২০২৫ সালে বৈশ্বিক মহাসাগর শাসন কাঠামো রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটে, মহাসাগর দশকের সাফল্য নির্ভর করবে শক্তিশালী সমন্বয়, টেকসই বিনিয়োগ এবং সম্প্রদায় ও শিল্পের সঙ্গে গভীরতর সম্পৃক্ততার উপর।
২০১৭ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ) কর্তৃক ঘোষিত ‘স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জ মহাসাগর বিজ্ঞান দশক’ (২০২১-২০৩০)-এর লক্ষ্য হল মহাসাগর বিজ্ঞানের অগ্রগতি সাধন করা এবং একটি স্বাস্থ্যকর মহাসাগরের জন্য সমাধান উদ্ভাবন করা। ইউনেস্কোর আন্তঃসরকারি মহাসাগর বিজ্ঞান কমিশন (আইওসি) দ্বারা সমন্বিত এই দশকটি “আমরা যে মহাসাগর চাই, তার জন্য প্রয়োজনীয় বিজ্ঞান” দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে। এটি দশটি চ্যালেঞ্জ ক্ষেত্রের উপর আলোকপাত করে, এবং বিশ্বের মহাসাগরগুলির উপর ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলার জন্য জ্ঞানভান্ডার ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক এবং একাধিক অংশীদারকে একত্রিত করে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য হ্রাস, সামুদ্রিক দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিক স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য মহাসাগরকে কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। ২০২১ সাল থেকে, মহাসাগর দশকের উদ্যোগগুলি বিশ্বব্যাপী সমর্থন পেয়ে আসছে, যেগুলি মহাসাগর পর্যবেক্ষণ, বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তথ্য আদান-প্রদানের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। স্যাটেলাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং স্বয়ংচালিত ব্যবস্থার মতো নতুন প্রযুক্তিগুলি বাস্তুতন্ত্র, দূষণ এবং মাছের মজুত পর্যবেক্ষণে সহায়তা করেছে। আঞ্চলিক কর্মসূচিগুলি যুবাদের অংশগ্রহণ এবং দেশীয় জ্ঞানের ব্যবহারকে উৎসাহিত করেছে। অন্যদিকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরের নীতি সংস্কার এই প্রচেষ্টাগুলিকে আরও শক্তিশালী করেছে। যদিও অগ্রগতি সুস্পষ্ট, ‘মহাসাগর দশক’-এর কার্যক্রমগুলির একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিশ্চিত করতে আরও অনেক কিছু করার প্রয়োজন হবে।
চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ
অনেক উদ্যোগই অর্থায়নের অভাবে ভোগে, যা তাদের পরিধি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বকে সীমিত করে। উদাহরণস্বরূপ, আফ্রিকার কিছু অংশ এবং ক্ষুদ্র উন্নয়নশীল দ্বীপরাষ্ট্রসমূহে (এসআইডিএস) উপকূলীয় পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণ ব্যবস্থাগুলি প্রায়শই ধারাবাহিক অর্থায়ন এবং সরঞ্জাম জোগাড় করতে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়, যা জলবায়ু অভিযোজন এবং পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহকে আরও কঠিন করে তোলে। মৎস্য, নৌপরিবহণ, জ্বালানি এবং সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রগুলির মধ্যে সমন্বয়ও দুর্বল, যা খণ্ডিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিকে চালিত করে। ‘ব্লু বেঙ্গুয়েলা কারেন্ট অ্যাকশন’ কর্মসূচির মতো আঞ্চলিক সহযোগিতা এটাই তুলে ধরে যে, অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা কীভাবে বেঙ্গুয়েলা কারেন্ট বৃহৎ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনার জন্য একসঙ্গে কাজ করছে, কিন্তু টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য নীতিমালার সমন্বয় এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের উন্নতি সাধনই প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গিয়েছে।
গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ, বিভিন্ন অঞ্চলে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বৃহত্তর বিনিয়োগ, এবং শিল্প ও জনসম্প্রদায়ের বর্ধিত সম্পৃক্ততা ছাড়া মহাসাগর দশক তার পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জন করতে পারবে না।
