গ্রেট নিকোবরের জন্য ভারতের মেগা-পরিকল্পনা সামুদ্রিক শক্তির প্রতিশ্রুতি দিলেও বিপন্ন প্রজাতি, উপজাতির অধিকার এবং ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রের জন্য সতর্কতার কথাও উস্কে দিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম সমুদ্রপথ মালাক্কা প্রণালীর কাছে অবস্থিত গ্রেট নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ (জিএনআই) ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সংযোগমূলক কর্মসূচিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মূল্য বহন করে। ভারতীয় নৌবাহিনীর আইএনএস বাজ (গ্রেট নিকোবর) বিমানঘাঁটি থাকার কারণে এই অঞ্চলটি পূর্ব ভারত মহাসাগরে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ও নজরদারি কার্যক্রমকে সমন্বিত করে। এর অবস্থানগত সুবিধা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততাও প্রদান করে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ভারত সরকার জিএনআই-তে ৮০,০০০ কোটি টাকার একটি মেগা অবকাঠামো প্রকল্প অনুমোদন করেছে। নীতি আয়োগের নেতৃত্বে হলিস্টিক ডেভেলপমেন্ট অফ আইল্যান্ডস প্রোগ্রাম-এর (দ্বীপপুঞ্জের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মসূচির) অংশ হিসাবে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে একটি সামুদ্রিক, বাণিজ্য ও পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার জন্য একটি বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি আসলে চারটি প্রধান উপাদান নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে রয়েছে গ্যালাথিয়া উপসাগরে একটি ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল, একটি বিমানবন্দর, একটি গ্রিনফিল্ড টাউনশিপ, একটি পর্যটন প্রকল্প ও একটি গ্যাস-চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ভারত সরকার জিএনআই-তে ৮০,০০০ কোটি টাকার একটি মেগা অবকাঠামো প্রকল্প অনুমোদন করেছে।
এই পটভূমিতে প্রবন্ধটিতে জাতীয় নিরাপত্তা ও উত্তর-দক্ষিণ আঞ্চলিক সংযোগ রূপান্তরে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করার জন্য জিএনআই অবকাঠামো প্রকল্পের কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিকগুলি সমালোচনামূলক ভাবে বিশ্লেষণ করার পাশাপাশি এই ধরনের বৃহৎ উন্নয়নের আর্থ-সামাজিক-পরিবেশগত পরিণতির মূল্যায়ন করা হয়েছে।
গ্রেট নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা
বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার অধীনে উল্লিখিত উদ্যোগগুলির নেপথ্যে থাকা যুক্তি অন্বেষণ করা মূল্যবান। প্রকল্পটি জিএনআই-কে তার মনোরম দৃশ্য, ব-দ্বীপীয় উপকূলরেখা ও সুনির্মল সৈকত-সহ একটি কার্যকর পর্যটন গন্তব্যে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করে। এই অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় ভূখণ্ড নদী ভ্রমণ, কায়াকিং ও পাখি দেখার মতো ইকোট্যুরিজমের জন্য সহায়ক। বর্তমানে সীমিত অবকাঠামো ও প্রতিকূল আবহাওয়া ভারতীয় মূল ভূখণ্ড ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যগুলির পাশাপাশি জিএনআই-এর সীমিত সংযোগকে দর্শায়। অতএব, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি পর্যটনকে সমৃদ্ধ করতে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে উপকৃত করে নিকটবর্তী দেশগুলিতে বর্ধিত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। প্রকল্পটি তিরিশ বছরের ব্যবধানে তিনটি স্বতন্ত্র পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে, যেখানে এএনআইআইডিএসিও (আন্দামান অ্যান্ড নিকোবর আইল্যান্ডস ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন) কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে, যা অবকাঠামো উন্নয়ন, ভূমি অধিগ্রহণ ও স্থানান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলির তত্ত্বাবধানের জন্য দায়বদ্ধ এবং এর পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়ের স্বার্থ বা অংশগ্রহণের বিষয়সমূহ বিবেচনা করবে।
