গুরুগ্রামের বন্যা সংকট এই বিষয়টি তুলে ধরেছে যে ভারতের শহরগুলিকে অবশ্যই বাহ্যিক আধুনিকতার ঊর্ধ্বে উঠে পঞ্চভূত দর্শনের মতো ঐতিহ্যবাহী পরিবেশগত জ্ঞানকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, যাতে সত্যিকারের জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তোলা যায়।
বর্ষায় গুরুগ্রাম আবারও তীব্র বৃষ্টিপাতের পর ব্যাপক বন্যার সাক্ষী হয়েছে, যেখানে রাস্তাগুলি নদীতে পরিণত হয়েছিল, অফিস কমপ্লেক্সগুলো জলমগ্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছিল, এবং যাত্রীরা নগর অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে আটকা পড়েছিলেন। গলফ কোর্স রোডে বিলাসবহুল গাড়ি ডুবে থাকা এবং হাঁটুসমান জলে ঘেরা টেক পার্কগুলির ছবি এখন একটি বার্ষিক রীতিতে পরিণত হয়েছে, যা গুরুগ্রামের বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষা এবং এর ভঙ্গুর ভিত্তির মধ্যেকার অসামঞ্জস্য তুলে ধরে। যদিও তাৎক্ষণিক দোষ প্রায়শই বন্ধ নর্দমা বা অতিরিক্ত নির্মাণের উপর চাপানো হয়, বাস্তবতা আরও গভীর। শহরটির নকশা তার পরিবেশগত ভিত্তি—এর ভূগর্ভস্থ জলাধার, প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা, জলাভূমি এবং মাটিকে—মৌলিকভাবে উপেক্ষা করেছে। এই অবহেলার মধ্যে শুধু গুরুগ্রামের জন্যই নয়, ভারতের প্রতিটি শহরের জন্যই একটি শিক্ষা নিহিত রয়েছে: সিঙ্গাপুর বা দুবাইয়ের কাঁচ ও ইস্পাতের আকাশচুম্বী অট্টালিকা নকল করে জলবায়ু-সহনশীল নগরায়ণ গড়ে তোলা যায় না। পরিবর্তে, ভারতকে প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে জীবনযাপনের নিজস্ব জ্ঞান ব্যবস্থাগুলি পুনরায় আবিষ্কার করতে হবে।
এরকমই একটি ব্যবস্থা হল পঞ্চভূত দর্শন, অর্থাৎ প্রকৃতির পাঁচটি উপাদানের সঙ্গে—জল, পৃথিবী, অগ্নি, বায়ু এবং আকাশ—সামঞ্জস্য রেখে মানব বসতি নির্মাণের প্রাচীন ভারতীয় নীতি। বিমূর্ত বা আধ্যাত্মিক হওয়ার পরিবর্তে, পঞ্চভূত জলবায়ু-সহনশীল শহরগুলির জন্য একটি বাস্তবসম্মত রূপরেখা প্রদান করে। এটি নগর পরিকল্পনাবিদদের সঠিক প্রশ্নগুলি করতে সাহায্য করে: জলকে কি একটি সম্পদ এবং ঝুঁকি হিসেবে সম্মান করা হচ্ছে? ভূমিকে কি তার পরিবেশগত ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবহার করা হচ্ছে? শক্তিকে কি টেকসইভাবে উৎপাদন ও ব্যবহার করা হচ্ছে? বাতাসকে কি শ্বাসযোগ্য রাখা হচ্ছে? পরিসর কি সম্প্রদায়ের স্থিতিস্থাপকতা এবং অন্তর্ভুক্তির জন্য তৈরি করা হচ্ছে? গুরুগ্রামে প্রয়োগ করা হলে, এই নীতিগুলো জলবায়ু সংকটের যুগে নগর উন্নয়ন সম্পর্কে আমাদের চিন্তাভাবনাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে সাহায্য করতে পারে।
সিঙ্গাপুর বা দুবাইয়ের কাঁচ ও ইস্পাতের আকাশচুম্বী অট্টালিকা নকল করে জলবায়ু-সহনশীল নগরায়ণ গড়ে তোলা যায় না। পরিবর্তে, ভারতকে প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে জীবনযাপনের নিজস্ব জ্ঞান ব্যবস্থাগুলি পুনরায় আবিষ্কার করতে হবে।
জল: গুরুগ্রামের চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে এটিই সবচেয়ে দৃশ্যমান। ঐতিহাসিকভাবে শহরটি হ্রদ, জলাভূমি এবং নাজাফগড় ঝিলের সঙ্গে সংযুক্ত প্রাকৃতিক নিষ্কাশন প্রণালী দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল, যা বর্ষার জলের জন্য স্পঞ্জের মতো কাজ করত। তবে, আবাসন ক্ষেত্রের প্রসারের ফলে এই প্রাকৃতিক জলাধারগুলির অনেকগুলিই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসনের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, গত চার দশকে গুরুগ্রামের অর্ধেকেরও বেশি জলাশয় অদৃশ্য হয়েছে। ফলে কংক্রিটের আচ্ছাদন বৃদ্ধির কারণে বৃষ্টির জল রাস্তা এবং বেসমেন্ট প্লাবিত করা ছাড়া আর কোথাও যাওয়ার জায়গা পায় না। পঞ্চভূত আমাদের জলকে জীবনরেখা এবং বিপদ উভয় হিসেবেই বিবেচনা করতে বাধ্য