয়াল ইঙ্গিত ব্যবহার করে শিক্ষা দেন, ইন্টারেক্টিভ সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত করেন এবং ডায়াগনস্টিক মূল্যায়নের উপর ভিত্তি করে পেশা সংক্রান্ত নির্দেশিকা ও পরামর্শ প্রদান করেন।
ন্যাচরাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং বা প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ (এনএলপি) ব্যবস্থাগুলি এখন ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষার পাঠ্যপুস্তকের ধারণাগুলিকে স্থানীয় ভাষায় অনুবাদ করতে এবং শেখার ব্যবধান পূরণ করতে আওয়াজ সংক্রান্ত সহায়তা ব্যাখ্যা তৈরি করতে সক্ষম।
সর্বোপরি, এআই বহুভাষিক ও সাংস্কৃতিক ভাবে প্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তুকে একীভূত করতেও সজ্জিত হতে পারে, যা উপজাতীয় এবং প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সহায়তা করে। ন্যাচরাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং বা প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ (এনএলপি) ব্যবস্থাগুলি এখন ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষার পাঠ্যপুস্তকের ধারণাগুলিকে স্থানীয় ভাষায় অনুবাদ করতে এবং শেখার ব্যবধান পূরণ করতে আওয়াজ সংক্রান্ত সহায়তা ব্যাখ্যা তৈরি করতে সক্ষম।
২. শিক্ষকদের জন্য এআই: পরিকল্পনা, পার্থক্য এবং সহায়তা
ইউডিআইএসই+ (ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফর্মেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন +) ২০২৪-২৫ সালের তথ্য অনুসারে, ভারতে এক লক্ষেরও বেশি স্কুল রয়েছে, যেখানে মাত্র এক জন শিক্ষক রয়েছেন। ছোট স্কুল ও শিক্ষকের অনুপস্থিতি বিবেচনা করলে সংখ্যাগুলি আরও বেড়ে যায়, যার ফলে এক জন শিক্ষক প্রায়শই একাধিক শ্রেণি বা বিষয় পরিচালনা করেন। সর্বোপরি, তাঁদের বেশির ভাগ সময় প্রশাসনিক কাজ, রেকর্ড-রক্ষণ ও অ-শিক্ষাগত কাজের মতো অ-শিক্ষণ/নির্দেশনামূলক কাজে ব্যয় হয়, যার মধ্যে রয়েছে রেজিস্টার প্রস্তুত করা এবং সমীক্ষা পরিচালনা করা।
শিক্ষকদের সহায়তা/বৃদ্ধিতে এআই সাধনীগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করে, রুটিন কাজগুলি স্বয়ংক্রিয় করে, অ্যাসাইনমেন্ট-এর নম্বর দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষমতা বিশ্লেষণ করে, যার ফলে অ-নির্দেশনামূলক কাজে ব্যয় করা সময় হ্রাস করে এবং শিক্ষাদানের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। ম্যাককিনসির মতে, প্রযুক্তি শিক্ষকদের ২০-৩০ শতাংশ সময় বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে, যা পরিবর্তে শ্রেণিকক্ষের নির্দেশনায় নিবেদিত করা যেতে পারে।

সূত্র: ম্যাককিনসি, ২০২০
এনসিইআরটি-র (ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং) সমর্থিত একটি গবেষণায় (২০২৪) দেখা গিয়েছে যে, এআই-সহায়তাপ্রাপ্ত পাঠ পরিকল্পনা সাধনীগুলির সঙ্গে প্রাক-সেবা প্রাপ্ত শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের চাহিদা শনাক্ত করতে এবং তাদের নির্দেশনা মানিয়ে নিতে আরও ভাল ভাবে সক্ষম ছিলেন। এআই-সক্ষম মঞ্চগুলি কম প্রস্তুতিসম্পন্ন মূল্যায়নও তৈরি করে এবং স্বয়ংক্রিয় ভাবে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষমতা অনুসারে গোষ্ঠীভুক্ত করে মূল্যবান সময় সাশ্রয় করে।
৩. মূল্যায়নের জন্য এআই: প্রাথমিক সতর্কতা এবং রিয়েল-টাইম প্রতিক্রিয়া
চিরাচরিত শিক্ষা ব্যবস্থায় মূল্যায়ন পর্যায়ক্রমিক ও সংক্ষিপ্ত এবং সময়োপযোগী হস্তক্ষেপও নেওয়া হয় অত্যন্ত দেরিতে। এর বিপরীতে এআই-সক্ষম মূল্যায়নগুলি গঠনমূলক বলে প্রমাণিত হতে পারে, শিক্ষার্থীদের রিয়েল-টাইম প্রতিক্রিয়া প্রদান করে এবং শিক্ষকদের কার্যকর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।