ভারত থেকে আসা বা উৎপন্ন পণ্য পরিবহণের ব্যবস্থাপনার ফলে ভারতীয় বন্দরগুলি বার্ষিক লক্ষ লক্ষ টাকার লোকসানের সাক্ষী থাকে এবং বিদেশি কেন্দ্রগুলিতে বন্দর পরিচালনা সংক্রান্ত ব্যয় ও ট্রান্সশিপমেন্ট ভারতীয় ব্যবসার জন্য ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়। উপরন্তু, বিদেশি বন্দরের উপর ভারতের নির্ভরতা জাতীয় নিরাপত্তার সমস্যা উত্থাপন করে এবং উপরে উল্লিখিত সমস্যাগুলিকে আরও জটিল করে তোলে।
সর্বোপরি, ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য ভারতের বিদেশি বন্দরের উপর নির্ভরতা বেশ কিছু সমস্যার কারণ তৈরি করে। ভারত থেকে আসা বা উৎপন্ন পণ্য পরিবহণের ব্যবস্থাপনার ফলে ভারতীয় বন্দরগুলি বার্ষিক লক্ষ লক্ষ টাকার লোকসানের সাক্ষী থাকে এবং বিদেশি কেন্দ্রগুলিতে বন্দর পরিচালনা সংক্রান্ত ব্যয় ও ট্রান্সশিপমেন্ট ভারতীয় ব্যবসার জন্য ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়। উপরন্তু, বিদেশি বন্দরের উপর ভারতের নির্ভরতা জাতীয় নিরাপত্তার সমস্যা উত্থাপন করে এবং উপরে উল্লেখিত সমস্যাগুলিকে আরও জটিল করে তোলে। সুতরাং, জিএনআই-এর গ্যালাথিয়া বে বন্দর প্রকল্পের লক্ষ্য হল ভারতীয় বাণিজ্য বর্তমানে যে দুর্বলতার সম্মুখীন হচ্ছে, তা মোকাবিলা করা। মেগা ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরটি বার্ষিক ১৪ মিলিয়নেরও বেশি টিইইউ (কুড়ি ফুট সমতুল্য ইউনিট) পরিচালনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা এটিকে কলম্বো, সিঙ্গাপুর এবং ক্লাং বন্দরের বিকল্প করে তুলবে। বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক (এমওপিএসডব্লিউ) এই ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর প্রকল্পটির তত্ত্বাবধান করে, যা ২০২৮ সালে সম্পন্ন হওয়ার কথা।
ভারতের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের জন্য অনুমোদিত করা হয়েছে, যা ওয়াইড-বডি বা বড় মাপের বিমান পরিচালনা এবং সংযোগ ও পর্যটক প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পিত হয়েছে। এই পরিকল্পনায় পুনর্নবীকরণযোগ্য এবং গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের পাশাপাশি একটি টাউনশিপও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা স্থিতিশীল ভাবে শক্তি সরবরাহ করবে। সর্বোপরি, জিএনআই-এর কৌশলগত অবস্থান কোবাল্ট, নিকেল, তামা এবং ম্যাঙ্গানিজ সমৃদ্ধ পলিমেটালিক নডিউলের অফশোর খনির জন্যও দুর্দান্ত সম্ভাবনা প্রদান করে, যা খনিজ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য অত্যাবশ্যক।
গ্রেট নিকোবরের পরিবেশগত গুরুত্ব
নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণতম দ্বীপ অর্থাৎ গ্রেট নিকোবর ১০৩,৮৭০ হেক্টর আয়তনের অনন্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় চিরহরিৎ অরণ্য জুড়ে বিস্তৃত। এটি ১,৮০০ প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল এবং বিভিন্ন সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্রকে সমর্থন করে, যার মধ্যে ৬৫০ প্রজাতির অ্যাঞ্জিওস্পার্ম, ফার্ন, জিমনোস্পার্ম এবং ব্রায়োফাইট রয়েছে। এই অঞ্চলে অনেক প্রজাতি এতটাই স্থানীয় যে, গ্রেট নিকোবরের তিন ধরনের প্রজাতির মধ্যে এক ধরনের পাখি ও চার ধরনের উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে এক ধরনের উদ্ভিদ বিশ্বের অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। গ্যালাথিয়া নদী লেদারব্যাক প্রজাতির কচ্ছপের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিযায়ী পথ, যারা অস্ট্রেলিয়া থেকে এই অঞ্চলের তীরে বংশবৃদ্ধির জন্য স্থানান্তর করে। নিকোবর দ্বীপপুঞ্জই ভারতের একমাত্র স্থান, যেটিকে সুন্দাল্যান্ডের বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্যের হটস্পট হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে, যা তাদের সমৃদ্ধ জৈব বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেয়। এর মধ্যে রয়েছে বিরল নিকোবর মেগাপোড, নিকোবর ট্রিশ্রু, ক্যাট স্নেক এবং গেছো ব্যাঙের মতো বেশ কয়েকটি অনন্য প্রজাতি। এই এলাকার পাশেই অবস্থিত বিখ্যাত প্রবাল ত্রিভুজ, যেটি বিশ্বের ৭৫ শতাংশেরও বেশি প্রবাল প্রজাতি এবং বিভিন্ন ধরনের মাছ ও সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণীর আবাসস্থল।