করে। গুরুগ্রামকে তার হারানো হ্রদগুলি পুনরুদ্ধার করতে হবে, বৃষ্টির জলের নালাগুলি পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, এবং শহুরে জলাভূমি, পুনঃপুষ্ট পুকুর, জৈব-খালের মতো নীল পরিকাঠামোকে তার মহাপরিকল্পনার সঙ্গে একীভূত করতে হবে। সিঙ্গাপুরের এবিসি ওয়াটার্স প্রোগ্রাম দেখায় কীভাবে বৃষ্টির জলকে জনসম্পদে পরিণত করা যায়। গুরুগ্রামের নিজস্ব মডেলও রয়েছে: নাগরিক গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা ওয়াজিরাবাদ হ্রদের পুনরুজ্জীবন এখানে বিপুল সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। যা অনুপস্থিত তা হল ব্যাপকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ। একটি শহর-স্তরের নগর জল কর্তৃপক্ষ, যা বন্যা-ঝুঁকির মানচিত্র এবং ভূগর্ভস্থ জলের স্তরের তথ্য দ্বারা সজ্জিত থাকবে, তা সমস্ত সংস্থাকে একটি একক জল-সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গির অধীনে একত্রিত করতে পারে।
ভূমি (পৃথিবী) : গুরুগ্রামের রিয়েল এস্টেট জোয়ার ভূমিকে একটি ফাঁকা ক্যানভাস হিসেবে বিবেচনা করেছে, এবং এর পরিবেশগত যুক্তিকে উপেক্ষা করেছে। আরাবল্লী পর্বতমালা—দিল্লি এনসিআর-এর সবুজ ফুসফুস—অবিরতভাবে খনন ও বেদখলের শিকার হয়েছে, যা বন্যা, তাপপ্রবাহ এবং ধূলিঝড়ের বিরুদ্ধে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে। ভূমি ব্যবহারের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে যে ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আরাবল্লীর বনভূমি ৪১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। পঞ্চভূতের নীতি আমাদের পৃথিবীর ধারণক্ষমতাকে সম্মান করে এর সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করার দাবি জানায়। গুরুগ্রামের পক্ষে ভঙ্গুর অঞ্চলগুলিতে আর বাইরের দিকে প্রসারিত হতে থাকা সম্ভব নয়। পরিবর্তে, এটিকে সুসংহত, উল্লম্ব বৃদ্ধির নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং আরাবল্লীকে পরিবেশগতভাবে সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে সুরক্ষিত করতে হবে। শহরতলির কৃষিকে প্লাবনভূমি এবং কার্বন শোষক হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে, সেগুলিকে পাকা রাস্তা দিয়ে ঢেকে ফেলা যাবে না। ব্রাজিলের কুরিটিবার মতো শহরগুলি দেখিয়েছে যে পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলে বৃদ্ধি সীমিত করলে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিস্থাপকতা তৈরি হয়। গুরুগ্রামকে অবশ্যই এই পথ অনুসরণ করতে হবে এবং সুপ্রিম কোর্টের আরাবল্লীতে নির্মাণকাজের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে, আর ডেভেলপারদের বিদ্যমান শহুরে সীমানার মধ্যে নির্মাণ করতে উৎসাহিত করতে হবে।
গুরুগ্রামকে তার হারানো হ্রদগুলি পুনরুদ্ধার করতে হবে, বৃষ্টির জলের নালাগুলি পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, এবং শহুরে জলাভূমি, পুনঃপুষ্ট পুকুর, জৈব-খালের মতো নীল পরিকাঠামোকে তার মহাপরিকল্পনার সঙ্গে একীভূত করতে হবে।
অগ্নি: আজকের প্রেক্ষাপটে আগুন শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে—শহরগুলি যেভাবে নিজেদের শক্তি সরবরাহ করে। গুরুগ্রামের বিশাল শপিং মল, ডেটা সেন্টার এবং গেটেড সোসাইটিগুলির কারণে ভারতের মধ্যে এর মাথাপিছু শক্তির ব্যবহার অন্যতম সর্বোচ্চ। তাপপ্রবাহের সময় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়, যা গ্রিডের উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায়। পঞ্চভূত ধারণাটি অগ্নিকে এমন একটি শক্তি হিসেবে দেখে, যাকে কাজে লাগাতে হবে, কিন্তু নির্বিচারে ব্যবহার করা যাবে না। গুরুগ্রাম সমস্ত নতুন ভবনের জন্য ছাদের উপর সৌর প্যানেল বাধ্যতামূলক করে, শক্তি-সাশ্রয়ী শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রণোদনা