উদাহরণস্বরূপ, আইআইটি (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি) বম্বের তারা (শিক্ষকের সহকারী পঠন মূল্যায়ন) অ্যাপ্লিকেশনটি মৌখিক পঠন সাবলীলতা স্বয়ংক্রিয় ভাবে মূল্যায়ন করার জন্য স্পিচ প্রসেসিং এবং মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে। এটি শিশুদের বয়স-উপযুক্ত অনুচ্ছেদগুলি জোরে জোরে পড়ে রেকর্ড করে, তার পর ‘প্রতি মিনিটে শব্দের সঠিক উচ্চারণ’-এর (ডব্লিউসিপিএম) মতো বিষয় গণনা করে এবং শিক্ষার্থীদের পড়ার স্তরের আনুমানিক অভিব্যক্তি (বাক্যাংশ, স্বর, চাপ) বিশ্লেষণ করে। এই অ্যাপটি ইংরেজি ও হিন্দি উভয় ভাষায় কাজ করে এবং মানব বিশেষজ্ঞের নম্বরের সঙ্গে তা মিলছে কি না, সেই বিষয়টিও যাচাই করে। এটি ইতিমধ্যেই বৃহৎ পরিসরে কাজে লাগানো হয়েছে: তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১,২০০টি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে ৭ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী এটি ব্যবহার করে।
এআই-সহায়তাপ্রাপ্ত পাঠ পরিকল্পনা সাধনীগুলির সঙ্গে প্রাক-সেবা প্রাপ্ত শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের চাহিদা শনাক্ত করতে এবং তাদের নির্দেশনা মানিয়ে নিতে আরও ভাল ভাবে সক্ষম ছিলেন।
আর একটি প্রাসঙ্গিক ডেটাসেট হল এএসইআর চিলড্রেনস স্পিচ ডেটাসেট, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন স্তরের ৬-১৪ বছর বয়সি শিশুদের হিন্দি, মরাঠি ও ইংরেজিতে হাজার হাজার অডিও ক্লিপ। তারা একটি এএসআর-ভিত্তিক (অটোমেটিক স্পিচ রিকগনিশন) শ্রেণিবদ্ধ তালিকা তৈরি করেছে, যা ৮৬ শতাংশ নির্ভুলতার সঙ্গে (ইংরেজির জন্য) পড়ার দক্ষতার পূর্বাভাস দেয়। এই ডেটাসেটটি আঞ্চলিক ভারতীয় ভাষাগুলিতে বৃহৎ আকারের বক্তৃতা-ভিত্তিক পাঠ স্তর মূল্যায়নের সম্ভাব্যতাকেও তুলে ধরে।
৪. শাসন ও ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য এআই
শ্রেণিকক্ষের বাইরে এআই সরকার ও শিক্ষা বিভাগগুলিকে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে, সম্পদ বরাদ্দ করতে এবং প্রভাব আরও দক্ষতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে সহায়তা করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বিশ্লেষণ এবং এআই-চালিত ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে, এসডিএমএস (ছাত্র ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম)-ইউডিআইএসই+ এবং প্রধানমন্ত্রী (পিএম) ইবিদ্যা-র মতো ব্যবস্থাগুলি প্রশাসকদের দুর্বল কর্মক্ষমতা বা বেশি হারে স্কুলছুটের ঝুঁকিতে থাকা স্কুল বা অঞ্চলগুলি শনাক্ত করতে সহায়তা করছে, যার ফলে প্রতিকারমূলক প্রোগ্রাম, সম্পদ বরাদ্দ এবং শিক্ষক সহায়তার মতো লক্ষ্যবস্তু হস্তক্ষেপগুলিকে সহজতর করা হচ্ছে।
নাগাল্যান্ডের স্কুল শিক্ষা বিভাগ জিও-পজিশনিং এবং বিশ্লেষণ ব্যবহার করে শিক্ষকদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য একটি এআই-ভিত্তিক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেছে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হল স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষকরা উপস্থিত আছেন কি না, তার রিয়েল-টাইম ডেটা তৈরি করা, যা ব্লক বা জেলা কর্মকর্তাদের পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। সরবরাহ শৃঙ্খল বা সম্পদের জবাবদিহিতা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় এআই কী ভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তার আর একটি উদাহরণ হল উত্তর প্রদেশের কিতাব বিতরণ অ্যাপ। কিউআর কোড ব্যবহার করে অ্যাপটি শিক্ষকদের হিন্দি ও গণিতের জন্য তৃতীয় শ্রেণির সম্পূরক বই ও পাঠের উপকরণ স্ক্যান করার সুযোগ করে দেয়। কর্মকর্তারা এই তথ্য রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করেন, যা উপকরণ বিলম্বিত বা হারিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম করে।