গভীর সমুদ্র গবেষণা আরেকটি ক্ষেত্র যেখানে এখনও ঘাটতি রয়ে গিয়েছে। সমুদ্রতলের বিশাল এলাকা এখনও অনাবিষ্কৃত। উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে সীমিত পরিকাঠামো এবং উন্নত প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকারের অভাব এই সমস্যাটিকে আরও কঠিন করে তোলে। একই সময়ে, ঘানা ওশান ক্লাইমেট ইনোভেশনস হাব -এর মতো জনসম্প্রদায়-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগগুলি, যা ম্যানগ্রোভ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য ঐতিহ্যগত জ্ঞানের সঙ্গে ডিজিটাল ম্যাপিং সরঞ্জামকে একত্রিত করে, এই বিষয়টিই তুলে ধরে যে কীভাবে স্থানীয় সম্পৃক্ততা স্থিতিস্থাপকতাকে শক্তিশালী করতে পারে। ওশান ডেকেড ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট ফেসিলিটি সহায়তা করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থানীয় জনসম্প্রদায়গুলিকে, যেমন সলোমন দ্বীপপুঞ্জের বাবানাকিরা জনগোষ্ঠী এবং নেটিভ হাওয়াইয়ানদের। এটি তরুণ এবং জনসম্প্রদায়ের নেতাদের একত্রিত করে সম্প্রদায়ের কাছ থেকে শিখতে এবং তাদের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার নকশা প্রণয়নে সম্পৃক্ত করতে সাহায্য করে। গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ, বিভিন্ন অঞ্চলে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বৃহত্তর বিনিয়োগ, এবং শিল্প ও জনসম্প্রদায়ের বর্ধিত সম্পৃক্ততা ছাড়া মহাসাগর দশক তার পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জন করতে পারবে না।
২০২৫ একটি সন্ধিক্ষণ
মহাসাগর দশক যখন তার মধ্যবিন্দুতে পৌঁছেছে, তখন ২০২৫ সালটি মহাসাগরীয় ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর ছিল, যা পরিকল্পনা থেকে কর্মে উত্তরণের সূচনা করে। জাতীয় এক্তিয়ারের বাইরে জীববৈচিত্র্য বিষয়ক রাষ্ট্রপুঞ্জ চুক্তি (বিবিএনজে) কার্যকর হয়, যা দেশগুলিকে গভীর সমুদ্রে সামুদ্রিক জীবন রক্ষার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে বাধ্য করে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মৎস্য ভর্তুকি সংক্রান্ত নতুন নিয়মাবলিও কার্যকর হয়, যার লক্ষ্য ছিল অতিরিক্ত মাছ ধরা কমানো, ন্যায্য প্রতিযোগিতাকে উৎসাহিত করা, এবং টেকসই সামুদ্রিক খাদ্য সংগ্রহকে সমর্থন করা। একই সময়ে, মারপোল (জাহাজ থেকে দূষণ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক কনভেনশন)-এর সংশোধনীগুলি জাহাজ চলাচলকে আরও স্বচ্ছ এবং পরিবেশের জন্য কম ক্ষতিকর করে তুলছে।
এই উদ্যোগগুলি দেশগুলিকে, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে, তহবিল সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রযুক্তি বিনিময় এবং টেকসই সমুদ্র ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সক্ষমতা তৈরির বাস্তব সুযোগ প্রদান করে।
২০২৫ সালে বেলেমে অনুষ্ঠিত কপ৩০-এ প্রথম বারের মতো একজন মহাসাগর দূত অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা মহাসাগর এবং জলবায়ু কার্যক্রমের মধ্যেকার সংযোগকে তুলে ধরে। দেশগুলি টেকসই মহাসাগর পরিকল্পনাকে তাদের জলবায়ু কৌশলের অংশ করার অঙ্গীকার করেছে, যার মধ্যে ব্রাজিল ২০৩০ সালের মধ্যে তার সমগ্র বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে স্থিতিশীল মহাসাগর পরিকল্পনার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়াও, ২০২৫ সালের রাষ্ট্রপুঞ্জ মহাসাগর সম্মেলন (ইউএনওসি), যেখানে সরকার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞানী এবং নাগরিক সমাজ একত্রিত হয়েছিল, মহাসাগর সংরক্ষণকে ত্বরান্বিত করতে এবং উপকূলীয় স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করার জন্য একটি রাজনৈতিক ঘোষণা জারি করে। এই ঘোষণাটি টেকসই সামুদ্রিক খাদ্য এবং মহাসাগরীয় প্রযুক্তিতে বেসরকারি ক্ষেত্রের বিনিয়োগকেও উৎসাহিত করে। বেশ কিছু নতুন উদ্যোগও চালু করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ, জাহাজ চলাচল থেকে কার্বন নিঃসরণ কমানো, এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলিকে অর্থায়নের জন্য ‘নাইস মহাসাগরীয় কর্ম পরিকল্পনা’। অন্যান্য প্রচেষ্টার মধ্যে ছিল মহাসাগরীয় পর্যবেক্ষণ উন্নত করার জন্য ‘স্পেস৪ওশান’, জলের নিচের শব্দ কমানোর জন্য ‘হাই অ্যাম্বিশন কোয়ালিশন ফর এ কোয়ায়েট ওশান’, এবং টেকসই উপকূলীয় ও সামুদ্রিক পর্যটনকে উৎসাহিত করার জন্য ‘ওশান ট্যুরিজম প্যাক্ট’।