দিয়ে, এবং জরুরি পরিষেবাগুলির জন্য মাইক্রোগ্রিড তৈরি করে নেতৃত্ব দিতে পারে। হরিয়ানা সৌর নীতি ২০২৩ ইতিমধ্যেই ২০৩০ সালের মধ্যে ৬ গিগাওয়াট সৌরশক্তি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে; রাজ্যের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গুরুগ্রাম এর পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হতে পারে। একইভাবে, শহরটিকে শক্তির সমতার বিষয়টিও সমাধান করতে হবে: গুরুগ্রামের হাজার হাজার অনানুষ্ঠানিক বসতি ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্মুখীন হয়, অথচ জমকালো উঁচু ভবনগুলিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে আলো জ্বলে। একটি ন্যায়সঙ্গত শক্তি রূপান্তর—যেখানে বস্তিগুলোকে পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি, ছাদের উপর সৌর প্যানেল এবং স্থিতিস্থাপক গ্রিডের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হয়—অগ্নিকে বৈষম্যের উৎস না করে ভারসাম্যের উৎস হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য।
বায়ু: গুরুগ্রামের বায়ুর গুণমান নিয়মিতভাবে বিপজ্জনক মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, বিশেষ করে শীতকালে, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহরে পরিণত করেছে। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার-এর একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে গুরুগ্রামের পিএম২.৫-এর গড় মাত্রা ছিল প্রায় ৭৫ মাইক্রোগ্রাম/কিউবিক মিটার, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) দ্বারা নির্ধারিত নিরাপদ সীমার ১৫ গুণ বেশি। পঞ্চভূত এমন একটি শহরের আহ্বান জানায় যা মুক্তভাবে শ্বাস নিতে পারে। গণপরিবহণ, পথচারীবান্ধব রাস্তার নকশা এবং সাইক্লিং পরিকাঠামোর মাধ্যমে যানবাহনের দূষণ কমানোকে জরুরি অগ্রাধিকার দিতে হবে। দিল্লি এবং আলোয়ারের মধ্যে আঞ্চলিক দ্রুতগামী পরিবহণ ব্যবস্থা (আরআরটিএস) যদি প্রসারিত করে গুরুগ্রামের মেট্রোর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়, তবে এটি প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ির যাতায়াত কমাতে পারে। একইভাবে, শিল্প এবং নির্মাণ সাইটগুলিকে রিয়েল-টাইম দূষণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কলম্বিয়ার মেডেলিনের মতো শহরগুলি রাস্তার ধারে ‘সবুজ করিডোর’ তৈরি করে সফলভাবে দূষণ কমিয়েছে—এই রৈখিক বন বাতাসকে শীতল করে এবং বায়ুকণা শোষণ করে। গুরুগ্রামও প্রধান সড়কগুলিতে বনায়ন করে এবং তার কর্পোরেট কেন্দ্রগুলি ব্যবহার করে নগর বনায়ন অভিযানে পৃষ্ঠপোষকতা করার মাধ্যমে অনুরূপ পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারে।
গণপরিবহণ, পথচারীবান্ধব রাস্তার নকশা এবং সাইক্লিং পরিকাঠামোর মাধ্যমে যানবাহনের দূষণ কমানোকে জরুরি অগ্রাধিকার দিতে হবে। দিল্লি এবং আলোয়ারের মধ্যে আঞ্চলিক দ্রুতগামী পরিবহণ ব্যবস্থা (আরআরটিএস) যদি প্রসারিত করে গুরুগ্রামের মেট্রোর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়, তবে এটি প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ির যাতায়াত কমাতে পারে।
পরিসর (আকাশ): ভৌত জগতের বাইরে, আকাশ একটি শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্থানকে বোঝায়—অর্থাৎ শহরটি কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহজগম্য ও স্থিতিস্থাপক। গুরুগ্রাম তার গেটেড কমিউনিটি এবং বিচ্ছিন্ন জীবনযাপনের জন্য কুখ্যাত, যেখানে অভিবাসী শ্রমিকেরা অস্বাস্থ্যকর বস্তিতে বাস করে এবং স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা বা নিরাপদ আবাসনের মতো মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ২০২০ সালের কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় হাজার হাজার শ্রমিক