ভারতীয় শহরগুলিতে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে শীতলতা, ছায়া এবং জলবায়ু সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ মারাত্মক ভাবে অসম হয়ে উঠছে, যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, কী ভাবে শহুরে তাপ নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠী এবং অসংগঠিত খাতের কর্মীদের উপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে বোঝা চাপিয়ে দেয়।
শহরগুলিতে সবচেয়ে অসম জলবায়ু ঝুঁকিগুলির অন্যতম হিসেবে শহুরে তাপ আবির্ভূত হয়েছে। ভারত বর্তমানে একটি তীব্র তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হচ্ছে, যেখানে একাধিক শহরে তাপমাত্রা নিয়মিত ভাবে ৪৪° সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের শেষের দিকে অভূতপূর্ব তাপপ্রবাহের সময় বিশ্বের ১০০টি উষ্ণতম শহরের মধ্যে ৯৫টিই ছিল ভারতে।
ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা একটি পুরো শহরকে প্রভাবিত করলেও স্থানিক বৈষম্য এবং বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক অবস্থা জনসংখ্যার মধ্যে এর প্রভাব ও ঝুঁকির মাত্রাকে স্তরীভূত করে। অপরিকল্পিত বসতি, সীমিত বৃক্ষ আচ্ছাদনযুক্ত এলাকা এবং দুর্বল বায়ুচলাচল ব্যবস্থাযুক্ত আবাসন দ্বারা চিহ্নিত অঞ্চলগুলিতে আরও তীব্র তাপীয় চাপ অনুভূত হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এর পাশাপাশি তাপ থেকে আশ্রয় খোঁজার ক্ষমতা তাঁদের মধ্যে অসম ভাবে বণ্টিত, যাঁরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের মতো ব্যক্তিগত শীতলীকরণ পরিকাঠামোর উপর নির্ভর করতে পারেন এবং যাঁরা পারেন না। সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য চিরাচরিত ভাবে পার্ক, হ্রদ, ছায়াযুক্ত এলাকা এবং গোষ্ঠীগত জমির মতো শহরের সাধারণ স্থানগুলিই ছিল স্বস্তির জায়গা, যা অনানুষ্ঠানিক শীতল আশ্রয় প্রদান করত। তবে দ্রুত নগরায়ণ এবং নগরের ঘনত্ব বৃদ্ধি এই অভিন্ন সাধারণ স্থানগুলিকেও গ্রাস করেছে, ভূমিকে কংক্রিটে পরিণত করে নির্মিত এলাকায় রূপান্তরিত করেছে এবং শহুরে তাপ এই সীমিত আঞ্চলিক প্রভাবকেও তীব্রতর করেছে।
ভারতীয় শহরগুলিতে এই বর্ধিত উষ্ণতার প্রায় ৬০ শতাংশের জন্য নগরায়ণ এবং কংক্রিটের পৃষ্ঠতল, অ্যাসফল্ট, ধাতব ছাদ ও কাঁচের কার্টেন ওয়ালের বৃদ্ধিকে দায়ী করা যেতে পারে।
শ্রমের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এই বৈষম্যগুলি আরও প্রকট হয়ে ওঠে। নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরা—যেমন রাস্তার হকার, ডেলিভারি কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং নির্মাণ শ্রমিক উচ্চতর ও তীব্র তাপের সম্মুখীন হন। কারণ তাঁদের জীবিকার জন্য দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হয়। যদিও তাঁরা শহুরে অর্থনীতির দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখেন, তবে নগর পরিকল্পনায় প্রায়শই উপেক্ষা করা হয় যে, তাঁরা কোথায় আশ্রয় নিতে পারেন। অনেকের জন্যই প্রচণ্ড গরমের সময় বাইরের কাজ এড়িয়ে চলা তাঁদের আয় এবং চাকরির নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। ফলস্বরূপ, যদিও তাপপ্রবাহের সতর্কতা বাসিন্দাদের ঘরে থাকতে উৎসাহিত করতে পারে, শহুরে শ্রমশক্তির একটি বড় অংশের কাছে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না।
এই পরিস্থিতি শহুরে ন্যায়বিচার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে: যদি শীতলতা ও জলবায়ু সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ আয় এবং সম্পত্তির মালিকানার দ্বারা নির্ধারিত হয়, তবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শহরের প্রতিশ্রুতির জন্য এর অর্থ কী দাঁড়ায়? যে মানুষদের শ্রম শহুরে অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখে, তাঁদের কি ছায়া, বিশ্রাম এবং উষ্ণ আশ্রয়ের অধিকার আছে?