এই সাধনীগুলির নিঃসন্দেহে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সম্পূর্ণ শিক্ষক কর্মক্ষমতা বা স্কুল কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ অথবা স্পষ্ট সম্পদের ব্যবধান অতিক্রম করে ব্যবস্থার নানা স্তরের ব্যর্থতার ভবিষ্যদ্বাণীমূলক মডেলগুলির জন্য এখনও এগুলি ব্যবহার করা হয়নি।
৫. অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার জন্য এআই: সহায়ক প্রযুক্তি এবং ভাষা সমতা
এআই শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য নতুন সম্ভাবনাও উন্মুক্ত করে, যা ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষা নীতির (এনইপি) অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ। এটি সহায়ক এআই সরঞ্জামগুলির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতে পারে, যা বহুভাষিক/দ্বান্দ্বিক সহায়তা (অনুবাদ, স্থানীয় ভাষার বিষয়বস্তু) প্রদান করে এবং যা তাদের শেখার শৈলী, গতি এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়।
এআই শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য নতুন সম্ভাবনাও উন্মুক্ত করে, যা ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষা নীতির (এনইপি) অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ।
অটিজম ও শিক্ষা সংক্রান্ত বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের সহায়তা করার জন্য বেশ কয়েকটি এআই অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে: স্ক্রিনিং টুল ফর অটিজম রিস্ক ইউজিং টেকনোলজি (স্টার্ট) অ্যাপটি অ-বিশেষজ্ঞদের মোবাইল-ভিত্তিক শিশু কাজ এবং কম-সম্পদের সেটিংসে অভিভাবকদের ইনপুট ব্যবহার করে অটিজম মূল্যায়ন করতে সক্ষম করে। উপরন্তু, কগনিটিভবোটিক্সের মতো মঞ্চগুলি ইন্টারেক্টিভ গেম ও চ্যাটবটের মাধ্যমে এআই-চালিত থেরাপি প্রদান করে, যা সামাজিক এবং যোগাযোগ দক্ষতার উন্নতি দেখায়।
শিক্ষায় একটি দায়িত্বশীল এআই ভবিষ্যতের জন্য সুপারিশ
তবুও শেখার জন্য এআই-এর ব্যবহার কোনও রূপক নয়। এটি একজন মানব শিক্ষকের দক্ষতা প্রতিস্থাপন করতে পারে না এবং অবকাঠামোগত ফাঁকের কারণে উদ্বেগগুলি অকাট্যও বটে। অতএব, যে কোনও এআই হস্তক্ষেপের সাফল্য নির্ভর করে বাস্তব-বিশ্বের ব্যবস্থায় এটি কতটা চিন্তাভাবনা করে ডিজাইন, পরিচালনা ও এমবেড করা হয়েছে তার উপর। সুতরাং, সময়ের প্রয়োজন হল এআই ইন্টিগ্রেশন, যা শক্তিশালী নৈতিক সুরক্ষা দ্বারা সমর্থিত, শিক্ষাগত ন্যায্যতা লক্ষ্যগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শিক্ষক-প্রথম পদ্ধতিসম্পন্ন ব্যবস্থা।
মোবাইলের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও গ্রামীণ, উপজাতি এবং কম সম্পদসম্পন্ন ব্যবস্থায় এআই-সক্ষম শিক্ষার জন্য স্কুল অবকাঠামোতে চ্যালেঞ্জ এবং বাড়িতে অসম লব্ধতার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। এই ব্যবধানগুলির অর্থ হল, এআই ইন্টিগ্রেশন (বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য) কেবল স্কুল-ভিত্তিক অবকাঠামোর উপর নির্ভর করতে পারে না; পরিবারের মোবাইল ফোন ব্যবহার করা আরও সহজ। এরও কিছু অসুবিধা রয়েছে: ডিভাইস ভাগ করে ব্যবহার করা, লব্ধতার ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য, ডিজিটাল নিরক্ষরতা, অবিশ্বস্ত বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট এবং গোপনীয়তা সংক্রান্ত উদ্বেগ।