জীবিকা হারিয়ে আটকা পড়েছিল, যা এই কাঠামোগত বঞ্চনাকে স্পষ্ট করে তোলে। পঞ্চভূত এই দাবি করে যে পরিসর অবশ্যই ভাগ করে নিতে হবে এবং তা হতে হবে সমতাপূর্ণ। গুরুগ্রামকে সাশ্রয়ী ভাড়ার আবাসনে বিনিয়োগ করতে হবে, শ্রমিক-অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে হবে এবং পার্ক, প্লাজা, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মতো গণপরিসর তৈরি করতে হবে যা সামাজিক স্থিতিস্থাপকতাকে উৎসাহিত করে। আকাশ ডিজিটাল স্থানকেও বোঝায়: যেহেতু গুরুগ্রাম নিজেকে একটি প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে, তাই সাশ্রয়ী ব্রডব্যান্ড এবং ই-গভর্নেন্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। শহরগুলি তখনই স্থিতিস্থাপক হয় যখন সমস্ত বাসিন্দা—শুধু ধনীরাই নয়—নিরাপত্তার জালে অন্তর্ভুক্ত থাকে।
পঞ্চভূতের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, গুরুগ্রামের বন্যা শুধু ভাঙা নর্দমার সমস্যা নয়, বরং এটি নগরায়ণের একটি ত্রুটিপূর্ণ দর্শনের ফল। শহরটির পরিকল্পনাকারীরা ভারতের ঐতিহ্যে নিহিত পরিবেশগত জ্ঞানকে উপেক্ষা করে শহুরে বিকাশের বৈশ্বিক মডেল আমদানি করার চেষ্টা করেছেন। পঞ্চভূত এই জ্ঞানের ভিত্তিতে আধুনিক পরিকল্পনাকে প্রতিষ্ঠা করার একটি পথ দেখায়—যা একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে জল, ভূমি, শক্তি, বায়ু এবং সামাজিক পরিসরের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
গুরুগ্রামকে সাশ্রয়ী ভাড়ার আবাসনে বিনিয়োগ করতে হবে, শ্রমিক-অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে হবে এবং পার্ক, প্লাজা, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মতো গণপরিসর তৈরি করতে হবে যা সামাজিক স্থিতিস্থাপকতাকে উৎসাহিত করে।
গুরুগ্রামের সংকট প্রতিটি ভারতীয় শহরের জন্য একটি সতর্কবার্তা। মুম্বইয়ের দীর্ঘস্থায়ী বন্যা থেকে শুরু করে বেঙ্গালুরুর বিলুপ্তপ্রায় হ্রদ পর্যন্ত, পরিস্থিতি স্পষ্ট: জলবায়ু পরিবর্তন অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট দুর্বলতাগুলিকে আরও তীব্র করে তুলছে। ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে আরও ৪০ কোটি নতুন নগরবাসী যুক্ত হবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। পছন্দটি অত্যন্ত কঠিন—হয় আমরা এমন শহর তৈরি করতে থাকব যা আকাঙ্ক্ষার দ্বীপের মতো হলেও প্রতিটি চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেঙে পড়ে, অথবা আমরা এমন বসতি গড়ে তুলব যা পরিবেশগত স্থিতিস্থাপকতা এবং সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। গুরুগ্রাম তার কর্পোরেট প্রভাব, তরুণ জনসংখ্যা এবং পরিচিতির কারণে একটি পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হতে পারে। যদি গুরুগ্রাম পঞ্চভূতের ধারণা গ্রহণ করতে পারে, তবে এটি ভারতীয় নগরায়ণের একটি নতুন মডেলকে অনুপ্রাণিত করতে পারে—যা আধুনিক অথচ শিকড়যুক্ত, উচ্চাকাঙ্ক্ষী অথচ ভারসাম্যপূর্ণ, এবং সর্বোপরি ভবিষ্যতের জলবায়ুগত ধাক্কা মোকাবিলায় স্থিতিস্থাপক।
অপর্ণা রায় অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকনমিক ডিপ্লোম্যাসির ফেলো এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও শক্তি বিভাগের প্রধান।
পীয়ুষ প্যাটেল অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষণা ইন্টার্ন।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Aparna Roy is a Fellow and Lead Climate Change and Energy at the Centre for New Economic Diplomacy (CNED). Aparna's primary research focus is on ...
Read More +
Piyush Patel was a Research Intern with the Centre for New Economic Diplomacy at the Observer Research Foundation. His research interests lie at the intersection ...
Read More +