এই উদ্যোগগুলি দেশগুলিকে, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে, তহবিল সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রযুক্তি বিনিময় এবং টেকসই সমুদ্র ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সক্ষমতা তৈরির বাস্তব সুযোগ প্রদান করে। ২০২৫ সালে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি নির্ধারণ করবে কীভাবে সমুদ্র শাসন আরও বিশ্বাসযোগ্য, কার্যকর এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিশ্বের মহাসাগরগুলিকে রক্ষা করতে আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।
মহাসাগর দশকে ভারতের ভূমিকা
ভারতের জন্য, মহাসাগর দশক একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ১১,০৯৮ কিলোমিটারেরও বেশি উপকূলরেখা এবং একটি বিশাল বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল থাকায়, মহাসাগর জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে সমর্থন করে। যেহেতু ভারতের ৯৫ শতাংশ বাণিজ্য সমুদ্রপথে সম্পন্ন হয়, তাই অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং সাগরমালা, মেরিটাইম ভিশন ২০৩০, এবং মেরিটাইম অমৃত কাল ভিশন ২০৪৭-এর মতো কৌশলগত পরিকল্পনাগুলির জন্য মহাসাগরগুলি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। টেকসই সমুদ্র ব্যবস্থাপনাকে সমর্থন করার জন্য ভারত চালু করেছে বিভিন্ন উদ্যোগ, যেমন ‘এক দেশ-এক বন্দর’ যা বন্দরের কার্যকারিতা এবং তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করে, ‘হরিত সাগর’ যা পরিবেশবান্ধব বন্দর কার্যক্রমকে উৎসাহিত করে, জাহাজ চলাচল থেকে নির্গমন কমাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রচেষ্টা, এবং সাগর সেতু যা সামুদ্রিক ব্যবস্থা জুড়ে ডিজিটাল সংযোগ এবং পর্যবেক্ষণকে শক্তিশালী করে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাতেও ভারত একটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, এবং দেশটি দ্বিতীয়বারের মতো 'ক্যাটাগরি বি'-তে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে, যা তার ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাবকে তুলে ধরে।
টেকসই সমুদ্র ব্যবস্থাপনাকে সমর্থন করার জন্য ভারত চালু করেছে বিভিন্ন উদ্যোগ, যেমন ‘এক দেশ-এক বন্দর’ যা বন্দরের কার্যকারিতা এবং তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করে, ‘হরিত সাগর’ যা পরিবেশবান্ধব বন্দর কার্যক্রমকে উৎসাহিত করে, জাহাজ চলাচল থেকে নির্গমন কমাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রচেষ্টা, এবং সাগর সেতু যা সামুদ্রিক ব্যবস্থা জুড়ে ডিজিটাল সংযোগ এবং পর্যবেক্ষণকে শক্তিশালী করে।
ভারত ইতিমধ্যেই নানাভাবে মহাসাগর দশকে অবদান রাখছে। জাতীয় দশক সমন্বয় কমিটি (এনডিসিসি) ভারতের কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন করে এবং জাতীয় সমুদ্র বিজ্ঞান কার্যক্রমকে মহাসাগর দশকের লক্ষ্যগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে। ডিপ সি মিশন এবং সমুদ্রযান প্রকল্প গভীর সমুদ্র অন্বেষণের জন্য মনুষ্যবাহী ডুবোযান তৈরি করছে। ভারত ডেটা সিস্টেম এবং গভীর সমুদ্র জরিপের মাধ্যমে সমুদ্র পর্যবেক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য গবেষণারও উন্নতি করছে। ভারত মহাসাগর অঞ্চলের জন্য দশক সহযোগী কেন্দ্র (ডিসিসি-আইওআর)) আঞ্চলিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে, অন্যদিকে ইউএনওসি-র মতো ফোরামে ভারতের অংশগ্রহণ, যেখানে দেশটি সাহাব ডিজিটাল মহাসাগর ডেটা পোর্টাল এবং উপকূলীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রদর্শন করেছে, তা এর বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ দেয়। দেশটি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে প্রারম্ভিক-কাজের মহাসাগর পেশাদার (ইসিওপি)-এর মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সচেতনতাও বাড়াচ্ছে।