তাপের সংস্পর্শ ও আশ্রয়ে স্থানিক বৈষম্য
২০২৬ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে এল নিনো এবং উচ্চ-তাপমাত্রার সময়কালের সম্প্রসারণ ভারতের জন্য একটি বৃহত্তর ঝুঁকি তৈরি করেছে। ভারতীয় শহরগুলিতে রাতের ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রতি দশকে প্রায় ০.৫৩° সেলসিয়াস হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতীয় শহরগুলিতে এই বর্ধিত উষ্ণতার প্রায় ৬০ শতাংশের জন্য নগরায়ণ এবং কংক্রিটের পৃষ্ঠতল, অ্যাসফল্ট, ধাতব ছাদ ও কাঁচের কার্টেন ওয়ালের বৃদ্ধিকে দায়ী করা যেতে পারে। ওয়ার্ড-স্তরের তাপের সংস্পর্শের সূচকগুলি হল অপরিকল্পিত বসতির ঘনত্ব, কম সবুজ আচ্ছাদন, বৃক্ষরাজির স্বল্প আচ্ছাদন, শিল্প এলাকার নৈকট্য এবং পাতলা ধাতু বা অ্যাসবেস্টসের ছাদের প্রাধান্য, যার সব ক’টিই আয়ের অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। উদাহরণস্বরূপ, মুম্বইতে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত বসতিগুলির মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য ৫.৬° সেলসিয়াস, যেখানে ধারাভির গড় ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৩৫.৯° সেলসিয়াস এবং মাতুঙ্গার ৩০.৩° সেলসিয়াস। মুম্বইয়ের প্রায় ৩৭ শতাংশ বাড়ির টিনের ছাদ থাকায় তা থেকে নির্গত তাপ আটকে যায়, ফলে দিনের সর্বোচ্চ সময়ে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা ৪০° সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। মুম্বইয়ের এম/ইস্ট ওয়ার্ডে দেওনার ল্যান্ডফিলের আবর্জনার স্তূপের সংস্পর্শে আসা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য গরমের দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়। একই ভাবে আমদাবাদের বস্তি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, নমুনাভুক্ত ৮৫.৫ শতাংশ পরিবার বস্তি-বহির্ভূত এলাকার পরিবারগুলির তুলনায় উল্লেখযোগ্য রকমের বেশি গরম অনুভব করে।
শীতলীকরণ প্রযুক্তি একটি দ্বৈত বৈষম্য তৈরি করে: এক দিকে এর মূলধন ও পরিচালন ব্যয় শহরের দরিদ্রদের নাগালের বাইরে রাখে এবং অন্য দিকে এর কনডেন্সারগুলি বাইরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতি বিচ্ছিন্ন পরিবেশ তৈরি করে এবং তাপীয় ব্যয়কে দুর্বল গোষ্ঠীগুলির উপর চাপিয়ে দেয়।
তাপের সংস্পর্শে আসা ছাড়াও তাপ থেকে আশ্রয় খোঁজার ক্ষমতাও অসম ভাবে বণ্টিত। শীতলীকরণ প্রযুক্তি একটি দ্বৈত বৈষম্য তৈরি করে: এক দিকে এর মূলধন ও পরিচালন ব্যয় শহরের দরিদ্রদের নাগালের বাইরে রাখে এবং অন্য দিকে এর কনডেন্সারগুলি বাইরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতি বিচ্ছিন্ন পরিবেশ তৈরি করে এবং তাপীয় ব্যয়কে দুর্বল গোষ্ঠীগুলির উপর চাপিয়ে দেয়। এই দ্বৈত বৈষম্য দিল্লির মতো শহরের অনানুষ্ঠানিক বসতিগুলিতে সবচেয়ে বেশি প্রকট, যা বিত্তশালী এলাকাগুলির পাশাপাশি সহাবস্থান করে। নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলি তাদের বাজেটের ৮ শতাংশ পর্যন্ত শীতলীকরণের জন্য ব্যয় করতে পারে, যা জ্বালানি দারিদ্র্যের কারণ হতে পারে।
এই দ্বৈত বৈষম্য শুধু ভারতীয় শহরগুলিতেই সীমাবদ্ধ নয়। উদাহরণস্বরূপ, অ্যারিজোনার ফিনিক্সে দেখা গিয়েছে যে, হিস্পানিক-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলি শহরতলির চেয়ে ৫° সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ এবং তাপ নিরোধক পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও বৃক্ষের সমতার ব্যবধান রয়ে গিয়েছে। চিলির সান্তিয়াগোর প্রান্তিক এলাকাগুলিতেও একই প্রতিফলন দেখা যায়, যেখানে পরিযায়ী শ্রমিকরা তাপ-ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাস করেন।