মঙ্গোলয়েড শোম্পেন – যাঁদের জনসংখ্যা প্রায় ২০০ - নদী ও স্রোত উপত্যকায় অবস্থিত জীবমণ্ডল সংরক্ষণের বনভূমিতে বাস করেন। তাঁরা শিকারী ও খাদ্য সংগ্রহকারী এবং মূলত বন ও সামুদ্রিক সম্পদের উপর নির্ভরশীল। নিকোবারিজ - প্রায় ৩০০ জনসংখ্যার আর একটি মঙ্গোলয়েড উপজাতি - পশ্চিম উপকূল বরাবর গ্রামে বাস করতেন। ২০০৪ সালের সুনামির ফলে পশ্চিম উপকূলে তাঁদের গ্রাম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের উত্তর উপকূলের আফ্রা উপসাগর এবং ক্যাম্পবেল উপসাগরে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।
সীমা নির্ধারণ: উন্নয়নের পরিধি চিহ্নিত করা
২০২১ সালে প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকে পরিবেশবাদী, আদিবাসী অধিকার সমর্থক এবং সংরক্ষণবাদীদের কাছ থেকে এটি উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হয়েছে এবং এই ঘটনাপ্রবাহ আসলে প্রকল্পটি কী ভাবে জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধ ভাণ্ডারকে কাজে লাগাতে পারে এবং উপজাতীয় সম্প্রদায়ের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিরল, স্থানীয় উদ্ভিদ ও প্রাণী, প্রবাল প্রাচীর, ম্যানগ্রোভ এবং উপজাতীয় সম্প্রদায়ের জন্য বিখ্যাত দ্বীপটির বেশিরভাগ অংশই জনবসতিহীন এবং বনভূমিতে ঢাকা, যা চিরাচরিত ভাবে প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রশাসনিক মডেল তৈরি করেছে। তবে ২০২৫ সালের অবস্থান অনুযায়ী, ‘ভিশন ২০৩০’ এবং নীতি আয়োগের উদ্যোগসমূহ - যা পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, ইকো-ট্যুরিজম এবং সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রচার করে - সেগুলি বন উজাড়, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং উপজাতি অধিকার ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের নিরাপত্তা সম্পর্কে সতর্কতা জাগায়।
যদিও ২০২২ সালের নভেম্বরে পরিবেশগত ছাড়পত্রে বেশ কিছু প্রশমন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল। যেমন লিটল নিকোবরে লেদারব্যাক প্রজাতির কচ্ছপের একটি অভয়ারণ্য তৈরি করা এবং হারিয়ে যাওয়া রেনফরেস্ট বা বৃষ্টি-অরণ্য ও প্রবাল প্রাচীর পুনরুদ্ধার করা। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এই সব বিষয় নিয়ে এখনও উদ্বিগ্ন। তাঁদের উদ্বেগ নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের জৈব-ভৌগোলিক স্বতন্ত্রতা, কত পরিমাণ গাছ কাটা হবে সে সম্পর্কে স্পষ্টতার অভাব এবং ক্ষতিপূরণমূলক অরণ্যায়ন প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে ভারতের দুর্বল ইতিহাস থেকে উদ্ভূত। পরিপক্ব গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বৃষ্টি-অরণ্য ছেঁটে ফেলার পরিণতিও একই রকমের উদ্বেগজনক এবং এর ফলে আনুমানিক ৪.৩ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইডের নির্গমন এবং ব্যাপক মাটি ক্ষয়ের ঝুঁকি থাকে। তা ছাড়া, প্রকল্পের সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ শোম্পেন সম্প্রদায়গুলিকে চরম ভাবে অবহেলা করেছে। শোম্পেন একটি ‘প্রিমিটিভ ভালনারেবল ট্রাইবাল গ্রুপ’ (পিভিটিজি)। উপজাতি অধিকার সংক্রান্ত কর্মীরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে প্রকল্পটি বিশ্বের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন উপজাতিগুলির মধ্যে একটিকে ধ্বংস করতে পারে।
গ্রেট নিকোবর দ্বীপ মেগা-প্রকল্পটি জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং পরিবেশগত তত্ত্বাবধানের বিবেচনার একটি উচ্চ ঝুঁকির সংমিশ্রণ।
