Author : Kabir Taneja

Expert Speak Raisina Debates
Published on Apr 27, 2026 Updated 5 Hours ago

এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় হিন্দুস্থান টাইমস-এ।

বহু সন্ত্রাসবাদী হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও ভারতের অভ্যন্তরীণ কিছু সাফল্য রয়েছে, যা প্রচলিত সন্ত্রাসবিরোধী আলোচনায় উল্লেখ করা হয় না।

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার দেশজ পরিকল্পনা

গত বছরের শেষে লালকেল্লার বিস্ফোরণে বহু মানুষ আহত এবং অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনাটি দিল্লিতে সন্ত্রাসবাদকে ফিরিয়ে এনেছে ২০১১ সালের পর থেকে দিল্লি যে কোনও ধরনের বড় সন্ত্রাসবাদী হামলা থেকে রক্ষা পেয়ে আসছিল। ২০১১ সালে দিল্লি হাইকোর্টের কাছে একটি বোমা বিস্ফোরণে ১৫ জন নিহত হয়েছিলেন। পাকিস্তানভিত্তিক হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি (হুজি) – যারা কিনা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে জটিল সম্পর্কের জন্য পরিচিত একটি দল – এই হামলার দায় স্বীকার করেছিল।

গত নভেম্বরের বিস্ফোরণের তদন্তে সন্ত্রাস চরমপন্থার সঙ্গে জড়িত এমন এক চক্রের পর্দা উন্মোচিত হয়েছেযারা কয়েক দশক ধরে সতর্কতার সঙ্গে নির্মিত জাতীয় রাজধানীর নিরাপত্তা প্রাচীর ভেদ করতে সক্ষম হয়েছিল। ভারতে সন্ত্রাসবাদকে প্রায়শই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের আওতায় আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই আজও মনে রাখেন না যেমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর /১১ হামলার মাত্র তিন মাস পরেই - যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন আকার দিয়েছিল - পাকিস্তান-সমর্থিত জইশ--মোহাম্মদ (জেইএম) ভারতীয় সংসদে হামলা চালিয়েছিল। ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানের উপর এই আঘাত ভারতের জন্য প্রতীকী হলেও তার তাৎপর্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। ঠিক যেমন /১১ বিশ্বকে বদলে দিয়েছিলতেমনি সংসদ হামলাও ভারতকে বদলে দিয়েছিল কিন্তু আন্তর্জাতিক বয়ানে তা প্রায় কোনও প্রভাবই ফেলতে পারেনি।

বিশ্বব্যাপী আল-কায়েদা এবং এর সঙ্গে যুক্ত ইসলামপন্থী চরমপন্থার মোকাবিলা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রশ্নাতীত এবং অবাধে শক্তি ও অর্থ প্রবাহিত হয়েছে।

/১১-পরবর্তী সন্ত্রাস-বিরোধী ব্যবস্থাগুলি মার্কিন শক্তি স্বার্থ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। বিশ্বব্যাপী আল-কায়েদা এবং এর সঙ্গে যুক্ত ইসলামপন্থী চরমপন্থার মোকাবিলা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রশ্নাতীত এবং অবাধে শক্তি অর্থ প্রবাহিত হয়েছে। দেশগুলির কাছে প্রত্যাশা করা হয়েছিল যেতারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবির কাছে নতি স্বীকার করবে এবং চিন রাশিয়া-সহ তারা তা করেছিলও। কেউ কেউ চাপের মুখে তা করেছিলআবার অন্যরা ওয়াশিংটনের সুনজরে আসার সুযোগে এমনটা করেছিল।

ভারত বহু সন্ত্রাসবাদী হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও বিষয়ে অভ্যন্তরীণ ভাবে এমন কিছু সাফল্য অর্জন করেছেযা প্রচলিত বৈশ্বিক সন্ত্রাস-বিরোধী আলোচনায় উল্লেখ করা হয় না। উদাহরণস্বরূপবছরের পর বছর ধরে ভারত ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন (আইএম) এবং স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অফ ইন্ডিয়ার (সিমি) মতো গোষ্ঠীগুলিকে সফল ভাবে নির্মূল করেছে। আইএম এবং সিমির মতো গোষ্ঠীগুলির ঘোষিত উদ্দেশ্যগুলি লস্কর--তৈবা (মুম্বইয়ের ২৬/১১ সন্ত্রাসবাদী হামলার নেপথ্যে থাকা দায়বদ্ধ গোষ্ঠী) এবং জেইএম-এর মতো পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির উদ্দেশ্য থেকে ধারণাগত ভাবে ভিন্ন ছিল। আইএম এবং সিমি উভয়ই গণতন্ত্রবহুত্ববাদধর্মনিরপেক্ষতা এবং -ইসলামিক দেশ সরকারগুলির বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সালাফি আন্দোলনের অংশ ছিল।

