Published on Dec 27, 2025 Updated 0 Hours ago

প্রতিরক্ষা সংস্কার একটি জাতীয় জরুরি বিষয় হয়ে উঠেছে।

ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত বাহিনী

সম্প্রতি কলকাতায় তিন দিনব্যাপী দ্বিবার্ষিক ১৬তম সম্মিলিত কম্যান্ডার সম্মেলন (সিসিসি) শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরক্ষা সংস্কারের ক্ষেত্রে মোদী সরকার এবং সশস্ত্র বাহিনী কিছু কঠিন সিদ্ধান্তের সম্মুখীন হচ্ছে। সিসিসি-র প্রতিপাদ্য বিষয় সংস্কারের বছর - ভবিষ্যতের জন্য রূপান্তর সরকারের সামনে যে সিদ্ধান্তগুলি আসছে, তা নিতান্ত সহজ নয়। আর্থিক সম্পদ সরবরাহ-শৃঙ্খলের সীমাবদ্ধতা, ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তির দুর্বলতা এবং সংস্কারের পরিধি সম্পর্কে সশস্ত্র বাহিনীর আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধের কারণে এগুলি আরও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সিসিসি-তে তাঁর ভাষণে - যা অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে শীর্ষ-স্তরের নীতিনির্ধারক এবং সামরিক কম্যান্ডারদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমষ্টি স্পষ্ট ভাবে জরুরি পরিস্থিতির সঙ্কট যুদ্ধ মোকাবিলা করার  জন্য যৌথতা, আত্মনির্ভরতা উদ্ভাবন বৃদ্ধির গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ক্ষেত্র রয়েছে, যা ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে - থিয়েটার কম্যান্ড, অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বেসামরিক-সামরিক ফিউশন (সিএমএফ)

যদিও পরিষেবাগুলিকে নিঃসন্দেহে সাংগঠনিক সংস্কারের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং পরিবর্তনকে আলিঙ্গন করতে হবে, নিজেদের মধ্যে গভীর সমন্বয় তৈরি করতে হবে এবং বহু-ক্ষেত্রে অভিযানের জন্য প্রস্তুতির স্তর বৃদ্ধি করতে হবে, সরকারকে সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বের কাছে তাদের নিজস্ব অ্যাজেন্ডার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করতে হবে। একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র যেখানে পরিষেবাগুলির মধ্যে ফাটল বা অন্তত সরকারি নির্দেশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ রয়ে গিয়েছে তা হল, ইন্টিগ্রেটেড থিয়েটার কম্যান্ড (আইটিসি) সিসিসি-তে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় যে গভীর সংহতি এবং ঐক্যের উপর জোর দিয়েছিলেন, তার জন্য আইটিসি মৌলিক। সিসিসি-র পূর্ববর্তী সংস্করণে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, তিনি পরিষেবাগুলিকে তাদের দৃঢ় সাইলো থেকে মুক্ত করে থিয়েটার কম্যান্ড এবং বৃহত্তর ঐক্যকে সম্পূর্ণ রূপে গ্রহণ করতে চান। যাই হোক, ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং সম্প্রতি আইটিসি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাঁর আপত্তি প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধ জন্য প্রস্তুত থাকতে লড়াই করার জন্য নয়াদিল্লিতে একটি যৌথ পরিকল্পনা সমন্বয় কেন্দ্র তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। এখন সরকারকে তার বিশেষাধিকারের উপর জোর দিতে হবে এবং আইটিসি সম্পর্কিত নির্দেশিকাগুলিকে লঙ্ঘন বা অবমূল্যায়ন করা যাবে না যদিও এটি আইটিসিগুলিকে আরও দক্ষতার সঙ্গে এবং কার্যকর ভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য যুক্তিসঙ্গত ভাবে গৃহীত বা সমন্বিত পরিষেবাগুলির কাছ থেকে পরামর্শ চায়। আইএএফ একটি হোল্ডআউট হয়ে থাকতে পারে না, যখন অন্যান্য পরিষেবা, যেমন ভারতীয় নৌবাহিনী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী, থিয়েটারাইজেশন বাস্তবায়নের জন্য আরও প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে।

যদিও পরিষেবাগুলিকে নিঃসন্দেহে সাংগঠনিক সংস্কারের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং পরিবর্তনকে আলিঙ্গন করতে হবে, নিজেদের মধ্যে গভীর সমন্বয় তৈরি করতে হবে এবং বহু-ক্ষেত্রে অভিযানের জন্য প্রস্তুতির স্তর বৃদ্ধি করতে হবে, সরকারকে সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বের কাছে তাদের নিজস্ব অ্যাজেন্ডার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করতে হবে।

দ্বিতীয় যে ক্ষেত্রটিতে জরুরি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন তা হল, প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলের বিষয়টি। দেশীয়করণ বা আত্মনির্ভরতা অনেক শক্তিশালী সাধারণ শিল্প সংস্কার ছাড়া স্বচ্ছ হতে পারে না তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা তৈরি এবং দৃঢ় করার জন্য সরকারকে নিবিড় ভাবে কাজ করতে হবে। এটি স্পষ্ট মনে হতে পারে, কিন্তু ভারতের মতো একটি রাষ্ট্রের জন্য যেখানে প্রচুর আমদানি নির্ভরতা রয়েছে এবং তা চি পাকিস্তানের মতো দুটি সক্রিয় সামরিক হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে, মোদী সরকারের কাছে প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলের ধাক্কার জন্য ভারতকে স্থিতিস্থাপক করে তোলার উদ্দেশ্যে তাঁর তৃতীয় মেয়াদের বাকি সময় দ্বিগুণ করা ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা সামরিক সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিকূল পরিণতিগুলিকে তুলে ধরেছে - কোভিড-১৯ এবং ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় রাশিয়ার আক্রমণ। এই দুটি ঘটনা প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যাগুলি উন্মোচিত না করা পর্যন্ত, ভারত এবং অন্যান্য অনেক দেশ প্রতিরক্ষা সরবরাহে বাধা সহ্য করার জন্য বাধ্যতামূলক স্থিতিস্থাপকতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন ছিল না। যাই হোক, কোভিড এবং রাশিয়ার আক্রমণ নয়াদিল্লির জন্য স্বাচ্ছন্দ্যের স্তরকে মারাত্মক ভাবে প্রকাশ করেছে, যা ২০২০ সালের এপ্রিল-মে মাসে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সঙ্কট তৈরি করার জন্য চিন কোভিড অতিমারিকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে আরও খারাপ হয়েছিল। চিন-ভারত সীমান্তে চ্যালেঞ্জ ন্যূনতমই হ্রাস পেয়েছে।

অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা শিল্পের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, সামরিক সরবরাহ শৃঙ্খল বেসামরিক সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে আলাদা থাকবে কারণ তাদের শান্তিকালীন সময়ে দক্ষতার ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে এবং সঙ্কট বা যুদ্ধকালীন সময়ে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে হবে। এটি করা সহজ হবে না কারণ প্রতিরক্ষা শিল্প, বিশেষ করে বেসরকারি খাত, ব্যয়-ভিত্তিক উন্নয়ন এবং ক্রয়ের উপর মনোনিবেশ করবে। বিবেচনা করে দেখা যাক যে, মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেয়ার আর্থ ধাতু সরবরাহের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনের উপর কতটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, এমনকি ওয়াশিংটন আক্ষরিক অর্থেইীর জন্য বেজিংকে সুবিধা প্রদান করেছে। এটি দুটি কারণের সংমিশ্রণের সরাসরি পরিণতি: আমেরিকান বেসরকারি প্রতিরক্ষা শিল্প রেয়ার আর্থ উত্তোলনের খরচ বহন করতে চায় না এবং পরিবেশগত সংবেদনশীলতা, যা কার্যকর ভাবে চিনকে রেয়ার আর্থের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে একচেটিয়া অধিকার দিয়েছে। ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্প তার আমেরিকান প্রতিপক্ষের তুলনায় আরও বেশি কঠিন কাজের সম্মুখীন। কারণ এটি এখন বৃদ্ধি করার ক্ষমতার অভাব মোকাবিলা করছে। সুতরাং, ভারত যেহেতু বৃহত্তর বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়, তাই এটি নিশ্চিত করতে হবে যে, প্রতিরক্ষা পাবলিক সেক্টর ইউনিট-এর (ডিপিএসইউ) মতো বেসরকারি শিল্পও সঙ্কট এবং যুদ্ধের সময় পরিস্থিতির প্রতি সাড়া দেবে। ব্যাঘাত এড়াতে এবং দুর্বলতা সীমিত করার জন্য, বেসরকারি প্রতিরক্ষা শিল্পের পাশাপাশি ডিপিএসইউ-এর ভাণ্ডারের জন্য ক্ষতিপূরণের আকারে প্রণোদনা প্রয়োজন।

ভারতের ডিপিএসইউ এবং প্রতিরক্ষা বেসরকারি খাতের সংস্থাগুলিকে সিএমএফ প্রযুক্তি সম্পর্কিত গবেষণা এবং উন্নয়নে আরও গভীর ভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। সুতরাং, সরকারের কাজগুলি স্পষ্ট: আইটিসি-তে বেসামরিক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা, স্থিতিশীল অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত করা এবং সিএমএফ প্রযুক্তিতে গভীর  বিনিয়োগ।

পরিশেষে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য তাদের ক্ষমতার জন্য সিএমএফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু সশস্ত্র বাহিনীকে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ত্বরান্বিতকরণের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে, তাই সিএমএফ-এর পূর্ণ আলিঙ্গন অপরিহার্য। ভারতের প্রধান প্রতিপক্ষ চিন ঠিক তাই করছে কারণ তারা কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা, অর্ধপরিবাহী, ৫জি এবং ৬জি, উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং মহাকাশ প্রযুক্তির লক্ষ্যবস্তু উন্নয়ন দেখতে পায়। চিন কেবল এই প্রযুক্তিগুলিতে বিনিয়োগ করছে না, বরং প্রযুক্তির বাধ্যতামূলক স্থানান্তর, ব্যাপক গুপ্তচরবৃত্তি এবং চুরির মাধ্যমে সক্রিয় ভাবে এগুলি অর্জন করছে। চি সিএমএফ-এর মাধ্যমে বুদ্ধিমান যুদ্ধবাজ-এ রূপান্তরিত প্রথম দেশ হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। ভারত এই ক্ষমতার একটি মূল লক্ষ্য হবে এবং পাকিস্তানে সিএমএফ প্রযুক্তির স্থানান্তরের মাধ্যমে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে লক্ষ্যবস্তু হবে। ভারতের ডিপিএসইউ এবং প্রতিরক্ষা বেসরকারি খাতের সংস্থাগুলিকে সিএমএফ প্রযুক্তি সম্পর্কিত গবেষণা এবং উন্নয়নে আরও গভীর ভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। সুতরাং, সরকারের কাজগুলি স্পষ্ট: আইটিসি-তে বেসামরিক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা, স্থিতিশীল অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত করা এবং সিএমএফ প্রযুক্তিতে গভীর বিনিয়োগ।

এই প্রতিরক্ষা সংস্কারগুলি দুঃসাধ্য হলেও ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 


এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ওপেন-এ।

 


নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.