কর্মীদের দ্বারা দাখিল করা একটি পিটিশনে ২০২২ সালের ১৮ অগস্ট জারি হওয়া বন অধিকার সনদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পিটিশনে দাবি করা হয় যে, গ্রেট নিকোবারের ১৩০ বর্গ কিলোমিটার বনভূমি ব্যবহারের জন্য বন অধিকার আইন অনুযায়ী সম্মতি প্রদান করেছিল। আইন অনুসারে, প্রকল্পে সম্মতি দেওয়ার ক্ষেত্রে তফসিলি উপজাতির অপ্রতুল প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে শংসাপত্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কারণ আইনটি স্পষ্টতই বিশেষ ভাবে দুর্বল উপজাতি গোষ্ঠীগুলির জন্য প্রতিনিধিত্ব বা প্রক্সি সম্মতির অনুমতি দেয় না। উপজাতি অধিকার সংক্রান্ত কর্মী এবং বিশেষজ্ঞদের অভিমত যে, সরকারি আশ্বাস সত্ত্বেও এই প্রকল্পের যৌথ প্রভাব – যা কিনা ৬৫০,০০০ নতুন বাসিন্দাকে গ্রহণের জন্য একটি বড় জনসংখ্যাগত পরিবর্তনমূলক পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত - শোম্পেনদের জন্য মৃত্যুঘণ্টার সমান। এই ধরনের যোগাযোগ শোম্পেনদের মধ্যে গুরুতর মানসিক যন্ত্রণার কারণ হতে পারে, যার ফলে জনসংখ্যা নাটকীয় ভাবে হ্রাস পেতে পারে। এমনকি বহিরাগতদের সঙ্গে প্রাথমিক সাক্ষাৎও তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ হতে পারে। কারণ শোম্পেনদের বহিরাগত সংক্রামক রোগের প্রতি খুব কম বা কোনও প্রতিরোধ ক্ষমতাই নেই। বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি ও পরবর্তী পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে তাঁদের উপর কী প্রভাব পড়বে, তা বিবেচনা না করলে শোম্পেনের ক্ষতি হবে অপরিসীম।
এই অঞ্চলে অত্যন্ত জটিল প্রবাল বাস্তুতন্ত্র ও স্থানীয় প্রজাতির কারণে পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত ব্যবস্থাগুলিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আর যে বিষয়টি সমালোচনার মুখে পড়েছে তা হল, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে প্রবাল স্থানান্তর। কারণ এই ধরনের অভিযানের সাফল্যের হার কম। সুতরাং, এই পদক্ষেপগুলি দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের উপর অপূরণীয় প্রভাবের সমাধান প্রদান করে না, বিশেষ করে লেদারব্যাক প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং নিকোবর মেগাপোডের মতো বিপন্ন প্রজাতির ক্ষেত্রে।
গ্রেট নিকোবর দ্বীপ মেগা-প্রকল্পটি জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং পরিবেশগত তত্ত্বাবধানের বিবেচনার একটি উচ্চ ঝুঁকির সংমিশ্রণ। যদিও দ্বীপটির অবস্থান ভারতের সামুদ্রিক অবস্থান ও আঞ্চলিক সংযোগের জন্য সুবিধাজনক, তবুও দ্বীপটি জীববৈচিত্র্য, সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্র ও স্থানীয় সংস্কৃতির জন্য অপরিবর্তনীয় মানবসৃষ্ট ক্ষতির কথা তুলে ধরেছে, যা নৈতিক ভাবে সন্দেহজনক এবং নীতিগত ভাবে উদ্বেগজনক পরিবেশগত দ্বিধাকে দর্শায়। বিদ্যমান পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার আবর্তে হলেও এ সব কাজ অঞ্চলটির অনন্য জৈব-ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যগুলিকে প্রতিস্থাপন করতে পারে না। বাস্তুসংস্থানগত ভাবে সঙ্কীর্ণ এলাকায় স্থিতিশীল উন্নয়নের পরিমাপ হওয়া উচিত অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা, স্বচ্ছ সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং প্রকৃতি ও আদিবাসীদের অধিকারের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে। তাই বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ নীতি নির্ধারণের মাধ্যমেই উন্নয়ন ও সংরক্ষণের মধ্যে সামঞ্জস্য হওয়া উচিত এবং এমন নীতি দ্বারা তা পরিচালিত হওয়া জরুরি, যা পরিবেশগত দায়িত্বশীলতা এবং সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা উভয়কেই প্রতিফলিত করে।
অনসূয়া বসু রায়চৌধুরী অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নেবারহুড ইনিশিয়েটিভ-এর সিনিয়র ফেলো।
শ্রীদীপ্তা রায় অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ইন্টার্ন।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Anasua Basu Ray Chaudhury is Senior Fellow with ORF’s Neighbourhood Initiative. She is the Editor, ORF Bangla. She specialises in regional and sub-regional cooperation in ...
Read More +