এআই ইন্টিগ্রেশন (বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য) কেবল স্কুল-ভিত্তিক অবকাঠামোর উপর নির্ভর করতে পারে না; পরিবারের মোবাইল ফোন ব্যবহার করা আরও সহজ।
এই চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে ওঠার জন্য এবং ভারতের সকল শিশুর কাছে এআই-চালিত গুণমানসম্পন্ন শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আটটি সুপারিশ করা যেতে পারে। প্রথমত, এআই উদ্ভাবনগুলিকে অফলাইন-প্রথম, কম-ব্যান্ডউইথ হিসাবে ডিজাইন করা উচিত, যাতে এআই টুলটি অবিরাম ইন্টারনেট, ক্যাশিং কন্টেন্ট ও সম্ভব হলে সিঙ্কিং ছাড়াই মসৃণ ভাবে কাজ করতে পারে। দ্বিতীয়ত, অ্যাপগুলি যেন সাধারণ ফোনেও কাজ করতে পারে এবং ভয়েস, চিত্র ইনপুট ও ছোট আকারের ফাইল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া উচিত। গ্রাম কেন্দ্র, গ্রাম পঞ্চায়েত হল বা স্থানীয় স্কুলের মতো অভিন্ন সাধারণ সম্প্রদায়ের জন্য অ্যাক্সেস পয়েন্ট স্থাপন করা উচিত, যেখানে চার্জিং স্টেশন এবং ডিভাইসগুলি নেই এমন পরিবারগুলিতেও এই সুবিধা প্রদান করা যায়। মেয়েদের এবং বাদ পড়া গোষ্ঠীগুলিকে এই সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এর পাশাপাশি তাদের ও তাদের বাবা-মায়েদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এবং নিরাপদে ডিভাইসগুলি ব্যবহার করার প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত। অপ্রচলিত গ্রামগুলিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক (৪জি/৫জি) সম্প্রসারণ করা এবং ধারাবাহিক বিদ্যুতের জন্য স্কুলগুলিকে সৌর বা ব্যাটারি ব্যাকআপ দিয়ে সজ্জিত করা প্রয়োজন। স্কুলগুলির মধ্যে শিক্ষকদের প্রাসঙ্গিক সাধনীগুলির সঙ্গে সমর্থন করা উচিত, যা পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করে, স্বয়ংক্রিয়-গ্রেড মূল্যায়ন করে এবং গোষ্ঠী কার্যকলাপের পরামর্শ দেয়, যাতে তারা প্রকৃত শিক্ষাদানের উপর আরও মনোনিবেশ করতে পারে। শিক্ষকদের সঙ্গে এআই সাধনীগুলি একসঙ্গে তৈরি করে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করা এবং আইআইটি মাদ্রাজের ‘শিক্ষকদের জন্য এআই’-এর মতো সংক্ষিপ্ত মিশ্র প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রদান করা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পরিশেষে, নীতি আয়োগের দায়িত্বশীল এআই কাঠামো দ্বারা পরিচালিত নামহীন তথ্য, পক্ষপাত নিরীক্ষা এবং ওপেন-সোর্স বা অডিটেবল মডেল গ্রহণের মাধ্যমে নৈতিক এআই ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত।
ভারত এনইপি ২০২০ কার্যকর করা এবং মৌলিক শিক্ষার উদ্যোগগুলিকে বড় পরিসরে প্রদান করার সঙ্গে সঙ্গে এআই একটি অভূতপূর্ব সুযোগ প্রদান করে এবং এমনটা শুধু মাত্র বিষয়বস্তুকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নয়, বরং প্রতিটি শিশু কী ভাবে শেখে তা সত্যিকার অর্থে রূপান্তর করার জন্যই সুযোগ করে দেয়।
অর্পণ তুলসিয়ান অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকোনমিক ডিপ্লোমেসির সিনিয়র ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Arpan Tulsyan is a Senior Fellow at ORF’s Centre for New Economic Diplomacy (CNED). With 16 years of experience in development research and policy advocacy, Arpan ...
Read More +