ভারত তার মহাসাগরগুলিকে টেকসইভাবে পরিচালনা ও ব্যবহার করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, কিন্তু এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে। অনেক মাছের মজুত চাপের মধ্যে রয়েছে, সমুদ্র বিষয়ক শাসনব্যবস্থা একাধিক মন্ত্রক ও সংস্থার মধ্যে বিভক্ত এবং তাদের দায়িত্বের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে, উপকূলীয় নিয়মকানুনগুলি সমানভাবে প্রয়োগ করা হয় না, এবং সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা (এমপিএ) ভারতের জলসীমার একটি ক্ষুদ্র অংশ জুড়ে রয়েছে। একই সময়ে, উপকূলীয় এবং দ্বীপগুলির জনগোষ্ঠী ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ভূমিক্ষয়ের কারণে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীরা, যাঁরা সরাসরি সুস্থ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল, তাঁরাই প্রায়শই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন, যা আরও শক্তিশালী সমন্বয় এবং বৃহত্তর স্থানীয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে। তার অর্জিত সাফল্যের উপর ভিত্তি করে ভারতকে অবশ্যই বিভিন্ন ক্ষেত্রের নীতিগুলিকে একত্রিত করতে হবে। ভারতকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, এবং একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থানীয় সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করতে হবে। শক্তিশালী সমুদ্র তথ্য ব্যবস্থা, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল সরঞ্জাম অবশ্যই উন্নত পরিকল্পনা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিতে সহায়তা করতে পারে।
ভারতকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, এবং একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থানীয় সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করতে হবে। শক্তিশালী সমুদ্র তথ্য ব্যবস্থা, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল সরঞ্জাম অবশ্যই উন্নত পরিকল্পনা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিতে সহায়তা করতে পারে।
মহাসাগর দশক ভারতকে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ, আন্তর্জাতিক সমর্থন নিশ্চিত করা, মহাসাগরীয় শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং আরও ঐক্যবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের সুযোগ করে দেয়। ভারত তার সামুদ্রিক পরিকাঠামো উন্নত করতে এবং মহাসাগরীয় উন্নয়নকে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করতে সাগরমালা ও বৈশ্বিক বন্দর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তার সংযোগ আরও জোরদার করতে পারে। ভারত মহাসাগরীয় বিষয়াবলির আলোচনাকে রূপ দিতে তার নিজস্ব ফোরাম এবং ইউএনওসি-র মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারে। বঙ্গোপসাগর বহু-ক্ষেত্রীয় প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ (বিমস্টেক) এবং ভারত মহাসাগরীয় রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এর মতো আঞ্চলিক গোষ্ঠীর এবং সবুজ জাহাজ করিডোরের মাধ্যমে ভারত তহবিল সংগ্রহ, প্রযুক্তি ভাগাভাগি এবং সক্ষমতা তৈরি করতে পারে, আবার পাশাপাশি বাণিজ্য পথ সুরক্ষিত করতে এবং তার জাতীয় লক্ষ্যসমূহকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
২০৩০-এর পথ
২০২৫ সাল শেষ হওয়ার পর সমস্ত সরকারকে এখন দৃঢ়ভাবে মহাসাগর দশকের দায়বদ্ধতা পূরণ করতে হবে। ভারত এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এখন বাস্তব পদক্ষেপের দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন: শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা, সমুদ্র বিজ্ঞানে আরও বিনিয়োগ এবং উপকূলীয় জনসম্প্রদায়কে সমর্থনকারী নীতি। এছাড়াও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষা এবং সমুদ্র সম্পদ আরও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করার প্রয়োজন রয়েছে। ২০৩০ সালের পরেও সুস্থ সমুদ্র বজায় রাখতে হলে ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া গতিধারা অব্যাহত রাখতে হবে, যার জন্য প্রয়োজন অবিচল রাজনৈতিক সদিচ্ছা, উন্নত সমন্বয় এবং তৃণমূল পর্যায়ে ফলাফল অর্জনের উপর সুস্পষ্ট মনোযোগ।
অনুশা কেসরকর গাভাঙ্কর অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr. Anusha Kesarkar-Gavankar is Senior Fellow at the Observer Research Foundation. Her research spans the maritime economy, with a focus on sustainability, infrastructure, port-led development, ...
Read More +