এটিই ছিল আইএম এবং সিমির মতো গোষ্ঠীগুলির আদর্শগত ভিত্তি। এই ধরনের গোষ্ঠীগুলির শীর্ষ নেতৃত্বের আসলে কার কাছ থেকে সমর্থন নিতে হবে এবং কার কাছ থেকে নয়সে বিষয়ে সর্বদা স্পষ্ট ধারণা থাকত। জেইএম এবং এলইটি উভয়ই ইসলামপন্থী সংগঠন কিন্তু তাদের উগ্রপন্থী কর্মসূচি সর্বাগ্রে ভারত-বিরোধী  কাশ্মীর-কেন্দ্রিক এবং একটি সর্বজনীন ইসলামি উম্মাহ- প্রসারের বিষয়ে ততটা ছিল না। ঠিক এই কারণেই এই ধরনের গোষ্ঠীগুলি প্রায়শই ইসলামিক স্টেট-এর (বা আইএসআইএস) মতো অন্যান্য চরমপন্থী সংগঠনের দ্বারা সমালোচিত হয়েছেযারা আদর্শগত ভাবে ইসলামের নামে যুদ্ধকে দেখে। সহজ কথায় বললেজাতীয়তাবাদী যুদ্ধগুলি ধর্মের জন্য নয়বরং মুষ্টিমেয় কিছু লোকের ক্ষমতার সঙ্কীর্ণ প্রয়োজনের জন্য লড়া হচ্ছে। এই সংজ্ঞাগত বিচ্যুতিগুলি আজ দক্ষিণ এশিয়ায়বিশেষ করে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতে, অত্যন্ত সাধারণ হয়ে উঠছে আফগান তালিবান কার্যত পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মধ্যে থাকা তাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গেই অঘোষিত যুদ্ধে লিপ্তবাংলাদেশের মতো জায়গায় পাকিস্তানের আদর্শগত রফতানির বীজ ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

জেইএম এবং এলইটি উভয়ই ইসলামপন্থী সংগঠন। কিন্তু তাদের উগ্রপন্থী কর্মসূচি সর্বাগ্রে ভারত-বিরোধী ও কাশ্মীর-কেন্দ্রিক এবং একটি সর্বজনীন ইসলামি উম্মাহ-র প্রসারের বিষয়ে ততটা ছিল না।

বিশ্বের মনোযোগের একটি বড় অংশ পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতপূর্ণ এলাকা বা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো অন্যান্য দিকে নিবদ্ধ থাকলেও সন্ত্রাসবাদ  সন্ত্রাস দমন… উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষিণ এশিয়া নিজেই এক অত্যন্ত টালমাটাল পরিস্থিতিতে রয়েছে। পাকিস্তান তার অনেক প্রক্সিকেই নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম… এই বিষয়টিই পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে জিয়া-উল-হকের মতো একটি পথ তৈরি করতে উৎসাহিত করেছেযেখানে তিনি নির্বাহী ক্ষমতা দখলের জন্য মতাদর্শরাজনীতিসামরিক শক্তি  পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণকে একত্রিত করছেন এবং দেশটির গণতান্ত্রিক রীতিনীতির অবশিষ্ট চিহ্নগুলিকেও দুর্বল করে দিচ্ছেন। দিকেআফগানিস্তানেও তালিবানরা - যারা এখন প্রায় অর্ধ দশক ধরে কাবুল নিয়ন্ত্রণ করছে - ১৯৯০- দশকের তাদের মূল রূপের অনেক কাছাকাছি চলে এসেছে। বেশির ভাগ হিসেব অনুযায়ীশক্তিশালী হয়ে ওঠা আমির হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার অধীনে কান্দাহার আজ কার্যত রাজধানী। 

বালাকোট এবং অপারেশন সিঁদুরের মতো বড় মাপের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানগুলি এক দিকে যেমন সামরিক তীব্রতা বাড়াতে সাহায্য করেতেমনই ভবিষ্যতের হুমকি মোকাবিলার জন্য নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণেও কার্যকর তবুও ধাপে ধাপে চরমপন্থাকে নির্মূল করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগও প্রয়োজন। ভারতীয় সংস্থাগুলি সিমি এবং আইএম-এর মাধ্যমে এটি করেছিল। অন্য দিকেগত কয়েক বছরের মাওবাদ-বিরোধী বিদ্রোহ দমন অভিযান থেকে পাওয়া শিক্ষা একেবারে উৎস থেকেই চরমপন্থী মতাদর্শকে নির্মূল করতে সাহায্য করতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়সন্ত্রাস মোকাবিলায় সাফল্য ব্যর্থতা উভয়েরই বিশাল অভিজ্ঞতা নিয়ে ভারতকে তার নিজস্ব স্বতন্ত্র পথ তৈরি করতে হবেযার শুরুটা হবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ভবিষ্যৎ-উপযোগী করার মাধ্যমে। দীর্ঘমেয়াদে আমদানি করা নয়বরং দেশীয় পরিকল্পনাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত এবং এখন সেদিকেই মনোযোগ দিতে হবে।


 

এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় হিন্দুস্থান টাইমস-

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.