তাপ ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রম
ভারতে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ২০ কোটিরও বেশি শ্রমিক নিযুক্ত আছেন, যাঁদের অনেকেই প্রচণ্ড তাপ থেকে কোনও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ছাড়াই খোলা বা আধা-খোলা পরিবেশে কাজ করেন। ২০২৪ সালে তাপের কারণে ভারতে প্রায় ২৪.৭ হাজার কোটি শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয়, যার ফলে ১৯.৪ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। দৈনিক মজুরির শ্রমিকদের জন্য তাপজনিত কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ হল তাৎক্ষণিক আয় কমে যাওয়া। কোনও সবেতন ছুটি বা সামাজিক সুরক্ষা না থাকায় অনেকেই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হন। উচ্চ তাপপ্রবণ এলাকার নারীরা ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, জলশূন্যতা এবং পরিপাকতন্ত্রের অসুস্থতায় ভোগেন, যার ফলে এপ্রিল থেকে জুন মাসের গ্রীষ্মকালে তাঁদের আয় কমে যায়।
তাপ সঙ্কট নগর সাধারণ সম্পদ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দ্বৈত দৃষ্টিকোণ থেকে নগর শাসনব্যবস্থাকে নতুন করে পর্যালোচনার এক জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। পার্ক, হ্রদ, বৃক্ষরাজির আচ্ছাদন এবং ছায়াঘেরা গণচত্বরগুলি জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য অবকাঠামো।
শহরতলির রাস্তার হকার, নির্মাণ শ্রমিক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ডেলিভারি রাইডার, আবর্জনা সংগ্রাহক, গৃহকর্মী এবং কৃষি শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন হন। তাঁদের পেশাগত তাপের সংস্পর্শ কেবল বাইরের তাপমাত্রার উপরই নির্ভর করে না, বরং এটি আরও তীব্র হয় সেই সব পৃষ্ঠতলের তাপীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে যার উপর বা নিচে তাঁরা কাজ করেন (যেমন অ্যাসফল্ট, কংক্রিট, ধাতু)। এর পাশাপাশি ছায়ার অভাব, পানীয় জল ও বিশ্রামের সুবিধার সীমিত সুযোগ এবং তাপ-প্রবণ কাজ থেকে স্বেচ্ছায় সরে আসার অর্থনৈতিক ঝুঁকি তো রয়েছেই। এই প্রেক্ষাপটে, ‘রোদে, বিশেষ করে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টের মধ্যে রাস্তায় বেরোনো এড়িয়ে চলুন’ এবং ‘বিকেলে বাইরে থাকাকালীন কঠোর পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলুন’-এর মতো সাধারণ তাপ সতর্কতাগুলি প্রায়শই অনানুষ্ঠানিক এবং স্বল্প আয়ের কর্মীদের জন্য অবাস্তব হয়ে পড়ে। কারণ তাঁদের জন্য এই সতর্কতাগুলি মেনে চললে তা সরাসরি মজুরি এবং জীবিকা হারানোর কারণ হতে পারে।
এটি দেখায় যে, শহুরে তাপ সঙ্কট একটি কাঠামোগত জরুরি অবস্থা, যা ভারতীয় শহরগুলি কী ভাবে পরিকল্পিত, পরিচালিত এবং কাদের জন্য তৈরি… তার মধ্যকার গভীর ফাটলগুলিকে উন্মোচিত করে। নীতিগত প্রতিক্রিয়া মূলত প্রযুক্তি-নির্ভর, খণ্ডিত এবং শ্রম ন্যায়বিচার ও স্থানিক সমতার দিকগুলির প্রতি অপ্রতুল ভাবে মনোযোগী থেকেছে। শীতল ছাদ কর্মসূচি, তাপ মোকাবিলা পরিকল্পনা এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা প্রশংসনীয় ও প্রয়োজনীয়। কিন্তু এগুলি ততক্ষণ পর্যন্ত যথেষ্ট নয়, যতক্ষণ না সেগুলি সেই অন্তর্নিহিত পরিস্থিতিগুলির সমাধান করে, যা জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশকে দীর্ঘস্থায়ী তাপীয় উত্তাপের সম্মুখে অরক্ষিত করে দেয়।
খণ্ডিত অবস্থা থেকে একীভূতকরণ: একটি ন্যায়সঙ্গত নগর জলবায়ু কর্মসূচি
তাপ সঙ্কট নগর সাধারণ সম্পদ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দ্বৈত দৃষ্টিকোণ থেকে নগর শাসনব্যবস্থাকে নতুন করে পর্যালোচনার এক জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। পার্ক, হ্রদ, বৃক্ষরাজির আচ্ছাদন এবং ছায়াঘেরা গণচত্বরগুলি জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য অবকাঠামো। নগরের তাপ জল সঙ্কটের সঙ্গে গভীর ভাবে জড়িত। কারণ সবুজ আচ্ছাদন বিলুপ্ত হচ্ছে, অভেদ্য পৃষ্ঠতল প্রসারিত হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ জলের স্তর হ্রাস পাচ্ছে এবং নগরে বন্যার প্রকোপ বাড়ছে। এটি বায়ুর গুণমানের সঙ্গেও সম্পর্কিত। কারণ তাপীয় বিপরীতমুখী প্রবাহ দূষক পদার্থকে আটকে রাখে এবং শ্বাসতন্ত্রের ঝুঁকি বাড়ায়। সর্বোপরি আবাসনের অনিশ্চয়তার সঙ্গে তাপের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। কারণ অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাসকারীদের তাপ-নিরোধক দেওয়াল, আড়াআড়ি বায়ুচলাচলের ব্যবস্থা বা শীতলীকরণের জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সংযোগের অভাব থাকে। এগুলি বিচ্ছিন্ন সঙ্কট নয়, যার জন্য নির্দিষ্ট সমাধানের প্রয়োজন। বরং এগুলি নগর পরিকল্পনা দর্শনের একটি একক ও গভীরতর ব্যর্থতার পরস্পর সংযুক্ত লক্ষণ।
ভারতীয় শহরগুলিকে অবশ্যই একটি সমন্বিত নগর জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা কাঠামো গ্রহণ করতে হবে, যা তাপ প্রশমন, বৃষ্টির জল ব্যবস্থাপনা, নগর সবুজায়ন, বায়ুর মান উন্নয়ন এবং আবাসন স্থিতিস্থাপকতাকে পরস্পর নির্ভরশীল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করবে।
ভারতীয় শহরগুলিকে অবশ্যই একটি সমন্বিত নগর জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা কাঠামো গ্রহণ করতে হবে, যা তাপ প্রশমন, বৃষ্টির জল ব্যবস্থাপনা, নগর সবুজায়ন, বায়ুর মান উন্নয়ন এবং আবাসন স্থিতিস্থাপকতাকে পরস্পর নির্ভরশীল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করবে। মেডেলিন এবং সিঙ্গাপুরের মতো শহরগুলি দেখিয়েছে যে, নগর পরিবেশগত পরিকাঠামো যখন সামগ্রিক ভাবে পরিকল্পিত হয়, তখন তা একই সঙ্গে শহরকে শীতল রাখতে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে, জীববৈচিত্র্য বাড়াতে এবং সকল বাসিন্দার জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে। পার্ক, হ্রদ, নগর বন এবং ছায়াযুক্ত গণস্থানগুলিকে নগর মহাপরিকল্পনা এবং পৌর বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু পরিকাঠামো হিসেবে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং সেগুলিকে অবৈধ দখল ও বাণিজ্যিক উন্নয়ন থেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
শহর-স্তরের তাপ কর্ম পরিকল্পনাগুলিকে অবশ্যই প্রসারিত ও পুনর্গঠিত করতে হবে, যাতে বাইরের কর্মীদের অধিকারকে কেন্দ্র করে বিধিবদ্ধ সুরক্ষা প্রদান করা যায়। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বাধ্যতামূলক বিশ্রাম বিরতি, কর্মস্থলে ছায়া ও পানীয় জলের ব্যবস্থা, প্রচণ্ড গরমের সময়ে নমনীয় কর্মঘণ্টার বিধান এবং তাপজনিত অসুস্থতার জন্য স্বাস্থ্য বিমার আওতা। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার জন্য জারি করা তাপ সতর্কতার কারণে যে সময় নষ্ট হয়, তার বিপরীতে সরকারকে আয়ের সুরক্ষাও প্রদান করতে হবে। যাঁরা শহর নির্মাণ করেন ও টিকিয়ে রাখেন, তাঁদের জীবনেরও ‘শীতল থাকার অধিকার’ থাকতে হবে এবং তাপপ্রবাহের গ্রহণযোগ্য শিকার হিসেবে তাঁদের গণ্য করা যাবে না।
সোমা সরকার অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের আরবান স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Soma Sarkar is an Associate Fellow with ORF’s Urban Studies Programme. Her research interests span the intersections of environment and development, urban studies, water governance, Water, ...
Read More +